অক্ষিগোলকের আলোক প্রতিসারক মাধ্যমগুলি কী কী? তাদের কাজ বর্ণনা করো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অক্ষিগোলকের আলোক প্রতিসারক মাধ্যমগুলি কী কী? তাদের কাজ বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অক্ষিগোলকের আলোক প্রতিসারক মাধ্যমগুলি কী কী? তাদের কাজ বর্ণনা করো।

অক্ষিগোলকের আলোক প্রতিসারক মাধ্যমগুলি কী কী? তাদের কাজ বর্ণনা করো।

অক্ষিগোলকের আলোক প্রতিসারক মাধ্যমগুলি হল –

  1. কর্নিয়া,
  2. অ্যাকুয়াস হিউমর,
  3. লেন্স,
  4. ভিট্রিয়াস হিউমর।

কর্নিয়া (Cornea) –

অক্ষিগোলকের বাইরের স্তরের সামনের দিকের প্রায় \(\frac16\) ভাগ স্বচ্ছ অংশকে কর্নিয়া বলে। কর্নিয়া হল সর্ববহিস্থ আলোক প্রতিসারক মাধ্যম।

কাজ – কর্নিয়া স্বচ্ছ হওয়ায় এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি অক্ষিগোলকের ভেতর প্রবেশ করে। কর্নিয়ার আলোক প্রতিসারক মাধ্যম আলোকরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে। অ্যাকুয়াস হিউমর অংশে প্রেরণ করে। বাইরের পরিবেশের আঘাত থেকে চোখকে রক্ষা করাও কর্নিয়ার অপর কাজ।

অ্যাকুয়াস হিউমর (Aqueous Humour) –

অ্যাকুয়াস চেম্বারে অবস্থিত প্রোটিন, শর্করা এবং লবণ দ্বারা গঠিত স্বচ্ছ, জলীয় তরলকে অ্যাকুয়াস হিউমর বলে।

কাজ – অ্যাকুয়াস হিউমর অক্ষিগোলকের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি জোগায়। এটি চোখের আকৃতি প্রদান করে এবং চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ নিয়ন্ত্রণ করে। অ্যাকুয়াস হিউমর আলোক প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

লেন্স (Lens) –

আইরিশের পিছনে অবস্থিত, সিলিয়ারি বডি থেকে উৎপন্ন সাসপেনসরি লিগামেন্ট দ্বারা যুক্ত ক্রিস্টালাইন প্রোটিন দ্বারা গঠিত, স্বচ্ছ, স্থিতিস্থাপক, দ্বি-উত্তল, চাকতির ন্যায় অংশটিকে লেন্স বলে।

কাজ – আলোকরশ্মির প্রতিসরণ ঘটানো লেন্সের প্রধান কাজ। বাইরে থেকে আগত আলোকরশ্মি লেন্সের দ্বারা প্রতিসৃত হয়ে লেন্সের ফোকাসে রেটিনার ওপর বস্তুর প্রতিবিম্বের সৃষ্টি করে।

ভিট্রিয়াস হিউমর (Vitreous Humour) –

লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী ভিট্রিয়াস চেম্বারে অবস্থিত স্বচ্ছ, জেলির ন্যায়, সান্দ্র, তরল পদার্থকে ভিট্রিয়াস হিউমর বলে।

কাজ – চোখের আকৃতি প্রদান করে এবং চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ নিয়ন্ত্রণ করে। আলোক প্রতিসারক মাধ্যমরূপে এটি কাজ করে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অক্ষিগোলকের আলোক প্রতিসারক মাধ্যমগুলি কী কী? তাদের কাজ বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয়-স্নায়ুতন্ত্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ দাও। জৈব বিবর্তনে 'জীবাশ্ম' -এর ভূমিকা লেখো।

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ | জৈব বিবর্তনে জীবাশ্মের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল আছে এমন একটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করো। এর থেকে তুমি কোন্ সিদ্ধান্তে উপনীত হলে?

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল ও সিদ্ধান্ত

আধুনিক জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার সমর্থনে ডারউইন কী ব্যাখ্যা দেন জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ সম্পর্কিত ল্যামার্কের তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।

জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ – ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্ব | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ | জৈব বিবর্তনে জীবাশ্মের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল ও সিদ্ধান্ত

জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ – ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্ব | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

নতুন প্রজাতির উৎপত্তিলাভে প্রকরণের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উদাহরণ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান