অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোম কাকে বলে? অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে পার্থক্য

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোম কাকে বলে? অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোম কাকে বলে? অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোম কাকে বলে?

অটোজোম বা দেহ ক্রোমোজোম –

নিউক্লিয়াসে উপস্থিত যেসব ক্রোমোজোম প্রাণীদেহের ক্ষেত্রে দেহজ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের দেহ ক্রোমোজোম বা অটোজোম বলে।

মানবদেহে 22 জোড়া অটোজোম উপস্থিত।

সেক্স ক্রোমোজোম বা অ্যালোজোম –

যেসব ক্রোমোজোম প্রাণীদেহে লিঙ্গ নির্ধারণে সাহায্য করে, তাদের সেক্স ক্রোমোজোম বলে। মানুষের দেহকোশে একজোড়া সেক্স ক্রোমোজোম থাকে যা দু-প্রকারের হয়, যথা – X ও Y।

পুরুষের দেহকোশে একজোড়া সেক্স ক্রোমোজোম = XY এবং স্ত্রীলোকের দেহকোশে একজোড়া সেক্স ক্রোমোজোম = XX থাকে।

অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে পার্থক্য

অটোজোমসেক্স ক্রোমোজোম
কোনো প্রজাতির পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়েরই কোশে একই সংখ্যায় উপস্থিত থাকে।কোনো প্রজাতির পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের কোশে ভিন্ন সংখ্যায় উপস্থিত থাকে।
মানুষের দেহকোশ এবং জনন মাতৃকোশে অটোজোমের সংখ্যা 22 জোড়া বা 44।মানুষের কোশে সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা দুটি, যথা – X ক্রোমোজোম এবং Y ক্রোমোজোম।
মূলত জীবের বিভিন্ন দেহজ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে বলে, এদের সোমাটিক ক্রোমোজোমও বলা হয়।সেক্স ক্রোমোজোমের বিভিন্ন প্রকারভেদ ও বৈচিত্র্যতার জন্য, এদের হেটেরোক্রোমোজোম বা অ্যালোজোম বলে।
জীবের দৈহিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।জীবের লিঙ্গ নির্ধারক হিসেবে কাজ করে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোমের মূল কাজ কী?

অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোমের মূল কাজ –
1. অটোজোম (দেহ ক্রোমোজোম) – জীবের সমস্ত দৈহিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (যেমন – চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, উচ্চতা, রক্তের গ্রুপ ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করে।
2. সেক্স ক্রোমোজোম (লিঙ্গ ক্রোমোজোম) – প্রাণীদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে (পুরুষ বা স্ত্রী) এবং লিঙ্গ-সংলগ্ন কিছু বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে।

মানুষের দেহকোষে মোট কতটি ক্রোমোজোম থাকে এবং সেগুলো কী কী?

মানুষের দেহকোষে মোট কতটি ক্রোমোজোম থাকে এবং সেগুলো হল –
1. মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট 46টি বা 23 জোড়া ক্রোমোজোম থাকে।
2. এর মধ্যে 22 জোড়া (44টি) হল অটোজোম এবং 1 জোড়া (2টি) হল সেক্স ক্রোমোজোম।

XX ও XY ক্রোমোজোম কাদের মধ্যে থাকে?

স্ত্রীলোক (মহিলা) – তাদের সেক্স ক্রোমোজোমের জোড়া হল XX। অর্থাৎ, দুটিই X ক্রোমোজোম।
পুরুষ – তাদের সেক্স ক্রোমোজোমের জোড়া হল XY। অর্থাৎ, একটি X এবং একটি Y ক্রোমোজোম।

লিঙ্গ নির্ধারণ কীভাবে হয়?

লিঙ্গ নির্ধারণ হয় শুক্রাণু দ্বারা বাহিত সেক্স ক্রোমোজোমের উপর।
1. মায়ের ডিম্বাণুতে সবসময় একটি X ক্রোমোজোম থাকে।
2. বাবার শুক্রাণু হয় X অথবা Y ক্রোমোজোম বহন করতে পারে।
3. X-শুক্রাণু + X-ডিম্বাণু = XX (কন্যা সন্তান)
4. Y-শুক্রাণু + X-ডিম্বাণু = XY (পুত্র সন্তান)

অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমকে অন্য কী কী নামে ডাকা হয়?

অটোজোম – দেহ ক্রোমোজোম বা সোমাটিক ক্রোমোজোম।
সেক্স ক্রোমোজোম – লিঙ্গ ক্রোমোজোম, অ্যালোজোম বা হেটেরোক্রোমোজোম।

অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা সকল জীবের জন্য কি একই?

না, এটি প্রজাতি ভেদে ভিন্ন। যেমন, মৌমাছিতে লিঙ্গ নির্ধারণ অন্যরকম। মানুষের জন্য সংখ্যা ও প্রকার (XX/XY) উপরে উল্লিখিত আছে, কিন্তু অন্যান্য প্রাণীর (যেমন – পাখি, কিছু পোকামাকড়) ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতি ও ক্রোমোজোম ব্যবস্থা থাকতে পারে।

ক্রোমোজোম অস্বাভাবিকতা বলতে কী বোঝায়?

যখন ক্রোমোজোমের সংখ্যা (যেমন – ডাউন সিনড্রোমে 21নং ক্রোমোজোম তিনটি থাকে) বা গঠনে কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, তাকে ক্রোমোজোম অস্বাভাবিকতা বলে। সেক্স ক্রোমোজোমের ক্ষেত্রেও এটি হতে পারে (যেমন – টার্নার সিনড্রোম X0, ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম XXY ইত্যাদি)।

জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু)তে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?

প্রতিটি জননকোষে হ্যাপ্লয়েড সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে, অর্থাৎ 23টি ক্রোমোজোম (22টি অটোজোম + 1টি সেক্স ক্রোমোজোম)। নিষেকের সময় এদের মিলনের ফলে জাইগোটে পূর্ণ 46টি ক্রোমোজোম পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোম কাকে বলে? অটোজোম এবং সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য লেখো।

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে? ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য

নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইড কাকে বলে? নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইডের মধ্যে পার্থক্য