এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
ভূমিকা –
জগতের সব কিছু চির পরিবর্তনশীলতার চক্রে আবর্তিত। ফলে ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে রাষ্ট্র ও তার রাজনীতি। রাষ্ট্র একটি গতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যা মানুষের জীবনের সর্ববিধ বিষয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। রাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল প্রকৃতির কারণে রাষ্ট্রচিন্তাবিদদের চিন্তাধারাতেও পরিবর্তন ঘটতে বাধ্য। চিন্তার ধারাবাহিকতায় এটি প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগের সেতু পেরিয়ে পদার্পণ করেছে আধুনিক যুগে।
আধুনিক যুগ –
যে প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি পূর্বের পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন তাই আধুনিক। ষোড়শ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত অর্থাৎ ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশোর রাজনৈতিক দর্শনের যুগকে আধুনিক যুগ বলা হয়।
আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্য –
আধুনিক যুগের উদ্ভব ও বিকাশ বিশ্লেষণপূর্বক আমরা নিম্নেক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে পাই।
- যুক্তিবাদ বা যুক্তির প্রাধান্য – মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রচিন্তা বিধাতার প্রাধান্য ও প্রাকৃতিক আইনের যৌক্তিকতায় পরিপূর্ণ ছিল। লোকায়তবাদের প্রভাবের ফলে আধুনিক যুগে যুক্তিবাদের ধরন পাল্টে যায় এবং বিধাতা বা প্রাকৃতিক আইনের পরিবর্তে সুস্পষ্ট মানবিক আইন প্রতিষ্ঠা পায়। লৌকিক যুক্তিবাদ এভাবে অলৌকিক যুক্তিবাদের স্থান দখল করে।
- রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব – মধ্যযুগের শেষার্ধে এবং আধুনিক যুগের শুরুতে যখন শাসকগণ গীর্জার সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে, তখন থেকেই একেই আধুনিক সার্বভৌমত্বের ধারা গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের এ ধারা জ্যাঁ বোদিন, হবস, লক, রুশা প্রমুখের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকরূপ লাভ করেছে। তখন থেকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বিধাতার হাতে এ ধারণার পরিবর্তন ঘটে এবং সার্বভৌমত্বের নিরংকুশ ক্ষমতা রাষ্ট্রের ওপর অর্পিত হয়।
- জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় রাষ্ট্র – জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় রাষ্ট্র আধুনিক যুগের রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পোপের সাম্রাজ্যবাদ পরিত্যাগ করে একটি ভৌগোলিক সীমার মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের উপস্থিতি, জনসাধারণ কর্তৃক কর্তৃত্বকৈ চূড়ান্ত বলে গণ্য করার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ধর্মনিরপেক্ষতা – মেকিয়াভেলী সর্বপ্রথম রাষ্ট্র, ব্যক্তি, সমাজ প্রভৃতির ওপর থেকে ধর্মের প্রাধান্য বিচ্ছিন্ন করে জাতীয় রাষ্ট্রের ধারণা প্রদান করেন। রাষ্ট্র সৃষ্টিতে জনগণই তাদের ঐকান্তিকতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে, এ ধারণা আধুনিক যুগের প্রতিটি রাষ্ট্রচিন্তাবিদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। ফলে রাষ্ট্রচিন্তাকে সবাই ধর্মীয় চিন্তাধারা থেকে পৃথক করেছে।
- পুঁজিবাদ – আধুনিক যুগের উন্মেষের গোড়া থেকেই উদারতাবাদ ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদী চিন্তার ফলশ্রুতিতে সামন্তবাদী সমাজ ভেঙ্গে যেতে থাকে এবং পুঁজিবাদী সমাজ গঠিত হতে থাকে। এর প্রভাব সম্পদের উৎপাদন ও বন্টনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় যা পুঁজিবাদ নামে পরিচিত।
- নৈরাজ্যবাদ – নৈরাজ্যবাদ আধুনিক যুগের রাষ্ট্রচিন্তার বহুলাংশ জুড়ে অবস্থান করছে। এর মূল বক্তব্য হলো মানষের প্রকতি সততা, সরলতা ও সহনশীলতার ওপর প্রতিষ্ঠিত বিধায় সর্বাধিক মানবকল্যাণের জন্য রাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্র মানুষের জন্য অভিশাপ এবং তা পশু বলের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে শ্রেণীস্বার্থ রক্ষা করে।
- ফ্যাসিবাদ ও নাৎসীবাদ – আধুনিক যুগের রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসীবাদ সর্বশক্তিমান ও অপ্রতিহত ক্ষমতার প্রতিভূ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে 1920 সালে সষ্টি হয় মুসলিনীর সর্বাত্মকবাদি ফ্যাসিজম এবং একচ্ছত্র ক্ষমতার দর্শন হিটলারের নাৎসীবাদ।
- গণতন্ত্র – বহু পূর্ব থেকে গণতন্ত্রের উপস্থিতি লক্ষণীয় হলেও একমাত্র আধুনিক যুগে এসে এটি পরিপর্ণতা লাভ করে। ব্যক্তির বাক স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, নারী পুরুষের ভোটাধিকার প্রভৃতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো আধুনিক যুগে যথার্থ মূর্তিমান হয়ে ওঠে।
পরিশেষ –
পরিশেষে বলা যায় যে, মধ্যযুগের অনুর্বর চিন্তাধারা ও বৈদিক বিকাশকে দূরে ঠেলে দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে আবির্ভাব ঘটে আধুনিক যুগের। এ পরিবর্তন একক কোন ঘটনা বা একক কোন ব্যক্তির অবদান নয় বরং এই প্রভাব দশ শতাব্দির মানুষের যুক্তিবাদিতার ফলশ্রুতি। ফলে বলা যায় আধুনিক যুগ বিবর্তনের ফলশ্রুতি, বিপ্লবের নয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।





Leave a Comment