নবম শ্রেণি বাংলা – ধীবর-বৃত্তান্ত – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Souvick

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

নবম শ্রেণি - বাংলা - ধীবর-বৃত্তান্ত - ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
Contents Show

ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলার কোন্ আচরণে অপমানিত হয়েছিলেন? তারপরে কী হয়েছিল?

শকুন্তলার আচরণ – কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে উল্লিখিত মহর্ষি কণ্বের তপোবনে অতিথি পরিচর্যার দায়িত্ব ছিল আশ্রমকন্যা শকুন্তলার উপর। অথচ মহামুনি দুর্বাসা তপোবনে এলে শকুন্তলা আত্মচিন্তায় মগ্ন থাকায় মুনির উপস্থিতি বুঝতে পারেনি। নিজের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ শকুন্তলার এই উপেক্ষায় অপমানিত হয়েছিলেন ঋষি দুর্বাসা।

পরবর্তী ঘটনা – ঋষি দুর্বাসা শকুন্তলার আচরণে অত্যন্ত কুপিত হয়ে শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, যার চিন্তায় শকুন্তলা আত্মমগ্ন সেই ব্যক্তিকে স্মরণ করিয়ে দিলেও তিনি শকুন্তলাকে চিনতে পারবেন না।

এরপর শকুন্তলার প্রিয় সখী প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষি দুর্বাসা তার অভিশাপ খণ্ডনের উপায় বলে দিয়েছিলেন।

দুর্বাসার অভিশাপ কীভাবে শকুন্তলার ক্ষেত্রে লঘু হয়েছিল?

অভিশাপ – কণ্ব মুনির আশ্রমে অতিথি হয়ে এসে শকুন্তলার আচরণে ক্রুদ্ধ হন কোপন প্রকৃতির ঋষি দুর্বাসা। আত্মমগ্ন ও অন্যমনস্কা শকুন্তলাকে অপমানিত দুর্বাসা অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, যার চিন্তায় শকুন্তলা কর্তব্য ভুলে রয়েছে, সেই ব্যক্তিকে স্মরণ করিয়ে দিলেও তিনি শকুন্তলাকে চিনতে পারবেন না।

যেভাবে অভিশাপ লঘু হয়েছিল – শকুন্তলার সখী প্রিয়ংবদা দুর্বাসার এই কঠোর অভিশাপ ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ করলে ঋষি দুর্বাসা জানিয়েছিলেন একমাত্র কোনো স্মারক বা নিদর্শন দেখাতে পারলেই এই অভিশাপ খণ্ডন করা সম্ভব হবে।

শকুন্তলার কাছে থাকা রাজা দুষ্মন্তের নিদর্শনটি আসলে কী?

রাজা দুষ্মন্তের নির্দশন – কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে পুরুবংশীয় রাজা দুষ্মন্ত শিকারে ক্লান্ত হয়ে মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে বিশ্রাম নেন। সেখানে শকুন্তলাকে ভালো লাগায় গান্ধর্ব মতে বিবাহ করে রাজা দুষ্মন্ত একা নিজ রাজ্যে ফিরে যান। বিবাহকালে তিনি বহুমূল্য রত্নখচিত নিজ নামাঙ্কিত আংটি শকুন্তলাকে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দুর্বাসার অভিশাপ খণ্ডনের কথা ভেবে শকুন্তলার সখীরা মনে করেছিলেন এই আংটি হতে পারে রাজা ও শকুন্তলার পরিচিতির স্মারক। কারণ এই আংটি ছিল শকুন্তলার কাছে থাকা রাজা দুষ্মন্তের একমাত্র নির্দশন।

মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে তপোবনে কী ঘটেছিল? ফিরে এসে তিনি কীসের আয়োজন করেছিলেন?

কণ্বমুনির অনুপস্থিতিতে যা ঘটেছিল – মহর্ষি কণ্ব তীর্থে যাওয়ার পর পুরুবংশীয় রাজা দুষ্মন্ত শিকারে ক্লান্ত হয়ে কণ্বের আশ্রমে বিশ্রাম গ্রহণের জন্য এসেছিলেন। সেখানে অতিথি সেবায় নিযুক্ত কণ্বের পালিতা কন্যা শকুন্তলার রূপে মুগ্ধ হয়ে তিনি শকুন্তলাকে গান্ধর্বমতে বিবাহ করেন। বিবাহের কিছু পরেই রাজা শকুন্তলাকে আশ্রমে রেখে নিজ রাজধানীতে ফিরে গিয়েছিলেন।

কণ্বের ক্রিয়া – মহর্ষি কণ্ব তীর্থ থেকে ফিরে শকুন্তলার বিবাহ সম্পর্কে জানেন ও তাকে স্বামী গৃহে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

রাজা দুষ্মন্তের দেওয়া বহুমূল্য আংটিটি শকুন্তলা কীভাবে হারিয়ে ফেলেন?

যেভাবে আংটি হারিয়েছিল – কণ্বমুনির আশ্রমে গান্ধর্বমতে বিবাহকালে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বহুমূল্য, রত্নখচিত, নিজ নামাঙ্কিত একটি আংটি দিয়েছিলেন। এটি ছিল একমাত্র স্মারক যার মাধ্যমে রাজা শকুন্তলাকে চিনতে পারতেন। স্বামী গৃহে যাওয়ার সময় শচীতীর্থের জলে স্নানের পর অঞ্জলি দিতে গিয়ে সেই আংটি পড়ে যায় এবং একটি রুই মাছ তা খেয়ে ফেলে। শকুন্তলা এইভাবে তার আত্মপরিচয়ের স্মারক হারিয়ে ফেলেছিল।

শকুন্তলা কীভাবে রাজা দুষ্মন্তের রাজসভায় অপমানিত হয়েছিলেন?

শকুন্তলা যেভাবে অপমানিত হয়েছিলেন – দুর্বাসা মুনির অভিশাপে অভিশপ্ত শকুন্তলার স্বামী স্বীকৃতি পাওয়ার একমাত্র অবলম্বন ছিল রাজার দেওয়া আংটি। শচীতীর্থে স্নানের পর সেটি হারিয়ে শুকন্তলা যখন রাজা দুষ্মন্তের রাজধানীতে পৌঁছান তখন রাজা কোনোমতেই তাকে চিনতে পারেননি। দুর্বাসার অভিশাপ অনুযায়ী কোনো নির্দশন না দেখাতে পারলে রাজা তাকে ভুলে যাবেন। তাই কোনো রাজ-নিদর্শন দেখিয়ে স্ত্রীর দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি শকুন্তলা। এই কারণে রাজসভায় তিনি অপমানিত হন।

‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের নিজের মুখে পাওয়া পরিচয় লেখো।

ধীবরের পরিচয় – ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের সংক্ষিপ্ত পরিসরে ধীবরের নিজের মুখে পাওয়া পরিচয় খুবই সংক্ষিপ্ত। আলোচ্য নাটকটির প্রধান চরিত্র এই ধীবর একজন অতিসাধারণ, সরল, দরিদ্র ব্যক্তি। সে শত্রুাবতারে থাকে। জাল, বঁড়শি সহযোগে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাকে ‘চোর’ অপবাদ দিযে ধরে নিয়ে এলেও সে চোর নয়। মাছের পেট কেটে সে রাজনামাঙ্কিত আংটি পেয়েছে এই দাবিই ধীবর প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে।

‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবর কোন্ অবস্থায় আংটি-চোর হিসেবে ধরা পড়েছিল?

যে অবস্থায় ধীবর ধরা পড়েছিল – ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাটকে মাছের পেট থেকে রাজার নামাঙ্কিত বহুমূল্যবান আংটি পেয়ে ধীবর সেটি বিক্রি করার জন্য নগরের লোকজনকে দেখাতে থাকে। একজন সাধারণ ধীবরের কাছে এই আংটি কীভাবে এল তা নিয়ে সংশয় জাগে নগররক্ষীদের মনে।

ধীবরকে নগররক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজশ্যালক ও দুই রক্ষী চোর সন্দেহ করে এবং আংটি সমেত আটক করে রাজসভার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে।

ধীবর যে আংটি-চোর নয়, নিজমুখে সে কথা বললে প্রথম রক্ষীর প্রতিক্রিয়া কীভাবে ব্যক্ত হয়?

প্রথমরক্ষীর প্রতিক্রিয়া – রাজা দুষ্মন্তের নাম অঙ্কিত বহুমূল্য আংটি সামান্য গরীব ধীবরের কাছ থেকে উদ্ধার করে নগররক্ষীরা। চোর অপবাদে আটক ধীবর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করে বলে এ আংটি সে চুরি করেনি। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বিশ্বাস না করে প্রথম রক্ষী তাচ্ছিল্য করে বলেছিল – ‘তবে কি তোকে সদ্‌ ব্রাহ্মণ বিবেচনা করে রাজা এটা দান করেছেন?’

ধীবরের আত্মপরিচয় শুনে রাজ-শ্যালক ও রক্ষীদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়?

কথাবার্তার স্বরূপ – কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরকে চোর অপবাদে আটক করে ধীবরের কাছ থেকে আংটি পাবার কাহিনী নিজেদের মতো করে শুনতে চেয়েছিল রাজশ্যালক ও দুই রক্ষী। তাকে ‘বাটপাড়’, ‘গাঁটকাটা’ ব’লে লাঞ্ছনাও করে তারা। ধীবর তার বাসস্থান ও পেশার কথা বললে রাজশ্যালক রক্ষীদের লাঞ্চনা-অপমান করতে নিষেধ করেন এবং ধীবরকে পূর্বাপর বলার সুযোগ দিতে বলেন কোনো বাধা না দিয়ে।

নিজের বৃত্তি বা পেশা সম্পর্কে ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের ধীবরটির ধারণা কেমন ছিল?

নিজের পেশা সম্পর্কে ধারণা – পেশা বা জীবিকা প্রত্যেক মানুষের জীবনেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের প্রধান চরিত্র ধীবর একজন অতি সাধারণ জেলে। তার বৃত্তি ছিল জাল, বঁড়শি সহযোগে মাছ ধরা ও তা বিক্রি করা। ধীবর তার পেশার প্রতি ছিল দায়িত্বসচেতন এবং কর্তব্যনিষ্ঠ। রাজশ্যালক ও রক্ষীরা তাকে চোর অপবাদ দিলে এবং তার পেশা নিয়ে বিদ্রুপ করলে ধীবর জানায়, সে নির্দোষ। মাছ ধরা তার জীবিকা। যে বৃত্তি নিয়ে সে জন্মেছে তা বৃহত্তর সমাজে নিন্দনীয় হলেও তা সে কখনোই পরিত্যাগ করতে পারবে না।

ধীবরের মুখে তার জীবিকার ব্যাখ্যা শুনে রাজ-শ্যালক যে ব্যঙ্গোক্তি করেছিলেন তার উত্তরে ধীবর কী বলেছিল?

ধীবরের প্রতিক্রিয়া – মহাকবি কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে চোর অপবাদে ধৃত ধীবর আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেছিল সে চোর নয়, শক্রাবতারে বসবাসকারী একজন জেলে। তার পেশার ব্যাখ্যা শুনে রাজশ্যালক তাকে তাচ্ছিল্য করলে ধীবর বলে মানুষের জন্মগত বৃত্তি শূন্য হলেও তা ত্যাগ করা অনুচিত। সে আরও বলে পেশার কারণে একজন জেলে যেমন মাছ শিকার করে, তেমনি দয়াপরায়ণ বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণও যজ্ঞের প্রয়োজনে পশুবলি দেন।

শকুন্তলার হাতে থাকা রাজার আংটি কীভাবে ধীবরের হস্তগত হয়?

আংটি যেভাবে ধীবরের হস্তগত হয় – রাজা দুষ্মন্ত কণ্ব মুনির পালিতা শকুন্তলাকে বিবাহ করে তপোবনে রেখে রাজধানীতে ফিরে যাওয়ার সময়, নিজের নামাঙ্কিত একটি বহুমূল্য আংটি তাকে দিয়ে যান। পরে মহর্ষি কণ্বের উদ্যোগে পতিগৃহে যাত্রাকালে শকুন্তলা পথে শচীতীর্থে স্নান সেরে অঞ্জলি দেওয়ার সময় ওই আংটি তার হাত থেকে খুলে জলে পড়ে যায়। একটি মাছ সেই আংটি গিলে নেয়। ঘটনাক্রমে সেই মাছ ধীবরের হাতে এলে ধীবর রাজার আংটিটি পায়।

“এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন।” – আলোচ্য উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

তাৎপর্য – কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের মুখ্যচরিত্র ধীবর নগর রক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক ও রক্ষীদের উদ্ধৃত উক্তিটি করেছে। মৎসজীবী ধীবর মাছ কেটে রাজনামাঙ্কিত বহুমূল্য আংটি পেয়ে তা বিক্রির জন্য জনসমক্ষে দেখাতে থাকেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে মূল্যবান রাজসম্পদ দেখে চোর সন্দেহে ধীবরকে আটক করেন নগররক্ষীরা। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করে ঊর্ধ্বতন নগররক্ষীদের বহু লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হয় ধীবর। নানা বাধা পেয়েও আংটি পাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করে ধীবর দৃঢ়তার সঙ্গে জানায় এরপর বিচার নগররক্ষীদের হাতে।

ধীবরের প্রতি রাজশ্যালকের মনোভাব কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?

প্রথম মনোভাব – কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজার আংটি চুরির অপরাধে ধৃত ধীবরটির প্রতি প্রথমে রাজ-শ্যালকের মনোভাব ইতিবাচক ছিল না। ধীবর তার পেশার কথা বললে, তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন – “তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি।” এরপর প্রায় ঘৃণার সুরে বলেন ‘এর গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছে। এ অবশ্যই গোসাপ-খাওয়া জেলে হবে।’

পরিবর্তিত মনোভাব – আবার রক্ষীরা ধীবরকে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বাধা দিলে রাজ্যশ্যালক রক্ষীদের বলেছেন – ‘একে পূর্বাপর সব বলতে দাও! মধ্যে বাধা দিয়ো না।’ ধীবরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর তিনি অনুভব করেছেন, সে যা বলেছে, তার অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে। ধীবরের মুখে শোনা ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তিনি ধীবরকে রাজার দেওয়া পুরস্কারসহ মুক্তি দেন। এরপর সামান্য ধীবর নিজের প্রাপ্য পারিতোষিকের অর্ধেক অংশ রক্ষীদের দিয়ে দিলে তিনি খুশি হয়ে উদার ধীবরকে বন্ধুত্বের আহ্বান জানান। ধীবরের চরিত্রের উদারতা, সততা ও দৃঢ়তা রাজশ্যালকের মনোভাব পরিবর্তন করেছিল।

‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের প্রতি রক্ষীদ্বয়ের নিষ্ঠুর ভাবনা কীভাবে ফুটে উঠেছে?

ভাবনার স্বরূপ – কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে শেষ বিচারের আগে রক্ষীরা চুরির অপরাধে ধৃত ধীবরের সঙ্গে যথেষ্ট নিষ্ঠুর ব্যবহার করে। রক্ষীরা ধীবরকে ‘ব্যাটা চোর’, ‘ব্যাটা বাটপাড়’, ‘চল রে গাঁটকাটা’ ইত্যাদি সম্বোধন করা ছাড়াও, তার কঠোরতম শাস্তি কামনা করছে। প্রথম রক্ষী বলেছে – “একে মারার আগে এর গলায় যে ফুলের মালা পরানো হবে, তা গাঁথতে আমার হাত দুটো এখনই নিশপিশ করছে”। দ্বিতীয় রক্ষী ভেবেছে শাস্তি দিতে ধীবরকে হয়তো শকুন বা কুকুর দিয়ে খাওয়ানো হবে।

নগররক্ষায় নিযুক্ত রক্ষীরা ধৃত ধীবরের প্রতি কঠোর ব্যবহার কেন করেছিল?

কারণ – কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নগররক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজশ্যালকের সঙ্গে দুই রক্ষী ছিল আজ্ঞাবহ দাস। পদমর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে তারা মানবিক মূল্যবোধকে হারিয়ে ফেলেছিল। আংটি বিক্রির চেষ্টায় আসা সাধারণ ধীবরকে চোর সন্দেহে তারা শুধু আটকই করেনি, নানাভাবে লাঞ্ছনা ও নিপীড়ন করেছিল। ধীবরের আত্মপক্ষ সমর্থনকে তারা বারবার অবিশ্বাস করেছিল। ‘চোর, ‘বাঁটপাড়’, ‘গাঁটকাটা’ সম্বোধন করার পাশাপাশি ধীবরের পেশা ও জাত নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিল পদমর্যাদার গরিমায় অহংকারী নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজ-শ্যালক ও রক্ষীরা।

রাজশ্যালক কেন ধীবরকে চুরির দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন?

কারণ – কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ পাঠ্যাংশে ধীবরের কাছ থেকে রাজনামাঙ্কিত বহুমূল্য আংটি নিজে নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক রাজার কাছে যান ধীবরের আংটি পাওয়ার বৃত্তান্ত শোনাতে ও রাজার আদেশ জানতে। বেশ কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে রাজশ্যালক রক্ষী সূচককে জানান, আংটি সংক্রান্ত যে ঘটনা ধীবর তাদের বলেছে তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং রাজা তাকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। এই কারণে রাজশ্যালক ধীবরকে চুরির দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন।

ধীবরকে রাজা মুক্তির নির্দেশ ও পারিতোষিক দেওয়ায় রক্ষীদ্বয় কী কী মন্তব্য করেছিলেন?

ঘটনা – কালিদাসের ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের কাছ থেকে আংটি সম্পর্কিত বৃত্তান্ত শুনে নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক রাজার নির্দেশ জানার জন্য রাজার কাছে যান। ধৃত ধীবরের জন্য ভয়ংকর শাস্তির বিধান আসতে চলেছে ভেবে উৎফুল্ল হয় দুই রক্ষী জানুক ও সূচক। কিন্তু রাজা ধীবরকে পুরস্কৃত করে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিলে তারা হতাশ হয়েছিল।

মন্তব্য – নিশ্চিত মৃত্যু থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া ধীবরকে উদ্দেশ্য করে দ্বিতীয় রক্ষী মন্তব্য করেছিল – “এই জেল যমের বাড়ি গিয়ে আবার ফিরে এল।” আবার, ধীবরের পারিতোষিক পাওয়ার প্রসঙ্গে প্রথম রক্ষী আক্ষেপ করে বলেছিল – “এ যে শূল থেকে নামিয়ে একেবারে হাতির পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হলো।”

রাজশ্যালকের কথনে আংটি ফিরে পেয়ে রাজার আচরণ কেমন হয়েছিল?

রাজার আচরণ – কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের সামান্য পরিসরে রাজার অস্তিত্ব সামান্য দেখানো হয়েছে। আংটি ফিরে পেয়ে রাজা ধীবরকে যে পরিমাণ পারিতোষিক দিয়েছেন, তা থেকে রক্ষী জানুকের মনে হয়, আংটিটি রাজার ভীষণ প্রিয় ছিল। রাজশ্যালক সে প্রসঙ্গে জানান রত্নখচিত বলে যে আংটিটি রাজার কাছে মূল্যবান এমন তার মনে হয়নি। বরং স্বভাব গম্ভীর রাজা আংটি দেখে সাময়িক বিহ্বল হয়ে যান। তার থেকে মনে হয় রাজা কোনো প্রিয়জনের কথা মনে পড়েছিল।

“এখন থেকে তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে।” – নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক কেন ধীবরকে একথা বলেছিলেন?

বক্তা শ্রোতা – কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে নগররক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজশ্যালক নাটকের প্রধান চরিত্র, সৎ, পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ধীবরকে ‘প্রিয়বন্ধু’ সম্বোধন করেছেন।

‘বিশিষ্ট প্রিয়বন্ধু’ বলার কারণ – রাজনামাঙ্কিত রত্নখচিত আংটি চুরির অপরাধে ধৃত ধীবরের কথার সত্যতা যাচাই করতে ও অপরাধীর শাস্তি জানতে রাজশ্যালক রাজার কাছে গিয়েছিলেন। ধীবরের কথার সত্যতা নিরূপণ হওয়ায় রাজ তাকে পুরস্কৃত করে মুক্তির নির্দেশ দেন। নিশ্চিত মৃত্যু থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য এবং পারিতোষিকের পরিমাণ দেখে নগররক্ষীরা ঈর্ষাণ্বিত হয়। সামান্য ধীবর সেই পুরস্কারের অর্ধেক দিয়ে দেয় সেই রক্ষীদের যারা কিছু আগে ধীবরকে অপমান করেছিল। ধীবরের চরিত্রের সততা, দৃঢ়তা এবং উদারতা মুগ্ধ করেছিল রাজ্যশ্যালককে। তাই তিনি তাকে ‘একজন বিশিষ্ট’ প্রিয়বন্ধু বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

“তখন তপোবনে এলেন ঋষি দুর্বাসা।” — কখন দুর্বাসার আগমন ঘটে? এর ফলে কী ঘটেছিল?

দুর্বাসার আগমনকাল – “যখন শকুন্তলা রাজা দুষ্মন্তের চিন্তায় অন্যমনস্ক ছিলেন” দুর্বাসা তখন মহর্ষি কণ্বের তপোবনে আসেন।

উদ্দিষ্ট ঘটনার পরিণতি – অন্যমনস্ক শকুন্তলা দুর্বাসার উপস্থিতি বুঝতে পারেননি। ফলে ঋষি অপমানিত বোধ করেন এবং অভিশাপ দেন যে, “যাঁর চিন্তায় শকুন্তলা মগ্ন হয়ে আছেন, সেই ব্যক্তিই একদিন তাকে ভুলে যাবেন”। শেষপর্যন্ত অবশ্য শকুন্তলার সখী প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষি দুর্বাসা বলেন যে, “রাজার দেওয়া কোনো স্মৃতিচিহ্ন তাকে দেখাতে পারলে” তবেই এই অভিশাপের প্রভাব দূর হবে।

“যাঁর চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন” — বক্তা কে? তাঁর এমন উক্তির কারণ কী?

বক্তার পরিচয় – উল্লিখিত মন্তব্যটির বক্তা ঋষি দুর্বাসা।

উদ্ধৃত উক্তির কারণ – মহর্ষি কণ্বের তপোবনে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বিয়ে করে রাজধানীতে ফিরে যান। এরপরে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও রাজার কোনো দূত খবর নিতে আসে না। “স্বামীর চিন্তায় শকুন্তলা অন্যমনস্কা” হয়ে থাকেন। এইসময়েই সেখানে আসেন ঋষি দুর্বাসা। কিন্তু শকুন্তলা অন্যমনস্কা থাকায় তাঁর উপস্থিতি টের পান না। তখন অপমানিত ঋষি অভিশাপ দিয়ে মন্তব্যটি করেন।

“শকুন্তলা অপমানিতা হলেন রাজসভায়।” — শকুন্তলা কে? শকুন্তলার এই অপমানের কারণ কী ছিল?

শকুন্তলার পরিচয় – শকুন্তলা ছিলেন মহর্ষি কণ্বের পালিতা কন্যা।

শকুন্তলার অপমানের কারণ – দুষ্মন্ত যখন শকুন্তলাকে বিবাহ করে বিদায় নিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁকে “একটি আংটি পরিয়ে দিয়েছিলেন”। শকুন্তলাকে দুষ্মন্তের কাছে পাঠানোর সময়ে শকুন্তলার সখীরা মনে করে যে, “দুর্বাসার অভিশাপকে ব্যর্থ করার জন্য এই আংটিই হবে স্মারকচিহ্ন”। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত যাওয়ার পথে স্নানের সময় “শকুন্তলার হাত থেকে আংটিটি খুলে জলে পড়ে যায়”। রাজসভায় শকুন্তলা কোনো স্মারকচিহ্ন দেখাতে না পারায় অপমানিত হন।

“তবে কি তোকে সদব্রাহ্মণ বিবেচনা করে রাজা এটা দান করেছেন?” — বক্তা কে? মন্তব্যটির কারণ ব্যাখ্যা করো।

বক্তার পরিচয় – উল্লিখিত মন্তব্যটির বক্তা প্রথম রক্ষী।

মন্তব্যের কারণ – ধীবর রাজার আংটি চুরি করার কথা অস্বীকার করলে প্রথম রক্ষী আলোচ্য মন্তব্যটি করে। ধীবরের কাছে “রাজার নাম খোদাই করা মণিখচিত আংটিটি” পেয়ে রাজশ্যালক এবং রক্ষীরা নিশ্চিত হন যে ধীবরই আংটিটি চুরি করেছে। নীচু জাতের মানুষ হওয়ায় তাঁরা অনায়াসেই তাকে চোর সন্দেহ করেন। কিন্তু ধীবর সেই চুরির কথা অস্বীকার করলে প্রথম রক্ষী তাকে ব্যঙ্গ করে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করে।

“তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি।” — কে, কোন্ প্রসঙ্গে মন্তব্যটি করেছে?

বক্তা – ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশ থেকে নেওয়া আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন রাজশ্যালক।

প্রসঙ্গ – ধীবরের কাছে “রাজার নাম খোদাই করা মণিখচিত আংটিটি” পেয়ে রক্ষীরা তাকে চোর সাব্যস্ত করে। আত্মপক্ষ সমর্থনে ধীবর নিজের কথা বলতে চাইলেও রক্ষীরা তাকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করে। ধীবর জানায় যে, “সে একজন জেলে”। “জাল, বড়শি ইত্যাদির সাহায্যে মাছ ধরে সে তার সংসার চালায়”। ধীবরের এই জবাব শুনে ব্যঙ্গের সুরে রাজশ্যালক ধীবরের উদ্দেশ্যে উদ্দিষ্ট মন্তব্যটি করেন।

“তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখেছি” — বক্তা কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছেন? ওই ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – কালিদাসের ধীবর-বৃত্তান্ত থেকে নেওয়া নাট্যদৃশ্যে রাজশ্যালক ধীবরকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন।

উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া – ধীবরের পেশা নিয়ে রাজশ্যালক ব্যঙ্গ করলে ধীবর তার তীব্র প্রতিবাদ করে। সে “এরকম কথা বলতে রাজশ্যালককে নিষেধ করে” এবং আরও বলে, “মানুষ যে বৃত্তি নিয়ে জন্মেছে তা নিন্দনীয় হলেও কখনও পরিত্যাগ করা উচিত নয়”। “বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের উদাহরণ দিয়ে সে জানায়, স্বভাবে দায়পরবশ হলেও তাঁরা যজ্ঞের পশুবধের সময় নির্দয় হন”। অর্থাৎ “কোনো পেশাই সম্পূর্ণভাবে ত্রুটিহীন নয়”।

“কীভাবে এই আংটি আমার কাছে এল — তা বললাম।” — বক্তা আংটি পাওয়ার প্রসঙ্গে কী বলেছিল লেখো।
অথবা, “ঘটনাক্রমে সেই আংটি পেল এক ধীবর” – কোন্ ঘটনাক্রমে সে আংটিটি পেয়েছিল?

বক্তার প্রসঙ্গকথা – রাজশ্যালক ও রক্ষীরা ধীবরের কাছে “রাজার নাম খোদাই করা রত্নখচিত আংটিটি” পেয়ে রক্ষীরা তাকে চোর সাব্যস্ত করেন। তখন ধীবর নিজের পেশাগত পরিচয় দেয় এবং বলে যে, “একদিন একটি রুই মাছ ধরার পরে সে যখন মাছটি টুকরো করেছিল, তখন তার পেটের মধ্যে মণিমুক্তাখচিত এই আংটিটি সে দেখতে পায়”। “তারপর সেই আংটিটি বিক্রি করার জন্য যখন সে লোকজনকে দেখাচ্ছিল, তখনই রক্ষীরা তাকে ধরে”।

“সুতরাং রাজবাড়িতেই যাই।” – কে, কেন রাজবাড়িতে যেতে চেয়েছেন?

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি – রাজশ্যালক রাজবাড়িতে যেতে চেয়েছেন।

রাজবাড়িতে যেতে চাওয়ার কারণ – ধীবর রাজরক্ষীদের জানিয়েছিল যে, “রাজার নাম খোদাই করা, রত্নখচিত আংটিটি সে রুইমাছের পেট থেকে পেয়েছে”। তার কথার সত্যতা যাচাই করার জন্যই রাজশ্যালক রাজবাড়িতে যেতে চেয়েছেন। ধীবরকে নিয়ে “সদর দরজায় রক্ষীদের সাবধানে অপেক্ষা করতে” বলে রাজশ্যালক জানান যে, “সব কথা মহারাজকে জানিয়ে তাঁর আদেশ নিয়ে তিনি ফিরে আসবেন”।

“মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুব খুশি হবেন।” — কারা মন্তব্যটি করেছে? কোন্ সংবাদ শুনে মহারাজ খুশি হবেন?

উদ্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ – দুজন রক্ষী প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছে।

উল্লিখিত সংবাদ – রাজশ্যালক ধীবরের কাছে আংটি পাওয়ার পরে মহারাজকে সমস্ত ঘটনা জানানোর জন্য গিয়েছিলেন। তখনই রক্ষীরা এই মন্তব্যটি করে। এই মন্তব্যের দুটি দিক আছে। প্রথমত, “রাজা তাঁর আংটি ফেরত পাওয়ার কথা শুনে খুশি হবেন”। দ্বিতীয়ত, “রাজার এই মূল্যবান আংটি যে চুরি করেছিল, তাকে ধরতে পারায় তাঁর খুশি অনেক বেড়ে যাবে”।

“মহারাজের হুকুমনামা হাতে নিয়ে এদিকে আসছেন।” — হুকুমনামা কী? সে হুকুমনামার কী নির্দেশ ছিল?

হুকুমনামার অর্থ – হুকুমনামা বলতে আদেশপত্র বোঝায়।

হুকুমনামায় উল্লিখিত নির্দেশ – ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশে রক্ষীরা প্রত্যাশা করেছিল যে, “মহারাজের হুকুমনামায় ধীবরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ থাকবে”। কিন্তু রাজশ্যালক আসার পরে দেখা যায়, “হুকুমনামায় জেলেকে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে”। কারণ, “আংটি বিষয়ে ধীবর যা বলেছিল, তার সবই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে”।

“সূচক, এই জেলেকে ছেড়ে দাও।” — কে কথাটি বলেছে? জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হল কেন?

বক্তা – উল্লিখিত মন্তব্যটি করেছে রাজশ্যালক।

জেলেকে ছেড়ে দেওয়ার কারণ – ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশে ধীবরের কাছে “রাজার নাম খোদাই করা রত্নখচিত আংটিটি” পাওয়ার পরে রাজশ্যালক এবং রক্ষীরা তাকে চোর সাব্যস্ত করে। “আংটি পাওয়ার বিষয়ে ধীবরের কোনো কথাই তারা শোনে না”। কিন্তু রাজশ্যালক রাজাকে বিষয়টি জানালে রাজা বলেন যে, “আংটি বিষয়ে ধীবর যা বলেছে সবই সত্য”। অর্থাৎ “মাছের পেট থেকেই সে আংটিটি পেয়েছে”। সেই কারণে “রাজা ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেন”।

“এ কি! যা – তা! অনুগ্রহ…” — বক্তা কে? এরকম মন্তব্যের কারণ কী?

বক্তা – কালিদাসের ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যদৃশ্যে উল্লিখিত মন্তব্যটির বক্তা প্রথম রক্ষী সূচক।

মন্তব্যের কারণ – সূচক এবং জানুক প্রত্যাশা করেছিল যে “রাজার কাছে আংটি বিষয়ে ধীবরের যাবতীয় বক্তব্য মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে” এবং “তারা ধীবরকে মৃত্যুদণ্ড দেবে”। কিন্তু “ধীবরের সব কথা সত্য বলে স্বীকৃতি পায়”। শুধু তা-ই নয়, “রাজা তাকে আংটির সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার দেন”। এতে রক্ষীরা হতাশ হয়ে মন্তব্যটি করে।

“মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন।” কোন্ সময়ে রাজার এমন বিহ্বল অবস্থা হয়েছিল?

বিহ্বল অবস্থার সময় – ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশে ধীবরের কাছে “রাজার নাম খোদাই করা রত্নখচিত আংটিটি” পেয়ে রাজশ্যালক এবং রক্ষীরা ধীবরকেই চোর সাব্যস্ত করে। এরপর রাজশ্যালক পুরো বিষয়টি জানানোর জন্য রাজার কাছে যায়। “আংটি সম্পর্কে ধীবরের বলা কথার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাজার কাছে গেলে ধীবরের বলা সব কথাই সেখানে সত্য বলে প্রমাণিত হয়”। “আংটির দিকে তাকিয়ে রাজার অতীতের কোনো প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে যায়”। ফলে “স্বভাবে গম্ভীর প্রকৃতির হলেও ওই মুহূর্তে তিনি বিহ্বল হয়ে পড়েন”।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রথম পাঠের দ্বিতীয় অধ্যায়, ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ -এর কিছু ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

নবম শ্রেণী ইতিহাস - প্রাককথন: ইউরোপ ও আধুনিক যুগ

নবম শ্রেণী ইতিহাস – প্রাককথন: ইউরোপ ও আধুনিক যুগ

নবম শ্রেণী ইতিহাস - বিপ্লবী আদর্শ,নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ - বিষয়সংক্ষেপ

নবম শ্রেণী ইতিহাস – বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – বিষয়সংক্ষেপ

নবম শ্রেণী ইতিহাস - বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

নবম শ্রেণী ইতিহাস – বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? আলোক কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স কাকে বলে? উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্সের মধ্যে পার্থক্য

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা