এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ কাকে কেন বলা হয়? ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় প্রবন্ধ রচনা

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ কাকে কেন বলা হয়? ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় প্রবন্ধ রচনা। নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ কাকে কেন বলা হয়? ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় প্রবন্ধ রচনা।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ কাকে কেন বলা হয়? ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় প্রবন্ধ রচনা।
Contents Show

ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ কাকে কেন বলা হয়?

রাজা রামমোহন রায় হলেন প্রথম ভারতীয়, যিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন, নারী জাতির উন্নতিতে সচেষ্ট হন, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য নিয়মতান্ত্রিক পথে আন্দোলনের সূচনা করেন এবং সর্বোপরি পথ প্রদর্শকরূপে সামাজিক অগ্রগতির পথে যাবতীয় বাধাগুলিকে দূর করতে সচেষ্ট হন। তাই তাঁকে ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ বলা হয়।

ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় প্রবন্ধ রচনা

1774 খ্রিস্টাব্দের 10মে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে রামমোহনের জন্ম হয়। রামমোহনের পিতা রামকান্ত রায় একজন জমিদার ছিলেন, মাতা তারিণী দেবী ছিলেন ধর্মপ্রাণা মহিলা। রামমোহন ছেলেবেলা থেকেই খুব মেধাবী এবং ধর্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি অল্প সময়ে যেকোনো বিষয় শিখে ফেলতে পারতেন। কিশোর বয়সে তিনি বাংলা ও ফারসি ভাষায় পণ্ডিত হয়ে ওঠেন। তিনি আরবি ভাষা ও সংস্কৃত ভাষা শিখেছিলেন।

পরে তিনি ইংরেজি, হিন্দি, হিব্রু, ল্যাটিন, গ্রিক প্রভৃতি ভাষাও শিখেছিলেন। সংস্কৃত ভাষা শিখে শ্রুতি, ন্যায়, দর্শন ও বেদান্ত গ্রন্থ অধ্যয়ন করে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়েছিলেন। রামমোহনের ছিল গভীর জ্ঞান ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছেড়ে সারা ভারতে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন।

জাতিভেদ প্রথাতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বলতেন ঈশ্বর এক, ঈশ্বর নিরাকার। পরিণত বয়সপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হন। যুক্তিবাদ তাঁর মনে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করে। গোঁড়া হিন্দুরা তাঁকে সমাজচ্যুত করেছিলেন, এমনকি রামমোহনের মা-বাবাও তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করেছিলেন।

তখন ইংরেজ রাজত্ব কেবলমাত্র শুরু হয়েছে। রামমোহন দিল্লি গিয়ে আরবি ভাষা ও গ্রন্থ অধ্যয়ন করে ‘মৌলানা’ উপাধি লাভকরেন। এ সময় রামমোহন ব্রাহ্মসমাজ নামে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। এই সময় হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুসমাজের নানা কুসংস্কার দূর করার কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেন।

সেই সময় ‘সতীদাহ’ প্রথা প্রচলন ছিল। রামমোহনের চেষ্টাতেই বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সহযোগিতায় ‘সতীদাহ’ নামের কুপ্রথাটি তিনি বন্ধ করেন। এছাড়াও ‘পণপ্রথা’ ও ‘বাল্যবিবাহ’ প্রথার তিনি আজীবন সোচ্চার হয়ে সংগ্রাম করেন। সেই কারণে তিনি ভারতীয়দের কাছে ‘প্রথম আধুনিক মানুষ’ হিসাবে পরিচিত। তিনি ইংল্যান্ডের রাজার কাছ থেকে বাদশাহের দাবিগুলি আদায় করেছিলেন, তখন দিল্লির মুঘল বাদশাহ ছিলেন দ্বিতীয় আকবর।

তিনি নামেই বাদশাহ ছিলেন, ইংরেজরা তাঁর সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল। সেই সময়ে রামমোহনের চেয়ে জ্ঞানীগুণী লোক ভারতে কমই ছিল। মুঘল বাদশাহের হয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে দরবার করার জন্য তিনি ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেন। রামমোহনের পূর্বে বাংলা ভাষায় পদ্য গদ্য রচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে তাকেই ‘বাংলা গদ্যের জনক’ বলা উচিত।

রামমোহন আরবি, ইংরেজি এবং বাংলায় অনেক বই লিখে গেছেন। তাঁর রচিত ‘ব্যাকরণ’, ‘ব্রাত্মসঙ্গীত’, ‘বেদান্ত গ্রন্থ’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তিনি একজন সমাজ-সংস্কারক ছিলেন। তিনি কোনোদিন অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেননি। 1833 খ্রিস্টাব্দের 27 সেপ্টেম্বর কর্মবীর রামমোহন ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম কবে এবং কোথায় হয়েছিল?

রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম 1774 খ্রিস্টাব্দের 10 মে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার রাধানগর গ্রামে হয়েছিল।

রাজা রামমোহন রায়ের পিতা-মাতা কে ছিলেন?

রাজা রামমোহন রায়ের পিতা ছিলেন রামকান্ত রায়, যিনি একজন জমিদার ছিলেন। তাঁর মাতা ছিলেন তারিণী দেবী, যিনি একজন ধর্মপ্রাণা মহিলা ছিলেন।

রাজা রামমোহন রায় কোন কোন ভাষা শিখেছিলেন?

রাজা রামমোহন রায় বাংলা, ফারসি, আরবি, সংস্কৃত, ইংরেজি, হিন্দি, হিব্রু, ল্যাটিন, গ্রিক প্রভৃতি ভাষা শিখেছিলেন।

রাজা রামমোহন রায় কী কী ধর্মের গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছিলেন?

রাজা রামমোহন রায় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়েছিলেন।

রাজা রামমোহন রায় কী কী সামাজিক সংস্কার করেছিলেন?

রাজা রামমোহন রায় ‘সতীদাহ’ প্রথা বন্ধ করেছিলেন, ‘পণপ্রথা’ ও ‘বাল্যবিবাহ’ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। তিনি ব্রাহ্মসমাজ নামে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন এবং হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুসমাজের নানা কুসংস্কার দূর করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

রাজা রামমোহন রায় কেন ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেছিলেন?

রাজা রামমোহন রায় মুঘল বাদশাহ দ্বিতীয় আকবরের হয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে দরবার করার জন্য ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেছিলেন।

রাজা রামমোহন রায়কে কেন ‘বাংলা গদ্যের জনক’ বলা হয়?

রাজা রামমোহন রায়ের পূর্বে বাংলা ভাষায় পদ্য গদ্য রচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে তাকেই ‘বাংলা গদ্যের জনক’ বলা হয় কারণ তিনি বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

রাজা রামমোহন রায়ের উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি কী কী?

রাজা রামমোহন রায়ের উল্লেখযোগ্য রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে ‘ব্যাকরণ’, ‘ব্রাত্মসঙ্গীত’, ‘বেদান্ত গ্রন্থ’ প্রভৃতি।

রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু কবে এবং কোথায় হয়েছিল?

রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু 1833 খ্রিস্টাব্দের 27 সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে হয়েছিল।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ কাকে কেন বলা হয়? ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় প্রবন্ধ রচনা।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ কাকে কেন বলা হয়? ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায় প্রবন্ধ রচনা।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন