নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন সংগঠনের স্তর – কোশ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Rahul

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘কোশ’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

কোশ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

কে, কীভাবে কোশ আবিষ্কার করেন?

ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক, 1665 খ্রিস্টাব্দে নিজের তৈরি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কর্কের একটি পাতলা ছেদ পরীক্ষা করতে গিয়ে মৌচাকের কুঠুরির মতো কিছু গঠন লক্ষ করেন। তিনি এগুলির নামকরণ করেন ‘Cell’ বা কোশ।

‘Cell’ শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘Cellulae’ থেকে নেওয়া, যার অর্থ ‘a little room or compartment’।

রবার্ট হুকের অণুবীক্ষণ যন্ত্র

কে, কখন প্রথম সজীব কোশ আবিষ্কার করেন? কোশকে খালি চোখে দেখা যায় কি?

ডাচ্ বিজ্ঞানী লিভেনহিক, 1674 খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম জীবিত কোশ আবিষ্কার করেন।

কোশকে খালি চোখে দেখা যায় না। একে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।

“একটি কোশ একটি জীবদেহের সমতুল্য” – এই কথাটি তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?

অ্যামিবা নামক আদ্যপ্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোশ দ্বারা গঠিত। সুতরাং, অ্যামিবার বেঁচে থাকার জন্য যাবতীয় জৈবনিক ক্রিয়াকলাপ ওই একটিমাত্র কোশ দ্বারাই সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, অ্যামিবার দেহের একটি কোশই একটি জীবদেহের সমতুল্য।

পরিবর্তনশীল আকারবিশিষ্ট দুটি প্রাণীকোশের নাম লেখো।

পরিবর্তনশীল আকারবিশিষ্ট দুটি প্রাণীকোশের নাম – অ্যামিবা, মানবদেহের শ্বেত রক্তকণিকা।

মেসোক্যারিওটিক কোশ বলতে কী বোঝো?

যে-সমস্ত কোশের নিউক্লিয়াসটি সুসংগঠিত, একক পর্দাবেষ্টিত, ক্রোমোজোম আম্লিক প্রোটিন দ্বারা নির্মিত, অ্যামাইটোসিস পদ্ধতিতে কোশের বিভাজন ঘটে, তাদের মেসোক্যারিওটিক কোশ (Mesokaryotic Cell) বলা হয়। যেমন – নকটিলিউকা (আদ্যপ্রাণী)।

এককোশী ও বহুকোশী জীবের মধ্যে তুমি প্রধান কোন্ পার্থক্যটি লক্ষ করো? এই পার্থক্যের জন্য বহুকোশী জীবের দেহে কী ধরনের পরিস্ফুরণ ঘটেছে বলে তোমার মনে হয়?

এককোশী (যেমন – অ্যামিবা, ইউগ্লিনা প্রভৃতি) জীবের দেহ একটিমাত্র কোশ দ্বারা গঠিত এবং বহুকোশী (যেমন – মশা, হাতি প্রভৃতি) জীবের দেহ একাধিক কোশ দ্বারা গঠিত।

বহুকোশী জীবের দেহে, একাধিক কোশের প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে শ্রমবিভাজন ঘটায় কাজের পার্থক্য ঘটে, ফলে কলার উৎপত্তি হয়।

কোশীয় অঙ্গাণু না থাকলে কোশের কী পরিবর্তন ঘটবে?

কোশীয় অঙ্গাণু না থাকলে ইউক্যারিওট কোশকে প্রোক্যারিওট বলা যাবে না, কারণ – ইউক্যারিওট কোশ হল আদর্শ নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ (Eu = আদর্শ, karyon = নিউক্লিয়াস)। ইউক্যারিওটিক কোশের নিউক্লিয়াস নিউক্লিয় পর্দা, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিয় জালিকা ও নিউক্লিওলাসযুক্ত হওয়ায় একে প্রোক্যারিওট (আদি নিউক্লিয়াস) কোশ বলা যাবে না।

মধ্যচ্ছদা (Middle lamella) বলতে কী বোঝো?

সন্নিহিত দুটি উদ্ভিদকোশকে সিমেন্টের ন্যায় সংযুক্তকারী জেলি সদৃশ, সাধারণ আন্তঃকোশীয় ধাত্র পদার্থকে মধ্যচ্ছদা বলে। কোশ বিভাজনের সময় কোশপ্রাচীরের এই অংশটি সবার আগে গঠিত হয়।

মধ্যচ্ছদার রাসায়নিক উপাদান উল্লেখ করো।

মধ্যচ্ছদা ক্যালশিয়াম পেকটেট, ম্যাগনেশিয়াম পেকটেট ও স্বল্প পরিমাণ প্রোটিন দ্বারা গঠিত।

কোশপ্রাচীরের অলংকরণ বলতে কী বোঝো?

প্রাথমিক কোশপ্রাচীরের ভিতরের দিকে গৌণ প্রাচীর গঠিত হওয়ার সময় গৌণ কোশপ্রাচীরের উপাদানসমূহ অসমান ও অনিয়মিতভাবে জমা হওয়ার ফলে কোশপ্রাচীর স্থানে স্থানে বিশেষভাবে স্থূলীকৃত হয়ে বলয়াকার, সোপানাকার, জালিকাকার প্রভৃতি বৈচিত্র্যপূর্ণ রূপ ধারণ করে, একে বলা হয় কোশপ্রাচীরের অলংকরণ।

কোশপর্দার সাংগঠনিক উপাদান সৃষ্টিতে কোন্ অঙ্গাণু সাহায্য করে?

কোশপর্দার সাংগঠনিক উপাদান হল লিপিড ও প্রোটিন। মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা (SER) → লিপিড সংশ্লেষ করে। অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা (RER) → প্রোটিন সংশ্লেষ করে।

সিমপ্লাস্ট (Symplast) ও অ্যাপোপ্লাস্ট (Apoplast) কী?

সিমপ্লাস্ট (Symplast) – উদ্ভিদ কোশগুলির কোশপ্রাচীর সংলগ্ন সজীব প্লাজমোডেসমাটা যা পার্শ্ববর্তী কোশগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে তাদের সিমপ্লাস্ট বলে।

অ্যাপোপ্লাস্ট (Apoplast) – উদ্ভিদ কোশের প্লাজমা মেমব্রেনের বাইরে অবস্থিত আণুবীক্ষণিক সূক্ষ্ম গ্যাপ বা ফাঁকা স্থান যার মধ্যে দিয়ে খনিজ লবণ মিশ্রিত কৈশিক জল এক কোশ থেকে অন্য কোশে ব্যাপিত হয়, সেই ফাঁকা স্থানকে অ্যাপোপ্লাস্ট বলে। উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা জলশোষণ এই পথে হয়।

“প্রোটোপ্লাজম হল জীবনের ভৌত আধার” – কথাটির সপক্ষে যুক্তি দাও।

প্রোটোপ্লাজম হল কোশপর্দা ঘেরা কোশমধ্যস্থ সজীব অংশ। এটি ব্যতীত জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব নয়, কারণ জীবনের লক্ষণসমূহ, যেমন – বিপাক, উত্তেজিতা, বৃদ্ধি, জনন এই সবই প্রোটোপ্লাজমের বহুবিধ ক্রিয়াকলাপের ফল। এজন্য বিজ্ঞানী হাক্সলে প্রোটোপ্লাজমকে প্রাণের বা জীবনের ভৌত ভিত্তি বা আধার রূপে ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রাইমরডিয়াল ইউট্রিকল বলতে কী বোঝো?

অনুরূপ প্রশ্ন, পরিণত উদ্ভিদকোশের প্রোটোপ্লাজম কোশের মধ্যে কীভাবে বিন্যস্ত থাকে এবং তার কারণ লেখো।

প্রাইমরডিয়াল ইউট্রিকল – পরিণত উদ্ভিদকোশে কোশগহ্বর বা ভ্যাকুওলগুলি পরস্পর মিলিত হয়ে একটি বড়ো ভ্যাকুওল তৈরি করে, ফলে নিউক্লিয়াসসহ সাইটোপ্লাজম কোশপ্রাচীরের ভিতরের দিকে পরিধি বরাবর বিন্যস্ত থাকে। ভ্যাকুওলকে বেষ্টন করে সাইটোপ্লাজমের এইরকম বিন্যাসকে প্রাইমরডিয়াল ইউট্রিকল (Primordial Utricle) বলে।

প্রাইমরডিয়াল ইউট্রিকল সৃষ্টি

পরিণত উদ্ভিদকোশের ভ্যাকুওল আকারে বড়ো হয় কেন?

উদ্ভিদকোশের পরিণতির সময় কোশের আয়তন বৃদ্ধির সঙ্গে সমতা রেখে সাইটোপ্লাজমের আয়তন বৃদ্ধি পায় না, ফলে অপরিণত উদ্ভিদকোশের ক্ষুদ্রাকার ভ্যাকুওলগুলি পরস্পর মিলিত হয়ে কেন্দ্রীয়, বৃহদাকার ভ্যাকুওল সৃষ্টি করে।

হায়ালোপ্লাজম, ট্রোফোপ্লাজম ও টোনোপ্লাজম কী?

হায়ালোপ্লাজম (Hyaloplasm) – সজীব কোশের সাইটোপ্লাজমের অস্বচ্ছ ও অর্ধতরল, বর্ণহীন সমসত্ত্ব ধাত্র, যেখানে বিভিন্ন সজীব ও নির্জীব বস্তু/উপাদান ভাসমান অবস্থায় থাকে, সেই ধাত্র/ম্যাট্রিক্সকে হায়ালোপ্লাজম বলে।

ট্রোফোপ্লাজম – হায়ালোপ্লাজমে ভাসমান সজীব বস্তু উপাদান ও নির্জীব বস্তু উপাদানকে একত্রে ট্রোফোপ্লাজম (Trophoplasm) বলে।

টোলোপ্লাজম (Tonoplasm) – পরিণত উদ্ভিদকোশের বৃহৎ এবং একক কোশ ভ্যাকুওলটি কেন্দ্রস্থ অবস্থান হওয়ার জন্য নিউক্লিয়াসসহ সাইটোপ্লাজমের পাতলা স্তরটি কোশপ্রাচীরের পরিধির দিকে অবস্থান করে। কোশ ভ্যাকুওল -এর চারদিকে পরিবেষ্টিত এই পাতলা সাইটোপ্লাজমের স্তরকে টোনোপ্লাজম বলে।

মাইক্রোভিলি কাকে বলে? এর কাজ লেখো।

মাইক্রোভিলি – প্রাণীকোশের কোশপর্দা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাঁজ হয়ে গিয়ে কোশের বাইরের দিকে যে-সমস্ত আঙুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে, তাদের মাইক্রোভিলি বলে।

মাইক্রোভিলির কাজ – ক্ষুদ্রান্ত্রের আবরণী কোশে বর্তমান মাইক্রোভিলি শোষণতল বৃদ্ধি করে ও খাদ্যরস দ্রুত শোষণে সাহায্য করে।

মাইটোকনড্রিয়াকে ‘কোশের শক্তিঘর’ বলা হয় কেন?

মাইটোকনড্রিয়ায় সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোশের খাদ্যবস্তু (কার্বোহাইড্রেট) জারিত হয়ে উচ্চশক্তিযুক্ত যৌগ বা ATP উৎপন্ন হয়, যা কোশের সমস্ত জৈবনিক ক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয়, তাই মাইটোকনড্রিয়াকে ‘কোশের শক্তিঘর’ বলে।

অক্সিজোম কী? এর কাজ লেখো।

মাইটোকনড্রিয়ার অন্তর্গাত্রে ক্রিস্টি সংলগ্ন বৃন্তযুক্ত টেনিস র‍্যাকেটের মতো দানাকে অক্সিজোম বলে। একে F0-F1 দানা বা ফারনানডেজ মোরান অধঃএককও বলা হয়।

কাজ – ATP সিন্থেটেজ উৎসেচকের সাহায্যে ATP উৎপাদন করে।

‘মানবদেহের হৃৎপিণ্ডের কোশে প্রচুর সংখ্যক মাইটোকনড্রিয়া থাকে’ -এর তাৎপর্য কী?

মানবদেহের হৃৎপিণ্ড একটি সদা সক্রিয় অঙ্গ। এর ক্রিয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ATP প্রয়োজন, যা মাইটোকনড্রিয়ায় সবাত শ্বসনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। তাই হৃৎপিণ্ডের কোশে প্রচুর সংখ্যক মাইটোকনড্রিয়া থাকে।

মাইটোকনড্রিয়াবিহীন দুটি কোশের নাম লেখো।

মাইটোকনড্রিয়াবিহীন দুটি কোশ হল –

  1. স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা।
  2. প্রোক্যারিওটিক কোশ।

কম অক্সিজেনযুক্ত পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া কোশে মাইটোকনড্রিয়ার বিকল্পরূপে কোন্ অঙ্গাণুটি উপস্থিত থাকে? এটি কোন কাজে ব্যাকটেরিয়াকে সাহায্য করে?

কম অক্সিজেনযুক্ত পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া কোশে মাইটোকনড্রিয়ার বিকল্পরূপে মেসোজোম উপস্থিত থাকে।

ব্যাকটেরিয়া কোশের কোশপর্দা ভিতরের দিকে ভাঁজ ও কুণ্ডলিত হয়ে এটি গঠিত হয়।

মেসোজোমের কাজ – মেসোজোমে শ্বসন উৎসেচক উপস্থিত থাকায়, এটি ব্যাকটেরিয়াকে শ্বসনকার্যে সাহায্য করে।

মাইটোকনড্রিয়ার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকে এরকম তিনটি অঙ্গের উল্লেখ করো।

কোশে মাইটোকনড্রিয়ার সংখ্যা অনেক বেশি থাকে, এমন তিনটি অঙ্গ হল –

  1. পতঙ্গের ও পাখির ডানা।
  2. সরেখ পেশি কোশ (হাত, পা প্রভৃতি অঙ্গ)।
  3. হৃৎপিণ্ড।

GERL তন্ত্র বলতে কী বোঝো?

GERL তন্ত্র (GERL System) – ইউক্যারিওটিক কোশের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত গলগি বডি (G), এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (ER) ও লাইসোজোম (L) কে একত্রে GERL তন্ত্র বলা হয়। GERL তন্ত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি অঙ্গাণুই কোশীয় ক্ষরণের সঙ্গে যুক্ত।

কোশে লাইসোজোম কেন দরকার?

লাইসোজোম বহিঃকোশীয় ও অন্তঃকোশীয় পাচনে সাহায্য করে। কোশে কোনো বহিরাগত বস্তু প্রবেশ করলে লাইসোজোম তার লাইসোজাইম উৎসেচক ক্ষরণ করে বহিরাগত বস্তুগুলিকে (foreign particle) আর্দ্রবিশ্লেষণের মাধ্যমে ধ্বংস করে। তাই, কোশে লাইসোজোম না থাকলে, রোগজীবাণু কোশে প্রবেশ করবে এবং দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

লাইসোজোমকে ‘আত্মঘাতী থলি’ (Suicidal bag) বলা হয় কেন?

লাইসোজোমের মধ্যে আর্দ্রবিশ্লেষক উৎসেচক থাকে। কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে লাইসোজোম নিজ কোশকেই পাচিত করে এবং ধ্বংস করে দেয়। একারণে, লাইসোজোমকে ‘আত্মঘাতী থলি’ (Suicidal Bag) বলে।

মানবদেহের এমন দুটি কোশের নাম লেখো যাতে প্রচুর সংখ্যায় মসৃণ এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা দেখা যায়।

মানবদেহের যকৃৎ কোশ ও মেদকলা কোশে প্রচুর সংখ্যায় মসৃণ এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা দেখা যায়।

এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা থেকে সৃষ্টি হয় এমন দুটি কোশীয় অঙ্গাণুর নাম লেখো।

এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা থেকে –

  1. মাইটোকনড্রিয়া।
  2. গলগি বডি সৃষ্টি হয়।

জাইমোজেন দানা কী? এগুলি কোথায় থাকে?

জাইমোজেন দানা – অমসৃণ ER -এর রাইবোজোম দানা থেকে সংশ্লেষিত প্রোটিন ER -এর সিস্টারনি দিয়ে বাহিত হয়ে ক্ষরণকারী ভেসিকলে জমা হয় এবং জলের বিয়োজন ঘটিয়ে একক পর্দাবেষ্টিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র থলির মতো দানাময় বস্তুতে রূপান্তরিত হয়। এই দানাময় থলির মতো বস্তুকে জাইমোজেন দানা বলে।

এগুলি একপ্রকারের নিষ্ক্রিয় উৎসেচকপূর্ণ থলির মতো প্রোটিন কণা, যা অগ্ন্যাশয়ের কোশে দেখা যায়।

গলগি বডি ও এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকার মধ্যে সাদৃশ্য উল্লেখ করো।

  1. উভয় কোশীয় অঙ্গাণুতেই সিস্টারনি নামক উপাদান বর্তমান।
  2. উভয় অঙ্গাণুই একক পর্দাবৃত সংগঠন।

গলগি বডি থেকে সৃষ্টি হয় এমন দুটি কোশ অঙ্গাণুর নাম লেখো।

গলগি বডি থেকে এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা ও লাইসোজোম সৃষ্টি হয়।

‘জোন অফ এক্সক্লুশন’ বলতে কী বোঝো?

গলগি বস্তুর চারপাশে যে সাইটোপ্লাজমীয় অংশ থাকে সেখানে কোনো কোশীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে না। এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা থেকে গলগি বস্তু পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঙ্গাণুবিহীন সাইটোপ্লাজমীয় ক্ষেত্রকে ‘জোন অফ এক্সক্লুশন’ (Zone of Exclusion) বলে।

প্লিওমরফিক অঙ্গাণু কাকে ও কেন বলে?

কোশের ক্ষরণ কাজের মাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গলগি বস্তুর আকৃতিগত পরিবর্তন ঘটে। একারণে গলগি বস্তুকে ‘প্লিওমরফিক অঙ্গাণু’ (Pleomorphic organelle) বলে।

পলিজোম (Polysome) কী?

পলিজোম – ইউক্যারিওটিক কোশে প্রোটিন সংশ্লেষের সময় একাধিক রাইবোজোম একটি RNA (মেসেঞ্জার RNA) তন্ত্রী দ্বারা পরস্পর যুক্ত হয়ে (Mg2+ আয়নের উপস্থিতিতে) যে শৃঙ্খলিত গঠন সৃষ্টি করে, তাকে পলিজোম বলে।

মনোজোম (Monosome) কাকে বলে?

মনোজোম – ব্যাকটেরিয়া জাতীয় প্রোক্যারিওটিক কোশে রাইবোজোম সাইটোপ্লাজমে এককভাবে অবস্থান করে, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে না, একে মনোজোম বলা হয়।

রাইবোফোরিন কী?

রাইবোফোরিন – যে প্রোটিন উপাদানের জন্য রাইবোজোম অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের গাত্রে লেগে থাকে, তাকে রাইবোফোরিন বলে।

প্রোটিন ফ্যাক্টরি কোন্ অঙ্গাণুকে বলে কারণসহ লেখো।

রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলে, কারণ – রাইবোজোম প্রোটিন সংশ্লেষকালে অ্যামিনো অ্যাসিডকে স্থান প্রদান করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। প্রোটিন সংশ্লেষের মুখ্য আধার রূপে কাজ করে প্রোটিন সংশ্লেষের প্রয়োজনীয় উৎসেচক সরবরাহ করে। এছাড়া রাইবোজোম mRNA -এর কোড ট্রান্সলেট/অনুধাবন করে বিশেষ বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিডগুলি একত্রিত করে বিশেষ প্রোটিন গঠন করে। তাই রাইবোজোমকে ‘কোশের প্রোটিন ফ্যাক্টরি’ বলে।

পাইরিনয়েড (Pyrenoid) কী?

পাইরিনয়েড হল শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্টে অবস্থিত একপ্রকার সঞ্চিত বস্তু। পাইরিনয়েড বস্তুটি প্রোটিনের পুঞ্জীভূত দানা যা বাইরের দিকে শ্বেতসার দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে।

অ্যালিউরোনপ্লাস্ট বলতে কী বোঝো?

উদ্ভিদকোশে দানার মতো ছড়ানো প্লাস্টিডের মধ্যে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য জমা থাকে। এই দানাগুলিকে অ্যালিউরোনপ্লাস্ট বলে।

কিছু কিছু আলু সবুজ হয় কেন?

আলুগাছের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় আলু সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসলে ওর মধ্যস্থ লিউকোপ্লাস্টিড সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোপ্লাস্টিডে রূপান্তরিত হয় বলে কিছু আলু সবুজ হয়।

নিউক্লিয়াসকে ‘কোশের মস্তিষ্ক’ বলা হয় কেন?

নিউক্লিয়াস মধ্যস্থ ক্রোমোজোমে যে জেনেটিক তথ্যাবলি থাকে তা সংশ্লিষ্ট কোশটির সমস্ত জৈবনিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। কোশ বিভাজনেও নিউক্লিয়াস মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলিকে এক জনু থেকে অপর জনুতে বহন করে। তাই একে ‘কোশের মস্তিষ্ক’ বলা হয়।

ক্যারিওথিকা বলতে কী বোঝো?

সমগ্র নিউক্লিয়াসকে আবৃত করে যে ছিদ্রযুক্ত দ্বি-একক পর্দাটি থাকে, তাকে নিউক্লিয় পর্দা বা ক্যারিওথিকা বলে। এটি এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা থেকে উৎপন্ন হয়।

ক্রোমোজোমে কয়প্রকার নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে ও কী কী?

ক্রোমোজোমে দু-প্রকার নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে। যথা- DNA ও RNA।

DNA ও RNA -এর পুরো কথাটি কী?

  • DNA – ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।
  • RNA – রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।

ক্রোমোজোমের কাজ কী?

ক্রোমোজোমে বর্তমান কার্যকরী DNA অণু জিন নামে পরিচিত যা জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত করে।

ক্রোমোজোমের গঠনগত উপাদানগুলি কী কী?

ক্রোমোজোমের গঠনগত উপাদান – ক্রোমোজোম মূলত নিউক্লিও প্রোটিনের তন্তু বিশেষ, অর্থাৎ নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত। রাসায়নিক (গঠনগত) উপাদানগুলি হল –

  1. DNA।
  2. RNA।
  3. প্রোটিন (হিস্টোন ও অহিস্টোন)।
  4. ধাতব আয়ন যেমন – Ca2+, Mg2+ প্রভৃতি।

সিনোসাইট ও সিনসিটিয়াম কী? উদাহরণসহ লেখো।

সিনোসাইট – একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত উদ্ভিদকোশকে সিনোসাইট বলে।

সিনসিটিয়াম – একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত প্রাণীকোশকে সিনসিটিয়াম বলে। যেমন – মানুষের অস্থি পেশি কোশ, অ্যাসকারিসের ত্বক কোশ।

সিনোসাইট কোষের উৎপত্তি কিভাবে হয়?

যখন কোনো কোশে একাধিকবার নিউক্লয়াসের বিভাজন ঘটে (ক্যারিওকাইনেসিস) কিন্তু সেই সঙ্গে সাইটোকাইনেসিস বা সাইটোপ্লাজমের বিভাজন হয় না তখন সিনোসাইট কোশের উৎপত্তি হয়। যেমন – ভাউকেরিয়া নামক শৈবাল, রাইজোপাস নামক ছত্রাকের সিনোসাইট কোশ দেখা দেয়। একাধিক ইউনিনিউক্লিয়েট কোশ সম্মিলিত হয়ে একটি সিনসিটিয়াম কোশ গঠন করে।

DNA উপস্থিত থাকে এরূপ কয়েকটি অঙ্গাণুর নাম লেখো।

DNA উপস্থিত থাকে এরূপ কয়েকটি অঙ্গাণু হল – নিউক্লিয়াস, মাইটোকনড্রিয়া, প্লাস্টিড।

কার্ট হুইল মডেল কী?

প্রস্থছেদে প্রতিটি সেন্ট্রিওলকে গোরুর গাড়ির চাকার মতো দেখায় যার কেন্দ্রে একটি দন্ডাকার কেন্দ্রীয় হাব থাকে এবং তাকে ঘিরে 9টি অণুনালিকা অবস্থান করে এবং অণুনালিকাগুলি কেন্দ্রীয় হাবের সঙ্গে সাইকেলের স্পোকের ন্যায় সাইটোপ্লাজমীয় সূত্রাকার অংশের ন্যায় গঠন দ্বারা যুক্ত। একে কার্ট হুইল মডেল বলা হয়। এই মডেলের প্রবক্তা থ্রেড গোল্ড (1968)।

ডিপ্লোজোম কী?

ডিপ্লোজোম – প্রাণীকোশে সেন্ট্রোজোমের কেন্দ্রে পরস্পর সমকোণে অবস্থিত দুটি সেন্ট্রিওলকে একত্রে ডিপ্লোজোম বলে।

মানবদেহের কোন্ কোশ বিভাজিত হতে পারে না এবং কেন?

মানবদেহের স্নায়ুকোশ বিভাজিত হতে পারে না, কারণ স্নায়ুকোশের সেন্ট্রোজোমটি নিষ্ক্রিয় প্রকৃতির।

কোশরসের (Cell sap) উপাদান কী?

কোশরসে শর্করা, অজৈব লবণ, বিভিন্ন রেচন পদার্থ ক্ষরণজাত পদার্থ, রঞ্জক পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় অথবা কেলাসরূপে থাকে।

কোশগহ্বরকে ‘কোশের ভাঁড়ারঘর’ (store house) বলে কেন?

কোশগহ্বরের কোশরসে শর্করা, অজৈব লবণ, বিভিন্ন রেচন পদার্থ, ক্ষরণজাত পদার্থ, রঞ্জক পদার্থ সঞ্চিত থাকে। এরা কোশের প্রয়োজনমতো ব্যবহৃত হয় বা কোশ থেকে বর্জিত হয়। তাই কোশগহ্বরকে ‘কোশের ভাঁড়ারঘর’ বলে।

মাইক্রোবডিজ কাকে বলে?

আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোশের সাইটোপ্লাজমে যে-সকল ক্ষুদ্র, গোলাকার কোশ-অঙ্গাণুর মধ্যে অক্সিডেজ, পারঅক্সিডেজ ইত্যাদি উৎসেচক উপস্থিত থাকে, তাদের মাইক্রোবডিজ বলে।

পারঅক্সিজোম কাকে বলে?

আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোশের সাইটোপ্লাজমে যে-সকল একক পর্দাবেষ্টিত কোশীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে এবং যারা জারণ ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাদের পারঅক্সিজোম বলে।

গ্লাইঅক্সিজোম কাকে বলে?

একক পর্দাবেষ্টিত যে-সকল কোশীয় অঙ্গাণুর মধ্যে স্নেহপদার্থ বিপাকের উৎসেচক থাকে এবং যারা আকারে ক্ষুদ্র, গোলাকার অথবা ডিম্বাকার হয়, তাদের গ্লাইঅক্সিজোম বলে।

স্ফেরোজোম কাকে বলে?

উদ্ভিদকোশের সাইটোপ্লাজমে উপস্থিত একক পর্দাবেষ্টিত ক্ষুদ্র, গোলাকার যে কোশীয় অঙ্গাণুগুলির মধ্যে স্নেহপদার্থ সঞ্চিত থাকে, তাকে স্ফেরোজোম বলে।

ফ্যাগোসাইটোসিস কাকে বলে?

যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোশপর্দা দ্বারা কোশের বাইরে থেকে কোনো কঠিন পদার্থ (যেমন – খাদ্যকণা বা কোনো জীবাণু) কোশে গৃহীত হয়, তাকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে। এই পদ্ধতিতে প্রথমে কোশ বহিস্থ কঠিন বস্তুকে ঘিরে কোশপর্দার বহিবৃদ্ধি অর্থাৎ ফ্যাগোজোম গঠিত হয়, যা ধীরে ধীরে ওই বস্তুকে কোশের ভিতর গ্রহণ করে নেয়। অ্যামিবার খাদ্যগ্রহণ, WBC বা ম্যাক্রোফাজ দ্বারা রোগজীবাণু গ্রহণ বা ধ্বংস এই পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।

পিনোসাইটোসিস কাকে বলে?

অনুরূপ প্রশ্ন, পিনোসাইটোসিসকে ‘সেল ড্রিঙ্কিং’ বলা হয় কেন?

যে পদ্ধতিতে কোশপর্দা বা প্লাজমাপর্দার মাধ্যমে কোশ প্রয়োজনীয় তরলকে কোশের বাইরে থেকে কোশের মধ্যে গ্রহণ করে, তাকে পিনোসাইটোসিস বলে। এক্ষেত্রে কোশের বাইরে থেকে তরল গ্রহণের জন্য কোশপর্দা নলাকার গহ্বর সৃষ্টি করে যাকে পিনোসাইটিক গহ্বর বা পিনোজোম বলে। বিজ্ঞানী এর্ডওয়ার্ড সর্বপ্রথম অ্যামিবার কোশে পিনোসাইটোসিস লক্ষ করেন। অ্যামিবা দ্বারা তরল পদার্থ গ্রহণে, অস্থিমজ্জার এরিথ্রোপ্লাস্টে পিনোসাইটোসিস ঘটে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোশে তরল পদার্থ প্রবেশ করে বলে এই প্রক্রিয়াকে সেল ড্রিঙ্কিংও বলে।

মাইক্রোটিউবিউল না থাকলে কোশের কী পরিবর্তন ঘটবে?

মাইক্রোটিউবিউল হল সাইটোপ্লাজমীয় কঙ্কাল গঠনকারী উপাদান। মাইক্রোটিউবিউল না থাকলে কোশের আকৃতির পরিবর্তন ঘটবে এবং কোশের দৃঢ়তা কমে যাবে।

‘প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয় কোশে আছে’ এবং ‘প্রাণীকোশে নেই অথচ উদ্ভিদকোশে আছে’ এইপ্রকার কোশ অঙ্গাণুগুলির নাম একটি ছকের সাহায্যে লেখো।

প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয় কোশে আছে এইপ্রকার কোশ অঙ্গাণুপ্রাণীকোশে নেই অথচ উদ্ভিদ কোশে আছে এইপ্রকার কোশ অঙ্গাণু
1. মাইটোকনড্রিয়া।
2. এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা।
3. গলগি বডি।
4. লাইসোজোম।
5. রাইবোজোম।
প্লাস্টিড – ক্লোরোপ্লাস্টিড, ক্রোমোপ্লাস্টিড, লিউকোপ্লাস্টিড।

ফ্যাট সঞ্চয়কারী কোশকে আংটির মতো দেখায় কেন?

ফ্যাট সঞ্চয়কারী কোশে ক্রমাগত ফ্যাট বা চর্বি জমা হওয়ার ফলে ফ্যাটজাতীয় বস্তু ক্রমশ কোশের পুরো আয়তনে বিস্তৃত হতে থাকে ও নিউক্লিয়াসসহ সাইটোপ্লাজম এক দিকে সরে যায়, ফলে ফ্যাট সঞ্চয়কারী কোশকে আংটির মতো দেখায়।

কোন্ কোন্ অঙ্গাণু একটি অপরটির বিপরীত কাজ করে খুঁজে বার করে লেখো। 1. উদ্ভিদকোশে খাদ্য সংশ্লেষ ও ভাঙন। 2. প্রাণীকোশে কোশের ভিতরে প্রোটিন সংশ্লেষ ও প্রোটিন পাচন।

উদ্ভিদকোশে খাদ্য সংশ্লেষউদ্ভিদকোশে খাদ্যের ভাঙন
প্লাস্টিড।মাইটোকনড্রিয়া।
প্রাণীকোশের ভিতরে প্রোটিন সংশ্লেষপ্রাণীকোশের ভিতরে প্রোটিন পাচন
1. নিউক্লিওলাস।
2. রাইবোজোম।
3. এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা।
লাইসোজোম।

একটি সজীব কোশের গঠনগত উপাদানগুলি উল্লেখ করো।

একটি সজীব কোশের গঠনগত উপাদানগুলি হল –

  1. সজীব বহিঃপর্দা বা প্লাজমাপর্দা – এটি একটি অর্ধভেদ্য বা প্রভেদক ভেদ্যপর্দা যা কোশকে বহিঃপরিবেশ থেকে পৃথক রাখে ও স্বাতন্ত্র্যতা দান করে।
  2. প্রজননিক বস্তু বা জেনেটিক পদার্থ – জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কোশস্থিত DNA -তে অবস্থান করে এবং বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়।
  3. সাইটোপ্লাজম – কোশের অর্ধতরল ধাত্র, সাইটোপ্লাজমে বিভিন্ন কোশীয় কার্যাবলি সম্পন্ন হয় এবং বিভিন্ন সজীব কোশীয় অঙ্গাণু অবস্থান করে।

সজীব কোশের চারটি কার্যগত অবদান উল্লেখ করো।

সজীব কোশের কার্যগত অবদান –

  1. বিপাকক্রিয়া – সজীব কোশে প্রতিমুহূর্তে বহুসংখ্যক জৈবরাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। এগুলি গঠনমূলক (উপচিতি বিপাক) ও ভাঙনমূলক (অপচিতি বিপাক) হয়ে থাকে।
  2. শক্তি উৎপাদন – একটি কোশের বেঁচে থাকার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। কোশের মধ্যে খাদ্যের জারণ ঘটিয়ে এই শক্তি উৎপাদিত হয়।
  3. পরিবহণ – একটি কোশের অভ্যন্তরে বাহ্যিক পরিবেশ থেকে খাদ্য, অক্সিজেন প্রভৃতি প্রবেশের জন্য এবং কোশ থেকে CO2, রেচন বস্তু প্রভৃতি নির্গমনের জন্য পরিবহণের প্রয়োজন হয়।
  4. তথ্য সংরক্ষণ – কোশের নিউক্লিয়াস হল ‘Control room’ যেখানে তথ্য সংরক্ষণের কাজ হয়।

ব্যাকটেরিয়াকে প্রোক্যারিওটিক কোশ বলা হয় কেন?

ব্যাকটেরিয়াকে প্রোক্যারিওটিক কোশ বলার কারণ –

  1. ব্যাকটেরিয়া কোশে নিউক্লিয়পর্দা দ্বারা বেষ্টিত উন্নত, আদর্শ নিউক্লিয়াস থাকে না, অর্থাৎ জেনেটিক পদার্থ কোশের সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকে।
  2. ব্যাকটেরিয়া কোশে একক পর্দা দিয়ে ঘেরা কোশ অঙ্গাণু, যেমন – মাইটোকনড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট প্রভৃতি অনুপস্থিত।
  3. ব্যাকটেরিয়া কোশে 70S প্রকৃতির রাইবোজোম থাকে।

প্রোক্যারিওটিক কোশ ইউক্যারিওটিক কোশের তুলনায় বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ কেন?

প্রোক্যারিওটিক কোশ ইউক্যারিওটিক কোশের তুলনায় বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ কারণ –

  1. প্রোক্যারিওটিক কোশ এককোশী জীবদেহ গঠন করে। জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত বিপাকক্রিয়া এবং জৈব অণু উৎপাদন একটিমাত্র কোশের মধ্যেই ঘটে।
  2. প্রোক্যারিওটিক কোশ হ্যাপ্লয়েড (n) প্রকৃতির, অর্থাৎ একটি প্রজননিক বস্তু উপস্থিত। এক্ষেত্রে প্রোক্রোমোজোমের যে-কোনো প্রকার মিউটেশনই দ্রুত প্রকাশিত হয়।
  3. DNA নগ্ন প্রকৃতির অর্থাৎ, হিস্টোনবিহীন হওয়ায় DNA -এর কার্যাবলি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয় না।

উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের মধ্যে সাদৃশ্য নিরূপণ করো।

উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশের সাদৃশ্যতা –

  1. উভয় প্রকার কোশে কোশপর্দার আবরণ বর্তমান।
  2. উভয় প্রকার কোশে নিউক্লিয়াস, মাইটোকনড্রিয়া, গলগিবস্তু, এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা, রাইবোজোম প্রভৃতি কোশীয় অঙ্গাণু বর্তমান।
  3. উভয় প্রকার কোশই সাধারণ ইউক্যারিওটিক প্রকৃতির।
  4. উভয় কোশেই কোশগহ্বর বর্তমান।

কোশপ্রাচীর -এর তিনটি রাসায়নিক উপাদানের নাম লেখো।

কোশপ্রাচীরের তিনটি রাসায়নিক উপাদান হল –

  1. সেলুলোজ – এটি গ্লুকোজ অণুর পলিমার। প্রায় 500–5,000 গ্লুকোজ অণু গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী দ্বারা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গঠিত হয়।
  2. হেমিসেলুলোজ – এটি একপ্রকার হেটারোগ্লাইকান পলিস্যাকারাইড। অ্যারাবিনোজ, গ্যালাকটোজ, ম্যানোজ, জাইলোজ, গ্লুকোজ প্রভৃতির সমন্বয়ে হেমিসেলুলোজ গঠিত হয়।
  3. পেকটিন – দীর্ঘ, শাখাযুক্ত বা শাখাবিহীন হেটারোগ্লাইকান পলিস্যাকারাইড।

গৌণ কোশপ্রাচীরের ওপর সঞ্চিত তিনটি পদার্থের নাম লেখো।

গৌণ কোশপ্রাচীরের ওপর সঞ্চিত তিনটি পদার্থ হল –

  1. লিগনিন – কাষ্ঠল উদ্ভিদের কোশে সঞ্চিত শক্ত আঠার মতো পদার্থ। এটি কাষ্ঠল তন্তুকে কোশের প্রাচীরের সঙ্গে যুক্ত করে ফলে উদ্ভিদঅঙ্গ দৃঢ় ও মজবুত হয়।
  2. কিউটিন – বহিঃত্বকীয় কোশের পরিধিতলে সঞ্চিত ফ্যাট বা মোম জাতীয় পদার্থ। এটি কোশকে জল নিরোধক করে এবং বাষ্পমোচন রোধ করে।
  3. সুবেরিন – কর্ক কোশের গৌণ প্রাচীরের উপর সঞ্চিত মোম জাতীয় পদার্থ। এটি কোশের মধ্যে জল প্রবেশে বাধা দেয় ও বাষ্পমোচনের হার কম করে।

প্লাজমোডেসমাটা কাকে বলে? কোশের গঠনে এর গুরুত্ব কী?

প্লাজমোডেসমাটা (Plasmodesmata) – কোশপ্রাচীরস্থিত ছিদ্রের মধ্যে দিয়ে কোশান্তর সংযোগ রক্ষাকারী সাইটোপ্লাজমীয় অংশকে প্লাজমোডেসমাটা বলে।

কোশীয় গঠনে প্লাজমোডেসমাটার গুরুত্ব –

  1. প্লাজমোডেসমাটা পাশাপাশি অবস্থিত কোশগুলির মধ্যে সাইটোপ্লাজমীয় সংযোগ স্থাপন করে।
  2. এর মাধ্যমে জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদার্থ কোশের মধ্যে প্রবেশ করে।
প্লাজমোডেসমাটা

প্রোটোপ্লাজমের (Protoplasm) গঠন সংক্ষেপে লেখো।

কোশমধ্যস্থ সমস্ত সজীব অংশ, অর্থাৎ সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসকে একত্রে প্রোটোপ্লাজম বলে। এর গঠন নিম্নরূপ –

ভৌত গঠন – সাধারণ যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নীচে প্রোটোপ্লাজমকে একপ্রকার বর্ণহীন, অর্ধস্বচ্ছ প্রকৃতির তরল বলে মনে হয়। বস্তুত এটি একপ্রকার দানাদার, থকথকে, জেলির ন্যায় স্থিতিস্থাপক যৌগিক পদার্থ। বিভিন্ন বিজ্ঞানী প্রোটোপ্লাজমকে সূক্ষ্ম জালিকা, দানাদার বা তন্তুময় গঠনরূপে বর্ণনা করেছেন।

রাসায়নিক গঠন – রাসায়নিকভাবে প্রোটোপ্লাজম একটি কোলয়েডীয় দ্রবণ। এই দ্রবণে জলের মধ্যে জৈব ও অজৈব বস্তুগুলি আংশিক ভাসমান বা আংশিক দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। প্রোটোপ্লাজমে জলের পরিমাণ প্রায় 75%, প্রোটোপ্লাজমীয় কঠিন বস্তু প্রায় 95%, বিভিন্ন জৈববস্তু ও 5% অজৈব খনিজ লবণযুক্ত হয়।

সাইটোপ্লাজমের ধাত্র (Matrix) বলতে কী বোঝো?

সাইটোপ্লাজমের যে স্বচ্ছ, জলীয় তরলের মধ্যে বিভিন্ন জৈব, অজৈব পদার্থ ভাসমান বা দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে, তাকে সাইটোপ্লাজমের ধাত্র বা হায়ালোপ্লাজম বলা হয়। এটি দুটি অংশে বিভক্ত। যথা –

  1. এক্টোপ্লাজম – সাইটোপ্লাজমের স্বচ্ছ, পাতলা, দানাবিহীন কোশপর্দা সংলগ্ন অংশ।
  2. এন্ডোপ্লাজম – সাইটোপ্লাজমের মধ্যবর্তী দানাদার, সান্দ্র অংশ।

সাইটোপ্লাজমীয় কঙ্কাল বলতে কী বোঝো?

যে দৃঢ় অন্তর্গঠন সাইটোপ্লাজমের আকৃতি প্রদান করে, তাকে সাইটোপ্লাজমীয় কঙ্কাল বলে। সাইটোপ্লাজমের ভিতরে অবস্থিত বহু অণুনালিকা ও অণুতন্তু পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি কঙ্কাল গঠন করে। এই কঙ্কালের উপর অন্যান্য সাইটোপ্লাজমীয় বস্তু জমা হয়ে এর আকৃতি গঠন করে। সাইটোপ্লাজম দানাদার, সূত্রাকার, জালিকাকার, অ্যালভিওলার এবং কোলয়েড প্রকৃতির হয়।

বিভিন্ন প্রকার সাইটোপ্লাজমের চিত্ররূপ

সেল কোট বা গ্লাইকোক্যালিক্স কাকে বলে? এর কাজ লেখো।

সেল কোট বা গ্লাইকোক্যালিক্স (Cell Coat or Glycocalyx) – বেশিরভাগ প্রোটিস্টান ও প্রাণীকোশের প্লাজমাপর্দার বাইরে গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন নির্মিত যে তন্তুময় আবরণ উপস্থিত থাকে, তাকে সেল কোট বা গ্লাইকোক্যালিক্স বলে।

গ্লাইকোক্যালিক্সের কাজ – প্লাজমা পর্দাকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা ও সুরক্ষা প্রদান করে।

ডেসমোজোম কী? এর কাজ লেখো।

ডেসমোজোম – পাশাপাশি অবস্থিত দুটি প্রাণীকোশের কোশপর্দার সংযোগস্থলে ভিতরের দিকে যে পাতলা গোলাকার চাকতির মতো গঠন তৈরি হয়, তাকে ডেসমোজোম বা ম্যাকুলি বলে।

ডেসমোজোমের কাজ –

  1. পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কোশের মধ্যে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে।
  2. ডেসমোজোম থেকে নির্গত টোনোফিলামেন্টগুলি সাইটোপ্লাজমের কাঠামো তৈরিতে সাহায্য করে।

মাইটোকনড্রিয়াকে ‘অর্ধস্বনির্ভর অঙ্গাণু’ বলা হয় কেন?

মাইটোকনড্রিয়াকে ‘অর্ধস্বনির্ভর অঙ্গাণু’ (Semiautonomous organelles) বলার কারণগুলি হল –

  1. মাইটোকনড্রিয়াল DNA ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে RNA সংশ্লেষ করতে সক্ষম।
  2. মাইটোকনড্রিয়ার নিজস্ব প্রোটিন সংশ্লেষ পদ্ধতি বর্তমান।
  3. বিভাজনের মাধ্যমে মাতৃ মাইটোকনড্রিয়া অপত্য মাইটোকনড্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

মাইটোকনড্রিয়া ও প্লাস্টিডের সাদৃশ্যগুলি উল্লেখ করো।

মাইটোকনড্রিয়া ও প্লাস্টিডের সাদৃশ্যতা –

  1. উভয়ই দ্বি-একক পর্দা ঘেরা কোশীয় অঙ্গাণু।
  2. উভয় কোশীয় অঙ্গাণুতে অন্তঃপর্দা ঘেরা সান্দ্র তরলপূর্ণ প্রকোষ্ঠ বর্তমান।
  3. উভয় কোশীয় অঙ্গাণুর অভ্যন্তরে 70S প্রকৃতির রাইবোজোম বর্তমান।
  4. উভয় কোশীয় অঙ্গাণুর অভ্যন্তরে চক্রাকার, দ্বিতন্ত্রী DNA, একতন্ত্রী RNA বর্তমান।
  5. উভয়ই আংশিক স্বনির্ভর কোশীয় অঙ্গাণু।
  6. উভয়ই জারণ-বিজারণ উৎসেচক বহন করে।
  7. উভয়ই ATP উৎপাদনে সক্ষম।
  8. উভয়ই প্রোটিন সংশ্লেষ করতে পারে।

ক্রোমোপ্লাস্টিডের প্রধান কাজটি লেখো। বিভিন্ন প্রকার ক্রোমোপ্লাস্ট ও এতে উপস্থিত রঞ্জক পদার্থগুলির নাম লেখো।

বিভিন্ন রঙের ক্রোমোপ্লাস্ট কীটপতঙ্গকে আকর্ষণ করে পরাগসংযোগ এবং ফল ও বীজের বিস্তারে সাহায্য করে।

ক্রোমোপ্লাস্টরঞ্জক পদার্থ
জ্যান্থোপ্লাস্ট (হলুদ)জ্যান্থোফিল
ক্যারোটিনোপ্লাস্ট (কমলা)ক্যারোটিন
রোডোপ্লাস্ট (লাল)ফাইকোএরিথ্রিন
ফিওপ্লাস্ট (বাদামি)ফিউকোজ্যান্থিন

তিন প্রকার লিউকোপ্লাস্টের প্রাপ্তিস্থল ও সঞ্চিত খাদ্যের প্রকৃতি উল্লেখ করো।

অনুরূপ প্রশ্ন, লিউকোপ্লাস্টিডের শ্রেণিবিভাগ করো।

লিউকোপ্লাস্টপ্রাপ্তিস্থলসঞ্চিত খাদ্যের প্রকৃতি
অ্যামাইলোপ্লাস্টভূনিম্নস্থ কান্ড যেমন – আলুশ্বেতসার
অ্যালিউরোনপ্লাস্টবীজপ্রোটিন
এলাইওপ্লাস্টতৈলবীজস্নেহপদার্থ

এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকার এরূপ নামকরণের কারণ কী? কোন্‌ উদ্ভিদকোশে এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা অনুপস্থিত?

এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা সমগ্র সাইটোপ্লাজমে জালিকাকারে বিন্যস্ত থাকলেও এন্ডোপ্লাজম অংশে এর আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। তাই এর এরূপ নামকরণ।

ছত্রাক জাতীয় নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোশে এন্ডোপ্লাজমীয় জালিকা থাকে না।

লাইসোজোম দেখা যায় এমন দুটি উদ্ভিদকোশের নাম লেখো। কার্যগতভাবে লাইসোজোম কয় প্রকার ও কী কী?

লাইসোজোম দেখা যায় এমন দুটি উদ্ভিদকোশ হল পেঁয়াজের বীজকোশ, ভুট্টা চারার কোশ।

কার্যগতভাবে লাইসোজোম দু-প্রকার। যথা – প্রাথমিক ও গৌণ লাইসোজোম।

মাইক্রোফিলামেন্ট (Microfilament) কাকে বলে? এর দুটি কাজ লেখো।

মাইক্রোফিলামেন্ট – উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কোশের সাইটোপ্লাজমে বর্তমান প্রোটিন নির্মিত অতি সূক্ষ্ম সংকোচনশীল তন্তু যা কোশের চলনে সাহায্য করে, তাদের মাইক্রোফিলামেন্ট বলে।

কাজ –

  1. সাইটোপ্লাজমীয় স্কেলিটন গঠনে সাহায্য করে।
  2. ফ্যাগোসাইটোসিস ও পিনোসাইটোসিস পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে।
  3. ক্ষণপদ গঠন করে অ্যামিবয়েড চলনে সাহায্য করে।

সেন্ট্রিওলের কাজগুলি লেখো।

সেন্ট্রিওলের কাজ –

  1. কোশ বিভাজন – প্রাণীকোশের কোশ বিভাজনকালে বেম গঠন এবং ক্রোমোজোমের প্রান্তীয় বা মেরু অভিমুখী চলনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
  2. সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা গঠন – সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা গঠনে সেন্ট্রিওল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  3. শুক্রাণুর পুচ্ছ গঠন – সেন্ট্রিওল শুক্রাণুর পুচ্ছ গঠনে সাহায্য করে, যা শুক্রাণুর গমনে সাহায্য করে।

ক্রোমাটিন জালিকার গুরুত্ব লেখো।

ক্রোমাটিন জালিকার গুরুত্ব হল নিম্নরূপ –

  1. জিন ধারণ – ক্রোমাটিন জালিকা জিন ধারণ করে। তাই ক্রোমাটিন জালিকা জীবকোশের বংশগত বস্তু বা জেনেটিক পদার্থের ধারক ও বাহক।
  2. RNA উৎপাদন – ক্রোমাটিন জালিকার ইউক্রোমাটিন অংশ আম্লিক প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে RNA উৎপন্ন করে।
  3. ক্রোমোজোম গঠন – কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম গঠন করে।
  4. DNA উৎপাদন – ক্রোমাটিন জালিকার ইউক্রোমাটিন অংশ রেপ্লিকেশন পদ্ধতিতে অপত্য DNA উৎপাদন করে।
  5. নতুন বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ – ক্রোমাটিন জালিকার ইউক্রোমাটিন সংলগ্ন DNA ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে প্রজাতির মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটায়।

লঘুসারক দ্রবণে রাখলেও উদ্ভিদকোশ ফেটে যায় না কেন? একটি সম্পূর্ণ রসস্ফীত উদ্ভিদকোশকে অতিসারক দ্রবণে রাখলে কী ঘটবে? পদ্ধতিটির নাম লেখো।

একটি উদ্ভিদকোশকে লঘুসারক দ্রবণে (Hypotonic Solution) রাখলে অন্তঃঅভিস্রবণের মাধ্যমে কোশে জল প্রবেশ করে। সম্পূর্ণ রসস্ফীত অবস্থাতেও উদ্ভিদকোশ ফেটে যায় না কারণ – উদ্ভিদকোশের বাইরে দৃঢ় কোশপ্রাচীর বর্তমান, কোশপ্রাচীর রসস্ফীতি জনিত চাপ সহ্য করে এবং কোশকে ফেটে যেতে বাধা দেয়।

যখন সম্পূর্ণ রসস্ফীত উদ্ভিদকোশকে অতিসারক দ্রবণে (Hypertonic solution) রাখা হয় তখন কোশগহ্বর থেকে জল বহিঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় বাইরে বেরিয়ে আসে ফলে কোশের সাইটোপ্লাজম প্লাজমাপর্দাসহ কোশপ্রাচীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। এই পদ্ধতিকে প্লাজমোলাইসিস বলে।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘জীবন সংগঠনের স্তর’ -এর অন্তর্গত ‘কোশ’ অংশের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-বাষ্পমোচন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-বাষ্পমোচন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-বাষ্পমোচন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – খনিজ পুষ্টি – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর