সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আজি দখিন-দুয়ার খোলা – বিষয়সংক্ষেপ

Rahul

Home » সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আজি দখিন-দুয়ার খোলা – বিষয়সংক্ষেপ

এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আজি দখিন-দুয়ার খোলা’ কবিতাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখানে কবি পরিচিতি, রচনার উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, বিষয়সংক্ষেপ, নামকরণ এবং এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

এই আলোচনাটি আপনাদের ‘আজি দখিন-দুয়ার খোলা’ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেবে এবং এর মূলভাব বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এছাড়া, সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি পরিচিতি ও কবিতার সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন এসে থাকে; তাই পরীক্ষার সেরা প্রস্তুতির জন্য এই তথ্যগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজি দখিন-দুয়ার খোলা কবিতার বিষয়সংক্ষেপ ও আলোচনা

কবি পরিচিতি

1861 খ্রিস্টাব্দের 7 মে (1268 বঙ্গাব্দের 25 বৈশাখ) মঙ্গলবার রাত দুটো 38 মিনিটে জোড়াসাঁকোর বাড়িতে পিতা-মাতার চতুর্দশ সন্তান ও অষ্টম পুত্র রবীন্দ্রনাথের জন্ম। পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।

রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’। এটিতে হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত সংগীত’ কবিতার প্রভাব আছে। 1875 খ্রিস্টাব্দে বা তার কাছাকাছি সময়ে তিনি যে-সমস্ত স্বদেশমূলক কবিতা লেখেন তা প্রধানত হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার ভাব-ভাষা-ছন্দকে অনুসরণ করেছে।

1883 খ্রিস্টাব্দের 9 ডিসেম্বর (1290 বঙ্গাব্দের 24 অগ্রহায়ণ) যশোহরের ফুলতলি গ্রামের বেণীমাধব রায়চৌধুরীর দশম বর্ষীয়া কন্যা ভবতারিণী (মৃণালিনী) দেবীর সঙ্গে কবির বিবাহ হয়। মাত্র 29 বছর বয়সে মৃণালিনী দেবী লোকান্তরিত হন।

শিক্ষাবিদ এই মানুষটি 1901 খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার উপর জড়ত্ব, প্রাণহীনতা, শাস্তিদান ইত্যাদিকে ভর্ৎসনা করেন। ইংরেজ-প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ‘শিক্ষা’ (1908) গ্রন্থে তিনি বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ লেখেন। 1913 খ্রিস্টাব্দে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান রবীন্দ্রনাথ। এ ব্যাপারে ইংরেজ কবি ইয়েটস্ তাঁকে নানাভাবে সাহায্য করেন।

1941 খ্রিস্টাব্দের 7 আগস্ট (1348 বঙ্গাব্দের 22 শ্রাবণ) বেলা 12টা 10 মিনিটে শ্রাবণের আকাশকে অশ্রুমুখর করে পরিণত বয়সে এই মহাজীবনের মহাপ্রয়াণ ঘটে।

উৎস

এই গানটি রবীন্দ্রনাথের ঋতুপর্যায়ের অন্তর্গত ‘বসন্ত’ ঋতুর গান।

পাঠপ্রসঙ্গ

গানটি বসন্তের আবাহনী গান (গানটির বারোটি চরণে 27 বার ‘এসো’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে)। গানটি রবীন্দ্রনাথের রূপক-সাংকেতিক নাটক ‘রাজা’-তে ঠাকুরদার কণ্ঠে ব্যবহৃত হয়েছে। গানটিতে বসন্ত ঋতুর আবাহন করা হয়েছে।

বিষয়সংক্ষেপ

রবীন্দ্রসংগীত আমাদের কাছে এক পরম বিস্ময়। অন্য গীতিকারদের গান শোনার পর রচয়িতা এবং সুরকারের পরিচয় জিজ্ঞাসা করতে হয় কিন্তু প্রায় আড়াই হাজার রবীন্দ্রসংগীতের কোনোটাই পরিচয়ের অপেক্ষা রাখে না। রবীন্দ্রনাথের যে-কোনো গান শুনলেই হৃদয় ভরে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের এক অপূর্ব রসসাগরের সন্ধান দিয়েছেন। সব নদী যেমন একই সাগরে এসে মিলিত হয়, তাঁর সব গানও যেন নানা গতিতে প্রবাহিত হয়ে একই রসসাগরে এসে মিলিত হয়েছে; যার ফলে তাঁর সব গানেরই সামগ্রিক পরিবেশ একইরকম হয়ে আমাদের এক অনির্বচনীয় আনন্দ দিয়ে থাকে।

ঋতুপ্রেমিক গীতিকবি রবীন্দ্রনাথ। তাঁর ঋতুপর্যায়ের গানে সব ঋতুই ধরা পড়েছে, তবে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে বর্ষা ও বসন্ত ঋতু। বসন্ত প্রধানত আনন্দঘন মূর্তিতে কবির কাছে ধরা দিয়েছে। বসন্ত হল ঋতুরাজ, রাজার মূর্তি, আনন্দের মূর্তি, বসন্তের সাথে সাথে তাই আসে অনেক আলো, অনেক গান, অনেক রং আর অনেক প্রাণ। বসন্ত যেন স্বর্গের নর্তকী উর্বশী, যার নৃত্যের ভঙ্গিতে সারা পৃথিবী আন্দোলিত। যৌবনের দূত বসন্ত অজস্র গান নিয়ে পলাশে, শিমুলে সজ্জিত হয়ে এসে ধরণিবক্ষে উদ্দাম নৃত্য করে চলেছে। কবিও পাগল হয়ে দেখছেন সেই লীলা।

দখিনা বাতাসের উপর ভর করে বসন্ত ঋতু শীতের পাতা-ঝরা গাছের শ্রী ফিরিয়ে আনে এবং তৃণশূন্য মাঠের মলিনতা দূর করে, শ্যামল-শোভন রথে, বকুলবিছানো পথে, গায়ে পিয়াল ফুলের রেণু মেখে তার বাঁশিতে মন কেমন করা সুর তুলে প্রকৃতির অঙ্গনে পা রাখে। বনে-বনে, পাতায়-পাতায় তার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। মুখে মত্ততার হাসি নিয়ে মন পাগল-করা হাওয়ায় ভর করে বসন্ত তার উত্তরীয় আকাশে উড়িয়ে, নীল দিগন্তে ফুলের আগুন লাগিয়ে দিয়ে, প্রকৃতির বুকে পা রাখে।


এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আজি দখিন-দুয়ার খোলা’ কবিতাটির বিষয়সংক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি, লেখাটি এই পাঠ্যাংশটি সম্পর্কে আপনাদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে এবং বিষয়টি সহজে বুঝতে সাহায্য করেছে। সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে কবি পরিচিতি ও কবিতার সারসংক্ষেপ বা মূলভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য এই তথ্যগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগ: আপনাদের যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

সপ্তম শ্রেণির বাংলা কুতুব মিনারের কথা গদ্যাংশের রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কুতুব মিনারের কথা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সৈয়দ মুজতবা আলীর কুতুব মিনারের কথা - সপ্তম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতি (Class 7 Bengali)

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কুতুব মিনারের কথা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

কুতুব মিনারের কথা - সৈয়দ মুজতবা আলী - সপ্তম শ্রেণি অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কুতুব মিনারের কথা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Rahul

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – আজি দখিন-দুয়ার খোলা – বিষয়সংক্ষেপ

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কুতুব মিনারের কথা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কুতুব মিনারের কথা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কুতুব মিনারের কথা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সপ্তম শ্রেণি বাংলা – কুতুব মিনারের কথা – বিষয়সংক্ষেপ