এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক - মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসে উনিশ শতকের বাঙালি সমাজে যে যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী আলোড়ন দেখা যায়, তাকেই সাধারণভাবে ‘বঙ্গীয় নবজাগরণ’ রূপে আখ্যায়িত করা হলেও এর ব্যাপ্তি ছিল খুবই সীমিত এবং তা ছিল একান্তভাবেই কলকাতা শহরকেন্দ্রিক। শহর কলকাতার কিছু মুষ্টিমেয় ইংরেজি শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যেই এই তথাকথিত নবজাগরণ সীমাবদ্ধ ছিল এবং গ্রাম বাংলায় এই নবজাগরণের বিন্দুমাত্র প্রভাব অনুভূত হয়নি।

ইতালির নবজাগরণের গতিবেগ, উদ্যম ও বহুমুখী সৃজনশীলতা বঙ্গীয় নবজাগরণে বহুক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। বস্তুতপক্ষে, শহর কলকাতার বাইরে গ্রাম বাংলার সাধারণ মেহনতী মানুষের সঙ্গে এই নবজাগরণের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল না। তাছাড়া, বাংলার এই জাগরণ অতিমাত্রায় ব্রিটিশ নির্ভর এবং হিন্দু পুনর্জাগরণবাদে পর্যবসিত হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নবজাগরণের নেতৃবৃন্দ মনে করতেন, ব্রিটিশ শাসনের দ্বারাই ভারতীয় সমাজের মঙ্গল সাধিত হবে। আবার, রাধাকান্ত দেব, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার প্রমুখের কার্যকলাপে হিন্দু পুনর্জাগরণের ছায়া দেখতে পাওয়া যায়। স্বাভাবিকভাবেই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে এই নবজাগরণের কোনো আত্মিক যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি।

স্বভাবতই এই চারিত্রিক সংকীর্ণতার কারণে বঙ্গীয় নবজাগরণ নানাভাবে সমালোচিত হয়েছে। অধ্যাপক সুমিত সরকার বাংলার নবজাগরণকে ‘ইংরেজদের নকলনবিশি’ বলে সমালোচনা করেছেন। বিনয় ঘোষ একে ‘অতিকথা’ বা ‘ঐতিহাসিক প্রতারণা’ আখ্যা দিয়েছেন। আই. সি. এস অশোক মিত্র উনিশ শতকের জাগরণকে ‘তথাকথিত জাগরণ’ (So-called Renais-sance) বলে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

বাংলার নবজাগরণ বলতে কী বোঝায়?

উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলার শিক্ষিত সমাজে যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ ও আধুনিক চিন্তার যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তাকেই বাংলার নবজাগরণ বলা হয়। তবে এটি মূলত কলকাতাকেন্দ্রিক এবং ইংরেজি-শিক্ষিত একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

বাংলার নবজাগরণ কেন কলকাতাকেন্দ্রিক ছিল?

কলকাতা ছিল ব্রিটিশ শাসনের রাজধানী এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র।
ইংরেজি শিক্ষা ও ইউরোপীয় ধ্যানধারণা কলকাতার শিক্ষিত সমাজেই বেশি প্রসারিত হয়েছিল।
গ্রামীণ বাংলায় এই নবজাগরণের প্রভাব ছিল নগণ্য, কারণ সেখানে ঐতিহ্যবাহী সমাজব্যবস্থা ও কুসংস্কার প্রভাবশালী ছিল।

বাংলার নবজাগরণের সীমাবদ্ধতাগুলো কী ছিল?

1. এটি শুধুমাত্র শহুরে, উচ্চবর্ণীয় হিন্দু সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
2. গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, নিম্নবর্ণ ও মুসলমানদের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ ছিল না।
3. এটি ব্রিটিশ শাসনের প্রতি আনুগত্যশীল ছিল এবং হিন্দু পুনর্জাগরণবাদে পর্যবসিত হয়েছিল।
4. ইউরোপীয় রেনেসাঁর মতো বহুমুখী সৃজনশীলতা ও গণমুখী চেতনা এতে অনুপস্থিত ছিল।

বাংলার নবজাগরণকে কেন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল?

1. অধ্যাপক সুমিত সরকার একে “ইংরেজদের নকলনবিশি” বলেছেন, কারণ এটি পাশ্চাত্য আদর্শের অন্ধ অনুকরণ ছিল।
2. বিনয় ঘোষ এটিকে “অতিকথা” বা “ঐতিহাসিক প্রতারণা” বলেছেন, কারণ এর প্রকৃত প্রভাব সীমিত ছিল।
3. আই. সি. এস. অশোক মিত্র এটিকে “তথাকথিত জাগরণ” (So-called Renaissance) বলে সমালোচনা করেছেন।

বাংলার নবজাগরণের কিছু প্রধান ব্যক্তিত্ব কারা ছিলেন?

1. রাজা রামমোহন রায় (ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা, সতীদাহ প্রথা বিলোপ)।
2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ আন্দোলন)।
3. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কেশবচন্দ্র সেন (ব্রাহ্মসমাজের বিকাশ)।
4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (জাতীয়তাবাদী সাহিত্য)।
5. স্বামী বিবেকানন্দ (হিন্দু পুনর্জাগরণ)।

বাংলার নবজাগরণে হিন্দু পুনর্জাগরণের প্রভাব কী ছিল?

রাধাকান্ত দেব, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার প্রমুখ নেতারা হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন। ফলে নবজাগরণের একটি অংশ হিন্দু সংস্কার আন্দোলনে রূপ নেয়, যা সমাজের বৃহত্তর অংশকে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়।

বাংলার নবজাগরণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

1. এটি আধুনিক ভারতীয় চিন্তাধারার সূচনা করেছিল।
2. সমাজ সংস্কার, নারী শিক্ষা ও জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছিল।
3. তবে এর সীমাবদ্ধতা ইতিহাসবিদদের কাছে সমালোচনার বিষয় হয়েছে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বাংলার নবজাগরণ ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন