এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আধুনিক ইতিহাসচর্চায় সাধারণ মানুষের উপর বেশি জোর দেওয়া হয় কেন?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “আধুনিক ইতিহাসচর্চায় সাধারণ মানুষের উপর বেশি জোর দেওয়া হয় কেন?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

আধুনিক ইতিহাসচর্চায় সাধারণ মানুষের উপর বেশি জোর দেওয়া হয় কেন?
আধুনিক ইতিহাসচর্চা সমগ্রতার সন্ধানী। সমাজে অস্তিত্ব আছে কিন্তু সাবেক ইতিহাসে স্থান পায়নি – এমন সবকিছুই আধুনিক ইতিহাসের বিষয়বস্তু। স্বভাবতই সমাজের সাধারণ মানুষ; তাদের কাজকর্ম, চিন্তা-ভাবনা, ধর্ম, পোশাক-পরিচ্ছদ, খেলাধুলা, খাদ্যাভ্যাস প্রভৃতি সবকিছুই ইতিহাসচর্চার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
আধুনিক ইতিহাস চর্চার বিভিন্ন দিক
নতুন সামাজিক ইতিহাস – বর্তমানে আমরা ইতিহাস বলতে বুঝি, একটা দেশ বা জাতির সামগ্রিক জীবনচর্যা। সাধারণ মানুষের কাজকর্ম, জীবনযাত্রা,খেলাধুলা, পোশাক-পরিচ্ছদ পোশাক-পরিচ্ছদ, শিল্প-সংস্কৃতি, গান-বাজনা,স্থাপত্য-ভাস্কর্য, চিকিৎসা বিদ্যা প্রভৃতি – এইসব মানুষজনের জীবনধারা ও জীবনচর্যা – সবই ইতিহাসের বিষয়বস্তু।
খেলার ইতিহাস – খেলাধূলা ইতিহাসের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, কুস্তি নানা খেলা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই ক্রীড়া ইতিহাস বা ক্রীড়া সাহিত্য আজ ইতিহাস ও সাহিত্য চর্চার একটি বিশিষ্ট দিক।
- প্রাচীন বাংলার খেলাধূলা – শিকার বা মুগয়া, জলক্রিয়া ও উদ্যান চর্চা, পাশা খেলা, দাবা খেলা, হা-ডু-ডু, ডাং গুলি, কুস্তি, গরু মোষের লড়াই, দড়ি খেলা, নৌকা বাইচ,কানামাছি, লাঠি খেলা,তরোয়াল খেলা প্রভৃতি।
- মল্ল যুদ্ধ – বিশ শতকে মল্ল যুদ্ধে দুইজন বাঙালি উল্লেখযোগ্য মল্ল যোদ্ধা হলেন – যতীন্দ্র প্রসাদ গুহ – যিনি গোবর নামে পরিচিত ছিলেন। আর একজন ফনিন্দ্র কৃষ্ণ গুহ।
- ফুটবল – ফুটবল একটি পশ্চিমী খেলা। ইউরোপীয়রা ভারতে এর আগমন করেছেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাবিকদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ফুটবলের আবির্ভাব হয়েছে। 1854 সালের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কলকাতার এসপ্লানেড ময়দানে প্রথম ফুটবলের আসর বসে। প্রথম বাঙালি ফুটবলার ছিলেন নগেন্দ্র প্রসাদ সর্বাধিকারী। এই বাঙালিদের হাত ধরেই সমগ্র এশিয়ায় ফুটবলের প্রচলন হয়। ফুটবল সম্পর্কে কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচনা গুরুত্বপূর্ণ।
- ক্রিকেট – সপ্তদশ শতকে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি গ্রামে এই ক্রিকেট খেলার সূচনা হয়। পরে এই ইংরেজদের হাত ধরেই ভারতে ক্রিকেট খেলার সূচনা হয়। 1792 সালে ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাব প্রতিষ্ঠা হয়। প্রথম বাঙালি আন্ডার আর্ম ও অভার হেড বোলার ছিলেন নগেন্দ্র প্রসাদ সর্বাধিকারী। সারদা রঞ্জন রায় প্রথম দেশীয় ক্রিকেট ক্লাব, টাউন ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করেন। ক্রিকেট সম্পর্কে বোরিয়া মজুমদার এর রচনা গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাস – মানুষের জীবনের সঙ্গে খাদ্যের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। তাই যুগ থেকে যুগান্তর দেশে দেশে দেখা যায় খাদ্য সংগ্রহের লড়াই। জলবায়ু ও পরিবেশ ভেদে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাস দেখা যায়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, প্রাচীন প্রস্তর যুগে মানুষ কাঁচা লতা, পাতা,ফলমূল খেত। মধ্য প্রস্তর যুগে মানুষ হাতিয়ার আবিষ্কারের পর পশু শিকার করে কাঁচা মাংস খেতে শিখল। এরপর নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ আগুন আবিষ্কারের পর পোড়া মাংস খেতে শুরু করল। এইভাবে যুগ যুগ ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এসেছে।
শিল্প চর্চার ইতিহাস – সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, চলচ্চিত্র এসব শিল্প চর্চার অন্তর্ভুক্ত। এসবের একটি ইতিহাস আছে। পণ্ডিতরা এসব বিষয়ে নানা আলোকপাত করেছেন।
- সঙ্গীত ও নৃত্য – মানুষ যেদিন ঝড়, জল,বজ্রপাত প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা বলে মনে করত। সেই দেবতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য শুরু হল সঙ্গীত ও নৃত্য। দেশে দেশে, কালে কালে এর বিবর্তন হয়েছে।
- নাটক – ঋত্বিক ও জজমানেরা নিজেদের একঘেয়েমি দূর করার জন্য, দিনের শেষে আগুনের চারিপাশে গল্পের আসর বসিয়ে আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা করত। এখন থেকেই নানা সংলাপ বা গল্প গুলি নাটক আকারে পরিবেশিত হত। যেমন – পানিনির অষ্টাধ্যায়ী ও ভরতের নাট্যশাস্ত্র গ্রন্থে এই নাটক সম্পর্কে আলোকপাত করা আছে। আধুনিক যুগে সত্যজীবন মুখোপাধ্যায় ও আশুতোষ ভট্টাচার্য এর মতো বেশ কয়েকজন নাট্যকারের গ্রন্থে এই নাটক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
- চলচ্চিত্র – গণমাধ্যম হিসেবে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী যন্ত্র ছিল এই চলচ্চিত্র। 1895 সালের 28 শে ডিসেম্বর প্যারিসের হোটেল ডি ক্যাফে অগাস্ট লুমিয়ের ও লুই লুমিয়ের নামে দুই ভাই এই চলচ্চিত্রের জন্ম দেয়। এর 17 বছর পর ভারতে চলচ্চিত্র আসে। এর নাম ছিল বায়োস্কোপ, বাংলায় ছবি। 1913 সালের 21 শে এপ্রিল ভারতের অলিম্পিয়া থিয়েটারে দাদা সাহেব ফালকে পরিচালিত প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র রাজা হরিশ চন্দ্র প্রদর্শিত হয়। এই চলচ্চিত্র সম্পর্কে ঋত্বিক কুমার ঘটক ও সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
পোশাক-পরিচ্ছদ এর ইতিহাস – সৃষ্টির আদিলগ্নে মানুষ কোনো পোশাক ব্যবহার করত না। প্রাচীন প্রস্তর যুগে মানুষ পশুর চামড়া ও গাছের ছাল পরিধান করত। নতুন পাথরের যুগে বয়ন বিদ্যা আবিষ্কার হল। মানুষ কার্পাস ও পশমের বস্ত্র ব্যবহার শুরু করে। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে পোশাক পরিচ্ছদ উন্নত হতে থাকে। জলবায়ু অনুসারে বিভিন্ন দেশের পোশাক ছিল বিভিন্ন রকমের। যেমন – রাজা,মন্ত্রী,কর্মচারী, সেনাপতি,সৈনিক, দাস, গৃহভৃত্য, গায়ক,সাধারণ মানুষ-সবার পোশাক ছিল ভিন্ন ভিন্ন। এই পোশাক পরিচ্ছদ এর ইতিহাস সম্পর্কে মলয় রায়ের গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ।
যানবাহনের ইতিহাস – নতুন পাথরের যুগে চাষবাস, বসতি নির্মাণ, পশুপালন প্রভৃতি শুরু হয়। এইসময় গৃহপালিত পশু গরু, গাধা,উঠ প্রভৃতি পশুর চাষ হত। এদের পিঠে বিভিন্ন মালপত্র চাপিয়ে অন্যত্রে নিয়ে যাওয়া হত। এরপর চাকা আবিষ্কার হলে, স্থলপথে যাতায়াত সহজ হয়। জলপথে চামড়ার নৌকা ও কাঠের গুঁড়িতে ভাসিয়ে যাতায়াত হত। ধীরে ধীরে গাড়ি ও যানবাহনের বিবর্তন এল। আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে পথঘাট ও যানবাহনের উন্নতি হল। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যানবাহনের উন্নতি, দেশে দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে এক বিপ্লব দেখা যায়।
দৃশ্য শিল্পের ইতিহাস – প্রাচীনকালে মিশর, ব্যাবিলন, গ্রিস প্রভৃতি স্থানের মন্দির, রাজসভা,কবরস্থান এর দেওয়ালে বিভিন্ন রকম ছবি আঁকা হত। এই ছবির মাধ্যমে প্রাচীন মানুষেরা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করত। বর্তমানে 1839 সালে ইউরোপে ফটোগ্রাফির সূচনা হলে, ধীরে ধীরে চিত্র শিল্পের বিকল্প দেখা যায়। 1847 সালে ক্যালটাইপ সোসাইটি ও 1853 সালে রয়েল ফটোগ্রাফি সোসাইটি নামে দুটি ফটোগ্রাফিক ক্লাব লন্ডনে গড়ে উঠলে, এদের হাত ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্য শিল্পের ইতিহাসের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। ভারতে এই ফটোগ্রাফির সূচনা করেন উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী।
স্থাপত্য-ভাস্কর্যের ইতিহাস – স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের ইতিহাস সুপ্রাচীন, বড় বড় ঘরবাড়ি ও স্থাপত্য হল সভ্যতার একটি বড় নিদর্শন। স্থাপত্য রীতিনীতি, গঠনশৈলী সভ্যতার অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যেমন – রোমের কলোসিয়াম, এম্ফিথিয়েটার প্রভৃতি। এ সম্পর্কে অমিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখদের রচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
সামরিক ইতিহাস – সামরিক ইতিহাস হলো ইতিহাস চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সামরিক ইতিহাস বিভিন্ন রকমের। সেনা সংগঠন, সেনা বিন্যাস, অস্ত্রশস্ত্র প্রভৃতি। প্রাচীন থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত কালে কালে এই সামরিক ইতিহাস বিবর্তন হয়েছে। এ সম্পর্কে স্যার যদুনাথ সরকারের রচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশের ইতিহাস – ইতিহাস চর্চায় পরিবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছপালা, লতা-গুল্ম, জল, আলো, বাতাস,নদ-নদী,অরণ্য, পাহাড়, পর্বত, মরুভূমি-জলবায়ু – এসব পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত। জলবায়ু ভেদে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশের ইতিহাস দেখা যায়। যেমন – ঠান্ডার দেশ, গরমের দেশ, অরণ্যের দেশ, পাহাড় পর্বতের দেশ। এ সম্পর্কে শুভেন্দু গুপ্তের রচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যার ইতিহাস – বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যার ও পৃথক ইতিহাস আছে। এই বিষয়গুলির সূত্রপাত প্রাচীন যুগে। মানুষ বৃদ্ধি প্রয়োগ করে আগুন, বসতি, পশুপালন, বস্ত্র প্রভৃতি তৈরি বা আবিস্কার করে। এই মানুষই আবার যানবাহন, যুদ্ধাস্ত্র, গৃহস্থালির দ্রব্যাদি তৈরি করে ও চিকিৎসা বিদ্যা শুরু করে। সুতরাং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যা ইতিহাস চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এসম্পর্কে প্রফুল্ল চন্দ্র রায় এর রচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
নারী ইতিহাস – বর্তমান যুগে ইতিহাস চর্চায় নারী ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রাচীনযুগে নারীদের কোনো স্বতন্ত্র স্বাধীনতা ছিলনা। আজ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক যুগে শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, প্রশাসন, ধর্মসাধনা, খেলাধুলা এবং মানব জীবনের বিভিন্ন দিকে নারী সমাজ আজ সুপ্রতিষ্টিত। যেমন – রানী দুর্গাবতী, লক্ষী বাঈ, মাতঙ্গিনী হাজরা, ইন্দিরা গান্ধী, পি টি ঊষা, ম্যারি কম প্রমুখরা নারী সমাজের গৌরব। এ সম্পর্কে নীরা দেশাই এর রচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
খেলাধুলার ইতিহাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
খেলাধুলা মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যমই নয়, বরং সামাজিক সংহতি, স্বাস্থ্য, এবং জাতীয় পরিচয় গঠনে ভূমিকা রাখে। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, কুস্তি ইত্যাদি খেলার ইতিহাস মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
প্রাচীন বাংলার খেলাধুলা কী কী ছিল?
প্রাচীন বাংলার কিছু জনপ্রিয় খেলাধুলা হলো – শিকার বা মুগয়া, জলক্রিয়া ও উদ্যান চর্চা, পাশা খেলা, দাবা খেলা, হা-ডু-ডু, ডাং গুলি, কুস্তি, গরু-মোষের লড়াই, দড়ি খেলা, নৌকা বাইচ, কানামাছি, লাঠি খেলা, তরোয়াল খেলা।
ফুটবলের ইতিহাস কী?
ফুটবল একটি পশ্চিমী খেলা যা ইউরোপীয়রা ভারতে নিয়ে আসে। 1854 সালে কলকাতার এসপ্লানেড ময়দানে প্রথম ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বাঙালি ফুটবলার ছিলেন নগেন্দ্র প্রসাদ সর্বাধিকারী। তাঁর হাত ধরেই সমগ্র এশিয়ায় ফুটবলের প্রচলন শুরু হয়।
ক্রিকেটের ইতিহাস কী?
ক্রিকেটের সূচনা হয় সপ্তদশ শতকে দক্ষিণ ইংল্যান্ডে। ইংরেজদের হাত ধরে ভারতে ক্রিকেটের প্রচলন শুরু হয়। 1792 সালে ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম বাঙালি ক্রিকেটার ছিলেন নগেন্দ্র প্রসাদ সর্বাধিকারী। সারদা রঞ্জন রায় প্রথম দেশীয় ক্রিকেট ক্লাব, টাউন ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন।
খাদ্যাভ্যাসের ইতিহাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
খাদ্যাভ্যাস মানুষের জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধুমাত্র পুষ্টির জন্যই নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন যুগে ও অঞ্চলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
শিল্প চর্চার ইতিহাস কী?
শিল্প চর্চার ইতিহাসে সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, চলচ্চিত্র ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এই শিল্পগুলো মানুষের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিফলন। প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত শিল্পের বিবর্তন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পোশাক-পরিচ্ছদের ইতিহাস কী?
পোশাক-পরিচ্ছদের ইতিহাস মানুষের সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। প্রাচীনকালে মানুষ পশুর চামড়া ও গাছের ছাল পরিধান করত। বয়ন বিদ্যার আবিষ্কার ও সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে পোশাকের উন্নতি ঘটে। বিভিন্ন জলবায়ু ও সংস্কৃতিতে পোশাকের ধরনও ভিন্ন হয়।
নারী ইতিহাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নারী ইতিহাস ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রাচীনকালে নারীদের সমাজে ভূমিকা সীমিত ছিল, কিন্তু আধুনিক যুগে নারী শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, প্রশাসন, খেলাধুলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারী ইতিহাস নারীদের অবদান ও সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আধুনিক ইতিহাসচর্চায় সাধারণ মানুষের উপর বেশি জোর দেওয়া হয় কেন? আধুনিক ইতিহাস চর্চার বিভিন্ন দিক বা বৈচিত্র।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “আধুনিক ইতিহাসচর্চায় সাধারণ মানুষের উপর বেশি জোর দেওয়া হয় কেন? আধুনিক ইতিহাস চর্চার বিভিন্ন দিক বা বৈচিত্র।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।