এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘মাসিপিসি’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

‘শুকতারাটি ছাদের ধারে, চাঁদ থামে তালগাছে’—এই পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে দিনের কোন সময়ের কথা বলা হয়েছে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি জয় গোস্বামীর ‘মাসিপিসি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে কবি মাঝরাত ও প্রভাতের মাঝামাঝি সময়কে বুঝিয়েছেন। অন্যভাবে বলা যায়, শেষ রাতের কথা বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা যায়, পূর্ব আকাশে শুকতারা দেখা যায় সূর্যোদয়ের আগে। অর্থাৎ ‘শুকতারাটি ছাদের ধারে’-এর দ্বারা বোঝা যায় সূর্যের উদয় তখনও হয়নি। আবার ‘চাঁদ থামে তালগাছে’—অর্থাৎ আকাশে তখনও চাঁদের অস্তিত্ব আছে। আকাশে চাঁদ দেখা যাচ্ছে মানে রাত শেষ হয়নি—তবে প্রহর গোনা চলছে প্রভাতের আগমনের।
‘দু-এক ফোঁটা শিশির তাকায় ঘাসের থেকে ঘাসে’—এই পঙ্ক্তিটিতে যে ছবিটি ফুটে উঠেছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি কবি জয় গোস্বামীর ‘মাসিপিসি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। গ্রামবাংলার প্রভাতী সৌন্দর্যের অনুপম চিত্রের প্রকাশ ঘটেছে উদ্ধৃতাংশের মাধ্যমে। প্রভাতে ঘাসের আগায় শিশিরকণা জমতে থাকে, আর সূর্যের প্রথম কিরণ তার উপর যখন পতিত হয় তখন তা অপূর্ব শোভা নিয়ে উপস্থিত হয় দর্শকের চোখে। ঘাসের মাথায় জমে ওঠা শিশিরবিন্দুরা যেন একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই দৃশ্য এতটাই মনোরম যে না দেখলে তা অনুভব করা যায় পণ্ডিতরা। প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতির মাধ্যমে কবি সেই দৃষ্টিনন্দন ছবিই উপস্থাপিত করতে চেয়েছেন।
‘সাল মাহিনার হিসেব তো নেই’—সাল মাহিনার হিসেব নেই কেন?
প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি জয় গোস্বামীর ‘মাসিপিসি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। সাল অর্থাৎ বছর আর ‘মাহিনা’ অর্থাৎ মাস-এর কথা আলোচ্য অংশে বোঝানো হয়েছে। আমাদের সমাজে অত্যন্ত দরিদ্র, খেটে-খাওয়া মানুষ হলেন ‘মাসিপিসি’রা। বলা ভালো যে, তাঁরা দিন-আনা দিন-খাওয়া শ্রেণির মানুষ। সারা বছরই তাঁদের একই জীবনাচরণ। প্রতিদিনই রাত থাকতে থাকতে শুরু হয় তাঁদের জীবনসংগ্রাম, তাই সাল-মাস হিসেব করে তাঁদের দিন কাটে না। বছর বা মাসের প্রতিটি দিনই তাঁদের কাছে সমানরূপে দেখা দেয়। এই কারণেই কবি বলেছেন যে, মাসিপিসিরা সাল মাহিনার হিসেব করেন না।
‘মাসিপিসি’ কবিতায় উল্লিখিত ‘ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি’-র কথা এর আগে শুনেছ কি? শুনে থাকলে তা উল্লেখ করো।
‘মাসিপিসি’ কবিতায় উল্লিখিত ‘ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি’-র কথা ছেলেবেলায় ঘুমপাড়ানি ছড়ায় শুনেছি। ঘুমপাড়ানি ছড়াটি হলো – “ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি মোদের বাড়ি এসো, খাট নেই, পালঙ্ক নেই খোকার চক্ষু পেতে বোসো। এই গালে দিনু চুমো দে রে ঐ গাল, ঘুমে ঘোর খোকা মোর চুমোর মাতাল॥”
ঘুমপাড়ানি ছড়ার ঘুমপাড়ানি মাসিপিসিদের সঙ্গে জয় গোস্বামীর কবিতায় মাসিপিসিদের কোনো পার্থক্য খুঁজে পাও কি? বিশ্লেষণ করো।
ঘুমপাড়ানি ছড়ার ঘুমপাড়ানি মাসিপিসিদের জগৎ স্বপ্নময়, রোমান্টিক। তারা খোকার চোখে ঘুমের আবেশ এনে দেয়। কিন্তু জয় গোস্বামীর কবিতায় উল্লিখিত মাসিপিসিদের জগৎ কঠোর বাস্তবতাপূর্ণ, দুঃখ-দারিদ্র্যময়। তাঁরা নিজের চোখের ঘুমকে দূরে সরিয়ে রেখে শহরে ছুটে আসেন কিছু পয়সা রোজগারের আশায়। স্বপ্নময়তা বা রোমান্টিকতা তাঁদের ভাগ্যে জোটে না।
‘মাসিপিসি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাঁদের এভাবে ডাকার কারণ কী?
‘মাসিপিসি’ কবিতায় কবি জয় গোস্বামী গ্রাম থেকে শহরে আসা চাল বিক্রেতা মহিলাদের ‘মাসিপিসি’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে ব্যাপক অর্থে শুধু চাল বিক্রেতাই নয়; দরিদ্র, নিম্নবিত্ত যে শ্রমজীবী মহিলারা গ্রাম থেকে শহর অভিমুখে যাত্রা করেন ভোর হতে না হতেই, তাঁদেরও মাসিপিসি বলে বোঝানো হয়েছে। শহরের বাজারে বাজারে প্রতিদিন এমন অনেক শ্রমজীবী মহিলা উপার্জনের আশা নিয়ে এসে থাকেন। এই শ্রমজীবীদের সঙ্গে শহরবাসীদের কোনো আত্মিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনোই গড়ে ওঠে না। এঁরা ব্যক্তিগত নামেও আমাদের সঙ্গে পরিচিত হন না, তাঁদের নাম আমাদের কাছে অজানাই থেকে যায়। তাঁদের কাউকে আমরা ‘মাসি’ আবার কাউকে ‘পিসি’ বলে সম্বোধন করে থাকি। এই কারণেই তাঁদের ‘মাসিপিসি’ বলে ডাকা হয়ে থাকে।
‘অনেকগুলো পেট বাড়িতে, একমুঠো রোজগার’—তাৎপর্য আলোচনা করো।
প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি জয় গোস্বামী রচিত ‘মাসিপিসি’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। ‘অনেকগুলো পেট’ অর্থে পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনেক আর ‘একমুঠো রোজগার’ অর্থে সামান্য উপার্জনকে বোঝানো হয়েছে। মাসিপিসিরা রাতের অন্ধকারেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেন ধরতে ছোটেন শহরে আসার জন্য। কারণ তাঁদের সংসার চালানোর জন্য উপার্জন করতেই হবে। বছরের প্রতিদিনই কঠোর জীবন-সংগ্রামে তাঁরা লিপ্ত থাকেন। বাড়িতে অর্থাৎ পরিবারে অনেক সদস্য, কিন্তু উপার্জন করার মতো সদস্য কেউ নেই—তাই বাধ্য হয়েই শ্রমজীবী মহিলারা সামান্য রোজগারের জন্যই গ্রাম থেকে শহরে আসেন; কারণ উদরের জ্বালা তো মেটাতেই হবে।
‘চাল তোলো গো মাসিপিসি লালগোলা বনগাঁয়’—উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য আলোচনা করো।
প্রশ্নোক্ত অংশটি কবি জয় গোস্বামীর ‘মাসিপিসি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি শ্রমজীবী মহিলাদের কঠোর জীবনসংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরেছেন। মাসিপিসিদের জীবনে আয়াসের কোনো স্থান নেই, রাতের অন্ধকারেই ঘুম ত্যাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁরা ট্রেন ধরেন—কেউ বা লালগোলা লোকাল, কেউ বা বনগাঁ লোকালে চেপে শহরের দিকে যাত্রা করেন, তাঁদের কোলে-কাঁখে তখন থাকে চালের বস্তা। বছরের প্রতিটি দিনই এমনভাবে ট্রেন ধরতে হয়, যাতে তাঁরা শহরের বাজারে পৌঁছোতে পারেন পণ্যদ্রব্য বিক্রয়ের জন্য। এভাবেই পেটের অন্নের সংস্থানের জন্য লালগোলা বা বনগাঁ লোকালে তাঁরা সওয়ার হন।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘মাসিপিসি’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment