এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারী সমাজ কীরূপ ভূমিকা নিয়েছিল? অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারী সমাজ কীরূপ ভূমিকা নিয়েছিল? অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের সপ্তম অধ্যায় “বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারী সমাজ কীরূপ ভূমিকা নিয়েছিল?
নারী সমাজের সক্রিয় তথা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের এক উজ্জ্বল ইতিবৃত্ত। তারা সভা-সমিতি, বিদেশি দ্রব্য বর্জন, পিকেটিং প্রভৃতিতে অংশ নেন। ‘তিলক স্বরাজ তহবিল’ তাদের দানে পূর্ণ হয়ে ওঠে। বাসন্তী দেবী, সুনীতি দেবী, হেমপ্রভা মজুমদার, ঊর্মিলা দেবী প্রমুখ নারী এই আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন।
1920 খ্রিস্টাব্দে গান্ধিজির নেতৃত্বে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে নারীসমাজ ব্যাপকভাবে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
- নারী সমাজ দলে দলে অন্তঃপুর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং এবং মিটিং মিছিল পিকেটিং প্রভৃতি কর্মসূচিতে যোগদান করেন। এমনকি তাঁরা সানন্দে কারাবরণ করতে থাকেন।
- এই আন্দোলন চলাকালীন ‘তিলক স্বরাজ তহবিল’ মহিলাদের দানের অলঙ্কারে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। 1921 খ্রিস্টাব্দের 17ই নভেম্বর প্রায় এক হাজার মহিলা বোম্বে বর্তমান মুম্বাই শহরে প্রিন্স অফ ওয়েলসের ভারত ভ্রমণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। 1923 খ্রিস্টাব্দে নেলি সেনগুপ্ত স্টীমার ধর্মঘটের নেতৃত্ব দেন।
- অসহযোগ আন্দোলনের সময় গঠনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতের নানা প্রান্তের মহিলারা বিদেশি বস্ত্র বর্জনের জন্য চরকায় কাপড় বুনে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। অসহযোগ আন্দোলন কালে কলকাতায় বাসন্তী দেবী ‘নারী সত্যাগ্রহ সমিতি’, ঊর্মিলা দেবী ‘নারী কর্ম মন্দির’ (1921 খ্রিস্টাব্দে) প্রতিষ্ঠা করেন। 1923 খ্রিস্টাব্দে লীলা নাগ ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ভারতের প্রথম ছাত্রী সংগঠন ‘দীপালি সংঘ’ এবং প্রভাবতী বসুর সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মহিলা রাষ্ট্রীয় সংঘ’ (1928 খ্রিস্টাব্দে)।
- অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য নারীদের মধ্যে ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী বাসন্তী দেবী, বোন সুনীতি দেবী, ভাইঝি ঊর্মিলা দেবী, আশা লতা সেন, নেলি সেনগুপ্ত, হেমপ্রভা মজুমদার, জ্যোতির্ময়ী গাঙ্গুলী প্রমুখ। এই সময় হীরাবাঈ টাটা,রাজকুমারী অমৃতা কাউর,মুথালক্ষ্মী রেড্ডি নারীদের ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন করেন।
- অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের যোগদানের ফলে এই আন্দোলন প্রকৃত গণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। নারী সমাজের এই সক্রিয়তা পরবর্তী কালে ‘আইন অমান্য আন্দোলনে’ এবং ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলনে’ আরও ব্যাপক হয়ে ওঠে। তাই ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘এই আন্দোলনে সারা দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনা পরিলক্ষিত হয়।’
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারী সমাজ কীরূপ ভূমিকা নিয়েছিল? অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারী সমাজ কীরূপ ভূমিকা নিয়েছিল? অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের সপ্তম অধ্যায় “বিশ শতকের ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment