এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর উপবিভাগ ‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর অন্তর্গত ‘জল, খনিজ পদার্থ, খাদ্য ও গ্যাসের পরিবহণ’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি

ব্যাপন (Diffusion) ও অভিস্রবণের (Osmosis) মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।
ব্যাপন (Diffusion) ও অভিস্রবণের (Osmosis) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | ব্যাপন | অভিস্রবণ |
| পর্দার উপস্থিতি | কোনো পর্দার প্রয়োজন হয় না। | অর্ধভেদ্য পর্দার প্রয়োজন হয়। |
| পদার্থ | পদার্থের সমস্ত রূপের (কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়) মধ্যে ঘটে। | কেবলমাত্র দ্রবণের ক্ষেত্রে ঘটে। |
| সংশ্লিষ্ট পদার্থের প্রকৃতি | ভিন্ন ঘনত্বযুক্ত এবং সমধর্মী বা ভিন্নধর্মী হয়। | ভিন্ন ঘনত্বযুক্ত এবং অবশ্যই সমধর্মী হয়। |
| সঞ্চারণক্ষম অণু | দ্রাবক ও দ্রাব অণু সঞ্চারিত হয়। | কেবলমাত্র দ্রাবক অণু সঞ্চারিত হয়। |
| সঞ্চারণের অভিমুখ | বেশি ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে সঞ্চারিত হয়। | কম ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে সঞ্চারিত হয়। |
বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis) ও অন্তঃঅভিস্রবণের (Endosmosis) -এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis) ও অন্তঃঅভিস্রবণের (Endosmosis) -এর মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | বহিঃঅভিস্রবণ | অন্তঃঅভিস্রবণ |
| অভিস্রবণের অভিমুখ | কোশের ভিতর থেকে পরিবেশে দ্রাবক অণু বেরিয়ে যায়। | পরিবেশ থেকে কোশের অভ্যন্তরে দ্রাবক অণু প্রবেশ করে। |
| ঘনত্ব পার্থক্য | কোশের অভ্যন্তরে দ্রবণঘনত্ব কম এবং বহিঃপরিবেশে দ্রবণঘনত্ব বেশি থাকে। | কোশের অভ্যন্তরে দ্রবণঘনত্ব বেশি এবং বহিঃপরিবেশে দ্রবণঘনত্ব কম থাকে। |
| কোশীয় অবস্থা | কোশ থেকে জল বেরিয়ে যাওয়ার ফলে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয় এবং কোশের রসস্ফীতি চাপ কমে যায়। | কোশে জল প্রবেশ করার ফলে প্রোটোপ্লাজমের আয়তন বাড়ে এবং কোশে রসস্ফীতি চাপ সৃষ্টি হয়। |
| ফলাফল | নির্দিষ্ট কোশ থেকে জল বেরিয়ে গিয়ে কোশ কুঞ্চিত হয় অর্থাৎ প্লাজমোলাইসিস হয়। | নির্দিষ্ট কোশ জল শোষণ করে রসস্ফীত হয় অর্থাৎ ডিপ্লাজমোলাইসিস হয়। |
ঊর্ধ্বমুখী পরিবহণ ও নিম্নমুখী পরিবহণের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
ঊর্ধ্বমুখী পরিবহণ ও নিম্নমুখী পরিবহণের মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | ঊর্ধ্বমুখী পরিবহণ | নিম্নমুখী পরিবহণ |
| মাধ্যম | জাইলেম বাহিকা। | ফ্লোয়েম কলার সীভনল। |
| সংবাহিত পদার্থ | জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ। | খাদ্য (জলে দ্রবীভূত অবস্থায়)। |
| সাহায্যকারী প্রক্রিয়া | মূলজ চাপ, বাষ্পমোচন টান, সমসংযোগ ও অসমসংযোগ বল। | ব্যাপন। |
| গুরুত্ব | উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা শোষিত জল পাতায় পৌঁছায় এবং সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। | পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদের সর্বত্র পরিবাহিত হয় এবং প্রতিটি কোশে পুষ্টি, শক্তি উৎপাদন প্রভৃতি সম্পন্ন হয়। |
নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয় আয়ন পরিবহণের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয় আয়ন পরিবহণের মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | নিষ্ক্রিয় আয়ন পরিবহণ | সক্রিয় আয়ন পরিবহণ |
| প্রক্রিয়া | এটি একটি ভৌত প্রক্রিয়া। | এটি একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া। |
| শক্তির প্রয়োজনীয়তা | বিপাকীয় শক্তি খরচ হয় না। | বিপাকীয় শক্তি (ATP) খরচ হয়। |
| বাহক | প্রোটিন বাহকের প্রয়োজন হয় না। | প্রোটিন বাহকের প্রয়োজন হয়। |
| পরিবহণের প্রকৃতি | আয়নগুলির পরিবহণ ঘনত্ব নতিমাত্রার সাপেক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে। | আয়নগুলি ঘনত্ব নতিমাত্রার বিপক্ষে ATP -এর সাহায্যে চলাচল করে। |
| উৎসেচক | উৎসেচকের প্রয়োজন হয় না। | নির্দিষ্ট উৎসেচকের প্রয়োজন হয়। |
বাষ্পমোচন (Transpiration) ও রসের উৎস্রোতের (Ascent of Sap) পার্থক্য লেখো।
বাষ্পমোচন (Transpiration) ও রসের উৎস্রোতের (Ascent of Sap) পার্থক্য –
| বিষয় | বাষ্পমোচন | রসের উৎস্রোত |
| পদ্ধতি | এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদদেহ থেকে অতিরিক্ত জলের নির্গমন ঘটে। অর্থাৎ, বাষ্পমোচন হল কারণ। | এই পদ্ধতিতে মূল দ্বারা শোষিত জলের ঊর্ধ্বমুখী পরিবহণ ঘটে। অর্থাৎ, রসের উৎস্রোত হল বাষ্পমোচনের ফলাফল। |
| স্থান | বাষ্পমোচন উদ্ভিদেহের পত্ররন্ধ্র, লেন্টিসেল, কিউটিকলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। | ইহা জাইলেম কলার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। |
| নির্ভরশীলতা | বাষ্পমোচনে রসের উৎস্রোতের কোনো ভূমিকা নেই। | রসের উৎস্রোত বাষ্পমোচনের দ্বারা প্রভাবিত হয়। |
| প্রক্রিয়া | জলের বাষ্পাকার নির্গমন ঘটে। | জল খনিজ লবণের সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় উপরের দিকে উঠে আসে। |
এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর উপবিভাগ ‘উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা’ -এর অন্তর্গত ‘জল, খনিজ পদার্থ, খাদ্য ও গ্যাসের পরিবহণ’ অংশের পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন