ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় – প্রবন্ধ রচনা

Rahul

এই আর্টিকেলে আমরা ‘ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায়’ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করব। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় এই রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা। একবার ভালোভাবে আয়ত্ত করলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি—যেকোনো ক্লাসের পরীক্ষাতেই তোমরা এই রচনার প্রশ্নের উত্তর সহজেই লিখতে পারবে।

ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় প্রবন্ধ রচনা।
Contents Show

ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় – প্রবন্ধ রচনা

1774 খ্রিস্টাব্দের 10 মে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে রামমোহনের জন্ম হয়। রামমোহনের পিতা রামকান্ত রায় একজন জমিদার ছিলেন, মাতা তারিণী দেবী ছিলেন ধর্মপ্রাণা মহিলা। রামমোহন ছেলেবেলা থেকেই খুব মেধাবী এবং ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি অল্প সময়ে যেকোনো বিষয় শিখে ফেলতে পারতেন। কিশোর বয়সে তিনি বাংলা ও ফারসি ভাষায় পণ্ডিত হয়ে ওঠেন। তিনি আরবি ভাষা ও সংস্কৃত ভাষা শিখেছিলেন।

পরে তিনি ইংরেজি, হিন্দি, হিব্রু, ল্যাটিন, গ্রিক প্রভৃতি ভাষাও শিখেছিলেন। সংস্কৃত ভাষা শিখে শ্রুতি, ন্যায়, দর্শন ও বেদান্ত গ্রন্থ অধ্যয়ন করে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়েছিলেন। রামমোহনের ছিল গভীর জ্ঞান ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছেড়ে সারা ভারতে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন।

জাতিভেদ প্রথাতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বলতেন ঈশ্বর এক, ঈশ্বর নিরাকার। পরিণত বয়সপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হন। যুক্তিবাদ তাঁর মনে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করে। গোঁড়া হিন্দুরা তাঁকে সমাজচ্যুত করেছিলেন, এমনকি রামমোহনের মা-বাবাও তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করেছিলেন।

তখন ইংরেজ রাজত্ব কেবলমাত্র শুরু হয়েছে। রামমোহন দিল্লি গিয়ে আরবি ভাষা ও গ্রন্থ অধ্যয়ন করে ‘মৌলানা’ উপাধি লাভকরেন। এ সময় রামমোহন ব্রাহ্মসমাজ নামে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। এই সময় হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুসমাজের নানা কুসংস্কার দূর করার কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেন।

সেই সময় ‘সতীদাহ’ প্রথা প্রচলন ছিল। রামমোহনের চেষ্টাতেই বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সহযোগিতায় ‘সতীদাহ’ নামের কুপ্রথাটি তিনি বন্ধ করেন। এছাড়াও ‘পণপ্রথা’ ও ‘বাল্যবিবাহ’ প্রথার তিনি আজীবন সোচ্চার হয়ে সংগ্রাম করেন। সেই কারণে তিনি ভারতীয়দের কাছে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ হিসাবে পরিচিত। তিনি ইংল্যান্ডের রাজার কাছ থেকে বাদশাহের দাবিগুলি আদায় করেছিলেন, তখন দিল্লির মুঘল বাদশাহ ছিলেন দ্বিতীয় আকবর।

তিনি নামেই বাদশাহ ছিলেন, ইংরেজরা তাঁর সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল। সেই সময়ে রামমোহনের চেয়ে জ্ঞানীগুণী লোক ভারতে কমই ছিল। মুঘল বাদশাহের হয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে দরবার করার জন্য তিনি ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেন। রামমোহনের পূর্বে বাংলা ভাষায় পদ্য গদ্য রচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে তাকেই ‘বাংলা গদ্যের জনক’ বলা উচিত।

রামমোহন আরবি, ইংরেজি এবং বাংলায় অনেক বই লিখে গেছেন। তাঁর রচিত ‘ব্যাকরণ’, ‘ব্রাত্মসঙ্গীত’, ‘বেদান্ত গ্রন্থ’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তিনি একজন সমাজ-সংস্কারক ছিলেন। তিনি কোনোদিন অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেননি। 1833 খ্রিস্টাব্দের 27 সেপ্টেম্বর কর্মবীর রামমোহন ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

রাজা রামমোহন রায় কে ছিলেন?

রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একজন ভারতীয় সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ, এবং ধর্মীয় নেতা। তিনি ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে পরিচিত। তিনি সতীদাহ প্রথা বিলোপ, বাল্যবিবাহ ও পণপ্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন।

রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম কখন এবং কোথায় হয়েছিল?

রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম 1774 খ্রিস্টাব্দের 10ই মে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে।

রাজা রামমোহন রায়ের পিতা-মাতার নাম কী ছিল?

তাঁর পিতার নাম ছিল রামকান্ত রায় এবং মাতার নাম ছিল তারিণী দেবী।

রাজা রামমোহন রায় কী কী ভাষা জানতেন?

তিনি বাংলা, ফারসি, আরবি, সংস্কৃত, ইংরেজি, হিন্দি, হিব্রু, ল্যাটিন, গ্রিক প্রভৃতি ভাষা জানতেন।

রাজা রামমোহন রায় কীভাবে সমাজ সংস্কারে অবদান রেখেছিলেন?

তিনি সতীদাহ প্রথা বিলোপ, বাল্যবিবাহ ও পণপ্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করে হিন্দু ধর্মের কুসংস্কার দূর করার চেষ্টা করেছিলেন।

রাজা রামমোহন রায় কীভাবে সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেছিলেন?

তিনি ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সহযোগিতায় সতীদাহ প্রথা বিলোপের জন্য আইন পাস করিয়েছিলেন।

রাজা রামমোহন রায়কে কেন ‘বাংলা গদ্যের জনক’ বলা হয়?

তিনি বাংলা ভাষায় গদ্য রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর রচনাগুলি বাংলা গদ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু কখন এবং কোথায় হয়েছিল?

রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়েছিল 1833 খ্রিস্টাব্দের 27শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে।

রাজা রামমোহন রায়কে কেন ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ বলা হয়?

তিনি ধর্মীয় কুসংস্কার, সামাজিক অনাচার এবং অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আধুনিক চিন্তাভাবনা ও যুক্তিবাদের প্রচার করেছিলেন। তাই তাঁকে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ বলা হয়।

রাজা রামমোহন রায়ের সমাজচ্যুত হওয়ার কারণ কী ছিল?

তিনি গোঁড়া হিন্দু সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরোধিতা করায় সমাজচ্যুত হয়েছিলেন। এমনকি তাঁর মা-বাবাও তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করেছিলেন।


এই আর্টিকেলে আমরা ‘ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায়’ প্রবন্ধ রচনাটি নিয়ে আলোচনা করেছি। মাধ্যমিক বা স্কুল পরীক্ষায় ‘ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায়’ রচনাটি প্রায়ই আসে এবং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা - প্রবন্ধ রচনা

ঐতিহাসিক স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

একটি নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা - প্রবন্ধ রচনা

একটি নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

মঙ্গলের মাটিতে কিছুক্ষণ কাটানোর অভিজ্ঞতা - প্রবন্ধ রচনা

মঙ্গলের মাটিতে কিছুক্ষণ কাটানোর অভিজ্ঞতা – প্রবন্ধ রচনা

About The Author

Rahul

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অপসারী ও অভিসারী অভিযোজন কাকে বলে? উদাহরণ ও পার্থক্য | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

শারীরবৃত্তীয় ও আচরণগত অভিযোজন কাকে বলে? শারীরবৃত্তীয় ও আচরণগত অভিযোজনের পার্থক্য

রুইমাছের পটকার অভিযোজনগত গুরুত্ব

শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর কী? সুন্দরী গাছের শ্বাসমূলের অভিযোজনগত গুরুত্ব

মৌমাছির ওয়াগল নৃত্য ও চক্রাকার নৃত্য – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান | Madhyamik Life Science