এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বদ্বীপ কাকে বলে এর বৈশিষ্ট লিখো? নদীর মোহানায় বদ্বীপ বেশি গড়ে ওঠে ব্যাখ্যা করো” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “বদ্বীপ কাকে বলে এর বৈশিষ্ট লিখো? নদীর মোহানায় বদ্বীপ বেশি গড়ে ওঠে ব্যাখ্যা করো” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বদ্বীপ কাকে বলে?
ব-দ্বীপ – নদী মোহনায় নদী যেখানে সাগর বা হ্রদে মেশে সেখানে নদীর স্রোতের বেগ খুব কম হয় বলে নদীবাহিত কাদা, পলি, বালি সঞ্চিত হয়ে মাত্রাহীন “ব” কিংবা গ্রিক অক্ষর ডেল্টার (△) ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করলে তাকে ব-দ্বীপ বলে।
ব-দ্বীপ এর নামকরণ – নীলনদের মোহনায় ত্রিকোণাকার ভূমিভাগ দেখে ঐতিহাসিক হেরোডোটাস (485-425 BC) গ্রিক অক্ষর ডেল্টার (△) সঙ্গে তুলনা করে, সেই ভূ-ভাগের নাম দেন ডেল্টা।
বদ্বীপের শ্রেণীবিভাগ –
আকৃতি অনুসারে –
- ধনুকাকৃতি বদ্বীপ (Arcuate Delta)
- পাখির পা এর মতো ব-দ্বীপ
- করাতের দাঁতের মত ব-দ্বীপ
- ত্রিকোনাকার ব-দ্বীপ
অবস্থান অনুসারে –
- সমুদ্র ব-দ্বীপ
- হ্রদ ব-দ্বীপ
- খাড়ীয় ব-দ্বীপ
নদীর মোহানায় বদ্বীপ বেশি গড়ে ওঠে ব্যাখ্যা করো।
অথবা, বদ্বীপ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ উল্লেখ করো।
নদীর মোহানায় বদ্বীপ গড়ে ওঠার কারণ –
নদীর মোহানায় সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিরূপ হল বদ্বীপ। নদীর মোহানায় বদ্বীপ গঠিত হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন।
নদীস্রোতের বেগ –
নদী মোহানায় স্রোতের বেগ কম থাকলে পার্বত্য প্রবাহে নদীবাহিত নুড়ি, কাঁকড়, বালি নদী মোহানায় সঞ্চিত হয়ে বদ্বীপ গঠন করবে।
পললরাশির পরিমাণের আধিক্য –
কোনো সমুদ্র বা হ্রদের অপসরণকারী শক্তিগুলি যে পরিমাণ পললরাশি অপসারণ করতে পারে নদীবাহিত পললরাশির পরিমাণ তার থেকে বেশি হতে হবে তবেই সমুদ্রগর্ভে ক্রমশ পললরাশি সঞ্চিত হতে থাকবে ও বদ্বীপ গঠনের বিকাশ ঘটবে।
অগভীর সমুদ্র –
মোহানার কাছে সমুদ্রের গভীরতা কম হলে, নদীর পললরাশির দ্বারা শীঘ্র ভরাট হয়ে বদ্বীপ গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কঙ্গো নদী তার দীর্ঘ গতিপথে প্রচুর পলি বহন করলেও সমুদ্রের গভীরতা অনেক বেশি বলে, এর মোহানায় বদ্বীপ গঠিত হতে পারেনি।
জোয়ারভাটা –
- সমুদ্রে জোয়ারভাটার প্রকোপ কম হলে
- সমুদ্র স্রোতের প্রাবল্য কম হলে
- সমুদ্রে নদী ধীর গতিতে প্রবেশ করলে নদীর মোহানার নিকট পললরাশির সঞ্চয়নের সুবিধা হয় এবং সহজেই বদ্বীপ গড়ে ওঠে।

সমুদ্র জলের লবণতার আধিক্য –
নদী সমুদ্রে প্রবেশ করলেই নদীর পললরাশি সমুদ্রের লবণাক্ত জলের সংস্পর্শে এসে থিতিয়ে পড়ে। যেখানে সমুদ্রের জল যত বেশি লবণাক্ত সেখানে নদীর পললরাশি তত দ্রুত অধঃক্ষিপ্ত হয়।
অন্যান্য কারণ –
- নদীর স্রোতের বিপরীত দিকে বায়ু প্রবাহিত হলে বদ্বীপ গঠনের কাজ দ্রুততর হয়।
- উন্মুক্ত সমুদ্র অপেক্ষা আবদ্ধ সমুদ্রে বদ্বীপ গঠনের কাজ দ্রুত হয়। গঙ্গা নদীর বদ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপে পরিণত হওয়ার এটি অন্যতম কারণ।
- উপকূলের গঠন, শিলাস্তরের বিন্যাস ও আকৃতি এবং সমুদ্র অভিমুখী ঢাল বদ্বীপ গঠনের অনুকূল হওয়া প্রয়োজন।
- তবে ঋতু অনুসারে নদীতে জলপ্রবাহের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে বলে সকল ঋতুতে বদ্বীপ গঠনের হার সমান থাকে না।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বদ্বীপ কাকে বলে এর বৈশিষ্ট লিখো? নদীর মোহানায় বদ্বীপ বেশি গড়ে ওঠে ব্যাখ্যা করো” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বদ্বীপ কাকে বলে এর বৈশিষ্ট লিখো? নদীর মোহানায় বদ্বীপ বেশি গড়ে ওঠে ব্যাখ্যা করো” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন