এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের গুরুত্ব লেখ

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বায়ুমণ্ডলের যে-কোনো তিনটি উপাদানের গুরুত্ব লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “বায়ুমণ্ডলের যে-কোনো তিনটি উপাদানের গুরুত্ব লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – বায়ুমণ্ডলের ধারণা ও উপাদান” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বায়ুমণ্ডলের যে-কোনো তিনটি উপাদানের গুরুত্ব লেখো।
বায়ুমণ্ডলের যে-কোনো তিনটি উপাদানের গুরুত্ব লেখো।
Contents Show

বায়ুমণ্ডলের যে-কোনো তিনটি উপাদানের গুরুত্ব লেখো।

বায়ুমণ্ডলের তিনটি উপাদানের গুরুত্ব –

বায়ুমণ্ডলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল –

  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড

নাইট্রোজেনের গুরুত্ব –

বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় উপাদানগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি পরিমাণ রয়েছে নাইট্রোজেন গ্যাস (78.09%), যা পৃথিবীর প্রাণীকুল সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। তবুও জীবজগতে এই গ্যাসটির যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে যেমন –

  • প্রোটিন জাতীয় খাদ্য তৈরি – পরোক্ষভাবে নাইট্রোজেন গ্যাস জীবদেহে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
  • মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি – কিছু ব্যাকটেরিয়া বা মটরশুঁটি জাতীয় উদ্ভিদ এই গ্যাসটিকে বাতাস থেকে শোষণ করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
  • সার উৎপাদন – বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস সংগ্রহ করে সার উৎপাদন করা হচ্ছে।

অক্সিজেনের গুরুত্ব –

বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ (20.95%) খুব বেশি না হলেও পৃথিবীতে জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় এই গ্যাসের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যেমন –

  • জীবন ধারণের প্রধান উপাদান – জীবকুলের জীবনধারণের জন্য সকল প্রাণীই প্রশ্বাসের সঙ্গে অক্সিজেন গ্রহণ করে বলে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব হয়েছে।
  • জীবদেহে শক্তি উৎপাদন ও তাপ বৃদ্ধি – অক্সিজেনের সাহায্যে জীবজগতের দেহে উত্তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয়।
  • আবহবিকারে অংশগ্রহণ – শিলা গঠনকারী খনিজের (বিশেষত লোহা) সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা (জারণ প্রক্রিয়া) যুক্ত হয়ে শিলার আবহবিকারে অক্সিজেন সাহায্য করে।
  • আগুন জ্বালাতে – অক্সিজেন গ্যাস আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে। অর্থাৎ O2 ছাড়া কখনোই আগুন জ্বালানো সম্ভব নয়।

কার্বন ডাইঅক্সাইডের গুরুত্ব –

বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাস খুবই সামান্য (0.033%) পরিমাণে থাকলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন –

  • খাদ্য প্রস্তুতিতে – খাদ্যশৃঙ্খলের নিয়ম অনুযায়ী প্রাণীজগৎ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। আর এই উদ্ভিদ কার্বন ডাইঅক্সাইডের উপস্থিতিতেই সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে।
  • তাপমাত্রা ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ – কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস সৌরতাপ শোষণ ও বণ্টনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে।
  • আবহবিকার সংঘটন – শিলার রাসায়নিক আবহবিকার (কার্বনেশনের মাধ্যমে) সংঘটনে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
  • খনিজ গঠন – অঙ্গার খনিজও চুনজাতীয় খনিজ গঠনেও CO2 সাহায্য করে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

বায়ুমণ্ডলের প্রধান তিনটি উপাদান কী কী?

বায়ুমণ্ডলের প্রধান তিনটি উপাদান হল –
1. নাইট্রোজেন (প্রায় 78.09%)।
2. অক্সিজেন (প্রায় 20.95%)।
3. কার্বন ডাইঅক্সাইড (প্রায় 0.033%)।

নাইট্রোজেন গ্যাসের গুরুত্ব কী?

1. প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।
2. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে (ব্যাকটেরিয়া/উদ্ভিদের মাধ্যমে)।
3. কৃষিকাজে নাইট্রোজেন সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

অক্সিজেনের অভাব হলে কী হবে?

1. প্রাণীর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটবে।
2. দহন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে (আগুন নিভে যাবে)।
3. শিলার জারণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।

কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলাফল কী?

1. গ্রিনহাউস প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।
2. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি (গ্লোবাল ওয়ার্মিং)।
3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি।

নাইট্রোজেন গ্যাস সরাসরি ব্যবহার করতে না পারলে কীভাবে উদ্ভিদ এটি গ্রহণ করে?

1. কিছু ব্যাকটেরিয়া (রাইজোবিয়াম) বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে নাইট্রেটে রূপান্তর করে।
2. মটরশুঁটি জাতীয় উদ্ভিদের মূলনোডে এই ব্যাকটেরিয়া বাস করে।
3. উদ্ভিদ এই নাইট্রেট যৌগ শোষণ করে।

সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভূমিকা কী?

1. CO₂ + জল + সূর্যালোক → গ্লুকোজ + অক্সিজেন।
2. এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ তাদের খাদ্য নিজেই তৈরি করে।
3. সমগ্র খাদ্য শৃঙ্খলের ভিত্তি এই প্রক্রিয়া।

অক্সিজেন কীভাবে শিলা আবহবিকারে সাহায্য করে?

1. লোহার মতো ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে জারণ ঘটায়।
2. শিলার খনিজ উপাদানের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে।
3. বিশেষ করে আয়রন অক্সাইড গঠনের মাধ্যমে।

বায়ুমণ্ডলে CO₂ বৃদ্ধি রোধের উপায় কী?

1. বনায়ন বৃদ্ধি (কার্বন শোষণের জন্য)।
2. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো।
3. নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি।

অক্সিজেন চক্র কীভাবে বজায় থাকে?

1. উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণে O₂ নির্গত হয়।
2. প্রাণীর শ্বসনে CO₂ নির্গত হয়।
3. এই নিঃসরণ ও শোষণের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা কী?

1. অত্যধিক ব্যবহারে মাটি দূষিত হয়।
2. জলাশয়ে মিশে অ্যালগাল ব্লুম সৃষ্টি করে।
3. কিছু ক্ষেত্রে ফসলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বায়ুমণ্ডলের যে-কোনো তিনটি উপাদানের গুরুত্ব লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বায়ুমণ্ডলের যে-কোনো তিনটি উপাদানের গুরুত্ব লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – বায়ুমণ্ডলের ধারণা ও উপাদান” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন