বায়োমাস বা জীবভর কী? জীবভরকে বায়োগ্যাস হিসাবে ব্যবহার করার সুবিধা

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বায়োমাস বা জীবভর বলতে কী বোঝো? এটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়? জীবভরকে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার না করে বায়োগ্যাস ব্যবহার করার সুবিধা কী?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বায়োমাস বা জীবভর বলতে কী বোঝো? এটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়? জীবভরকে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার না করে বায়োগ্যাস ব্যবহার করার সুবিধা কী?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “পরিবেশের জন্য ভাবনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বায়োমাস বা জীবভর বলতে কী বোঝো? এটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়? জীবভরকে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার না করে বায়োগ্যাস ব্যবহার করার সুবিধা কী?

বায়োমাস বা জীবভর বলতে কী বোঝো? এটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়?

বায়োমাস বা জীবভর বলতে বোঝায় কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীবের মোট ভর। জীবভরের মধ্যে সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিরূপে সঞ্চিত থাকে। উদ্ভিজ্জ জীবভর, যেমন – কাঠ, পাতা, ডালপালা, আগাছা ইত্যাদি এবং প্রাণীজ জীবভর, যেমন – মৃত প্রাণীদেহ, প্রাণীর মল-মূত্র ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ জীবভরকে সরাসরি জ্বালিয়ে অথবা কাঠ-কয়লায় পরিণত করার পর জ্বালিয়ে আমরা তাপশক্তি পেয়ে থাকি। এই প্রাপ্ত শক্তিকে বায়োমাস শক্তি বলে। বায়োমাস দহনের ফলে প্রাপ্ত এই তাপশক্তির সাহায্যে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।

জীবভরকে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার না করে বায়োগ্যাস ব্যবহার করার সুবিধা কী?

জৈবভরকে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার না করে বায়োগ্যাস ব্যবহার করার সুবিধা হল –

বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন, যার শতকরা উপস্থিতি প্রায় ৫০%-৭০%। এর তাপীয় মান (৩৫-৪০ kJ/g) অন্যান্য পরিচিত জৈবভরের (যেমন—গোবর, কাঠ, পাতা ইত্যাদি) তুলনায় অনেক বেশি। বায়োগ্যাস সম্পূর্ণ দাহ্য এবং এর দহনে ধোঁয়া উৎপন্ন হয় না; তাই এটি পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানি। কিন্তু অন্যান্য পরিচিত জৈবভরের দহনে ধোঁয়া উৎপন্ন হয় এবং এগুলো সম্পূর্ণ দাহ্য নয়; তাই এগুলো পরিবেশ-বান্ধবও নয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

বায়োমাস বা জীবভর কী?

বায়োমাস বা জীবভর হলো কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্ত জীবিত বা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর মোট ভর। এটি সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে সংরক্ষণ করে।

বায়োমাস শক্তি কীভাবে উৎপন্ন হয়?

বায়োমাস (যেমন কাঠ, পাতা, গোবর, কৃষি বর্জ্য) পোড়ালে তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপশক্তি দিয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

বায়োমাস শক্তির উৎসগুলি কী কী?

1. উদ্ভিজ্জ উৎস – কাঠ, পাতা, খড়, কৃষি বর্জ্য (ধান, গমের খড়), শৈবাল ইত্যাদি।
2. প্রাণীজ উৎস – গোবর, প্রাণীর মলমূত্র, মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ ইত্যাদি।

বায়োমাস শক্তির ব্যবহার কী?

বায়োমাস শক্তির ব্যবহারগুলো হলো –
1. বিদ্যুৎ উৎপাদন।
2. রান্নার জ্বালানি (কাঠ, কয়লা)।
3. বায়োগ্যাস উৎপাদন।
4. জৈবসার তৈরি।

বায়োগ্যাস কী? এটি কীভাবে তৈরি হয়?

বায়োগ্যাস হলো একটি জৈব জ্বালানি যা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে জৈব বর্জ্য (গোবর, কৃষি বর্জ্য) পচনের মাধ্যমে তৈরি হয়। এর প্রধান উপাদান মিথেন (50-70%), কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস।

বায়োগ্যাস ব্যবহারের সুবিধা কী?

বায়োগ্যাস ব্যবহারের সুবিধাগুলো হলো –
1. উচ্চ তাপীয় মান – বায়োগ্যাসের তাপীয় মান (35-40 kJ/g) সাধারণ কাঠ বা গোবরের চেয়ে বেশি।
2. পরিবেশ বান্ধব – এটি পোড়ালে ধোঁয়া বা বিষাক্ত গ্যাস কম উৎপন্ন হয়।
3. জৈবসার তৈরি – বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপন্ন বর্জ্য (স্লারি) জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

বায়োমাস শক্তির অসুবিধা কী?

বায়োমাস শক্তির অসুবিধাগুলো হলো –
1. সরাসরি পোড়ালে বায়ু দূষণ বাড়ে।
2. বড় পরিসরে ব্যবহারের জন্য জায়গা ও প্রযুক্তি প্রয়োজন।
2. কিছু ক্ষেত্রে কাঠ পোড়ানোর ফলে বন উজাড়ের ঝুঁকি থাকে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বায়োমাস বা জীবভর বলতে কী বোঝো? এটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়? জীবভরকে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার না করে বায়োগ্যাস ব্যবহার করার সুবিধা কী?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বায়োমাস বা জীবভর বলতে কী বোঝো? এটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়? জীবভরকে সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার না করে বায়োগ্যাস ব্যবহার করার সুবিধা কী?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “পরিবেশের জন্য ভাবনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? অথবা, পাতলা লেন্সের আলোককেন্দ্র বলতে কী বোঝায়?

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? আলোক কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? আলোক কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স কাকে বলে? উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্সের মধ্যে পার্থক্য

একটি অচল পয়সার আত্মকথা – প্রবন্ধ রচনা