জৈব অভিব্যক্তি বলতে কী বোঝো? অভিব্যক্তির গুরুত্ব (মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান)

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জৈব অভিব্যক্তি বলতে কী বোঝো? অভিব্যক্তির কয়েকটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “অভিব্যক্তি ও অভিযোজন”-এর “অভিব্যক্তি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জৈব অভিব্যক্তি বলতে কী বোঝো? অভিব্যক্তির কয়েকটি গুরুত্ব উল্লেখ করো।

জৈব অভিব্যক্তি বলতে কী বোঝো?

যে মন্থর অথচ গতিশীল প্রক্রিয়ায় পর্যায়ক্রমিকভাবে কোনো সত্তার বিকাশ ঘটে এবং ধীরে ধীরে ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে উদ্বংশীয় নিম্নশ্রেণির সরল জীব থেকে উন্নতশ্রেণির জটিল জীবের আবির্ভাব ঘটে, তাকে জৈব অভিব্যক্তি (Organic Evolution) বা জৈব বিবর্তন বলে। কখনো কখনো অভিব্যক্তি লাফিয়ে লাফিয়ে এবং দ্রুতও ঘটতে পারে।

অভিব্যক্তির কয়েকটি গুরুত্ব উল্লেখ করো

জীবজগতে অভিব্যক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর প্রধান কয়েকটি গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো –

  • জটিল জীবের সৃষ্টি – অভিব্যক্তির মাধ্যমেই উদ্বংশীয় নিম্নশ্রেণির সরল জীব থেকে ক্রমান্বয়ে উন্নতশ্রেণির জটিল জীবের সৃষ্টি হয়।
  • জীবজগতের বৈচিত্র্য রক্ষা – অভিব্যক্তির মাধ্যমে পৃথিবীতে নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটে এবং সমগ্র জীবজগতের বৈচিত্র্য (Biodiversity) বজায় থাকে।

‘Evolution’ বা অভিব্যক্তি শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?

ইংরেজ দার্শনিক এবং জীববিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেন্সার (Herbert Spencer) সর্বপ্রথম ‘Evolution’ বা অভিব্যক্তি শব্দটি ব্যবহার করেন।

অভিব্যক্তি ও অভিযোজনের মধ্যে সম্পর্ক কী?

অভিযোজন হলো অভিব্যক্তির একটি অন্যতম প্রধান কারণ বা পথ। পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য জীবের মধ্যে যে পরিবর্তন (অভিযোজন) ঘটে, তা বংশপরম্পরায় দীর্ঘকাল ধরে পুঞ্জীভূত হয়ে নতুন প্রজাতির জন্ম দেয় (অভিব্যক্তি)।

জৈব অভিব্যক্তির সাথে যুক্ত কয়েকজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী

জৈব অভিব্যক্তির ধারণাটি একদিনে বা হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে অনেক বিজ্ঞানীর অবদান রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম হলো চার্লস ডারউইন (Charles Darwin) এবং জঁ ব্যাপটিস্ট দ্য ল্যামার্ক (Jean-Baptiste de Lamarck)। ডারউইনের ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন বাদ’ (Theory of Natural Selection) এবং ল্যামার্কের ‘অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ’ (Inheritance of Acquired Characters) জৈব অভিব্যক্তির ধারণাকে বিজ্ঞানের দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।


উপরের আলোচনা থেকে আমরা জৈব অভিব্যক্তি ও তার গুরুত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেলাম। মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের এই অংশটি যেমন পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ কীভাবে ঘটেছে তা জানার জন্যও অপরিহার্য।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি আপনাদের মাধ্যমিকের প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। জীবনবিজ্ঞান সংক্রান্ত আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, নির্দ্বিধায় আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ দাও। জৈব বিবর্তনে 'জীবাশ্ম' -এর ভূমিকা লেখো।

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ | জৈব বিবর্তনে জীবাশ্মের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল আছে এমন একটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করো। এর থেকে তুমি কোন্ সিদ্ধান্তে উপনীত হলে?

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল ও সিদ্ধান্ত

আধুনিক জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার সমর্থনে ডারউইন কী ব্যাখ্যা দেন জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ সম্পর্কিত ল্যামার্কের তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।

জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ – ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্ব | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ | জৈব বিবর্তনে জীবাশ্মের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল ও সিদ্ধান্ত

জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ – ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্ব | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

নতুন প্রজাতির উৎপত্তিলাভে প্রকরণের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উদাহরণ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান