এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—”ইউট্রোফিকেশন কাকে বলে? ইউট্রোফিকেশনের দুটি ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো।”—নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’-এর ‘পরিবেশদূষণ’ অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইউট্রোফিকেশন কাকে বলে?
নর্দমাবাহিত গৃহস্থালির ডিটারজেন্টঘটিত বর্জ্য পদার্থ এবং কৃষিক্ষেত্র থেকে বাহিত রাসায়নিক সারের মধ্যে উপস্থিত ফসফেট ও নাইট্রেটযুক্ত যৌগ জলাশয়ের জলে মিশলে জলাশয়ের জলে পুষ্টিবস্তুর মাত্রা অত্যধিক হারে বৃদ্ধি পায়। এগুলি জলাশয়ে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (BOD) পরিমাণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে জলাশয়ে উপস্থিত বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে এবং জলাশয়টি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই ঘটনাকেই বিজ্ঞানের ভাষায় ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) বলে।
ইউট্রোফিকেশনের দুটি ক্ষতিকারক প্রভাব
ইউট্রোফিকেশনের ফলে পরিবেশের ওপর যে মারাত্মক প্রভাবগুলি পড়ে, তা নিচে দেওয়া হলো –
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য হ্রাস – জলাশয়ের জলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অন্যান্য জীবসহ মাছেদের মৃত্যু ঘটে, যার ফলে ওই বাস্তুতন্ত্রের প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity) পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
- জলাশয় অব্যবহারযোগ্য হওয়া – জলের গুণমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ওই জলাশয়টি মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীদের ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে। পানীয় জল বা গৃহস্থালির কাজে এই জল আর ব্যবহার করা যায় না।
- অ্যালগাল ব্লুম (Algal Bloom) – পুষ্টিবস্তুর আধিক্যের কারণে জলাশয়ের উপরিভাগে শৈবাল, কচুরিপানা বা অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে পুরো জলের উপরিভাগ ঢেকে ফেলে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘অ্যালগাল ব্লুম’ বলে। এর ফলে সূর্যালোক জলের গভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, যা জলের নিচের শালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া ও বাস্তুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
- BOD (Biochemical Oxygen Demand) বৃদ্ধি – জলে পুষ্টির পরিমাণ বাড়লে মৃত শৈবাল ও অন্যান্য জৈব পদার্থ পচানোর জন্য ব্যাকটেরিয়া প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন ব্যবহার করে। এর ফলে জলের BOD-এর মাত্রা অত্যাধিক বেড়ে যায় এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।
- বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন নির্গমন – কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির শৈবাল (যেমন- সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ-সবুজ শৈবাল) মারা যাওয়ার পর জলে ক্ষতিকারক বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) নির্গত করে। এই বিষাক্ত জল পান করলে অন্যান্য প্রাণী, গবাদি পশু এমনকি মানুষেরও মারাত্মক রোগ বা মৃত্যু হতে পারে।
- রোগজীবাণু ও মশার উপদ্রব বৃদ্ধি – ইউট্রোফিকেশন-এর ফলে দূষিত, শৈবালপূর্ণ ও বদ্ধ জলাশয় মশা এবং বিভিন্ন জলবাহিত রোগের জীবাণুর (যেমন- কলেরা, আমাশয়) আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়। এটি আশেপাশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন – জলের BOD ও COD বলতে কী বোঝো? BOD এবং COD-এর পার্থক্য
উপরের আলোচনা থেকে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের সিলেবাস অনুযায়ী পরিবেশদূষণ সম্পর্কিত একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অর্থাৎ ইউট্রোফিকেশনের সংজ্ঞা ও তার ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জানলাম। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এটি ভালোভাবে পড়ে রাখা প্রয়োজন।
আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। জীবনবিজ্ঞান সম্পর্কিত আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে (Telegram) যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment