কোশচক্র ও কোশচক্রের G0 দশা কাকে বলে? এর গুরুত্ব উল্লেখ করো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “কোশচক্রের সংজ্ঞা লেখো। কোশচক্রের G0 দশা কাকে বলে? এর গুরুত্ব উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কোশচক্রের সংজ্ঞা লেখো।

কোশচক্রের সংজ্ঞা লেখো।

যে প্রক্রিয়ায় একটি কোশ বিভাজনের পরে পরবর্তী কোশ বিভাজন পর্যন্ত সংঘটিত চক্রাকার, ছন্দোবদ্ধ ঘটনাবলি অর্থাৎ কোশের বৃদ্ধি ও বিভাজন দশার চক্রবৎ আবর্তনকে কোশচক্র বলে।

কোশচক্রের G0 দশা কাকে বলে? এর গুরুত্ব উল্লেখ করো।

কোশচক্রের যে দশায় কোশের বিপাকীয় হার অপরিবর্তিত থাকে কিন্তু কোশ বিভাজিত হতে পারে না অর্থাৎ কোশচক্রটি থেমে যায়, তাকে কোশচক্রের G0 দশা বলে।

কোশচক্রের G0 দশার গুরুত্ব –

  • G0 দশায় কোশ বিভাজিত হয় না। কিন্তু কোশগুলি বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় থাকে।
  • এই দশা জীবেদের কোশের মোট সংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
  • অনুকূল অবস্থায় এরা পুনরায় কোশচক্রে প্রবেশ করে কোশ বিভাজন সম্পূর্ণ করে। কিছু কোশ যেমন মানুষের ক্ষেত্রে স্নায়ুকোশ সর্বদা G0 দশায় থাকে, তাই স্নায়ুকোশ বিভাজিত হয় না।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

কোশচক্রের প্রধান দশাগুলো কি কি?

কোশচক্র দুটি প্রধান দশায় বিভক্ত –
1. ইন্টারফেজ (বৃদ্ধি দশা) – এটি তিনটি উপদশা নিয়ে গঠিত – G1 (প্রাক-সিন্থেটিক দশা), S (সিন্থেটিক দশা), G2 (প্রাক-বিভাজন দশা)।
2. এম দশা (বিভাজন দশা) – এতে কার্যকরী কোশ বিভাজন (মাইটোসিস বা মিয়োসিস) এবং সাইটোকাইনেসিস (সাইটোপ্লাজম বিভাজন) ঘটে।

কোশচক্রের S দশা বলতে কী বোঝায়? এর প্রধান ঘটনা কী?

S দশা বা সিন্থেটিক দশা হল ইন্টারফেজের একটি অংশ, যেখানে ডিএনএ -এর প্রতিলিপিকরণ (Replication) ঘটে। এই দশায় ক্রোমোজোমের ডিএনএ অনুলিপিত হয়ে ক্রোমাটিড সংখ্যা দ্বিগুণ হয়, কিন্তু ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।

“চেকপয়েন্ট” বলতে কোশচক্রে কী বোঝায়?

কোশচক্রের নির্দিষ্ট কিছু বিন্দুতে কোশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অবস্থা যাচাই করার ব্যবস্থাকে চেকপয়েন্ট বলে। এটি নিশ্চিত করে যে পরবর্তী দশায় যাওয়ার জন্য সব শর্ত পূরণ হয়েছে। প্রধান চেকপয়েন্টগুলো হল G1 চেকপয়েন্ট, G2 চেকপয়েন্ট এবং M দশার চেকপয়েন্ট।

কোন দশাকে কোশচক্রের বিশ্রাম দশা বলা হয়? কেন?

G0 দশা কে কোশচক্রের “বিশ্রাম” বা “কোয়েসেন্ট” দশা বলা হয়। কারণ এই দশায় কোশটি সক্রিয় বিভাজন চক্র (G1-S-G2-M) থেকে বেরিয়ে যায়। কোশটি বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় থাকলেও বিভাজিত হয় না, তাই একে বিশ্রাম দশা বলা হয়। তবে প্রয়োজন বা উদ্দীপনা পেলে (যেমন – আঘাত পূরণ) কিছু কোশ আবার কোশচক্রে ফিরে আসতে পারে।

কোন ধরনের কোশগুলো সাধারণত G0 দশায় স্থায়ীভাবে থাকে?

যে কোশগুলো প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সাধারণত বিভাজিত হয় না, তারা প্রায়ই স্থায়ীভাবে G0 দশায় থাকে। উদাহরণ –
1. স্নায়ুকোশ (নিউরন),
2. পেশী কোশ (কার্ডিয়াক ও কঙ্কাল পেশী),
3. লোহিত রক্তকণিকা (পরিণত অবস্থায়)।

কোশচক্র নিয়ন্ত্রণে সাইক্লিন ও সাইক্লিন-নির্ভর কাইনেজ (CDK) এর ভূমিকা কী?

সাইক্লিন ও CDK হল প্রধান নিয়ন্ত্রক প্রোটিন। সাইক্লিনের মাত্রা কোশচক্রের সময় উঠানামা করে এবং এটি CDK কে সক্রিয় করে। সক্রিয় সাইক্লিন-CDK কমপ্লেক্স কোশচক্রের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম ও প্রোটিনগুলোকে ফসফরাইলেশন করে। বিভিন্ন সাইক্লিন (G1, S, M সাইক্লিন) বিভিন্ন দশার সূচনা নিয়ন্ত্রণ করে।

মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোশচক্রের কোন দশার অন্তর্গত?

মাইটোসিস ও মিয়োসিস উভয়ই কোশচক্রের M দশা (মাইটোটিক দশা) -এর অন্তর্ভুক্ত। ইন্টারফেজ সম্পন্ন হওয়ার পর M দশায় কোশটি বিভাজিত হয়ে নতুন কোশ তৈরি করে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “কোশচক্রের সংজ্ঞা লেখো। কোশচক্রের G0 দশা কাকে বলে? এর গুরুত্ব উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Categories -
Please Share This Article

Related Posts

জীবদেহে কোশ বিভাজনের সময় সাইটোকাইনেসিস না হলে কী ঘটবে? প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে তা ব্যাখ্যা করো।

প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে? জীবদেহে কোশ বিভাজনের সময় সাইটোকাইনেসিস না হলে কী ঘটবে?

গঠনগত পার্থক্যের ভিত্তিতে নিউরোনের শ্রেণিবিন্যাস করো।

গঠনগত পার্থক্যের ভিত্তিতে নিউরোনের শ্রেণিবিন্যাস করো।

ব্যোমযাত্রীর ডায়রি-ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর-নবম শ্রেণী-বাংলা

নবম শ্রেণী – বাংলা – ব্যোমযাত্রীর ডায়রি – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে? ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য

নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইড কাকে বলে? নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইডের মধ্যে পার্থক্য