এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আলোকের বিক্ষেপণ কাকে বলে? র্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “আলোকের বিক্ষেপণ কাকে বলে? র্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় “আলো“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

আলোকের বিক্ষেপণ কাকে বলে? র্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি লেখো।
বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাসীয় অণু অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট সূর্যালোক শোষণ করে এবং শোষিত আলোকশক্তিকে চতুর্দিকে বিস্তার ঘটায়, এই পদ্ধতিতে আলোর চারিদিকে বিস্তৃত হওয়াকেই আলোর বিক্ষেপণ বলে।
র্যালের বিক্ষেপণ সূত্র – বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা \(\left(I\right)\) সংশ্লিষ্ট আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের \(\left(\lambda\right)\) চতুর্থঘাতের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ \(I\propto\frac1{\lambda^4}\)।
আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে?
আলোকরশ্মি কোনো মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সেই মাধ্যমের কণাগুলো দ্বারা শোষিত হয়ে পুনরায় সব দিকে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে আলোর বিক্ষেপণ বলে।
র্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি কী?
র্যালের সূত্র অনুসারে, বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, \(I\propto\frac1{\lambda^4}\)।
আকাশ নীল দেখায় কেন?
র্যালের সূত্র অনুযায়ী, স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (নীল) আলো বায়ুমণ্ডলে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। এই বিক্ষিপ্ত নীল আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলে আকাশ নীল দেখায়।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায় কেন?
এই সময় সূর্যালোক বায়ুমণ্ডলের বেশি পথ অতিক্রম করে। কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (নীল) আলো পথে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়, ফলে দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (লাল) আলো সরাসরি আমাদের চোখে পৌঁছায় এবং আকাশ লাল/কমলা দেখায়।
র্যালের সূত্র অনুসারে কোন রঙের আলো সবচেয়ে কম বিক্ষিপ্ত হয়?
লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, তাই র্যালের সূত্র \(I\propto\frac1{\lambda^4}\) অনুযায়ী এটি সবচেয়ে কম বিক্ষিপ্ত হয়।
বিক্ষেপণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য কী?
বিক্ষেপণে আলো সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে, অন্যদিকে প্রতিসরণে আলো একটি মাধ্যম থেকে আরেকটি মাধ্যমে প্রবেশ করার সময় তার দিক পরিবর্তন করে।
র্যালের সূত্র কি সমস্ত মাধ্যমের জন্য প্রযোজ্য?
না, র্যালের সূত্র কেবলমাত্র সেইসব মাধ্যমের জন্য প্রযোজ্য যার কণাগুলো আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট (যেমন – বায়ুমণ্ডলের অণু)।
মেঘ সাদা দেখায় কেন?
মেঘের জলকণা এবং বরফের স্ফটিকগুলো সমস্ত রঙের আলোই সমানভাবে বিক্ষিপ্ত করে, ফলে সমস্ত রং মিলে সাদা দেখায়।
দুধে আলো ফেললে তা সাদা দেখায় কেন?
দুধের কলয়েডাল কণাগুলো সকল তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোই সমানভাবে বিক্ষিপ্ত করে (টিন্ডাল প্রভাব), ফলে তা সাদা দেখায়।
টিন্ডাল প্রভাব কী?
কলয়েডীয় কণা দ্বারা আলোর বিক্ষেপণের ঘটনাকেই টিন্ডাল প্রভাব বলে। এটি আলোর বিক্ষেপণের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আলোকের বিক্ষেপণ কাকে বলে? র্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “আলোকের বিক্ষেপণ কাকে বলে? র্যালের বিক্ষেপণ সূত্রটি লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় “আলো“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন