এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনীকে কীভাবে আঞ্চলিক ইতিহাসের উপাদানরূপে ব্যবহার করা যায়? বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী ‘সত্তর বছর’ – টীকা লেখ।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনীকে কীভাবে আঞ্চলিক ইতিহাসের উপাদানরূপে ব্যবহার করা যায়? বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী ‘সত্তর বছর’ – টীকা লেখ।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনীকে কীভাবে আঞ্চলিক ইতিহাসের উপাদানরূপে ব্যবহার করা যায়?
বিশিষ্ট দেশনেতা বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী ‘সত্তর বৎসর’ গ্রন্থে পুরোনো কলকাতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা আঞ্চলিক ইতিহাসের এক মূল্যবান দলিল। পুরোনো কলকাতার রাস্তাঘাট, ছাত্রাবাস, প্রেসিডেন্সি কলেজ, বাবু কালচার ও মদ্যপান, মদ্যপান-নিবারণী সমিতি প্রভৃতির এক মনোজ্ঞ বিবরণ তিনি তাঁর আত্মজীবনীতে উপস্থাপন করেছেন।
বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী ‘সত্তর বছর’ – টীকা লেখ।
আধুনিক ভারতের ইতিহাসে একজন বিখ্যাত লেখক, সাংবাদিক রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত বিপিনচন্দ্র পাল। তিনি তাঁর আত্মজীবনী ‘সত্তর বছর’ গ্রন্থে তাঁর জীবনের প্রথম 22 বছরের সমকালের কথা বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থটি প্রথমে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এটি তিনি সম্পূর্ণ করেননি। ফলে মূলত এটি তার বাল্য ও কৈশোর কালের এবং কিছুটা যৌবনের স্মৃতিকথা।
সামাজিক ইতিহাস –
- সত্তর বৎসর আত্মজীবনী থেকে বিপিনচন্দ্র পালের বংশ ও পারিবারিক ইতিহাস জানা যায়। যেমন শ্রীহট্টের গ্রামজীবন, শিক্ষাব্যবস্থা ও মিশনারীদের প্রভাব, সেখানকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন জানা যায়।
- গ্রামীণ সংস্কৃতি যেমন – যাত্রাগান, পুরাণপাঠ দোল উৎসব, দুর্গোৎসব, বিবাহের নিয়ম নীতি প্রভুতি সম্পর্কে জানা যায়।
- এই আত্মজীবনী থেকে গ্রামের পাশাপাশি তৎকালীন কলকাতা শহরের সংস্কৃতি, খাদ্যাভাস, মেয়েদের জীবন রাস্তাঘাট, মদ্যপান ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানা যায়।
- তৎকালীন সমাজে নারীরা কিভাবে শোষিত হতো তার বর্ণনা এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কিভাবে রুখে দাঁড়ানো যায় তার পথের সন্ধান দিয়েছেন এই আত্মজীবনীতে।
রাজনীতিক ইতিহাস –
- সত্তর বছর গ্রন্থ থেকে সমকালীন ভারতীয়দের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও সভা-সমিতি সম্পর্কে জানা যায়।
- ব্রিটিশ সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়ের ‘ভারত সভা’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল তা জানা যায়।
- এই সময় নবগোপাল মিত্র ও তার প্রতিষ্ঠিত হিন্দু মেলার জাতীয়তাবাদী কার্যকলাপ সম্পর্কে জানা যায়।
- তাছাড়া পুরনো কলকাতা, তৎকালীন প্রেসিডেন্সি কলেজ, ব্রাহ্মসমাজ, ব্রাহ্ম সমাজের ভাঙ্গন প্রভৃতি সম্পর্কে জানা যায়।
মূল্যায়ন – যাইহোক, বিপিনচন্দ্র পাল ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন শ্রেষ্ঠ বাগ্মী ও রাজনীতিবিদ। বিনয় সরকারের মতে, তিনি ছিলেন 1905 খ্রীষ্টাব্দের বঙ্গবিপ্লবের জন্মদাতা ও নেতা। তাই তাঁর আত্মজীবনীটি সম্পূর্ণ লেখা হলে আরো অনেক কিছু ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যেত। তবে 1880 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যা পাওয়া গেছে তা ভারতীয় ইতিহাসের উপাদান হিসাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনীকে কীভাবে আঞ্চলিক ইতিহাসের উপাদানরূপে ব্যবহার করা যায়? বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী ‘সত্তর বছর’ – টীকা লেখ।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনীকে কীভাবে আঞ্চলিক ইতিহাসের উপাদানরূপে ব্যবহার করা যায়? বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী ‘সত্তর বছর’ – টীকা লেখ।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





মন্তব্য করুন