এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান (Madhyamik Life Science) বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব। প্রশ্নটি হলো — “’প্রাকৃতিক নির্বাচন’ ও ‘বাঁচার জন্য সংগ্রাম’ – এই দুটি ডারউইনের প্রস্তাবনা; উপযুক্ত উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো। যোগ্যতমের উদ্বর্তন বলতে কী বোঝো?” এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “অভিব্যক্তি ও অভিযোজন” -এর “অভিব্যক্তি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Exam) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ডারউইনের প্রস্তাবনা – প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বাঁচার জন্য সংগ্রাম
প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection)
জীবনসংগ্রামে জয়ী জীবেরা অনুকূল প্রকরণ সমন্বিত হওয়ায় অধিকতর প্রাকৃতিক আনুকূল্য লাভ করে এবং অধিকতর প্রজননের অর্থাৎ বংশবিস্তারের সুযোগ পায়। এর ফলে আপন জীব সম্প্রদায়ের ওপর এদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞানী ডারউইন জীবের উত্তরণের এই প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
উপযুক্ত উদাহরণ – ডারউইনের মতে আধুনিক জিরাফের পূর্বপুরুষদের হ্রস্ব ও দীর্ঘ — উভয় দৈর্ঘ্যের গ্রীবা (ঘাড়) ছিল। সমতল ও অন্যান্য জায়গার ঘাস এবং বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদের সংখ্যা বিভিন্ন কারণে কমে আসায় তাদের খাবারের সংকট দেখা যায়। তখন দীর্ঘ গ্রীবার জিরাফের পূর্বপুরুষেরা উঁচু ডালের পাতাকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করতে শুরু করে। ফলে তারা জীবনসংগ্রামে যোগ্যতমরূপে নির্বাচিত হয়।
কিন্তু হ্রস্ব গ্রীবার পূর্বপুরুষরা খাদ্যের অভাবে ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়। দীর্ঘ গ্রীবার জিরাফরা অধিক প্রজননক্ষম হওয়ায় দীর্ঘ গ্রীবা ও অগ্রপদের বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়ে বর্তমানের লম্বা গ্রীবা ও অগ্রপদযুক্ত আধুনিক জিরাফের উৎপত্তি হয়েছে।
বাঁচার জন্য সংগ্রাম (Struggle for Existence)
ডারউইনের মতে, জ্যামিতিক হারে জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি হলেও পৃথিবীতে সাধারণত কোনো জীবসংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যায় না, কারণ সমস্ত অপত্য বেঁচে থাকে না। জীবের সংখ্যাবৃদ্ধির সঙ্গে খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত হওয়ার কারণে অপত্যদের মধ্যে বাঁচার জন্য সংগ্রাম শুরু হয়, একে অস্তিত্বের জন্য লড়াই (Struggle for Existence) বলে।
জীবনসংগ্রাম প্রধানত তিন প্রকারের হয় –
- 1. অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম (Intraspecific struggle) – একই প্রজাতির জীবের মধ্যে খাদ্যের বা বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম।
- উদাহরণ – একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে খাদ্যের জন্য একাধিক বিড়ালের মধ্যে সংগ্রাম।
- 2. আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম (Interspecific struggle) – ভিন্ন প্রজাতির জীবদের মধ্যেকার সংগ্রাম।
- উদাহরণ – একই ইঁদুরকে খাদ্যরূপে শিকার করার জন্য বিড়াল, শিয়াল, পেঁচা বা ঈগল প্রভৃতি বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে সংগ্রাম।
- 3. পরিবেশীয় সংগ্রাম (Environmental struggle) – খরা, বন্যা, শীত, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি পরিবেশীয় প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জীবকে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়।
যোগ্যতমের উদ্বর্তন (Survival of the Fittest)
অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীব জীবনসংগ্রামে জয়ী হয় এবং বেঁচে থাকার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। জীবনসংগ্রামে জয়ী প্রাণী ও উদ্ভিদের বংশধরগণও সুবিধাজনক প্রকরণ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে। এইভাবে সুবিধাজনক প্রকরণগুলির প্রজননিক সাফল্য লাভ করার ঘটনাকে যোগ্যতমের উদ্বর্তন বা Survival of the fittest বলা হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের অভিব্যক্তি ও অভিযোজন অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — ডারউইনের ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’, ‘বাঁচার জন্য সংগ্রাম’ এবং ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেলটি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment