‘বালকের আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্তি করিতে তাঁহারা মাসের পর মাস সমানভাবে অস্ত্রচালনা করিতে পারিতেন কি?’—বালকটি কে? সে নিজের আকাঙ্ক্ষা কীভাবে নিবৃত্ত করত?

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব।

প্রশ্নটি হলো— “‘বালকের আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্তি করিতে তাঁহারা মাসের পর মাস সমানভাবে অস্ত্রচালনা করিতে পারিতেন কি?’—বালকটি কে? সে নিজের আকাঙ্ক্ষা কীভাবে নিবৃত্ত করত?” স্কুল স্তরের বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন, এর সঠিক ও বিশদ উত্তর জেনে নেওয়া যাক।

'বালকের আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্তি করিতে তাঁহারা মাসের পর মাস সমানভাবে অস্ত্রচালনা করিতে পারিতেন কি?'—বালকটি কে? সে নিজের আকাঙ্ক্ষা কীভাবে নিবৃত্ত করত?

‘বালকের আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্তি করিতে তাঁহারা মাসের পর মাস সমানভাবে অস্ত্রচালনা করিতে পারিতেন কি?’—বালকটি কে? সে নিজের আকাঙ্ক্ষা কীভাবে নিবৃত্ত করত?

বালকটি হলো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের শিশু নায়ক ‘অপু’।

অপু মায়ের মুখে মহাভারতের কাহিনি শুনত, সেই কাহিনি শুনে শুনে তার শিশুচিত্ত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করত। তার মনে হত মহাভারতে যুদ্ধ জিনিসটা বড়ো কম লেখা আছে। সেই অভাবপূরণের জন্য সে একটা বাখারি বা হালকা ডালকে অস্ত্ররূপে হাতে নিয়ে বাড়ির পিছনের বাঁশবাগানের পথে বা বাইরের উঠোনে আপনমনে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলত। সে আপনমনে বলত—”তারপর দ্রোণ তো একেবারে দশ বাণ ছুঁড়লেন, অর্জুন করলেন কী, একেবারে দুশোটা বাণ দিলেন মেরে! তারপর—ওঃ, সে কী যুদ্ধ! কী যুদ্ধ! বাণের চোটে চারিদিকে অন্ধকার হয়ে গেল!” সে মনে মনে অর্জুনের যুদ্ধক্ষমতার তারিফ করত। অর্জুন ঢাল ও তরোয়াল নিয়ে রথ থেকে লাফিয়ে পড়ত। দুর্যোধন, ভীম যুদ্ধে যোগ দিতেন। বাণে বাণে আকাশ অন্ধকার হয়ে যেত, আর কিছু দেখা যেত না। অপু মনের চোখে সেই যুদ্ধ দেখতে পেত, আবার নিজেও যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় মেতে উঠত। তবে মহাভারতের যুদ্ধ মাত্র আঠারো দিন চলেছিল, আর অপুর মনের যুদ্ধের কল্পনা মাসের পর মাস ধরে চলত। এভাবেই বালক যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্ত করত।

আরও পড়ুন – একটি চকচকে দ্রব্য অপু দুর্গা ও তাদের মা-বাবার মনকে কীভাবে চঞ্চল করে তুলেছিল, তা নিজের ভাষায় লেখো।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস থেকে পরীক্ষার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হয়েছে।

যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে বা পড়াশোনা সংক্রান্ত আরও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে এই পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে তারাও এর থেকে উপকৃত হতে পারে। ধন্যবাদ!

Please Share This Article

Related Posts

মহাভারতে তোমার প্রিয় চরিত্র কোনটি? কেন তাকে তোমার ভালো লাগে লেখো।

মহাভারতে তোমার প্রিয় চরিত্র কোনটি? কেন তাকে ভালো লাগে | অষ্টম শ্রেণী পথের পাঁচালী

বাবার সঙ্গে অপুর কুঠির মাঠ দেখতে যাবার অভিজ্ঞতাটি লেখো। ‘কুঠিবাড়ি’ বলতে তুমি কী বোঝো?

বাবার সঙ্গে অপুর কুঠির মাঠ দেখতে যাবার অভিজ্ঞতাটি লেখো। ‘কুঠিবাড়ি’ বলতে তুমি কী বোঝো?

অপুর খরগোশ দেখার মতো তোমার হঠাৎ অবাক হবার মতো কোনো ঘটনা লেখো।

ছবি দেখে চেনা কোনো কিছু হঠাৎ চোখের সামনে চলে এলে কেমন লাগে? অপুর খরগোশ দেখার মতো তোমার হঠাৎ অবাক হবার মতো কোনো ঘটনা লেখো।

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

মহাভারতে তোমার প্রিয় চরিত্র কোনটি? কেন তাকে ভালো লাগে | অষ্টম শ্রেণী পথের পাঁচালী

বাবার সঙ্গে অপুর কুঠির মাঠ দেখতে যাবার অভিজ্ঞতাটি লেখো। ‘কুঠিবাড়ি’ বলতে তুমি কী বোঝো?

ছবি দেখে চেনা কোনো কিছু হঠাৎ চোখের সামনে চলে এলে কেমন লাগে? অপুর খরগোশ দেখার মতো তোমার হঠাৎ অবাক হবার মতো কোনো ঘটনা লেখো।

মহাভারতের সমস্ত চরিত্রের মধ্যে অপুর কর্ণের চরিত্র বড়ো ভালো লাগে কেন?

কুঠির মাঠ দেখে বালকের কেমন অনুভূতি হয়েছিল লেখো।