এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘স্বাধীনতা’ কবিতার কবি পরিচিতি ও বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব। এই আলোচনাটি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের বিষয় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।

কবি পরিচিতি
ল্যাংস্টন হিউজ জন্মগ্রহণ করেছিলেন 1902 খ্রিস্টাব্দে। তিনি একাধারে ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং সমাজকর্মী। বিংশ শতকের কুড়ির দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘হার্লেম রেনেসাঁ’ (Harlem Renaissance)-এর অন্যতম নেতা হিসেবে তাঁর সমধিক পরিচিতি। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম—’The Weary Blues’। তাঁর রচিত অন্যান্য বই ‘Mule Bone’, ‘Jericho-Jim Crow’ প্রভৃতি। কাব্যস্রষ্টা হিসেবে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা লাভ করেন এবং বহু পুরস্কারে সম্মানিত হন। কবির মৃত্যু ঘটে 1967 খ্রিস্টাব্দে।
পাঠপ্রসঙ্গ
স্বাধীনতা হলো ‘স্ব’-এর অধীনতা, অর্থাৎ নিজের উপর নিজের অধিকার বা স্বাধিকার। স্বাধীনতায় মানুষ কেবল নিজের অধীন, স্ববশ, অনন্যপর। তাই স্বাধীনতা সকলেরই কাম্য। স্বাধীনতাহীনতায় কেউই বাঁচতে পারে না বা চায় না। স্বাধীনতা অনেক রকমে মানুষ অনুভব করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করে যে স্বাধীন সত্তাগুলি মানুষ চায় সেগুলি হলো—ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ইত্যাদি। তবে রাজনৈতিকভাবে যে স্বাধীনতাবোধ বর্তমান দুনিয়ায় মানুষের মনে প্রবল, তা হলো আর্থিক স্বাধীনতা। অর্থগত স্বাধীনতা যে ব্যক্তিজীবনে কতটা জরুরি, তা প্রথম বিশ্বের দেশগুলির মানুষ সবচেয়ে গুরুত্ব সহকারে অনুভব করে। কবি ল্যাংস্টন হিউজ তাঁর বিমূর্ত ভাষাও ভঙ্গিতে মানুষের স্বাধীনতাবোধের চাওয়া-পাওয়ার দ্বন্দ্বকে উপস্থাপিত করেছেন।
বিষয়সংক্ষেপ
স্বাধীনতার পথ খুব সহজ নয়। হয়তো সে কোনোদিনই আসবে না। ভয় পেয়ে, সমঝোতার মধ্য দিয়ে তাকে আয়ত্ত করাও সহজ নয়। প্রত্যেকেরই তো অন্য সকলের মতো অধিকার আছে দু-পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার, নিজস্ব কিছুটা জমির মালিকানার। ‘সময়ে সবই হবে, কাল আসবে একটা নতুন দিন’—এই কথাগুলো শুনে শুনে কান যেন পচে গেল। মৃত্যুর পর প্রাপ্ত স্বাধীনতা মূল্যহীন। আগামীকাল যে রুটি পাওয়া সম্ভব, তা দিয়ে আজ বাঁচার কোনো সম্ভাবনাই নেই। স্বাধীনতা হলো একটা শক্তিশালী বীজপ্রবাহ—বাঁচার জন্য, বড়ো প্রয়োজনকে সিদ্ধ করার জন্য। আমরা সবাই একটা বৃহত্তম স্থানে বাস করি, তাই প্রাপ্তিতে সকলেরই সমান প্রয়োজন। কবি ল্যাংস্টন হিউজ তাঁর ‘স্বাধীনতা’ কবিতায় এ কথাই বলেছেন।
নামকরণ
আমেরিকান কবি ল্যাংস্টন হিউজের লেখা একটি কবিতা ‘স্বাধীনতা’। বাংলায় এটিকে তরজমা করেছেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও মুকুল গুহ। কবিতাটিতে যে মূল সুরটি ধ্বনিত হয়েছে, তা মানবমনের গহন কোণে ধ্বনিত প্রথম ব্যক্তিগত ও পরবর্তীতে সমষ্টিগত মানুষের স্বাধীনতাপ্রাপ্তির প্রবল এষণা। স্বাধীনতাবোধ মানবমনে সৃজিত এক প্রবল আলোড়ন সৃষ্টিকারী বোধ। এই বোধের আলোকে রাজনৈতিকভাবে পৃথিবী বারবার আলোড়িত হয়েছে।
কবি তাঁর উক্ত কবিতায় অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে, নির্ভীকভাবে তাঁর মননের আলোড়ন এবং স্বাধীনতাপ্রাপ্তির প্রবল বাসনাকে বিমূর্তভাবে প্রকাশ করেছেন। প্রথমে স্বাধীনতা না পাওয়ার কারণে তীব্র হতাশা এবং পরে স্বাধীনতাপ্রাপ্তিকে সুনিশ্চিত করতে একটা একজেদি মনোভাবকে কবি তীক্ষ্ণভাবে কবিতার ছত্রে ছত্রে এনেছেন। স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি নিবিড়ভাবে লালিত ও পল্লবিত হতে দেখা যায় কবিতায়। স্বাধীনতাবোধের জয়গানই এই কবিতার মূল বিষয়। কবিতার শেষে কবির ঘোষণাটিও তাই এক্ষেত্রে স্মরণযোগ্য— ‘তাই / স্বাধীনতা আমার প্রয়োজন / তোমার যেমন।’ অতএব, কবিতার বক্তব্য বিষয়ের নিরিখে ‘স্বাধীনতা’ নামকরণটি এখানে বক্তব্যপ্রধান নামকরণ হিসেবে চূড়ান্তভাবে সার্থক বলা যেতে পারে।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘স্বাধীনতা’ কবিতার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





Leave a Comment