এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “গ্যালভানাইজিং ও টিন প্লেটিং -এর পার্থক্য কী?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “তড়িৎপ্রবাহ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যালভানাইজিং ও টিন প্লেটিং -এর পার্থক্য কী?
গ্যালভানাইজিং ও টিন প্লেটিং -এর পার্থক্য হল –
- গ্যালভানাইজিং পদ্ধতিতে লোহার দ্রব্যের উপর জিঙ্কের প্রলেপ দেওয়া হয়। টিন প্লেটিং পদ্ধতিতে লোহার দ্রব্যের উপর টিনের প্রলেপ দেওয়া হয়।
- গ্যালভানাইজিং পদ্ধতিতে সামান্য বোরিক অ্যাসিড মিশ্রিত জিঙ্ক ক্লোরাইডের (ZnCl₂) বা জিঙ্ক সালফেটের (ZnSO₄) জলীয় দ্রবণ তড়িদবিশ্লেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টিন প্লেটিং পদ্ধতির ক্ষেত্রে অ্যাসিড মিশ্রিত স্ট্যানাস সালফেট (SnSO₄) বা স্ট্যানাস ক্লোরাইড (SnCl₂) -এর দ্রবণ তড়িদবিশ্লেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- গ্যালভানাইজড করা পাত্রে খাবার জিনিস রাখা উচিত নয়। কারণ জিঙ্ক অম্লিক জৈব পদার্থের সংস্পর্শে ধীরে ধীরে বিক্রিয়া করে বিষাক্ত যৌগ গঠন করে যা আমাদের দেহে প্রবেশ করে শরীরের ক্ষতিসাধন করতে পারে। টিন প্লেটিং করা পাত্রে খাদ্যদ্রব্য রাখা যায় এবং এটি খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে কোনো রকম বিক্রিয়া করে না।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
কোন প্রক্রিয়াটি খাদ্য সংরক্ষণের জন্য নিরাপদ?
খাদ্য সংরক্ষণের জন্য নিরাপদ প্রক্রিয়া হল –
1. টিন প্লেটিং করা পাত্র খাদ্য সংরক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ, কারণ টিন খাদ্যদ্রব্যের সাথে কোনো বিক্রিয়া করে না।
2. গ্যালভানাইজিং করা পাত্রে খাবার রাখা একদমই উচিত নয়, কারণ জিঙ্ক অম্লীয় খাবারের সাথে বিক্রিয়া করে বিষাক্ত যৌগ তৈরি করতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় কোন রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করা হয়?
গ্যালভানাইজিং -এ সাধারণত সামান্য বোরিক অ্যাসিড মিশ্রিত জিঙ্ক ক্লোরাইড (ZnCl₂) বা জিঙ্ক সালফেট (ZnSO₄) -এর জলীয় দ্রবণ তড়িৎবিশ্লেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
টিন প্লেটিং প্রক্রিয়ায় কোন রাসায়নিক দ্রবণ ব্যবহার করা হয়?
টিন প্লেটিং -এ সাধারণত অ্যাসিড মিশ্রিত স্ট্যানাস ক্লোরাইড (SnCl₂) বা স্ট্যানাস সালফেট (SnSO₄) -এর দ্রবণ তড়িৎবিশ্লেষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
গ্যালভানাইজিং সাধারণত কোথায় ব্যবহার করা হয়?
গ্যালভানাইজিং সাধারণত এমন জিনিসে ব্যবহার করা হয় যেখানে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয় প্রতিরোধের প্রয়োজন, তবে যা খাদ্যের সংস্পর্শে আসবে না। যেমন – বিল্ডিং কাঠামোর ইস্পাত, গ্যারেজের দরজা, টাওয়ার, তারের খুঁটি, পানির পাইপ ইত্যাদি।
টিন প্লেটিং -এর সবচেয়ে সাধারণ ব্যবহার কোনটি?
টিন প্লেটিং -এর সবচেয়ে পরিচিত ব্যবহার হলো টিনের ক্যান বা টিনের বাক্স তৈরি, যা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও পানীয় সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রান্নার বিভিন্ন পাত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।
গ্যালভানাইজিং করা পাত্রে খাবার রাখলে কী বিপদ হয়?
গ্যালভানাইজিং করা পাত্রে থাকা জিঙ্ক (দস্তা) অম্লীয় বা জৈব খাদ্য পদার্থের (যেমন – টমেটো, লেবু, ভিনেগার ইত্যাদি) সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে বিক্রিয়া করে। এই বিক্রিয়ার ফলে বিষাক্ত যৌগ তৈরি হয়, যা খাদ্যের সাথে মিশে শরীরে প্রবেশ করে লিভার, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।
টিন প্লেটিং করা পাত্র কি চিরকালের জন্য ব্যবহারযোগ্য?
না, টিন প্লেটিং করা পাত্রের প্রলেপে যদি আঁচড় (scratches) পরে যায় বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তবে নিচের লোহা বাতাসের সংস্পর্শে এসে জং ধরতে শুরু করতে পারে। তাই প্রলেপ অক্ষত থাকা পর্যন্তই এটি নিরাপদ।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “গ্যালভানাইজিং ও টিন প্লেটিং -এর পার্থক্য কী?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “তড়িৎপ্রবাহ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন