এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহের পর্যায়গুলি আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহের পর্যায়গুলি আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের সপ্তম অধ্যায় “উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহের পর্যায়গুলি আলোচনা করো।
- অঞ্চল চিহ্নিতকরণ (Area of Interest) – মানচিত্র বা তথ্যচিত্র প্রস্তুতের জন্য বিশেষ অঞ্চলকে চিহ্নিত করা হয় যার তথ্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয়।
- শক্তির বিকিরণ/বিচ্ছুরণ (Radiation by Energy Source) – দূর সংবেদনের জন্য প্রয়োজন একটি শক্তির উৎস যা থেকে তড়িৎ চুম্বকীয় শক্তি লক্ষ্যবস্তুর ওপর গিয়ে তাকে আলোকিত করে/প্রতিফলিত করে। অর্থাৎ পার্থিব বস্তু থেকে তড়িৎ চুম্বক শক্তি নির্গত হবেযা উপগ্রহে থাকা sensor -এ সংগৃহীত হবে।
- বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে শক্তির মিথস্ক্রিয়া (Interaction of energy with atmosphere) – তড়িৎচুম্বকীয় শক্তিকে সংবেদক (sensor) পর্যন্ত পৌঁছোনোর জন্য সব সময় কিছু দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র আলোক তরঙ্গ (Incoming solar radiation) বহু দূর পথ (মহাশূন্য) অতিক্রম করে ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছোয়। ভ্রমণপথে কিছু পরিমাণ শক্তির শোষণ (absorption) এবং বিচ্ছুরণ (scattering) ঘটে।
- পার্থিব বস্তুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া (Interaction of energy with target-Earth surface features) – সূর্য বা অন্য কোনো কৃত্রিম উৎস থেকে তড়িৎচুম্বকীয় শক্তি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা ভূপৃষ্ঠের ওপর পতিত হয়। তখন ওই বস্তু ও শক্তির আন্তঃক্রিয়া হয়। বস্তুর বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি অনুসারে আলোক তরঙ্গের প্রতিফলন (Reflection) ঘটে। এই প্রতিফলিত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য, কৃত্রিম উপগ্রহে থাকা বিভিন্ন sensor দ্বারা সংগৃহীত হয় এবং যন্ত্র বস্তুকে চিহ্নিত করে।
- বিকীর্ণ/প্রতিফলিত তরঙ্গের সঙ্গে বায়ুমন্ডলের পুনঃমিথস্ক্রিয়া (Re-interaction) – ভূপৃষ্ঠ বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু থেকে বিকীর্ণ বা প্রতিফলিত শক্তি যখন sensor -এ পৌঁছোয় তখন যাওয়ার পথে শক্তি বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে।
- সংবেদকের শক্তি সংগ্রহ (Recording of energy by sensor) – বস্তু থেকে প্রতিফলিত শক্তি বায়ুমন্ডলের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করার পর উপগ্রহে থাকা বিভিন্ন sensor -এ বিকীর্ণ শক্তি সংগৃহীত হয় ও যন্ত্রে তা লিপিবদ্ধ (Recording) হয়। ভূপৃষ্ঠে থাকা বিভিন্ন বস্তুর ওপর EMR পড়লে, বস্তুর প্রকৃতি অনুসারে প্রতিফলন, শোষণ ও শক্তির প্রতিসরণের পরিমাণের পার্থক্য ঘটে। তাই পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে বস্তুকে চিহ্নিতকরণ করা হয়।
- প্রেরণ-সংগ্রহ-প্রস্তুত প্রক্রিয়া (Transmission-reception-processing) – সংবেদক (sensor) দ্বারা পর্যবেক্ষিত অঞ্চলের বস্তু বা বিষয়সমূহের বিস্তারিত তথ্যাবলি সংখ্যার (digit) আকারে সঞ্চিত (capturing) ও লিপিবদ্ধ (recorded) হয়। পরিশেষে সংগৃহীত তথ্যাবলি বিশ্লেষণের জন্য ভূমিতে অবস্থিত কেন্দ্রে (ground station) -এ পাঠানো হয়। গ্রাহকযন্ত্র বা কম্পিউটার বৈদ্যুতিন আকারে (electronic forms) বা সংখ্যার আকারের তথ্যকে চিত্র বা ছবিতে রূপান্তরিত করে। কম্পিউটারের সাহায্যে ‘Digital image processing system’ ব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণ, রূপায়ণ ও মুদ্রণ (printing) করা হয়। তথ্য অনুযায়ী বিশেষ সমস্যার সমাধান করা হয়।
ভারতে ইসরো (ISRO) -এর দ্বারা পরিচালিত কেন্দ্রটি অন্ধ্রপ্রদেশের সাদনগরে (Shadnagar) অবস্থিত।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহের পর্যায়গুলি আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহের পর্যায়গুলি আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের সপ্তম অধ্যায় “উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন