এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন অঙ্গের সুগঠিত হওয়া সম্পর্কিত একটি উদাহরণ দাও এবং ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের অব্যবহারজনিত দুটি উদাহরণ দাও” — নিয়ে আলোচনা করব।
এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “অভিব্যক্তি ও অভিযোজন” -এর “অভিব্যক্তি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের ব্যবহারের উদাহরণ
ল্যামার্কের মতে, ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে কোনো অঙ্গ শক্তিশালী ও সুগঠিত হয়। এর একটি প্রধান উদাহরণ হলো –
- জিরাফের লম্বা গলা – ল্যামার্কের মতে, জিরাফের পূর্বপুরুষদের গলা ছোটো ছিল। কিন্তু উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার জন্য ক্রমাগত গলা বাড়ানোর প্রচেষ্টায়, অর্থাৎ গলার পেশির বেশি ব্যবহারের ফলে বংশানুক্রমে তাদের গলা লম্বা হয়ে গেছে।
ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের অব্যবহারজনিত উদাহরণ
ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে কোনো অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল বা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এর দুটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো –
সাপের পায়ের বিলুপ্তি – সাপের পূর্বপুরুষদের চারটে পা ছিল। কিন্তু গর্তে ঢোকা এবং বুকে ভর দিয়ে চলার সুবিধার্থে পায়ের অব্যবহার শুরু হয়, যার ফলে কালক্রমে সাপের পা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ২. মানুষের অ্যাপেনডিক্স (নিষ্ক্রিয় অঙ্গ) – মানুষের পূর্বপুরুষদের খাদ্যাভ্যাসের কারণে সিকাম (Caecum) বেশ সক্রিয় ছিল। কিন্তু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও রান্না করা খাবার খাওয়ার কারণে সিকামের অব্যবহার শুরু হয় এবং তা ক্রমশ ছোটো হয়ে মানুষের দেহে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বা অ্যাপেনডিক্সে পরিণত হয়েছে।
ল্যামার্কের মতবাদের ‘অর্জিত বৈশিষ্ট্যের’ বংশানুসরণ
(অথবা, অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ কী?)
বিজ্ঞানী ল্যামার্কের মতে, পরিবেশের প্রভাবে, সজ্ঞান প্রচেষ্টা ও ব্যবহার-অব্যবহারজনিত কারণে প্রত্যেক জীব তার জীবনকালে কিছু-না-কিছু গুণ বা বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। ওই অর্জিত বৈশিষ্ট্য কেবলমাত্র ওই জীবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বংশানুক্রমিকভাবে অপত্যদের মধ্যে পরিবাহিত হয়। এইভাবেই নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করে।
ল্যামার্কের মতানুযায়ী সজ্ঞান প্রচেষ্টা কী?
পরিবর্তিত পরিবেশে জীব কিছু নতুন অঙ্গের চাহিদা অনুভব করে এবং সজ্ঞান প্রচেষ্টার চাহিদা অনুযায়ী অঙ্গ লাভ করে। ল্যামার্কের মতবাদ অনুসারে পরিবর্তিত পরিবেশে চাহিদা অনুযায়ী অঙ্গলাভের জন্য জীবের যে ঐকান্তিক বাসনা থাকে, সেটিই সজ্ঞান প্রচেষ্টা।
ল্যামার্কের মতবাদের এই অংশটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি সত্য হলে সজ্ঞান প্রচেষ্টায় মানুষের পক্ষে চাহিদামতো অন্যান্য অঙ্গ অর্জনও সম্ভবপর হত।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন অঙ্গের সুগঠিত হওয়া সম্পর্কিত একটি উদাহরণ দাও। ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের অব্যবহারজনিত দুটি উদাহরণ দাও।” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment