মানবদেহের ওপর মৃত্তিকা দূষণের প্রভাব ও রোধের উপায়

Souvick

Home » মানবদেহের ওপর মৃত্তিকা দূষণের প্রভাব ও রোধের উপায়

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—”মানবদেহের ওপর মৃত্তিকা দূষণের প্রভাবগুলি কী কী? কী কী উপায়ে মৃত্তিকা দূষণ রোধ করা হয়?”—নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’-এর ‘পরিবেশদূষণ’ অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মানবদেহের ওপর মৃত্তিকা দূষণের প্রভাবগুলি কী কী? কী কী উপায়ে মৃত্তিকা দূষণ রোধ করা হয়?

মানবদেহের ওপর মৃত্তিকা দূষণের প্রভাবগুলি কী কী?

মানবদেহের ওপর মৃত্তিকা দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবগুলি নিচে আলোচনা করা হলো –

  • কৃমির সংক্রমণ – কাঁচা শাকসবজির মাধ্যমে বা ঠিকমতো হাত না ধুয়ে খাবার খেলে, মাটিতে উপস্থিত বিভিন্ন কৃমির ডিম মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এইভাবে মানুষের দেহে গোলকৃমি, গুঁড়োকৃমি ইত্যাদির সংক্রমণ ঘটে।
  • মারাত্মক রোগব্যাধি – মাটিতে উপস্থিত বিভিন্ন দূষক পদার্থ বা ভারী ধাতু, যেমন—সিসা, ক্যাডমিয়াম, পারদ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ –
    • সিসা – ডিসলেক্সিয়া (Dyslexia) রোগ সৃষ্টি করে।
    • ক্যাডমিয়াম – ইটাই-ইটাই (Itai-itai) রোগ সৃষ্টি করে।
    • পারদ – মিনামাটা (Minamata) রোগ সৃষ্টি করে।

কী কী উপায়ে মৃত্তিকা দূষণ রোধ করা হয়?

মৃত্তিকা দূষণ রোধ বা নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়গুলি হলো –

  • বনসৃজন – বেশি করে গাছ লাগানোর মাধ্যমে বা বনসৃজনের মাধ্যমে ভূমিক্ষয় রোধ করে মৃত্তিকা দূষণ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
  • কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস – কৃষিজমিতে রাসায়নিক ও ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে বা কমাতে হবে। এর বদলে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
  • প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ – প্লাস্টিকজাত বর্জ্য পদার্থ, যা মাটিতে দ্রবীভূত হয় না বা পচে না, সেগুলির ব্যবহার কঠোরভাবে কমাতে হবে এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন – ইউট্রোফিকেশন কাকে বলে? এর ক্ষতিকারক প্রভাব


মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের ‘পরিবেশদূষণ’ অংশ থেকে মৃত্তিকা দূষণের প্রভাব ও তার প্রতিকার সম্পর্কিত এই আলোচনাটি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। পরিবেশকে সুস্থ রাখতে এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে এই বিষয়গুলি সম্পর্কে সচেতন হওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান সম্পর্কিত আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

বায়ুদূষণ কাকে বলে? বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি লেখো।

বায়ুদূষণ কাকে বলে? বায়ুদূষণের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি লেখো।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী? অ্যাজমা রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশগত ভূমিকাগুলি উল্লেখ করো।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কী? অ্যাজমা রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশগত ভূমিকাগুলি উল্লেখ করো।

ব্রংকাইটিস কী? ব্রংকাইটিস রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা উল্লেখ করো।

ব্রংকাইটিস কী? ব্রংকাইটিস রোগের সৃষ্টিতে পরিবেশের ভূমিকা উল্লেখ করো।

About The Author

Souvick

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কার দৌড় কদ্দূর – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কার দৌড় কদ্দূর – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কার দৌড় কদ্দূর – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কার দৌড় কদ্দূর – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আজি দখিন-দুয়ার খোলা – বিষয়সংক্ষেপ