এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অস্থিপেশি কী? সচল অস্থিসন্ধি হিসেবে কবজা এবং বল ও সকেট সন্ধির বর্ণনা দাও।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অস্থিপেশি কী? সচল অস্থিসন্ধি হিসেবে কবজা এবং বল ও সকেট সন্ধির বর্ণনা দাও।
যেসব অস্থি সংলগ্ন পেশি জীবের ইচ্ছায় সংকুচিত হয়ে গমনে প্রধান ভূমিকা নেয়, তাদের কঙ্কাল পেশি বা অস্থিপেশি বলে।
সচল অস্থিসন্ধি হিসেবে কবজা এবং বল ও সকেট সন্ধি –
- কবজা অস্থিসন্ধি – যেসব অস্থিসন্ধিগুলি সবসময়েই একটি অক্ষ বরাবর একটি নির্দিষ্ট দিকে যেতে পারে বিপরীত দিয়ে যেতে পারে না তাদের কবজা বা হিঞ্জ জয়েন্ট বলে। এই সন্ধিতে অস্থি কেবলমাত্র একটি তলেই 180°-তে সঞ্চালন করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে দুটি অস্থির প্রান্ত দরজার কবজার মতো যুক্ত থাকে। যেমন –
- হাঁটুর অস্থিসন্ধি – ফিমার, টিবিয়া ও ফিবিউলার সম্মিলিত অস্থিসন্ধি।
- কনুইয়ের অস্থিসন্ধি – হিউমেরাস, আলনা ও রেডিয়াসের সম্মিলিত অস্থিসন্ধি।
- বল ও সকেট সন্ধি – যেসকল সচল অস্থিসন্ধিতে একটি অস্থির অবতল খাঁজে অপর অস্থিটির গোলাকার মস্তক ঢুকে থাকে তাকে বল ও সকেট সন্ধি বলে। এই প্রকার সন্ধি সংশ্লিষ্ট অঙ্গকে সব অক্ষেই সঞ্চালিত হতে সাহায্য করে। যেমন –
- কোমরের অস্থিসন্ধি – এই প্রকার অস্থিসন্ধিতে ফিমারের মস্তক (বল) শ্রোণিচক্রের অ্যাসিটাবুলাম কোটরে (সকেট) প্রবেশ করে।
- কাঁধের অস্থিসন্ধি – এই প্রকার অস্থিসন্ধিতে হিউমেরাস অস্থির গোলাকার মস্তক (বল) স্ক্যাপুলা অস্থির গ্লিনয়েড গহ্বরে (সকেট) প্রবেশ করে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
অস্থিপেশি (কঙ্কাল পেশি) কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
অস্থিপেশি হল ঐচ্ছিক পেশি যা অস্থির সাথে সংযুক্ত থাকে এবং মস্তিষ্কের নির্দেশে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের চলনে সাহায্য করে। এটি সাধারণত টেন্ডনের মাধ্যমে অস্থির সাথে যুক্ত থাকে।
অস্থিপেশি ও মসৃণ পেশির মধ্যে পার্থক্য কী?
অস্থিপেশি ঐচ্ছিক ও দ্রুত সাড়া দেয়, যা চলনে সাহায্য করে। মসৃণ পেশি অনৈচ্ছিক ও ধীর গতিতে কাজ করে, যা অন্ত্র, রক্তনালী ইত্যাদিতে থাকে। হৃদপেশি একটি বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি।
অস্থিপেশি কীভাবে গঠিত?
এগুলি বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত পেশিতন্তুর সমষ্টি। এদের মায়োসিন ও অ্যাকটিন প্রোটিনের উপস্থিতির কারণে ডোরাকাটা রূপ দেখা যায়।
অস্থিপেশির প্রধান কাজ কী?
অস্থিপেশির প্রধান কাজ –
1. দেহ চলনে সাহায্য করা।
2. দেহের কাঠামো ও ভঙ্গি বজায় রাখা।
3. জয়েন্টগুলোকে স্থিতিশীল করা।
4. তাপ উৎপাদন।
সচল অস্থিসন্ধি কাকে বলে?
যেসব অস্থিসন্ধিতে অস্থিগুলো নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অবাধে নড়াচড়া করতে পারে, তাদের সচল অস্থিসন্ধি বলে। যেমন – কবজা সন্ধি, বল ও সকেট সন্ধি।
বল ও সকেট সন্ধি সবচেয়ে বেশি মুক্ত হয় কেন?
বল ও সকেট সন্ধি সবচেয়ে বেশি মুক্ত হয় কারণ এক অস্থির গোলাকার মস্তক (বল) অপর অস্থির গভীর বা অগভীর গহ্বর (সকেট)-এ ঢুকে থাকে, যা ত্রিমাত্রিক আন্দোলনের সুযোগ দেয়।
কাঁধ ও কোমরের বল ও সকেট সন্ধির মধ্যে কোনটি বেশি স্থিতিশীল ও কেন?
কোমরের সন্ধি বেশি স্থিতিশীল, কারণ শ্রোণিচক্রের অ্যাসিটাবুলাম গহ্বর গভীর এবং লিগামেন্ট ও পেশি দ্বারা শক্তভাবে আবদ্ধ। কাঁধের গ্লেনয়েড গহ্বর অপেক্ষাকৃত অগভীর হওয়ায় এটি বেশি নড়াচড়া করতে পারে কিন্তু সহজে বিচ্যুতও হতে পারে।
অস্থিসন্ধিতে উপস্থিত লিগামেন্ট ও টেন্ডনের কাজ কী?
অস্থিসন্ধিতে উপস্থিত লিগামেন্ট ও টেন্ডনের কাজ –
1. লিগামেন্ট – অস্থিকে অস্থির সাথে যুক্ত করে, সন্ধিকে স্থিতিশীল করে।
2. টেন্ডন – পেশিকে অস্থির সাথে যুক্ত করে, পেশির সংকোচনে অস্থিকে নড়াচড়া করায়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অস্থিপেশি কী? সচল অস্থিসন্ধি হিসেবে কবজা এবং বল ও সকেট সন্ধির বর্ণনা দাও।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন