এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হল কেন? ব্রাহ্ম সমাজের যে কোনো দুটি সমাজ সংস্কারমূলক কাজের উল্লেখ করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হল কেন? ব্রাহ্ম সমাজের যে কোনো দুটি সমাজ সংস্কারমূলক কাজের উল্লেখ করো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হল কেন?
অথবা, সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?
1878 খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্ম সভা ভেঙে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ তৈরি হয়েছিল সংস্কারের প্রশ্নে। কেশবচন্দ্র সেনের খ্রিস্ট ধর্মের প্রতি প্রীতি, গুরুবাদের প্রতি আসক্তি, নিজের নাবালিকা কন্যা সুনীতি দেবীর সঙ্গে কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের বিবাহদান প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজের অভ্যন্তরে কেশবচন্দ্রের সঙ্গে তার অনুগামীদের তীব্র মতভেদ তৈরি হয় এবং এরই ফলশ্রুতিতে আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী, বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী প্রমুখ তরুণ অনুগামীরা ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ ত্যাগ করে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হন।
ব্রাহ্ম সমাজের যে কোনো দুটি সমাজ সংস্কারমূলক কাজের উল্লেখ করো।
ব্রাহ্মসমাজ জাত-পাতের বৈষম্যের বিরোধিতা করেছিল এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছিল। এ ছাড়া সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের প্রধান সংগঠক রাজা রামমোহন রায়। ব্রাহ্ম সমাজের আন্দোলনের জেরেই ব্রিটিশ সরকার 1872 খ্রিস্টাব্দে ‘তিন আইন’ পাস করতে বাধ্য হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ব্রাহ্মসমাজ কী?
ব্রাহ্মসমাজ ছিল একটি সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন, যা 19 শতকে ভারতে শুরু হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল হিন্দু সমাজের কুপ্রথা ও অন্ধবিশ্বাস দূর করা এবং যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন করা।
রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা কী ছিল?
রাজা রামমোহন রায় ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান সংস্কারক। তিনি সতীদাহ প্রথা বিলোপ, নারী শিক্ষা এবং জাত-পাতের বৈষম্য দূরীকরণের জন্য কাজ করেছিলেন।
কেশবচন্দ্র সেন কে ছিলেন?
কেশবচন্দ্র সেন ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের একজন প্রধান নেতা। তবে তার কিছু সিদ্ধান্ত ও নীতির কারণে ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হয় এবং সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তিনির্ভর, প্রগতিশীল ও সাম্যবাদী সমাজ গঠন করা। তারা জাত-পাতের বৈষম্য, নারী-পুরুষের সমানাধিকার এবং ধর্মীয় সংস্কারের পক্ষে কাজ করেছিলেন।
ব্রাহ্মসমাজের সংস্কারমূলক কাজগুলি কী কী?
ব্রাহ্মসমাজের উল্লেখযোগ্য সংস্কারমূলক কাজগুলির মধ্যে রয়েছে সতীদাহ প্রথা বিলোপ, জাত-পাতের বৈষম্য দূরীকরণ, নারী শিক্ষার প্রসার এবং যুক্তিনির্ভর ধর্মীয় চিন্তার প্রচার।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হল কেন? ব্রাহ্ম সমাজের যে কোনো দুটি সমাজ সংস্কারমূলক কাজের উল্লেখ করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হল কেন? ব্রাহ্ম সমাজের যে কোনো দুটি সমাজ সংস্কারমূলক কাজের উল্লেখ করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।