এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “পর্যায়ণ কি? পর্যায়ণের বিভিন্ন মাধ্যম গুলি লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “পর্যায়ণ কি? পর্যায়ণের বিভিন্ন মাধ্যম গুলি লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

পর্যায়ণ কি?
যে বহির্জাত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষয়, পরিবহণ ও সঞ্চয়কাজে সামঞ্জস্য আসে, তাকে পর্যায়িতকরণ বা পর্যায়ণ বলে।
পর্যায়ণের বিভিন্ন মাধ্যমগুলির আলোচনা করো।
পর্যায়ণের বিভিন্ন মাধ্যমসমূহ –
পর্যায়ণের বিভিন্ন এজেন্ট বা মাধ্যমগুলি হল –
নদী – পর্যায়ণের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হল নদী। স্থলভূমির বেশির ভাগ অংশে নদীর ক্ষয় (অবরোহণ) ও সঞ্চয় (আরোহণ) কার্য লক্ষ করা যায়। নদী প্রধানত ঘর্ষণ, অবঘর্ষ, দ্রবণ ও লম্ফদান প্রভৃতি প্রক্রিয়ায় ক্ষয়সাধনের মাধ্যমে অবরোহণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এরপর ক্ষয়িত পদার্থগুলি জলপ্রবাহের মাধ্যমে পরিবাহিত হয় এবং শেষে নদী উপত্যকায় বা মোহানায় সঞ্চিত করে আরোহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যায়ণের অন্যতম মুখ্য এজেন্ট বা মাধ্যমের ভূমিকা পালন করে। অবরোহণ প্রক্রিয়া চলাকালীন নদী ‘V’, ‘I’ আকৃতির উপত্যকা, জলপ্রপাতের মতো ভূমিরূপ সৃষ্টি করে। আরোহণ প্রক্রিয়া চলাকালীন বদ্বীপ, চর, স্বাভাবিক বাঁধের মতো ভূমিরূপ গড়ে তোলে।
হিমবাহ – হিমবাহ অত্যন্ত ধীরগতি সম্পন্ন হলেও গতিপথে উৎপাটন ও অবঘর্ষের মাধ্যমে উপত্যকার যথেষ্ট ক্ষয়সাধন করে অবরোহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এরপর ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থসমূহ হিমবাহের শেষ প্রান্তে বিভিন্নভাবে সঞ্চয় করে আরোহণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। অবরোহণ প্রক্রিয়া চলাকালীন হিমবাহ করি, সার্ক, এরিটি, ‘U’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি করে। আরোহণ প্রক্রিয়া চলাকালীন হিমবাহ ড্রামলিন, এসকার প্রভৃতি ভূমিরূপ গঠন করে।
বায়ুপ্রবাহ – অবঘর্ষ, অপসারণ এবং ঘর্ষণ এই তিনটি প্রক্রিয়ায় বায়ুপ্রবাহ মরুপৃষ্ঠের ক্ষয়সাধনের মাধ্যমে অবরোহণে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। এরপর ক্ষয়জাত পদার্থসমূহ নিম্নভূমিতে সঞ্চয় করে আরোহণ প্রক্রিয়াতেও অংশ নেয়।
সমুদ্রতরঙ্গ – সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন বড়ো বড়ো শৈলশিরা ক্রমাগত সমুদ্রতরঙ্গের আঘাতে ক্ষয় হতে থাকে এবং ক্ষয়জাত পদার্থসমূহ উপকূলের কাছে নীচু জায়গাগুলিতে সঞ্চিত হয়। এইভাবে সমুদ্রতরঙ্গ স্থলভূমির পর্যায়ণে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে।
ভৌমজল – চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে ভৌমজল ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্যের মাধ্যমে ভূমিভাগের পর্যায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
পুঞ্জিত স্খলন – বর্ষার জল অথবা বরফ গলা জলে ঢালু ভূমির আলগা হয়ে থাকা শিলা যখন মাধ্যাকর্ষণের টানে ওপর থেকে পিছলে নীচে নামে, তাকে পুঞ্জিত স্খলন বলে। যেমন – ভূমিধস। এর ফলে যেমন পাহাড়ের উচ্চতা হ্রাস পায়, তেমন স্খলিত পদার্থের মাধ্যমে নিম্নভূমি ভরাট হয় এবং উভয় ক্রিয়াই ভূমির পর্যায়ণে সাহায্য করে।
অন্যান্য এজেন্ট – এ ছাড়াও, সুনামি, বন্যা প্রভৃতিও কোথাও ক্ষয়, আবার কোথাও সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূমির পর্যায়ণে অংশ নেয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “পর্যায়ণ কি? পর্যায়ণের বিভিন্ন মাধ্যম গুলি লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “পর্যায়ণ কি? পর্যায়ণের বিভিন্ন মাধ্যম গুলি লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment