এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে আলেকজান্ডার ডাফের অবদান

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে আলেকজান্ডার ডাফের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে আলেকজান্ডার ডাফের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে আলেকজান্ডার ডাফের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।
Contents Show

বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে আলেকজান্ডার ডাফের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

1835 খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক -এর ঘোষণায় ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারকে সরকারি নীতি হিসেবে সিলমোহর দেওয়া হলেও বস্তুতপক্ষে মিশনারি উদ্যোগে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন ভারতভূমিতে শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। সেই উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন স্কটিশ মিশনারি আলেকজান্ডার ডাফ।

ডাফের শিক্ষাচিন্তা –

আলেকজান্ডার ডাফ ছিলেন স্কটিশ মিশন কর্তৃক ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতে প্রেরিত প্রথম খ্রিস্টান মিশনারি। দুঃসাহসিক সমুদ্র যাত্রার পর 1830 খ্রিস্টাব্দের 27 মে তিনি কলকাতায় পদার্পণ করেন। বাংলাদেশে স্কটিশ মিশন প্রতিষ্ঠায় তিনি সদর্থক ভূমিকা নেন। উচ্চশ্রেণিকে ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশ্যে তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, আধুনিক পাশ্চাত্যশিক্ষা প্রবর্তনের মাধ্যমেই ভারতীয়রা হিন্দু ধর্মের অসারতা এবং অকার্যকারিতাকে উপলব্ধি করতে পারবে, পাশাপাশি খ্রিস্টধর্মের সত্যকেও তারা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে শিখবে।

পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে অবদান –

বাংলায় ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি বেশ কয়েকটি ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল 1830 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ‘জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন’, যেটি পরবর্তীকালে ‘স্কটিশ চার্চ’ কলেজ নামে পরিচিত হয়। 1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় বরাদ্দকে কেন্দ্র করে অচিরেই য়ে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের সূচনা হয়, তার সমাধানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে জোরালো দাবী জানান এবং ফিলট্রেশান থিয়োরিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন। 1857 খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই শিক্ষাজ্ঞানের কেন্দ্রে তাঁর নামাঙ্কিত ভবন (ডাফ হল) নির্মিত হয়েছিল।

মন্তব্য –

বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের অন্যতম পুরোধারূপে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা ইতিহাসে স্বীকৃত।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

আলেকজান্ডার ডাফ কে ছিলেন?

আলেকজান্ডার ডাফ ছিলেন একজন স্কটিশ মিশনারি, যিনি 1830 সালে ভারতে আসেন। তিনি বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষা ও খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ডাফের শিক্ষাচিন্তা কী ছিল?

তিনি মনে করতেন, পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে ভারতীয়রা হিন্দুধর্মের “অসারতা” বুঝতে পারবে এবং খ্রিস্টধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব গ্রহণ করবে। তিনি উচ্চবর্ণের মানুষদের লক্ষ্য করে ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের উপর জোর দিয়েছিলেন।

আলেকজান্ডার ডাফের প্রতিষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনটি?

তাঁর প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হলো জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন (পরবর্তীতে স্কটিশ চার্চ কলেজ নামে পরিচিত), যা 1830 সালে কলকাতায় স্থাপিত হয়।

ডাফের ফিলট্রেশান থিয়োরি কী?

ফিলট্রেশান থিয়োরি অনুযায়ী, পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রথমে উচ্চবর্ণের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এবং পরে তা সমাজের নিম্নস্তরে প্রবেশ করবে। ডাফ এই তত্ত্ব সমর্থন করেছিলেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ডাফের ভূমিকা কী ছিল?

তিনি 1857 সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর সম্মানে বিশ্ববিদ্যালয়ে “ডাফ হল” নামে একটি ভবন নির্মিত হয়।

লর্ড বেন্টিঙ্কের 1835 সালের ঘোষণার আগেই কেন ডাফ ইংরেজি শিক্ষা চালু করেছিলেন?

মিশনারিরা ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে ইংরেজি শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন। ডাফ মনে করতেন, পাশ্চাত্য শিক্ষা ভারতীয়দের ধর্মান্তরের পথ সুগম করবে।

প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিতর্কে ডাফের অবস্থান কী ছিল?

তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন এবং প্রাচ্য শিক্ষার পরিবর্তে ইংরেজি ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রচলন চেয়েছিলেন।

ডাফের কাজের ঐতিহাসিক মূল্যায়ন কী?

বাংলায় আধুনিক শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান অপরিসীম। যদিও তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মপ্রচার, তবুও তাঁর প্রচেষ্টা বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে আলেকজান্ডার ডাফের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে আলেকজান্ডার ডাফের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন