এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান (Madhyamik Life Science) বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “N₂ চক্রে বিভিন্ন অণুজীবের ভূমিকা আলোচনা করো।” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় “পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ”-এর “নাইট্রোজেন চক্র” (Nitrogen Cycle) অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা (Madhyamik Exam) এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

নাইট্রোজেন চক্রের বিভিন্ন ধাপে অণুজীবের ভূমিকা (Role of Microorganisms in N2 Cycle)
নাইট্রোজেন চক্রের প্রতিটি ধাপে বিভিন্ন অণুজীব বা মাইক্রোবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা আলোচনা করা হলো –
- স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা নাইট্রোজেনের স্থিতিকরণ বা আবদ্ধকরণ – কিছু কিছু স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়া, যেমন — Clostridium (ক্লসট্রিডিয়াম), Azotobacter (অ্যাজোটোব্যাকটর) বায়ুর মুক্ত নাইট্রোজেনকে নিজ দেহে আবদ্ধ করে নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ (অ্যামোনিয়া) গঠন করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলির মৃত্যুর পর দেহস্থিত এই নাইট্রোজেনঘটিত যৌগগুলি সরাসরি মাটিতে মিশে যায়।
- মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা নাইট্রোজেনের স্থিতিকরণ – শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদ, যেমন — মটর, ছোলা, শিম ইত্যাদির মূলে Rhizobium (রাইজোবিয়াম) নামক অর্বুদ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। এই ব্যাকটেরিয়া বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেনকে শোষণ করে অ্যামোনিয়ারূপে আবদ্ধ করে। এরপর কিছুটা অংশ আশ্রয়দাতা উদ্ভিদকে প্রদান করে এবং বাকি অংশটি নিজ দেহে আবদ্ধ রাখে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলির মৃত্যুর পর দেহস্থিত নাইট্রোজেনঘটিত যৌগগুলি মাটিতে মিশে যায়। অর্বুদে থাকা নাইট্রোজিনেজ উৎসেচক বায়ুমণ্ডলীয় N₂-কে অ্যামোনিয়ায় পরিণত করে।
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়া দ্বারা নাইট্রোজেন সংবন্ধন – জলজ পরিবেশে বসবাসকারী কিছু নীলাভ সবুজ শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়া, যেমন — Nostoc (নস্টক), Anabaena (অ্যানাবিনা), Spirulina (স্পাইরুলিনা) বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেনকে হেটেরোসিস্টের মধ্যে আবদ্ধ করে এবং রেচনের মাধ্যমে মাটিতে মিশ্রিত করে। অথবা, নিজের দেহে আবদ্ধ করা নাইট্রোজেন ওইসব সায়ানোব্যাকটেরিয়ার মৃত্যুর পর মাটিতে মেশে।
- নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা নাইট্রিফিকেশন (Nitrification) – কিছু নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া, যেমন — Nitrosomonas (নাইট্রোসোমোনাস), Nitrobacter (নাইট্রোব্যাকটর), নাইট্রিফিকেশন পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়াকে প্রথমে নাইট্রাইট এবং পরে নাইট্রেটে পরিণত করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification) – অ্যামোনিফাইং ব্যাকটেরিয়া, যেমন — Bacillus mycoides (ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস), Clostridium (ক্লসট্রিডিয়াম), Proteus (প্রোটিয়াস) ইত্যাদি অ্যামোনিফিকেশন পদ্ধতিতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর রেচনজাত পদার্থ ও অন্যান্য মৃত জৈববস্তুকে বিশ্লিষ্ট করে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে।
- ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা নাইট্রোজেন মোচন (Denitrification) – ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া, যেমন — Thiobacillus denitrificans (থায়োব্যাসিলাস ডিনাইট্রিফিক্যান্স), Micrococcus denitrificans (মাইক্রোকক্কাস ডিনাইট্রিফিক্যান্স), Pseudomonas denitrificans (সিউডোমোনাস ডিনাইট্রিফিক্যান্স) নাইট্রেটকে বিজারিত করে নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া বা নাইট্রোজেনের কিছু অক্সাইডে রূপান্তরিত করে পরিবেশে নাইট্রোজেনের মোচন ঘটায়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “N₂ চক্রে বিভিন্ন অণুজীবের ভূমিকা” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় “পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ”-এর অন্তর্গত। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য এই অংশটি ভালোভাবে পড়া উচিত।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment