এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বামাবোধিনী পত্রিকা কীভাবে নারীসমাজের মুখপত্রে পরিণত হয়েছিল?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বামাবোধিনী পত্রিকা কীভাবে নারীসমাজের মুখপত্রে পরিণত হয়েছিল?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বামাবোধিনী পত্রিকা কীভাবে নারীসমাজের মুখপত্রে পরিণত হয়েছিল?
ভারতীয় নারীমুক্তি আন্দোলন ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে ‘বামাবোধিনী’ এক স্মরণীয় নাম।
প্রকাশ –
1863 খ্রিস্টাব্দে বাহির সিমলার 16 নং রঘুনাথ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত বামাবোধিনী সভার কার্যালয় থেকে কলকাতায় প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র ‘বামাবোধিনী’।
সম্পাদনা –
পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন উমেশচন্দ্র দত্ত। পরবর্তীতে পত্রিকার সম্পাদনা দায়িত্বভার সামলান যথাক্রমে সুকুমার দত্ত, তারাকুমার কবিরত্ন, সূর্যকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ গুণীজন।
উদ্দেশ্য –
বামাবোধিনী -র মূল উদ্দেশ্য ছিল – ‘অন্তঃপুর মধ্যে বিদ্যালোক প্রবেশ করিয়ে’ বামা সমাজের বন্ধন মুক্তি তথা নারী শক্তির জাগরণ।
কর্মকাণ্ড –
বামাবোধিনী তার প্রথম সংখ্যাতেই স্ত্রী শিক্ষার দাবি জোরালো ভাবে উত্থাপন করে। সেই সঙ্গে বাল্য বিবাহ এবং বার্ধক্য বিবাহেরও বিরোধিতা করা হয়। সমকালীন ধর্ম, নীতি শিক্ষা, বিজ্ঞান, ঘরোয়া ওষুধপত্র, শিশুর যত্ন, সন্তান প্রতিপালন, নারী শিক্ষার গুরুত্ব প্রভৃতি বিষয়েও দিনের পর দিন সমৃদ্ধ হত ‘বামাবোধিনী’র পাতাগুলি। নারীর প্রতি বঞ্চনা, অপরাধ ও শোষণের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছিল ‘বামাবোধিনী’। ‘বামাবোধিনী’র প্রচ্ছদে লেখা থাকত এক আপ্ত বাণী – ‘কন্যাকে পালন করিবেক ও যত্নের সহিত শিক্ষা দিবেক।’
গুরুত্ব –
বামাবোধিনীর প্রধান গুরুত্ব ছিল – এই পত্রিকা দীর্ঘদিন ধরে নারী জাতির চিন্তা-ভাবনাকে প্রভাবিত করে নারী-জনমত গঠনের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই সঙ্গে মেয়েদের লেখা গল্প, কবিতা, তাদের কৃতিত্ব, সাফল্য এমনকি রাজনৈতিক আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণের খবর নিয়মিত প্রকাশ করে নারী সমাজের মুখপত্রে পরিণত হয় ‘বামাবোধিনী’।
পরিণতি –
সংকট ও সমাদরের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ ছয় দশকের উজ্জ্বল অস্তিত্ব বিকিরণের পর 1923 খ্রিঃ নাগাদ -এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
মন্তব্য –
নারী জাগরণের ইতিহাসে ‘বামাবোধিনী’ পত্রিকার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অবলা বামা সমাজকে জ্ঞানলোকে প্রবেশের পথ দেখিয়ে ‘বামাবোধিনী’ যথার্থই ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বামাবোধিনী পত্রিকা কীভাবে নারীসমাজের মুখপত্রে পরিণত হয়েছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বামাবোধিনী পত্রিকা কীভাবে নারীসমাজের মুখপত্রে পরিণত হয়েছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন