এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বালিয়াড়ি কাকে বলে? অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি ও তির্যক বালিয়াড়ি -র মধ্যে পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “বালিয়াড়ি কাকে বলে? অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি ও তির্যক বালিয়াড়ি -র মধ্যে পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – বায়ুর বিভিন্ন কাজ ও তাদের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বালিয়াড়ি কাকে বলে?
বালিয়াড়ি –
বায়ুর গতিপথে শিলাস্তূপ, গাছপালা, ঝোপঝাড় প্রভৃতির বাঁধায় বায়ুবাহিত বালি সঞ্চিত হয়ে যে স্থায়ী বা সচল, উঁচু দীর্ঘ বালির ঢিবি গড়ে ওঠে তাকে বালিয়াড়ি বলে।
শ্রেণিবিভাগ –
সাধারণত দুটি ভাগে বলিয়াড়িকে ভাগ করা হয় –
অবস্থান অনুসারে –
- মস্তক বালিয়াড়ি।
- পুচ্ছ বালিয়াড়ি।
- পার্শ্ব বালিয়াড়ি।
- অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি।
- পরবর্তী বালিয়াড়ি।
আকৃতি অনুসারে –
বিশিষ্ট্য বিজ্ঞানী ব্যাগুনল্ড বালিয়াড়িকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন।
- তির্যক বালিয়াড়ি – বার্খান, আকলে বালিয়াড়ি, রোডস্ বালিয়াড়ি।
- অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি।
অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি ও তির্যক বালিয়াড়ি -র মধ্যে পার্থক্য লেখো।
অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি ও তির্যক বালিয়াড়ির মধ্যে পার্থক্য –
বিষয় | অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি | তির্যক বালিয়াড়ি |
সৃষ্টির শর্ত | বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে এই বালিয়াড়ি সৃষ্টি হয়। | বায়ুর প্রবাহ পথে আড়াআড়িভাবে এই বালিয়াড়ি সৃষ্টি হয়। |
উচ্চতা | এর উচ্চতা কয়েকশো মিটার পর্যন্ত হয়। | এর উচ্চতা 10-30 মিটার পর্যন্ত হয়। |
দৈর্ঘ্য-প্রস্থ | এই বালিয়াড়ির দৈর্ঘ্য বেশি এবং প্রস্থ কম। | এই বালিয়াড়ির দৈর্ঘ্য কম ও প্রস্থ বেশি। |
আকৃতি | অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি সোজা তরবারি বা সংকীর্ণ শৈলশিলার মতো দেখতে। | তির্যক বালিয়াড়ি অর্ধচন্দ্রাকৃতির হয়। যার সম্মুখভাগ উত্তল এবং পিছনের অংশ অবতল হয়। |
উদাহরণ | ত্রাস বালিয়াড়ি, সিফ বালিয়াড়ি। | বার্খান বালিয়াড়ি, অ্যাকলে বালিয়াড়ি। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
বালিয়াড়ি কাকে বলে?
বায়ুর গতিপথে শিলাস্তূপ, গাছপালা বা ঝোপঝাড়ের বাধায় বালি সঞ্চিত হয়ে স্থায়ী বা সচল উঁচু ঢিবি তৈরি করলে তাকে বালিয়াড়ি বলে।
বালিয়াড়ি কত প্রকার ও কী কী?
বালিয়াড়িকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয় –
অবস্থান অনুসারে – মস্তক বালিয়াড়ি, পুচ্ছ বালিয়াড়ি, পার্শ্ব বালিয়াড়ি, অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি, পরবর্তী বালিয়াড়ি।
আকৃতি অনুসারে (ব্যাগুনল্ডের শ্রেণিবিভাগ) – তির্যক বালিয়াড়ি (যেমন – বার্খান, আকলে বালিয়াড়ি, রোডস্ বালিয়াড়ি)। অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি (যেমন – সিফ বালিয়াড়ি, ত্রাস বালিয়াড়ি)।
বার্খান বালিয়াড়ি কী?
এটি এক ধরনের তির্যক বালিয়াড়ি, যা অর্ধচন্দ্রাকার এবং মরু অঞ্চলে সাধারণ। এর সম্মুখভাগ উত্তল ও পিছনের দিক অবতল।
বালিয়াড়ি কোথায় বেশি দেখা যায়?
বালিয়াড়ি প্রধানত মরুভূমি, নদীতীর, উপকূলীয় অঞ্চল ও বালুকাময় সমতল ভূমিতে দেখা যায়।
বালিয়াড়ি স্থায়ী ও অস্থায়ী হতে পারে কি?
হ্যাঁ, কিছু বালিয়াড়ি স্থায়ী (গাছপালা বা প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে), আবার কিছু অস্থায়ী (বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনে সরে যায়)।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বালিয়াড়ি কাকে বলে? অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি ও তির্যক বালিয়াড়ি -র মধ্যে পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বালিয়াড়ি কাকে বলে? অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি ও তির্যক বালিয়াড়ি -র মধ্যে পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – বায়ুর বিভিন্ন কাজ ও তাদের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।