এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের চতুর্থ পাঠের অন্তর্গত ‘ছন্নছাড়া’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
‘ছন্নছাড়া’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন – (অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত / জীবনানন্দ দাশ / অজিত দত্ত)।
উত্তর – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।
‘ছন্নছাড়া’ কবিতায় উল্লিখিত গাছটি দাঁড়িয়ে রয়েছে – (বড়ো রাস্তার ধারে / পুকুর পাড়ে / গলির মোড়ে)।
উত্তর – গলির মোড়ে।
রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল এক – (শিল্পপতি / ভিখিরি / চিত্রতারকা)।
উত্তর – ভিখিরি।
শূন্যস্থান পূরণ করো
ওরা বিরাট এক ___ এক নেই রাজ্যের বাসিন্দা।
উত্তর – ওরা বিরাট এক নৈরাজ্যের এক নেই রাজ্যের বাসিন্দা।
তা সুধাহরণের ___ উদাহরণ।
উত্তর – তা সুধাহরণের ক্ষুধাভরণের উদাহরণ।
তাই এখন পথে এসে দাঁড়িয়েছে ___ মাঝখানে।
উত্তর – তাই এখন পথে এসে দাঁড়িয়েছে সড়কের মাঝখানে।
কোথায় চলেছে নেই সেই ___ ঠিকানা।
উত্তর – কোথায় চলেছে নেই সেই ভবিষ্যতের ঠিকানা।
ধীরে ধীরে ঘন পত্রপুঞ্জে ফেলেছে ___ দীর্ঘছায়া।
উত্তর – ধীরে ধীরে ঘন পত্রপুঞ্জে ফেলেছে স্নেহার্দ্র দীর্ঘছায়া।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের লেখা দুটি বইয়ের নাম হল – ‘অমাবস্যা’ ও ‘আমরা’।
তিনি কোন্ পত্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন?
তিনি ‘কল্লোল’ পত্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
কবি প্রথমে গাছটিকে কেমন অবস্থায় দেখেছিলেন?
গলির মোড়ের গাছটিকে দেখে কবির প্রথমে মনে হয়েছিল লতাপাতাহীন, বিন্দুমাত্র সবুজের চিহ্নবিহীন এবং কতকগুলো শুকনো ডাল মেলে ধরা গাছটা যেন আসলে একটা প্রকৃত জীবন্ত গাছ নয়। গাছের কঙ্কাল বা প্রেতমূর্তি।
‘ড্রাইভার বললে, ওদিকে যাব না।’ – ওদিকে না যেতে চাওয়ার কারণ কী?
গলির মোড়ে কতকগুলো বেকার ছন্নছাড়া ছেলে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিল, যারা ট্যাক্সি ড্রাইভারকে দেখতে পেলেই গাড়ি থামিয়ে লিফট চাইবে এবং তারপর ড্রাইভারকে বলবে তাদের ঘুরিয়ে হাওয়া খাইয়ে আনতে – এই আশঙ্কায় ড্রাইভার ওদিকে যেতে চাননি।
‘তাই এখন পথে এসে দাঁড়িয়েছে সড়কের মাঝখানে।’ – সড়কের মাঝখানে পথে এসে দাঁড়ানোর কারণ কী?
‘ছন্নছাড়া’ কবিতায় উল্লিখিত ছেলেগুলি জীবনে সবদিক থেকে বঞ্চিত। এমনকি মধ্যবিত্ত বাড়ির এক চিলতে রক, যেখানে ওরা একটু বসতে পারত, সেটাও উঠে গিয়েছে বলে তারা এখন সড়কের মাঝখানে, পথে এসে দাঁড়িয়েছে।
‘আমি বললুম, না ওখান দিয়েই যাব।’ – কবির ‘ওখান’ দিয়েই যেতে চাওয়ার কারণ কী?
গড্ডলিকাপ্রবাহে গা ভাসাতে রাজি না হওয়া বিবেকবান লেখক চেয়েছিলেন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ; চেয়েছিলেন মানবিকতার বাহনে সকলকে সওয়ার করিয়ে প্রকৃত সমাজসংস্কারকের ভূমিকা পালন করতে।
‘ওই দেখতে পাচ্ছেন না ভিড়?’ – ওখানে কীসের ভিড়?
একজন নামপরিচয়হীন ভিখিরিকে একটি গাড়ি চাপা দিয়ে চলে গিয়েছে এবং তার দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় দলা পাকিয়ে গিয়েছে—যে কারণে সেখানে ভিড় জমেছিল।
‘কে সে লোক?’ – লোকটির পরিচয় দাও।
‘লোক’টি একটি পরিচয়হীন চালচুলোহীন ফুটপাথবাসী ভিখিরি, যার দেহ গাড়ি চাপা পড়ে রক্তে মাখামাখি হয়ে প্রায় দলা পাকিয়ে গিয়েছে।
‘চেঁচিয়ে উঠল সমস্বরে…’ – কী বলে তারা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল?
ভিখিরির দেহে প্রাণ থাকার আনন্দে যুবকেরা সমস্বরে ‘প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে’ বলে আনন্দে ঝংকৃত হয়ে চেঁচিয়ে উঠল।
‘আমি নেমে পড়লুম তাড়াতাড়ি’ – কবি তাড়াতাড়ি নেমে পড়লেন কেন?
শহুরে ভব্যতা ও লোক-দেখানো শালীনতা শহুরে বাবুদের সহজাত প্রবৃত্তি, তা যেন মরেও মরতে চায় না। গাড়ি চাপা পড়া আহত ব্যক্তির রক্ত পাছে গায়ে বা পোশাকে লাগে, তাই সেই নোংরা ছোঁয়াচ থেকে নিজেকে বাঁচাতে কবি গাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি নেমে পড়লেন।
‘ফিরে আসতেই দেখি …’ – ফেরার পথে কবি কী দেখতে পেলেন?
ফেরার পথে কবি দেখতে পেলেন সমস্ত নির্জীবতায় প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। জীর্ণ-শীর্ণ ফ্যাকাশে গাছটায় যেন লেগেছে সবুজের প্রলেপ। পরিবেশের সমস্ত কালিমায় লেগেছে শুভ্রতার চমক। যেন বেওয়ারিশ ভিখিরির ‘মূল্যহীন প্রাণ’ সমস্ত ‘মূল্যবান সমাজের’ ধড়ে চেতনার সঞ্চার করেছে, মৃতপ্রায় ক্ষয়িষ্ণু সমাজ যেন ধীরে ধীরে জেগে উঠেছে।
‘অবিশ্বাস্য চোখে দেখলুম’ – কবির চোখে অবিশ্বাসের ঘোর কেন?
যাওয়ার সময় যে গাছটিকে নীরস পত্রহীন রুক্ষ অবস্থায় দেখেছিলেন, ফেরার সময় তার গায়ে কচি পাতা, ডালভরা সুগন্ধি ফুল এবং পাখিদের সমাবেশ লক্ষ করার মতো অসম্ভব ঘটনা ঘটার জন্যই কবির চোখে অবিশ্বাসের ঘোর ছিল।
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত প্রথম কোন্ ছদ্মনামে সাহিত্য-রচনা শুরু করেন?
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত প্রথম ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে সাহিত্যরচনা শুরু করেন।
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত কিছু সময়ের জন্য কোন্ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছিলেন?
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত কিছু সময়ের জন্য ‘কল্লোল’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছিলেন।
কাকে দেখে কবির ‘গাছের প্রেতচ্ছায়া’ বলে মনে হয়েছিল?
গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রুক্ষ, রিক্ত, জীর্ণ গাছটিকে দেখে কবির ‘গাছের প্রেতচ্ছায়া’ বলে মনে হয়েছিল।
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের লেখা দুটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের লেখা দুটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হল ‘বিবাহের চেয়ে বড়ো’ এবং ‘ইন্দ্রাণী’। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য দুটি কাব্যগ্রন্থ হল ‘অমাবস্যা’ এবং ‘নীল আকাশ’।
‘চেঁচিয়ে উঠল সমস্বরে’ – কারা কী বলে সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল?
ছন্নছাড়া বেকার যুবকেরা দুর্ঘটনায় আহত নামপরিচয়হীন ভিখিরির দেহে প্রাণ আছে দেখে আনন্দে উল্লসিত হয়ে সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল ‘প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে’ বলে।
ব্যাকরণ
নীচের প্রতিটি শব্দের দল বিভাজন করে দেখাও –
এলোমেলো, ছন্নছাড়া, নৈরাজ্যে, বাসিন্দে, শালীনতা, আত্মীয়তা, শঙ্খধ্বনি, পত্রপুঞ্জে।
| প্রদত্ত শব্দ | দল বিভাজন |
| এলোমেলো | এ – লো – মে – লো |
| ছন্নছাড়া | ছন্ – ন – ছা – ড়া |
| নৈরাজ্যে | নৈ – রাজ – জ্যে |
| বাসিন্দে | বা – সিন্ – দে |
| শালীনতা | শা – লী – ন – তা |
| আত্মীয়তা | আত্ – তী – য় – তা |
| শঙ্খধ্বনি | শঙ্ – খ – ধ্ব – নি |
| পত্রপুঞ্জে | পত্ – র – পুন্ – জে |
নীচের প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করো –
বর্তমান, ভদ্রতা, সম্ভাষণ, গতি, ভিখিরি, ভব্যতা, রুষ্ট, জিজ্ঞেস, পিছে।
| প্রদত্ত শব্দ | ব্যুৎপত্তি |
| বর্তমান | বৃৎ + শানচ্ |
| ভদ্রতা | ভদ্র + তা |
| সম্ভাষণ | সম্ – ভাষ্ + অনট্ |
| গতি | গম্ + ক্তি |
| ভিখিরি | ভিখ্ + আরি (ইরি) |
| ভব্যতা | ভব্য + তা |
| রুষ্ট | রুষ্ + ত |
| জিজ্ঞেস | জ্ঞা – সন্ + এ + অ |
| পিছে | পিছ্ + এ |
নীচের শব্দগুলিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন্ কোন্ নিয়ম কাজ করেছে তা দেখাও –
জুতো, বাসিন্দে, ক্ষেত, চোখ, কদ্দুর, ভিখিরি।
| প্রদত্ত শব্দ | ধ্বনি পরিবর্তন | ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়ম |
| জুতো | জুতা > জুতো | স্বরসংগতি |
| বাসিন্দে | বাসিন্দা > বাসিন্দে | স্বরসংগতি |
| ক্ষেত | ক্ষেত্র > ক্ষেত | ব্যঞ্জনলোপ |
| চোখ | চক্ষু > চোখ | স্বরসংগতি |
| কদ্দুর | কতদূর > কদ্দুর | ব্যঞ্জনলোপ (সমীভবন) |
| ভিখিরি | ভিখারি > ভিখিরি | স্বরসংগতি |
নীচের পদগুলির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো –
প্রেতচ্ছায়া, ছাল-বাকল, ক্ষুধাহরণ, সোল্লাসে, স্নেহার্দ্র, শঙ্খধ্বনি।
| সমাসবদ্ধ পদ | ব্যাসবাক্য | সমাসের শ্রেণি |
| প্রেতচ্ছায়া | প্রেতের ছায়া | সম্বন্ধ তৎপুরুষ |
| ছাল-বাকল | ছাল ও বাকল | দ্বন্দ্ব সমাস |
| ক্ষুধাহরণ | ক্ষুধাকে হরণ | কর্ম তৎপুরুষ |
| সোল্লাসে | উল্লাসের সহিত বর্তমান | সহার্থক বহুব্রীহি |
| স্নেহার্দ্র | স্নেহ দ্বারা আর্দ্র | করণ তৎপুরুষ |
| শঙ্খধ্বনি | শঙ্খের ধ্বনি | সম্বন্ধ তৎপুরুষ |
কোন্ শব্দে কী উপসর্গ আছে আলাদা করে দেখাও –
প্রতিশ্রুতি, বেওয়ারিশ, অনুসরণ, প্রচ্ছন্ন, অভ্যর্থনা, অধিকার।
| প্রদত্ত শব্দ | উপসর্গ |
| প্রতিশ্রুতি | প্রতি |
| বেওয়ারিশ | বে |
| অনুসরণ | অনু |
| প্রচ্ছন্ন | প্র |
| অভ্যর্থনা | অভি |
| অধিকার | অধি |
নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো –
ওই পথ দিয়ে জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে। (জটিল বাক্যে)
উত্তর – ওই সেই পথ যেখান দিয়ে জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে।
দেখছেন না ছন্নছাড়া কটা বেকার ছোকরা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর – দেখছেন না ছন্নছাড়া কটা বেকার ছোকরা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ও আড্ডা দিচ্ছে।
কারা ওরা? (প্রশ্ন পরিহার করো)
উত্তর – তাদের পরিচয় জানা দরকার।
ঘেঁষবেন না ওদের কাছে। (ইতিবাচক বাক্যে)
উত্তর – ওদের থেকে দূরে থাকুন।
একটা স্ফুলিঙ্গ-হীন ভিজে বারুদের স্তূপ। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর – একটা ভিজে বারুদের স্তূপে স্ফুলিঙ্গ নেই।
জিজ্ঞেস করলুম, তোমাদের ট্যাক্সি লাগবে? (পরোক্ষ উক্তিতে)
উত্তর – তাদের ট্যাক্সি লাগবে কি না জিজ্ঞেস করলুম।
আমরা খালি ট্যাক্সি খুঁজছি। (জটিল বাক্যে)
উত্তর – যেটা খালি ট্যাক্সি, আমরা তাই খুঁজছি।
দেখতে দেখতে গুচ্ছে গুচ্ছে উথলে উঠেছে ফুল। (ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করো)
উত্তর – পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের চতুর্থ পাঠের অন্তর্গত ‘ছন্নছাড়া’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment