মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

মানুষের প্রধান গমনাঙ্গটি হল একজোড়া পা। এ ছাড়াও মানুষের গমনে পা সংলগ্ন কঙ্কালপেশি, একজোড়া হাত, দেহে উপস্থিত বিভিন্ন অস্থিসন্ধিগুলি সাহায্য করে।

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি –

  1. মানুষ যখন সোজাভাবে দাঁড়িয়ে থাকে তখন দেহের ভার দুটি পায়ের ওপর সমানভাবে পড়ে।
    গমনকালে, প্রথমে মানুষের দেহের উপরের অংশ সামনের দিকে ঝুঁকে আসে, ফলে দেহের ভারকেন্দ্রটি সামনের দিকে এগিয়ে আসে। এই সময় আমাদের যে-কোনো একটি পায়ের (ধরা যাক, ডান পা) গোড়ালি মাটি থেকে উঠে যায় এবং দেহের ভার ওই পায়ের সামনে অবস্থিত আঙুলের ওপর পড়ে।
  2. তখন ডান পায়ের ফ্লেক্সর পেশির সংকোচন ঘটে, ফলে ডান পা-টি মাটি থেকে উপরে উঠে আসে এবং দেহের সমস্ত ভার বাম পায়ের ওপর পড়ে।
  3. এরপর ডান পায়ের এক্সটেনসর পেশির সংকোচন ঘটে, ফলে ডান পা সোজা হয় এবং বাইসেপ্স ফিমোরিস পেশির সংকোচনে ডান পা সামনের দিকে অগ্রসর হয় এবং গোড়ালিটি মাটি স্পর্শ করে। তারপর ডান পায়ের পাতা সম্পূর্ণরূপে মাটি স্পর্শ করে এবং দেহ খাড়া হয়।
  4. এবার দেহটি আবার সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ায় দেহের ভারকেন্দ্র সামনের দিকে এগিয়ে আসে এবং তখন বাম পা ডান পায়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়। মানুষের গমনকালে ডান পায়ের সঙ্গে বাম হাত এবং বাম পায়ের সঙ্গে ডান হাত অগ্রসর হয়ে দেহের ভারসাম্য ঠিক রাখে।
  5. অন্তঃকর্ণে উপস্থিত অর্ধবৃত্তাকার নালি এবং লঘুমস্তিষ্ক গমনের সময় দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মানুষের দ্বিপদ গমন

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

মানুষের দ্বিপদ গমন বলতে কী বোঝায়?

মানুষের দ্বিপদ গমন হলো দুই পায়ের উপর ভর দিয়ে খাড়া হয়ে হাঁটা ও চলাফেরার পদ্ধতি। এটি মানুষের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

মানুষের গমনে কোন কোন অঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?

প্রধান গমনাঙ্গ হলো একজোড়া পা। এছাড়া পায়ের সাথে সংযুক্ত অস্থি, পেশি (যেমন – ফ্লেক্সর, এক্সটেনসর, বাইসেপ্স ফিমোরিস), অস্থিসন্ধি, হাত এবং ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ (অন্তঃকর্ণের অর্ধবৃত্তাকার নালি ও লঘুমস্তিষ্ক) গমনে সাহায্য করে।

গমনকালে হাতের গতি কীভাবে সাহায্য করে?

গমনকালে বিপরীত হাত ও পা একসাথে অগ্রসর হয় (যেমন – ডান পা সামনে এগোলে বাম হাত সামনে আসে)। এটি দেহের ভারসাম্য ও গতির সমন্বয় সাধনে সহায়তা করে।

ভারসাম্য রক্ষায় কোন অঙ্গগুলো কাজ করে?

অন্তঃকর্ণে অবস্থিত অর্ধবৃত্তাকার নালি দেহের অবস্থান ও গতির পরিবর্তন সম্পর্কে মস্তিষ্ককে তথ্য দেয়। লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম) এই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে পেশির চলনে সমন্বয় ও ভারসাম্য বজায় রাখে।

গমনকালে একটি পদচক্র (পা উঠানো থেকে ফেলা পর্যন্ত) কীভাবে সম্পন্ন হয়?

একটি সাধারণ পদচক্রে নিম্নলিখিত ধাপগুলো থাকে –
1. দেহ সামনের দিকে ঝুঁকে ভারকেন্দ্র সামনে সরে আসে।
2. একটি পা (যেমন ডান পা) মাটি থেকে উঠে অগ্রসর হয় (ফ্লেক্সর পেশির সংকোচনে)।
3. অপর পা (বাম পা) দিয়ে দেহের ভার ধারণ করা হয়।
4. অগ্রসর পা (ডান পা) সোজা হয়ে (এক্সটেনসর পেশির সংকোচনে) ও সামনে এগিয়ে গোড়ালি মাটি স্পর্শ করে।
5. পায়ের পাতা সম্পূর্ণ মাটিতে পড়লে দেহ খাড়া হয় এবং বিপরীত পায়ে একই প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তি হয়।

দ্বিপদ গমনের সুবিধা কী?

দ্বিপদ গমনের ফলে হাত মুক্ত থাকে, যা সরঞ্জাম ব্যবহার, বস্তু বহন ও অন্যান্য সূক্ষ্ম কার্য সম্পাদনে সক্ষমতা দিয়েছে। এটি শক্তির সঞ্চয়কারী ও দূরত্ব অতিক্রমের উপযোগী একটি পদ্ধতি।

দ্বিপদ গমন মানব বিবর্তনে কী প্রভাব ফেলেছে?

এটি মানব বিবর্তনের একটি মাইলফলক, যা মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধি, সামাজিক আচরণ জটিলতা, এবং ভিন্ন পরিবেশে অভিযোজনের পথ সুগম করেছে।

গমনে কোন ধরনের পেশি প্রধানত কাজ করে?

মূলত পায়ের ফ্লেক্সর পেশি পা উঠাতে এবং এক্সটেনসর পেশি পা সোজা করতে ও সামনে ফেলতে কাজ করে। উরুর বাইসেপ্স ফিমোরিস পেশি পা সামনে নিতে সাহায্য করে।

মানুষের গমন অন্য দ্বিপদ প্রাণীর গমন থেকে কীভাবে ভিন্ন?

মানুষের গমন সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে, হাঁটু সোজা রেখে ও পায়ের গোড়ালি থেকে আঙুলে ভর দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, যা অন্য অনেক দ্বিপদ প্রাণীর (যেমন পাখি বা বানর) চলনের থেকে আলাদা।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন করে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখো। Euglena (ইউগ্নিনা) -এর গমন পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন করে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখো। Euglena (ইউগ্নিনা) -এর গমন পদ্ধতি

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন করে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখো। Euglena (ইউগ্নিনা) -এর গমন পদ্ধতি

সিলিয়ার বৈশিষ্ট্য ও সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন পদ্ধতি