এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা ‘কুতুব মিনারের কথা’ গদ্যাংশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক, কারণ স্কুলের বাংলা পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

মিনারেট বা মিনারিকা কী? মিনারের সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়?
মিনার হল সুউচ্চতাবিশিষ্ট স্তম্ভ। মোচা বা শাঁখের মতো ঊর্ধ্বমুখী অবনত চূড়াকে বলে মিনারেট বা মিনারিকা।
মিনারের সঙ্গে মিনারেট বা মিনারিকার মূল পার্থক্য চূড়ার উচ্চতার ক্ষেত্রে, অর্থাৎ মিনারেট মিনারের চেয়ে অনেক ছোটো হয়।
কুতুবমিনার নামটি কার নামানুসারে রাখা হয়েছে এবং কেন?
নামটি দাস বংশের অন্যতম সম্রাট কুতুবউদ্দিন আইবকের নামানুসারে হয়, কেননা এটি ইলতুৎমিশ শেষ করলেও শুরুটা কিন্তু করেছিলেন আইবক। আবার কুতুবউদ্দিন আইবকের গুরু কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকিকে স্মরণ করে কুতুবউদ্দিন এই মিনারটি তৈরি করতে চেয়েছিলেন তাই এরকম নাম।
‘রসিকজনের কৌতূহলের অন্ত নেই।’ – কোন্ বিষয়ে, কেন রসিকজনের কৌতূহলের অন্ত নেই?
কুতুবমিনারের শীর্ষদেশ অর্থাৎ শেষ দুটি ‘তলা’, চতুর্থ ও পঞ্চম তল সম্পর্কে রসিকজনের কৌতূহলের অন্ত নেই।
সুউচ্চ বলেই হয়তো কুতুবের এই দুটি শেষ তলা বজ্রাঘাতে ভেঙে যায়। সহৃদয় রাজা ফিরোজ তুঘলক মার্বেল দিয়ে তা মেরামতও করে দেন। ফলে মিনারচূড়ায় মুকুটস্বরূপ এই শেষ তলা দুটির রূপ কেমন ছিল, সে সম্পর্কে রসিকজনের কৌতূহলের অন্ত নেই।
‘প্রথম দিনেই তাদের যে মিলন হয়েছিল আজও সেটি অটুট আছে।’ – ‘প্রথম দিন’-এর সময়কালটি কখন? সে সময় কোন্ ক্ষেত্রে কাদের মিলন হয়েছিল?
সে সময় কলাসৃষ্টির ক্ষেত্রে, অর্থাৎ স্থাপত্য-নৃত্য-সংগীত ইত্যাদির প্রাঙ্গণে হিন্দু-মুসলমান এই শিল্পচেতনার মিলন হয়েছিল।
‘কুতুব পাঁচতলার মিনার।’ – কুতুবমিনার সম্পর্কে লেখকের মন্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করো।
দিল্লির স্থাপত্যশিল্পের বর্ণনা প্রসঙ্গে সুলেখক সৈয়দ মুজতবা আলী ‘কুতুব মিনার’-কে ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার’ আখ্যা দিয়েছেন। এর পাঁচটি ‘তলা’ যার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রথম তলাটিতে স্থপতি ও শিল্পীরা কেবল ‘বাঁশি’, ও ‘কোণ’-এর পরপর সাজানো নকশা রেখেছিলেন। এর দ্বিতীয় তলাটিতে ছিল শুধু ‘বাঁশি’। তৃতীয় তলটিতে ঠাঁই পেয়েছিল কেবলই ‘কোণ’। কিন্তু মিনারটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলা দুটিতে কী ছিল, তার রূপ কেমন ছিল, তা আজ আর জানার কোনো উপায়ই নেই, কেননা বজ্রাঘাতে তা ভেঙে যায়। তার ওপর ফিরোজ তুঘলক সেখানে মার্বেল বসিয়ে মেরামত করে দেন বলে তা অন্যরূপ পায়। পঞ্চম তলটিতে আবার সিকন্দর লোদির হস্তক্ষেপ ছিল বলে, তার প্রকৃত রূপ কেমন ছিল তা জানা কোনো প্রকারেই সম্ভব নয়।
‘কানিংহাম, ফার্গুসন, কার স্টিফেন, স্যার সৈয়দ আহমেদ অনেক ভেবেচিন্তেও এর কোনো উত্তর দিতে পারেননি।’ – উপরোক্ত ব্যক্তিগণ কী উত্তর দিতে পারেননি?
স্থাপত্যের অন্যতম পীঠস্থান ইরান, তুরানে যা নেই এবং স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন তাজমহলকে পেছনে ফেলে কুতুবমিনারকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মিনার রূপে তুলে ধরার যে কলাকৌশল শিল্পী দেখিয়েছেন তা কোথা থেকে অর্জন করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই সমালোচকরা।
‘প্রপর্শনের এরকম চূড়ান্ত নিদর্শন পৃথিবীর আর কোনো মিনারে পাওয়া যায় না’ – ‘প্রপর্শন’ শব্দটির অর্থ কী? কুতুবমিনারের ক্ষেত্রে তা কীভাবে রক্ষিত হয়েছে?
প্রপর্শন শব্দটির অর্থ হল সংগতি বা সামঞ্জস্য।
কুতুবমিনার তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো বিষয় হল স্থপতির কল্পনাশক্তি। ইমারত তৈরি একরকম আর খাড়া স্তম্ভে সৌন্দর্য আনা অন্যরকম। এখানে শিল্পী সফল হয়েছেন শুধুমাত্র কুতুবকে কয়েক তলাতে ভাগ করে, সামঞ্জস্য রেখে প্রতি তলায় তাকে একটু ছোটো করে গুটিকয়েক ব্যালকনি লাগিয়ে দিয়ে এবং মিনারের গায়ে কখনও ‘বাঁশি’ কখনও ‘কোণের’ নকশা কেটে। ‘প্রপর্শন’ বা ‘সংগতি’র এরকম চূড়ান্ত নিদর্শন পৃথিবীর আর কোনো মিনারে পাওয়া যায় না।
‘একমাত্র তিনিই চেয়েছিলেন কুতুবের সঙ্গে পাল্লা দিতে।’ – তিনি কে? কুতুবের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া তাঁর সম্ভব হয়নি কেন?
তিনি হলেন সুলতানি যুগের খলজি বংশের অন্যতম সম্রাট আলাউদ্দিন খলজি।
আলাউদ্দিন চেয়েছিলেন কুতুবমিনারের চেয়ে উচ্চতম মিনার বানাতে। তাই তিনি কুতুবের চেয়ে দ্বিগুণ ঘের দিয়ে একটা মিনার বানাতে শুরু করেন। ইতিমধ্যে আলাউদ্দিনের মৃত্যুর ফলে মিনারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যদি না কাজ বন্ধ হত তবে তাঁর এই স্বপ্ন সফল হত কি না বলা মুশকিল। কারণ কোনো স্থাপত্যশিল্পের মূল সূত্র অপটিমাম সাইজটিই এক্ষেত্রে মানা হয়নি।
কুতুবমিনারের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলতে গিয়ে লেখক আর কোন্ কোন্ স্থাপত্যকীর্তির প্রসঙ্গ এনেছেন?
কুতুবমিনার যে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মিনার এ কথা যেমন লেখক বিভিন্ন ঐতিহাসিক সমালোচকদের দেওয়া তথ্য দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, তেমনি তিনি স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম পীঠস্থান ইরান-তুরানের প্রসঙ্গ এনেছেন ও ইংরেজদের স্বীকারোক্তির কথাও তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তাজমহল, হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্র, আলাউদ্দিনের ব্যর্থ প্রয়াস, আহমেদাবাদের রানি সিপ্রির মসজিদের প্রসঙ্গ এনেছেন। তা ছাড়া ইংরেজদের তৈরি দিল্লির সেক্রেটারিয়েট এবং কলকাতার রাজভবন ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের কথাও বলা হয়েছে।
আলাউদ্দিন খলজি চেষ্টা করেও কুতুবমিনারের চেয়ে মহত্তর স্থাপত্য গড়তে পারেননি কেন?
দিল্লির সুলতানি শাসনের অন্যতম দুঃসাহসী সম্রাট হলেন আলাউদ্দিন। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই সম্রাট নিজেকে খ্যাতির চূড়ায় স্থাপন করার জন্য এবং কুতুবমিনারকে টেক্কা দেওয়ার জন্য এর দ্বিগুণ ঘের দিয়ে তিনি আরেকটি মিনার গড়তে চেয়েছিলেন। যার উচ্চতা হবে কুতুবমিনারের দ্বিগুণ। যেকোনো বড়ো অট্টালিকার মাপের ক্ষেত্রে একটা সামঞ্জস্য থাকে এবং অট্টালিকাটি তৈরির সময় সেটি অক্ষরে অক্ষরে মানতে হয়, তা না হলে অট্টালিকার সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব দুই-ই বিপন্ন হয়। আলাউদ্দিনের স্বপ্নের মিনারের বাস্তবতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। তা ছাড়া এটি সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। তাই তাঁর চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অন্তর্গত, সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘কুতুব মিনারের কথা’ প্রবন্ধের কিছু অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন