এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সাইটোকাইনেসিস এবং ক্যারিয়োকাইনেসিস কী? সাইটোকাইনেসিস এবং ক্যারিয়োকাইনেসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সাইটোকাইনেসিস এবং ক্যারিয়োকাইনেসিস কী?
সাইটোকাইনেসিস – যে পদ্ধতিতে কোশ বিভাজনের সময় সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়, তাকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
ক্যারিয়োকাইনেসিস – যে পদ্ধতিতে কোশ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়, তাকে ক্যারিয়োকাইনেসিস বলে। এটি চারটি দশা যেমন – প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ-এ সংঘটিত হয়।
সাইটোকাইনেসিস এবং ক্যারিয়োকাইনেসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
সাইটোকাইনেসিস এবং ক্যারিয়োকাইনেসিসের মধ্যে পার্থক্য –
| সাইটোকাইনেসিস | ক্যারিওকাইনেসিস |
| কোশের সাইটোপ্লাজমের বিভাজন পদ্ধতিকে সাইটোকাইনেসিস বলে। | কোশের নিউক্লিয়াসের বিভাজন পদ্ধতিকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে। |
| কোনো ক্রমপর্যায় বা দশায় সম্পন্ন হয় না, সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়। | চারটি পর্যায়ে সংঘটিত হয়, যেমন – প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ। |
| সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়। | নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। |
| কোশচক্রে ক্যারিওকাইনেসিসের পর সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়। | কোশচক্রে সাইটোকাইনেসিসের আগে ক্যারিওকাইনেসিস শুরু হয়। |
| সাইটোকাইনেসিস পদ্ধতিটি ক্লিভেজ বা ফারোয়িং এবং কোশপাত গঠনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। | ক্যারিওকাইনেসিস পদ্ধতিটি বেম গঠনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সাইটোকাইনেসিস এবং ক্যারিওকাইনেসিস কোশ বিভাজনের কোন পর্যায়ে ঘটে?
ক্যারিওকাইনেসিস (নিউক্লিয়াসের বিভাজন) প্রথমে ঘটে এবং এটি মাইটোসিস বা মিয়োসিসের মূল পর্যায়গুলো (প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ) জুড়ে সংঘটিত হয়। এর পরে, টেলোফেজের শেষে বা তার সমসময়ে সাইটোকাইনেসিস (সাইটোপ্লাজমের বিভাজন) সংঘটিত হয়, যা কোশ বিভাজন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ করে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে।
সাইটোকাইনেসিস প্রাণী কোশ এবং উদ্ভিদ কোশে কীভাবে ভিন্ন হয়?
প্রাণী কোশে, সাইটোকাইনেসিস সাধারণত “ক্লিভেজ” বা “ফারোয়িং” পদ্ধতিতে ঘটে, যেখানে কোশপর্দা ভিতরের দিকে কুঁচকে এসে দুই অংশে বিভক্ত হয়। অপরদিকে, উদ্ভিদ কোশে একটি কোশপাত (Cell Plate) গঠিত হয় কোশের মধ্যস্থলে, যা বেড়ে গিয়ে প্রাচীর তৈরি করে এবং শেষে কোশটি দুটি অপত্য কোশে বিভক্ত হয়।
ক্যারিওকাইনেসিসের চারটি দশার নাম কী?
ক্যারিওকাইনেসিসের চারটি প্রধান দশা হল –
1. প্রোফেজ (Prophase) – ক্রোমোজম ঘনীভূত ও দৃশ্যমান হয়, নিউক্লিয়াসের আবরণ ক্ষয় হতে শুরু করে।
2. মেটাফেজ (Metaphase) – ক্রোমোজমগুলো কোশের বিষুবীয় তলে (মেটাফেজ প্লেট) বিন্যস্ত হয়।
3. অ্যানাফেজ (Anaphase) – সিস্টার ক্রোমাটিডগুলো পৃথক হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে সরে যায়।
4. টেলোফেজ (Telophase) – বিপরীত মেরুতে পৌঁছানো ক্রোমোজমগুলো আবার অবিঘটিত হতে শুরু করে এবং চারপাশে নতুন নিউক্লিয়ার আবরণ গঠিত হয়।
সাইটোকাইনেসিস ছাড়া ক্যারিওকাইনেসিস হলে কী হবে?
যদি শুধু ক্যারিওকাইনেসিস (নিউক্লিয়াসের বিভাজন) ঘটে কিন্তু সাইটোকাইনেসিস (সাইটোপ্লাজমের বিভাজন) না ঘটে, তাহলে একটি কোশের ভেতরে একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত একটি কোশ (বহু-নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ বা মাল্টিনিউক্লিয়েটেড সেল) সৃষ্টি হবে। এটি কিছু নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া (যেমন – পেশীকোশে) দেখা গেলেও, সাধারণ বিভাজনে এটি অস্বাভাবিক।
মাইটোসিস এবং মিয়োসিসে সাইটোকাইনেসিসের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি?
হ্যাঁ, পার্থক্য আছে। মাইটোসিসে, একবার সাইটোকাইনেসিস ঘটে এবং একটি মাতৃ কোশ থেকে দুটি দ্বিগুণ সমসংখ্যক ক্রোমোজমবিশিষ্ট (ডিপ্লয়েড) অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়। মিয়োসিসে, প্রথম বিভাজনের (মিয়োসিস I) পর সাইটোকাইনেসিস ঘটে দুটি হ্যাপ্লয়েড কোশ তৈরি করে, এবং তারপর আবার দ্বিতীয় বিভাজনের (মিয়োসিস II) পর আরও একবার সাইটোকাইনেসিস ঘটে, মোট চারটি হ্যাপ্লয়েড অপত্য কোশ গঠন করে।
সাইটোকাইনেসিস এবং ক্যারিওকাইনেসিস উভয়ই কি সব ধরনের কোশ বিভাজনে ঘটে?
না, সব বিভাজনে না। সাইটোকাইনেসিস ও ক্যারিওকাইনেসিস উভয়ই সাধারণত মাইটোসিস এবং মিয়োসিস এ সম্পূর্ণ কোশ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন – কিছু প্রোটিস্টের বাইনারি ফিশনে বা কোশের বৃদ্ধির নির্দিষ্ট পর্যায়ে ভিন্ন প্রক্রিয়া দেখা যেতে পারে। আর, ব্যাকটেরিয়ার মতো প্রোক্যারিওটের ক্ষেত্রে যাদের সত্যিকারের নিউক্লিয়াস নেই, সেখানে ক্যারিওকাইনেসিস সংঘটিত হয় না।
ক্যারিওকাইনেসিসের সময় ক্রোমোজমের সংখ্যার কি পরিবর্তন হয়?
মাইটোসিসের ক্যারিওকাইনেসিসের সময়, প্রতিটি অপত্য নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজমের সংখ্যা মাতৃ কোশের সমান থাকে (ডিপ্লয়েড থেকে ডিপ্লয়েড)। অপরদিকে, মিয়োসিস I -এর ক্যারিওকাইনেসিসের সময় হোমোলোগাস ক্রোমোজম পৃথক হওয়ায় ক্রোমোজম সংখ্যা অর্ধেক (ডিপ্লয়েড থেকে হ্যাপ্লয়েড) হয়ে যায়। মিয়োসিস II-এ এই হ্যাপ্লয়েড সংখ্যা বজায় থাকে, শুধু ক্রোমাটিড পৃথক হয়।
সাইটোকাইনেসিসের জন্য দায়ী প্রোটিন কাঠামো বা অঙ্গাণু কী?
প্রাণী কোশে, অ্যাক্টিন ও মায়োসিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত একটি কন্ট্রাক্টাইল রিং (সংকোচনশীল বলয়) সাইটোকাইনেসিসের জন্য দায়ী। উদ্ভিদ কোশে, গলজি বডি থেকে উৎপন্ন ভেসিকলগুলি কোশের মাঝখানে জমা হয়ে কোশপাত গঠন করে এবং মাইক্রোটিউবিউল এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাইটোকাইনেসিসের একটি গুরুত্ব লেখো।
গুরুত্ব – সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাতৃকোশের সাইটোপ্লাজম দুটি ভাগে বিভাজিত হয়ে অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়।
ক্যারিওকাইনেসিসের একটি গুরুত্ব লেখো।
গুরুত্ব – ক্যারিয়োকাইনেসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সাইটোকাইনেসিস এবং ক্যারিয়োকাইনেসিস কী? সাইটোকাইনেসিস এবং ক্যারিয়োকাইনেসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন