এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কেন?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কেন?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের পঞ্চম অধ্যায় “বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো।
ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে যে শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত ছিল তা ছিল নৈরাজ্যবাদী, নেতিবাচক, হৃদয়হীন, মনুষত্ব নাশক ও জাতীয়তা বিরোধী। এ শিক্ষাধারার সঙ্গে শিক্ষার্থীর জীবন ও পারিপার্শ্বিকতার কোনো সম্পর্ক ছিল না। সমকালীন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এভাবেই ভারতে প্রচলিত ব্রিটিশ শিক্ষা নীতির সমালোচনা করেছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও এই শিক্ষানীতির নির্মম সমালোচক ছিলেন।
ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণহীন ও যান্ত্রিক শিক্ষা –
- রবীন্দ্রনাথ এর মতে তৎকালীন ভারতে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থীর কোনো প্রানের যোগ ছিল না। তিনি লিখেছেন যে, “ছেলেদের ভালোলাগা মন্দ লাগা বলিয়া খুব একটা মস্ত জিনিস আছে। বিদ্যালয় হইতে সে চিন্তা একেবারে নিঃশেষে নির্বাসিত।” শিক্ষার্থীর ভালোলাগা মন্দ লাগা নয়, কোনোক্রমে তাদের পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়াই ছিল শিক্ষার লক্ষ।
- বাল্যজীবনে স্কুল সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ এর অভিজ্ঞতা খুব একটা মধুর ছিল না। তাই পরবর্তীকালে তিনি লেখেন যে, ছেলেদের মানুষ করে তোলার জন্য যে যন্ত্র তৈরি হয়েছে, তার নাম ইস্কুল এবং সেটার মধ্য দিয়ে মানবশিক্ষার সম্পূর্ণতা হতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ এই যান্ত্রিক শিক্ষা থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ এর মতে ভারতে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের নাড়ির কোনো যোগ নেই। এই শিক্ষা দিয়ে দেশের কোনো উপকার হয় না। এ জন্য তাঁর বক্তব্য দেশবাসীকেই দেশের শিক্ষার ভার গ্রহণ করতে হবে। তিনি লিখেছেন যে, “আমাদের সমাজ যদি বিদ্যাদানের ভার নিজে না গ্রহণ করেন, তবে একদিন ঠকিতেই হইবে। বিদেশি গভর্মেন্ট এদেশে অনুকূল শিক্ষা কখনও দিতে পারেন না।”
- দেশের অধিকাংশ লোককে নিরক্ষর করে রেখে দেশের সামান্য অংশের জন্য যে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা তিনি মানতে পারেননি। তাঁর মতে এটা ছিল ‘একটা প্রকাণ্ড ছাঁচে ঢালা’ ব্যাপার। দেশের সব শিক্ষা রীতিকে এক ছাঁচে শক্ত করে জমিয়ে দেওয়া হবে। এটাই সরকারের একমাত্র চেষ্টা।
- দেশবাসীর বুদ্ধিবৃত্তির ওপর সম্পূর্ণ একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের লক্ষ। সুতরাং এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থা ‘কেরানিগিরির কল’ হয়ে উঠেছে। এর মধ্য প্রানের কোনো সাড়া নেই। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ এখানে হয় না।
ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন –
তাঁর মতে, এই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়তাবিরোধী। তাঁর মতে, এখানে যা সেখানো হয়, তার মাধ্যমে “পড়াপাখি, বুলিপড়া পাখির গতানুগতিক দল সৃষ্টি করে। তারা হয় বিদেশের বুলি মুখস্থ করা খাঁচার পাখি।” রবীন্দ্রনাথ এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করে সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি শিক্ষাদর্শনের পরিকল্পনা করেছেন।
ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কেন?
ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ ছিল সুলভে অনুগত কেরানি তৈরি। এই শিক্ষা ছিল একান্তভাবেই যান্ত্রিক, পুঁথিসর্বস্ব এবং স্বাভাবিক ভাবেই শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীন বিকাশের পরিপন্থি। ঔপনিবেশিক শিক্ষানীতি ছিল কায়েমী স্বার্থরক্ষাকারী ও প্রভুত্ববাদী। তা ছাড়া দেশীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবহেলা এই শিক্ষাব্যবস্থার অপর একটি ত্রুটিপূর্ণ দিক।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কেন?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করো। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল কেন?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের পঞ্চম অধ্যায় “বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment