এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।
মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা”-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো “ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করো”। এই প্রশ্নটি শুধু মাধ্যমিক পরীক্ষাতেই নয়, WBCS, Railway বা পুলিশ সার্ভিস-এর মতো চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও অপরিহার্য। এই আর্টিকেলে আমরা পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের পটভূমি, লর্ড মেকলের ‘অন্তঃসারশূন্য শিক্ষানীতি’, উডের ডেসপ্যাচ (1854), এবং এর সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাব সহ পরীক্ষায় লেখার স্ট্রাটেজি নিয়ে আলোচনা করব।

ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করো।
ভারতে ব্রিটিশ রাজত্বের প্রথম অর্ধশত বৎসর কোম্পানি ভারতীয়দের শিক্ষার ব্যাপারে ছিল সম্পূর্ণ উদাসীন। বণিকরাজের দৃষ্টিতে ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য ব্যয় আসলে ছিল অপব্যয়। তাই ভারতে শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে জ্ঞানালোকের সঞ্চার করতে কোম্পানি প্রাথমিক পর্বে উদ্যোগী ছিল না। ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পরবর্তী প্রায় অর্ধশত বৎসর ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা আপন খাতে বয়ে গেছে। চিরাচরিত ‘টোল’, ‘চতুষ্পাঠী’ এবং ‘মাদ্রাসা’ বা ‘মক্তব’ প্রভৃতির সংকীর্ণ গণ্ডিতেই ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থা সেদিন ছিল আবদ্ধ। শিক্ষা ছিল মূলত কুসংস্কারের গণ্ডীতে সীমাবদ্ধ, ধর্মীয় চেতনায় সম্পৃক্ত এবং আধুনিক যুগের অনুপযুক্ত। কিন্তু কোম্পানির শাসনের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ কোম্পানির এই উদাসীনতা কাটাতে বাধ্য করে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটে।
মিশনারি উদ্যোগ
ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারে প্রথম সদর্থক ভূমিকা নিয়েছিলেন খ্রিস্টান মিশনারিগণ।
শ্রীরামপুর ত্রয়ীর উদ্যোগ –
ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশনের তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য-উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। মূলত খ্রিস্টধর্মের প্রচার তাদের উদ্দেশ্য হলেও তারা এদেশে ইংরেজি তথা পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারেও যথেষ্ট উদ্যোগী ছিলেন। বস্তুতপক্ষে, খ্রিস্টধর্মের বাণী ও মতাদর্শ সাধারণ ভারতীয়দের কাছে বোধগম্য করে তোলার ক্ষেত্রে এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের বিশেষ প্রয়োজন ছিল। তাঁদের উদ্যোগে 1800 খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুরে ছাপাখানা এবং 1818 খ্রিস্টাব্দে কলেজ (শ্রীরামপুর কলেজ) প্রতিষ্ঠিত হয়। সংবাদপত্রের প্রকাশনাতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তাদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শতাধিক বিদ্যালয়ে প্রায় সহস্রাধিক ভারতীয় শিক্ষার্থী ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।
অন্যান্য মিশনারিদের উদ্যোগ –
শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারি ছাড়াও অন্যান্য বেশ কয়েকটি মিশনারি গোষ্ঠী ভারতের বিভিন্ন স্থানে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে –
- 1830 খ্রিস্টাব্দে স্কটিশ মিশনারি আলেকজান্ডার ডাফ জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন, বর্তমানে যা স্কটিশ চার্চ কলেজ নামে পরিচিত।
- বেলজিয়ামের জেসুইট মিশনারিদের প্রচেষ্টায় 1835 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- লন্ডন মিশনারি সোসাইটির সদস্য রবার্ট মে 1795 খ্রিস্টাব্দে প্রথমে চুঁচুড়ায় এবং পরবর্তীকালে অন্যত্র 36টি ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- চার্চ মিশনারি সোসাইটিও অনুরূপভাবে ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপনে ব্রতী হয়।
ভারতীয় ও বিদেশি মনীষিদের উদ্যোগ –
কয়েকজন মুক্তমনা ভারতীয় ও বিদেশি ব্যক্তিত্ব পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ব্রতী হন। এদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন – রাজা রামমোহন রায়, রাধাকান্ত দেব, ডেভিড হেয়ার প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। স্কটল্যান্ডের ঘড়ি ব্যবসায়ী ডেভিড হেয়ার কলকাতায় হিন্দু কলেজ (1817 খ্রিস্টাব্দ) প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় সহায়তা করেন এবং নিজ উদ্যোগে পটলডাঙা অ্যাকাডেমি (বর্তমান হেয়ার স্কুল) স্থাপন (1817 খ্রিস্টাব্দ) করেন। ইংরেজি ভাষায় পাঠ্য পুস্তক রচনা ও সুলভে বিতরনের জন্য তার উদ্যোগে 1817 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় স্কুল বুক সেসোইটি, 1818 খ্রিস্টাব্দে গড়ে তোলেন ক্যালকাটা স্কুল সেসোইটি। পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে তার এই অবদানের জন্য তিনি ‘মহাত্মা’ অভিধায় ভূষিত হন। রাজা রামমোহন, রাধাকান্তদেব প্রমুখ শিক্ষাব্রতী কখনো ডেভিড হেয়ারের সহযোগী রূপে আবার কখনোবা স্বতন্ত্র উদ্যোগে এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন।
সরকারি উদ্যোগ –
ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ ছিল একটি বিলম্বিত প্রক্রিয়া এবং তা এসেছিল বেসরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্তত তিন দশক পরে। 1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনের 29 নং ধারায় বলা হয় যে, ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য কোম্পানি এখন থেকে বছরে অন্তত। লক্ষ টাকা ব্যয় করবে। উল্লেখ্য ভারতে সরকারি উদ্যোগে এটাই ছিল শিক্ষাখাতে প্রথম ব্যয় বরাদ্দ।
প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিতর্ক –
সনদ আইনে উল্লেখিত এই 1 লক্ষ টাকা প্রাচ্য না পাশ্চাত্য কোন্ শিক্ষাখাতে ব্যয়িত হবে-তার স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় অচিরেই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইতিহাসে এই বিতর্ক প্রাচ্যবাদী-পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক নামে পরিচিত।
প্রাচ্যবাদীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন – উইলিয়াম কোলব্রুক, উইলসন, জেমস প্রিন্সেপ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ, এদের বক্তব্যের মূল নির্যাস ছিল, ভারতে ইংরেজি ভাষা ও শিক্ষা প্রবর্তন করলে তা আপামর ভারতবাসীর হৃদয়ে ক্ষোভের সঞ্চার করবে এবং তা ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে।
পাশ্চাত্যবাদীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আলেকজান্ডার ডাফ, মেকলে, স্যান্ডার্স, রামমোহন রায় প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। এদের বক্তব্যের মূল নির্যাস হল, একমাত্র পাশ্চাত্য তথা ইংরেজি শিক্ষা বিস্তৃত হলেই ভারতীয়দের পচনশীল সমাজব্যবস্থা এবং ধর্ম ও চরিত্রের অধঃপতিত নৈতিকতার উন্নতি ঘটবে।
মেকলে মিনিটস্ –
দীর্ঘ তিন দশক ধরে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য বিতর্ক চলার পর বড়োলাট লর্ড বেন্টিষ্কের আইন সচিব ও খ্যাতনামা পণ্ডিত টমাস ব্যাবিংটন মেকলে কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন-র সভাপতি নিযুক্ত হয়ে 1835 খ্রিস্টাব্দে তার বিখ্যাত ‘মিনিটস্’ বা প্রতিবেদনে ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন যে, উচ্চ ও মধ্যবিত্তের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তৃত হলে ফিল্ট্রেশন নীতি অনুসারে তা ধীরে ধীরে সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়রে। এটি ‘মেকলে মিনিটস্’ নামে পরিচিত।

বেন্টিঙ্কের ঘোষণা –
মেকলের অসাধারণ বাগ্মিতা ও যুক্তির কাছে প্রাচ্যবাদীরা পরাজিত হন। 1835 খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট বেন্টিংক ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারি নীতি হিসেবে ঘোষণা করলে দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলতে থাকা প্রাচ্যবাদী-পাশ্চাত্যবাদী বিতর্কের অবসান এবং সরকারি উদ্যোগে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের নতুন পর্ব সূচিত হয়। বেন্টিংক -এর উদ্যোগে 1835 খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং বোম্বাইয়ে এলফিনস্টোন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
হার্ডিঞ্জের ঘোষণা –
1844 খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট লর্ড হার্ডিঞ্জ ঘোষণা করেন – সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান অপরিহার্য। ফলে ভারতীয়দের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইংরেজি স্কুল ও ছাত্রসংখ্যাও বাড়তে থাকে।
উডের নির্দেশনামা –
ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়মতান্ত্রিক ও সুসংঘবদ্ধরূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কোম্পানির বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড 1854 খ্রিস্টাব্দে একটি শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনামা জারি করেন। এতে সরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা, একটি স্বতন্ত্র শিক্ষাবিভাগ স্থাপন, তিনটি প্রেসিডেন্সি শহরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রভৃতির কথা বলা হয়। এগুলি উডের নির্দেশনামা নামে খ্যাত। এর উপর ভিত্তি করেই আধুনিক ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তাই ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে এটি ম্যাগনা কার্টা বা ‘মহাসনদ’ নামে খ্যাত। উডের নির্দেশনামার ওপর ভিত্তি করেই 1857 খ্রিস্টাব্দে ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পাশ্চাত্য শিক্ষায় প্রকৃত গতিশীলতা লক্ষ করা যায়।

মূল্যায়ন –
কার্ল মার্কসের পরিভাষায় – ‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি’। ভারতীয় ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে এই বক্তব্য সর্বাংশে সত্য। আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষাই ক্রমে ভারতে নবজাগরণের দ্বার খুলে দেয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের পিছনে ব্রিটিশদের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
ব্রিটিশরা প্রাথমিকভাবে ভারতীয়দের প্রশাসনিক কাজে সহায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং পাশ্চাত্য মূল্যবোধের প্রসার ঘটাতে ইংরেজি শিক্ষা চালু করে। পরে এটি ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করলেও, শুরুতে এটি ছিল ব্রিটিশ স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী?
প্রাচ্যবাদীরা (যেমন – উইলিয়াম জোন্স, হেনরি টমাস কোলব্রুক) সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষায় ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষার পক্ষে ছিলেন।
পাশ্চাত্যবাদীরা (যেমন – টমাস মেকলে, রাজা রামমোহন রায়) ইংরেজি ও পাশ্চাত্য বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পক্ষে যুক্তি দেন।
1835 সালে মেকলের মিনিটস-এর মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মিশনারিরা ভারতীয় শিক্ষায় কী ভূমিকা পালন করেছিল?
খ্রিস্টান মিশনারিরা (যেমন শ্রীরামপুর মিশন, স্কটিশ মিশনারি) ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, কলেজ ও ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করে। তাদের মূল লক্ষ্য ধর্মপ্রচার ছিল, কিন্তু পরোক্ষভাবে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রাখে।
1854 সালের উডের ডেসপ্যাচ (Wood’s Despatch) কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এটি “ভারতীয় শিক্ষার ম্যাগনা কার্টা” নামে পরিচিত। এতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা গঠন, সরকারি সাহায্য ও কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়।
ভারতীয়দের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব কী ছিল?
ইংরেজি শিক্ষা ভারতীয়দের মধ্যে আধুনিক চিন্তাভাবনা, সমাজ সংস্কার ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (যেমন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম) সৃষ্টি করে। তবে এটি একটি বিভেদও তৈরি করে—ইংরেজি-শিক্ষিত শহুরে শ্রেণি ও গ্রামীণ জনগণের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে।
রাজা রামমোহন রায় পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে কেন ছিলেন?
তিনি মনে করতেন পাশ্চাত্য বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী শিক্ষা ভারতীয় সমাজের কুসংস্কার দূর করতে এবং আধুনিকীকরণে সাহায্য করবে। তিনি হিন্দু কলেজ (1817) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রথম দিকে ব্রিটিশরা কেন শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছুক ছিল?
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থে ভারত শাসন করত, তাই তারা শিক্ষাকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় মনে করত। 1813 সালের সনদ আইন-এর পরই শিক্ষায় বার্ষিক 1 লক্ষ টাকা বরাদ্দ শুরু হয়।
কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হিন্দু কলেজ কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?
হিন্দু কলেজ (1817, পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ) ও কলকাতা মেডিকেল কলেজ (1835) পাশ্চাত্য শিক্ষার অন্যতম প্রাথমিক কেন্দ্র ছিল।
ফিল্টারেশন তত্ত্ব (Filtration Theory) কী?
টমাস মেকলে প্রস্তাবিত এই তত্ত্ব অনুযায়ী, উচ্চবিত্তদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা ছড়িয়ে দিলে তা ধীরে ধীরে নিম্নস্তরে প্রবেশ করবে। কিন্তু বাস্তবে এটি সীমিত সংখ্যক শহুরে শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
পাশ্চাত্য শিক্ষা কি ভারতীয় সংস্কৃতিকে দুর্বল করেছিল?
কিছু ঐতিহাসিকের মতে, এটি ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবহেলা করেছিল। তবে অন্যরা মনে করেন, এটি নবজাগরণ (রেনেসাঁ) এনেছিল—যেমন বাংলার নবজাগরণে রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দের ভূমিকা।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।
এই আর্টিকেলে আমরা “ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা করো” প্রশ্নটির পরীক্ষা-সর্বস্ব বিশ্লেষণ করেছি। মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা”-এর এই প্রশ্নটি শুধু স্কুল পরীক্ষায় নয়, WBCS, Railway, বা স্টেট PSC-এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্যও হাই-ইমপ্যাক্ট।