নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জীবন ও তার বৈচিত্র্য – জীববিদ্যা হল জীবনের রীতি ও প্রক্রিয়া এবং তারা বৈচিত্রের অধ্যয়ন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় ‘জীবন ও তার বৈচিত্র্য’ -এর অন্তর্গত ‘জীববিদ্যা হল জীবনের রীতি ও প্রক্রিয়া এবং তারা বৈচিত্রের অধ্যয়ন’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

জীবন ও তার বৈচিত্র্য-জীববিদ্যা হল জীবনের রীতি ও প্রক্রিয়া এবং তারা বৈচিত্রের অধ্যয়ন
Contents Show

বিজ্ঞান (Science) কাকে বলে? বিজ্ঞানের মূল বা প্রধান শাখাগুলি ছকের মাধ্যমে দেখাও।

বিজ্ঞান –

বিজ্ঞান শব্দের উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ ‘Scientia’ থেকে যার অর্থ হল ‘Knowledge’ বা ‘জ্ঞান’। এই মহাবিশ্বের সকল সজীব, নির্জীব এবং মৃত বস্তুর গঠন, আচরণ, তাদের ভৌত ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার দ্বারা অধ্যয়ন করার পদ্ধতিই হল বিজ্ঞান বা Science।

বিজ্ঞানের মূল বা প্রধান শাখাগুলি নীচে ছকের মাধ্যমে দেখানো হল –

বিজ্ঞানের মূল বা প্রধান শাখা

জীববিদ্যা (Biology) পাঠের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।

জীববিদ্যা পাঠের প্রয়োজনীয়তা (Importance of the study of Biology) –

  • খাদ্য উৎপাদন – মানুষসহ সব প্রাণীরই অস্তিত্ব খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভর করে আছে। আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তু যেমন – শর্করা, শ্বেতসার এবং প্রোটিন সবই আমরা উদ্ভিদ থেকে পেয়ে থাকি। বর্তমানে জনসংখ্যার অতিবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের জোগান দেওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক প্রথায় যে ফসল উৎপাদন, মাশরুম চাষ, অধিক ফলনশীল শস্যের চাষ সম্ভব হয়েছে তা উদ্ভিদবিদ্যা পাঠের ফলেই সম্ভব হয়েছে। মানুষসহ অন্যান্য পশুদের খাদ্যের জন্য শৈবাল উলভা, গ্রাসিলারিয়া সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • স্বাস্থ্য রক্ষা – জীবদেহ একাধিক কোশের সমন্বয়ে গঠিত। এ ছাড়া জীবদেহের গঠনে সাহায্যকারী কলা, অঙ্গ ও তন্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারি জীববিদ্যা পাঠের মাধ্যমে। বর্তমানে পরিবেশদূষণজনিত কারণে ও নানা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে নানাবিধ রোগ মানবদেহকে আক্রমণ করে চলেছে। জীবনবিজ্ঞান শিক্ষার ফলে এইসব নানাবিধ রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে, ফলে এখন কোনো রোগ মহামারির আকার নিতে পারে না। উদ্ভিদবিদ্যা পাঠের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি পানীয় জলাধারগুলিতে অবস্থিত অল্প পরিমাণ শৈবাল জল পরিশোধনে সাহায্য করে।
  • পরিধেয় উৎপাদন – জীববিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমরা বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর নাম জানতে পারি যার থেকে মানুষের পরিধেয় অর্থাৎ, বস্ত্র উৎপাদন সম্ভব হয়। পাট, তুলোর চাষ, এবং এদের উৎপাদন, ভেড়া পালন করে পশম উৎপাদন সবই জীববিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমেই সম্ভব হয়।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ – জীববিদ্যা পাঠের মাধ্যমে পরিবেশে উদ্ভিদের অবদান অর্থাৎ, বনজঙ্গলের প্রভাব মানবজীবনে কতখানি তা জানা যায়। অত্যধিক বনজঙ্গলের ধ্বংসের পরিণাম যে মানবজাতির ধ্বংসের কারণ হতে পারে তা পরিষ্কার বোঝা সম্ভব হয়।
  • পরিবেশদূষণ – পৃথিবীতে দূষণের উৎস ও তার ফলাফল সম্পর্কে জানতে জীববিদ্যা পাঠের প্রয়োজন হয়।
  • সংরক্ষণ – জীববিদ্যা পাঠ মানবজাতিকে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও তার সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতন করে।
  • জনবিস্ফোরণ রোধ – জনসংখ্যা বা পপুলেশন বৃদ্ধি প্রকৃতি তথা পৃথিবীর উপর যে সংকট ডেকে আনতে পারে সেটা আমরা জীববিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করেই জানতে পারি। মানুষের প্রজননতন্ত্রের গঠন, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপাদন ও তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করে জন্মনিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে জীববিদ্যা।
  • পরজীবী তত্ত্ব – ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও বহু পরজীবী প্রাণী মানুষ বা উন্নত প্রাণীর দেহে বাস করে তাদের ক্ষতিসাধন করে। জীববিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে এইসব পরজীবী প্রাণীর জীবন বৃত্তান্ত ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায়। যেমন- কালাজ্বরের পরজীবী লিশম্যানিয়া (Leishmania), আমাশয় রোগের পরজীবী এন্টামিবা (Entamoeba) ইত্যাদি সম্বন্ধে ধারণা জীববিদ্যা পাঠের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
  • বন্যা ও ভূমিক্ষয় রোধ – উদ্ভিদের শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাতে সারি সারি তাল, সুপারি ও নারকেলগাছ লাগানো থাকে। একই কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকাতে বন্যা ও ভূমিক্ষয় রোধের জন্য যে ঘাস ও গাছ লাগানো জরুরিতা জীববিদ্যা পাঠের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি।

বিশুদ্ধ জীববিদ্যার বিভিন্ন শাখা বা বিভাগগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।

  • কোশতত্ত্ব (Cytology; kytos = ফাঁপা, logos = আলোচনা) – জীববিদ্যার যে শাখায় কোশের আকার, গঠন, কাজ প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে কোশবিদ্যা বলে।
  • কলাবিদ্যা (Histology; Histos = কলা, logos = আলোচনা) – জীববিদ্যার যে শাখায় জীবদেহের কলার গঠন ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে কলাবিদ্যা বলে।
  • অঙ্গসংস্থানবিদ্যা (Morphology; Morph = আকার, logos = আলোচনা) – জীববিদ্যার যে শাখায় জীবদেহের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন ও আকার সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়, তাকে অঙ্গসংস্থানবিদ্যা বলে।
  • ভ্রূণবিদ্যা (Embryology; Em = ভিতরে, bryo = স্ফীত হওয়া, logos = আলোচনা) – জীববিদ্যার যে শাখায় ভ্রূণের গঠন ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে ভ্রূণবিদ্যা বলে। বর্তমানে এটিকে Developmental Biology বলা হয়।
  • শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy; Taxis = বিন্যাস, nomon = আইন) – জীববিদ্যার যে শাখায় জীবজগতের শ্রেণিবিভাগ, নামকরণ শনাক্তকরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বলে।
  • শারীরস্থানবিদ্যা (Anatomy; Ana = ওপরে, temno = কাটা) – জীববিদ্যার যে শাখায় জীবদেহের অন্তর্গঠন সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়, তাকে শারীরস্থানবিদ্যা বলে।
  • শারীরবিদ্যা (Physiology: Physis = প্রকৃতি, logos আলোচনা) – জীববিদ্যার যে শাখায় জীবদেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে শারীরবিদ্যা বলে।
  • বংশগতিবিদ্যা (Genetics; Genesis = উৎপত্তি) – জীববিদ্যার যে শাখায় জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য ও তাদের উত্তরাধিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে বংশগতিবিদ্যা বলে। বিজ্ঞানী বেটসন (Bateson) সর্বপ্রথম ‘জেনেটিকস’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
  • অভিব্যক্তি (Evolution; E = বাইরে, volves = আবর্তন) – জীববিদ্যার যে শাখায় জীবের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে অভিব্যক্তি বলে।
  • বাস্তুসংস্থানবিদ্যা (Ecology; Oikos = বাড়ি, logos = আলোচনা) – জীববিদ্যার যে শাখায় জীবের বাসস্থান ও পরিবেশের সঙ্গে জীবের আন্তঃসম্পর্ক আলোচনা করা হয়, তাকে বাস্তুসংস্থানবিদ্যা বলে।
  • প্রত্নজীববিদ্যা বা প্যালিওন্টোলজি (Palaeontology) – জীবের জীবাশ্ম সম্পর্কিত আলোচনা জীববিজ্ঞানের যে শাখায় করা হয়, তাকে প্রত্নজীববিদ্যা বা প্যালিওন্টোলজি বলে।
  • রোগবিদ্যা বা প্যাথোলজি (Pathology) – জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের বিভিন্ন রোগ, রোগের লক্ষণ, রোগের কারণ, রোগ প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে রোগবিদ্যা বা প্যাথোলজি বলে।
  • ভৌগোলিক জীববিদ্যা বা বায়োজিওগ্রাফি (Biogeography) – জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের ভৌগোলিক পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় ,তাকে বায়োজিওগ্রাফি (Biogeography) বা ভৌগোলিক জীববিদ্যা বলা হয়।
  • ইকোনমিক বায়োলজি বা অর্থকরী জীববিজ্ঞান (Economic Biology) – জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে জীবের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করা হয়, তাকে অর্থকরী জীববিজ্ঞান বা ইকোনমিক বায়োলজি বলে।
  • অস্থিবিজ্ঞান বা অস্টিওলজি (Osteology) – প্রাণীদেহের কঙ্কাল সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় অস্থিবিজ্ঞান বা অস্টিওলজি (Osteology)
  • পেশিবিজ্ঞান বা মায়োলজি (Myology) – জীবদেহের পেশির গঠন, কার্য সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় পেশিবিজ্ঞান।
  • জেনোমিক্স (Genomics) – কোনো জীবের জিন সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করাকে জেনোমিক্স বলে।

ফলিত জীববিদ্যার বিভিন্ন শাখাগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

ফলিত জীববিদ্যাকে প্রধান দুটি শাখায় ভাগ করা যায়, যথা –

  • ফলিত উদ্ভিদবিজ্ঞান (Applied Botany),
  • ফলিত প্রাণীবিজ্ঞান (Applied Zoology)।

এখানে এই দুই শাখার অন্তর্গত বিভিন্ন বিভাগগুলিকে আলোচনা করা হল –

ফলিত উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অন্তর্গত অনুমোদনসমূহ –

  • কৃষিবিদ্যা (Agriculture) – কৃষিকাজ সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • উদ্যানপালন (Horticulture) – উদ্যানপালন সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • বনপালন (Forestry) – অরণ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • ভেষজবিদ্যা (Pharmacology) – ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • জীবাণুতত্ত্ব (Bacteriology) – বিভিন্ন জীবাণু বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • মাটি সংরক্ষণ (Soil Conservation) – মাটি সংরক্ষণ সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • উদ্ভিদ প্রজনন (Plant breeding) – উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি প্রধান শাখা যেখানে কৃষিকাজের উন্নতি সাধনের জন্য উন্নতমানের উদ্ভিদ সৃষ্টির পরিকল্পনাহেতু নতুন নতুন পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়।

ফলিত প্রাণীবিজ্ঞানের শাখাসমূহ –

ফলিত প্রাণীবিজ্ঞানের অন্তর্গত বিভিন্ন শাখাগুলি হল –

  • মৎস্যচাষ (Pisciculture) – মাছ সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • শম্বুকবিদ্যা (Malacology) – কম্বোজ বা মোলাস্কা প্রাণী সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • পক্ষীবিদ্যা (Ornithology) – পক্ষী সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • কীটপতঙ্গবিদ্যা (Entomology) – কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • পরজীবীবিদ্যা (Parasitology) – পরজীবী প্রাণী সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • গো-পালন (Dairy) – গোরু, মহিষ পালন ও দুগ্ধ উৎপাদন সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • শুয়োর চাষ (Piggery) – শুয়োর প্রতিপালন সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • মুক্তা চাষ (Pearl culture) – মুক্তা ঝিনুকের চাষ, প্রতিপালন সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • হাঁস-মুরগি পালন (Poultry) – পোলট্রি পাখি প্রতিপালন সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • লাক্ষা চাষ (Lac culture) – লাক্ষা কীটকে প্রতিপালন পদ্ধতি এবং লাক্ষা সংগ্রহ করার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচিত জীববিদ্যা।
  • মৌমাছি চাষ (Apiculture) – মৌমাছি প্রতিপালন ও মধু, মৌমোম উৎপাদন সম্পর্কিত জীববিদ্যা।
  • রেশম চাষ (Sericulture) – রেশম কীট ও রেশম উৎপাদন সম্পর্কিত জীববিদ্যাকে বলা হয় রেশম চাষ।

জীববিদ্যার অত্যাধুনিক পাঁচটি শাখা সম্পর্কে আলোচনা করো।

জীববিদ্যার অত্যাধুনিক পাঁচটি শাখা –

  1. আণবিক জীববিদ্যা (Molecular Biology) – জীবদেহের বিভিন্ন আণবিক গঠনসংক্রান্ত আলোচনা।
  2. বায়োটেকনোলজি (Biotechnology) – মানবকল্যাণে ব্যবহৃত বিভিন্ন জীবাণু বা তাদের দেহনিঃসৃত বিভিন্ন পদার্থের উৎপাদন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত আলোচনা।
  3. অ্যাগ্রোনমি (Agronomy) – শস্য উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত আলোচনা।
  4. এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট (Environmental Management) – পরিবেশের সমস্যার সমাধান এবং মূল্যায়ন সংক্রান্ত আলোচনা।
  5. কম্পিউটেশনাল বায়োলজি (Computational Biology) – কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সাহায্যে বিভিন্ন জৈবিক মডেল গঠনসম্পর্কিত আলোচনা।

জীববিদ্যার সঙ্গে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখাগুলি কীভাবে সংযুক্ত তা আলোচনা করো।

অতীতে জীববিদ্যা জীবের বাহ্যিক, অভ্যন্তরীণ গঠন, শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ দিত এবং তাদের মধ্যে সাদৃশ্য, বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাসগত তথ্য সরবরাহ করত। কিন্তু বর্তমানে জীববিদ্যার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে জীবজগতের আণবিক স্তরের গঠন, কাজ প্রভৃতি মানুষের সঠিকভাবে জানার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই কারণে জীববিদ্যার সঙ্গে অন্যান্য শাখাগুলির সমন্বয় ঘটিয়ে বহু নতুন শাখার সৃষ্টি করা হয়েছে। সেগুলি সম্বন্ধে আলোচনা করা হল –

  • জীবরসায়নবিদ্যা (Biochemistry) – জীববিদ্যার সঙ্গে রসায়নবিদ্যার সংযুক্তি ঘটিয়ে জীবরসায়নবিদ্যা নামক শাখা গড়ে তোলা হয়েছে। জীবদেহের গঠনগত বিভিন্ন উপাদান ও তাদের কার্যপদ্ধতি এই শাখায় আলোচিত হয়।
  • জীবপদার্থবিদ্যা (Biophysics) – জীববিদ্যার সঙ্গে পদার্থবিদ্যার সমন্বয়ে গঠিত জীবপদার্থবিদ্যা শাখাতে জীববিদ্যার অধ্যয়নে ব্যবহৃত নানা যন্ত্রপাতি ও তাদের কার্যপদ্ধতি (যেমন – মাইক্রোস্কোপ বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র) আলোচিত হয়।
  • জীবপ্রযুক্তিবিদ্যা (Biotechnology) – জীববিদ্যার সঙ্গে প্রযুক্তিবিদ্যার সমন্বয়ে এই শাখাটির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন আধুনিক জৈববস্তুর উৎপাদন এবং এই সকল বস্তুর উৎপাদনে কীভাবে প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্য নেওয়া যায়, তা এই শাখায় আলোচিত হয়।
  • জীবরাশিবিদ্যা (Biostatistics) – জীববিদ্যার সঙ্গে রাশিবিজ্ঞানের সমন্বয়ে সৃষ্ট জীবরাশিবিদ্যার সাহায্যে জীববিদ্যার বিভিন্ন সমস্যার (যেমন – পপুলেশন) সমাধান করা হয়ে থাকে।
  • জীববৈদ্যুতিনবিদ্যা (Bionics) – জীববিদ্যার সঙ্গে ইলেকট্রনিক্সের সংযুক্তিকরণে জীববৈদ্যুতিনবিদ্যা শাখার সৃষ্টি হয়েছে।
  • জীবভূগোল (Biogeography) – জীববিদ্যা এবং ভূগোলের সমন্বয়ে সৃষ্ট এই শাখায় বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চল ও তার জীবসমূহের মধ্যে নানা প্রকার সম্পর্কের আলোচনা হয়।
  • বায়োম্যাথেমেটিক্স (Biomathematics) – জীববিদ্যা এবং গণিতের সংযুক্তিকরণে বায়োম্যাথেমেটিক্স শাখাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। জীববিদ্যার নানাপ্রকার সমস্যাকে গণিতের মাধ্যমে সমাধান করার বিষয়ে এখানে আলোচনা হয়।
  • মহাকাশ জীববিদ্যা (Space Biology) – মহাকাশে জীবদের সন্ধানের বিষয়ে জীববিদ্যা ও মহাকাশবিদ্যার সমন্বয়ে মহাকাশ জীববিদ্যা নামক শাখাটি গঠিত হয়েছে।
  • প্রত্নজীববিদ্যা (Palaeontology) – জীববিদ্যার সঙ্গে ভূতত্ত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই শাখাটির সাহায্যে নানাপ্রকার জীবাশ্ম অধ্যয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন জীবেদের উৎপত্তি ও তাদের বিবর্তনের বিষয়ে প্রত্নজীববিদ্যার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি।
  • নৃতত্ত্ব (Anthropology) – জীববিদ্যার সঙ্গে সমাজবিজ্ঞান, পুরাতত্ত্ব বিদ্যা, মনোবিজ্ঞান, বিবর্তন, ভূগোলের সমন্বয়ে নৃতত্ত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে।
  • সমুদ্রবিজ্ঞান (Oceanology) – পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, গণিতশাস্ত্রের সঙ্গে জীববিদ্যার সমন্বয়ে সৃষ্ট এই শাখায় সামুদ্রিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যা করা হয়।

আধুনিক জীববিদ্যার প্রয়োগ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে জীববিদ্যারও যথেষ্ট প্রসার ঘটেছে। বর্তমানে মানুষ জীববিদ্যার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে। যেমন –

  • কৃষিকার্যে উন্নতি (Agricultural development) – পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেশি পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। তাই সংকরায়ণ পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে উচ্চফলনশীল বীজ তৈরি (যেমন – IR-8 ধান, সোনালিকা গম, জহর ভুট্টা প্রভৃতি) করা হচ্ছে। এর ফলে অল্প সময়ে অধিক ফলন হয়। এ ছাড়া, কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদন, বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতির সাহায্যে কীটপতঙ্গ দমন ও গুদামজাত ফসল সংরক্ষণ প্রভৃতি করা হচ্ছে, ফলে শস্যের অপচয় রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
  • ওষুধ তৈরি (Preparation of Medicine) – নানাপ্রকার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ উৎপাদন, ভ্যাকসিন উৎপাদন, হরমোন সংশ্লেষ, বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ থেকে আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে আধুনিক জীববিদ্যার ভূমিকা অসীম।
  • মহাকাশ গবেষণা (Space research) – মহাকাশ গবেষণায় আধুনিক জীববিদ্যার প্রয়োগ প্রভূত সাফল্য এনে দিয়েছে। জীববিদ্যার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মহাকাশ অভিযানে ক্লোরেল্লা (Chlorella) নামক শৈবাল ব্যবহার করা হয়। এই ক্লোরেল্লা একদিকে যেমন খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তেমনই এই ক্লোরেল্লা সালোকসংশ্লেষের জন্য মহাকাশচারীদের দ্বারা উৎপাদিত CO2 গ্রহণ করে এবং O2 বর্জন করে তাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের জোগান দেয়।
  • পরিবেশদূষণ রোধ (Prevention of pollution) – আধুনিক জীববিদ্যার প্রয়োগ দ্বারা পরিবেশকে অনেকাংশে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিভিন্ন প্রকার শৈবাল, কচুরিপানা চাষের মাধ্যমে দূষিত জল থেকে ভারী ধাতু মুক্ত করা যায়। নানা প্রকার জৈব সার ব্যবহার করে মাটির দূষণ কমানো যায় এবং মাটির উর্বরতাও বৃদ্ধি করা যায়।
  • জনবিস্ফোরণ রোধ (Prevention of overpopulation) – আধুনিক জীববিদ্যার সাহায্যে জনবিস্ফোরণ রোধ সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া উন্নত জন্মনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা দ্বারা দুর্বল ও অপুষ্ট শিশুর জন্ম রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমান সহস্রাব্দে কৃষিকাজে জীববিদ্যার গুরুত্ব (প্রয়োগ) আলোচনা করো।

কৃষিকাজে জীববিদ্যার গুরুত্ব (প্রায়াগ) –

খাদ্য উৎপাদন – জীববিদ্যার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত জীববিদ্যা পদ্ধতিগুলি হল-

  • অধিক ফলনশীল বীজ সৃষ্টি – বংশগতিবিদ্যা প্রয়োগের মাধ্যমে সংকরায়ণ পদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল ধান (যেমন – IR-8, IR-28, IR-36, জয়া, রত্না প্রভৃতি), গম (যেমন –  সোনেরা-64, সোনালিকা, কল্যাণসোনা প্রভৃতি), ভুট্টা (যেমন – গঙ্গা-5, জহর, বিক্রম প্রভৃতি) প্রভৃতি শস্য উৎপাদন অনেক কম সময়ে ঘটে এবং নানা প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করতে পারে।
  • পলিপ্লয়েড প্রজনন – হেক্সাপ্লয়েড (6n) গম, অ্যালোটেট্রাপ্লয়েড (4n) সরষে গাছ, মূলো ও বাঁধাকপির মধ্যে সংকরায়ণ (Hybridization) ঘটিয়ে মূলোবাঁধা (Raphano brassica) গাছ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
  • কলা অনুশীলন বা কলাপালন – মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারের সাহায্যে বর্তমানে অনেক কম সময়ে অনেক বেশি সংখ্যায় আলু, কলা, আখ প্রভৃতি গাছ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।
  • প্রোটোপ্লাজনীয় মিশ্রণ – গম, রাই, আলু, টম্যাটো, বাঁধাকপি প্রভৃতি উদ্ভিদের কোশ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রোটোপ্লাজমীয় মিশ্রণ ঘটিয়ে নতুন ধরনের সংকর উদ্ভিদ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।
  • বীজহীন ও বৃহৎ আকারের ফল উৎপাদন – কৃত্রিম হরমোন (যেমন – IBA, NAA প্রভৃতি) প্রয়োগ করে বর্তমানে বীজহীন ও বৃহৎ আকারের ফল (যেমন – কলা, পেঁপে, আঙুর, পেয়ারা, কমলালেবু প্রভৃতি) উৎপাদন করা হচ্ছে।
  • কম্পোস্ট সার, জৈবসার ও জীবাণু সার প্রয়োগ – কৃষিজমির উর্বরতা বজায় রাখার জন্য বর্তমানে কম্পোস্ট সার, জৈবসার ও জীবাণুসার (যেমন – অ্যাজোটোব্যাকটর) প্রয়োগ করা হয়।
  • মৎস্যচাষ – সংকরায়ণ ও জীববিদ্যার জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে (প্রণোদিত প্রজনন) বর্তমানে মাছ চাষে প্রভৃত উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
  • হাঁস, মুরগি পালন – পোলট্রি পাখি লালনপালনের মাধ্যমে বর্তমানে মাংস ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
  • উন্নতজাতের পশুপালন – সংকরায়ণ পদ্ধতিতে বর্তমানে প্রচুর দুধ উৎপাদনকারী গোরু (যেমন – শাহিওয়াল, ভাগলপুরী, জার্সি প্রভৃতি), ছাগল, মোষ প্রভৃতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

পরিধেয় বস্ত্র উৎপাদন – অধিক ফলনশীল পাট (যেমন – সোনালি [JRO-212], বৈশাখী [JRO-632] প্রভৃতি) ও টেট্রাপ্লয়ডি (4n) তুলোগাছ চাষের মাধ্যমে বর্তমানে পাটতন্তু ও সুতোর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া সংকর রেশমমথ পালনের মাধ্যমে রেশমতন্তু ও ভেড়া পালনের মাধ্যমে পশম উৎপাদনও অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় ‘জীবন ও তার বৈচিত্র্য’ -এর অন্তর্গত ‘জীববিদ্যা হল জীবনের রীতি ও প্রক্রিয়া এবং তারা বৈচিত্রের অধ্যয়ন’ অংশের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-বাষ্পমোচন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-বাষ্পমোচন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

জৈবনিক প্রক্রিয়া-উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা-বাষ্পমোচন-জীবনবিজ্ঞান-নবম শ্রেণী

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – বাষ্পমোচন – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – জৈবনিক প্রক্রিয়া – উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা – খনিজ পুষ্টি – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর