সিলিয়ার বৈশিষ্ট্য ও সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন পদ্ধতি

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সিলিয়ার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখো। সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন সংক্ষেপে উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সিলিয়ার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখো। সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন সংক্ষেপে উল্লেখ করো।

সিলিয়ার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখো। সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন সংক্ষেপে উল্লেখ করো।

সিলিয়ার বৈশিষ্ট্য-

  • সিলিয়ামের দৈর্ঘ্য খুব ছোটো (মাত্র 5-10 cm), তবে সংখ্যায় অনেক বেশি থাকে।
  • সিলিয়া গমন ছাড়াও খাদ্যগ্রহণ, রেচন প্রভৃতি কাজে সাহায্য করে।
  • এগুলি সাধারণত কোশের সমগ্র তল জুড়ে (প্রায় 2000-10,000 পর্যন্ত) থাকে।
সিলিয়ামের আণুবীক্ষণিক গঠন

সিলিয়ার সাহায্যে দুই ধরনের বিচলন দেখা যায়। এককভাবে একটি পর একটি বিচলন ঘটলে তাকে একান্তর বা মেটাক্রোনাস বলে এবং কোশের সব সিলিয়া একই সময়ে এক ছন্দে বিচলন ঘটালে, তাকে দলবদ্ধ বা সিনক্রোনাস বিচলন বলে।

সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন পদ্ধতি

Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর সিলিয়া অনুদৈর্ঘ্য সারিতে সমগ্র দেহে বিন্যস্ত থাকে। এর সাহায্যে দুই রকম পদ্ধতিতে তারা গমন সম্পন্ন করে, যথা – ক্রিপিং বা হামাগুড়ি এবং সন্তরণ। উভয় প্রকার গমনই সিলিয়ার আন্দোলনের ফলে হয়।

Paramoecium-এর গমন পদ্ধতি

ক্রিপিং বা হামাগুড়ি পদ্ধতিতে দেহের একদিকের সিলিয়ার সাহায্যে (মেটাক্রোনাস ছন্দে) কোনো তলের ওপর গ্লাইডিং পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে গমন করে। সাধারণত দেহে যে প্রান্তে সাইটোস্টোম থাকে, সেইদিকের সিলিয়াই এই কাজে ব্যবহৃত হয়।

সন্তরণ পদ্ধতিতে গমনের সময় সিলিয়ার বক্রচলনের মাধ্যমে সক্রিয় ঘাত ও প্রত্যাবর্তন ঘাতের দ্বারা জলের মধ্যে আঘাত সৃষ্টি করে। সক্রিয় ঘাত প্রাণীটিকে এগোতে সাহায্য করে, আবার রিকভারি বা প্রত্যাবর্তন ঘাতের সাহায্যে সিলিয়া আগের অবস্থানে ফিরে আসে। এভাবে পর্যায়ক্রমে মেটাক্রোনাস ও সিনক্রোনাস বিচলনের মাধ্যমে প্রাণীটি এগিয়ে যায়।

সিলিয়ার অন্তঃস্থ অণুনালিকাতে ডাইনিন নামক ATP বিশ্লিষ্টকারী প্রোটিন ATP থেকে শক্তির মুক্তি ঘটায়, যার সাহায্যে সিলিয়া সঞ্চালিত হয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

সিলিয়ার দৈর্ঘ্য সাধারণত কত হয়?

সিলিয়ার দৈর্ঘ্য খুবই ছোট, সাধারণত প্রায় 5-10 মাইক্রোমিটার (প্রায় 5-10 µm) হয়। (পাঠ্যে “cm” ছিল, কিন্তু এটা সম্ভবত “µm” বা মাইক্রোমিটারের ভুল; কারণ সিলিয়া অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়।)

একটি প্যারামিসিয়ামে কয়টি সিলিয়া থাকতে পারে?

একটি প্যারামিসিয়ামের দেহত্বকে সাধারণত প্রায় 2000 থেকে 10,000টি সিলিয়া থাকতে পারে।

সিলিয়ার বিচলন কী কী ধরনের হয়?

দুটি প্রধান ধরনের বিচলন দেখা যায় –
1. মেটাক্রোনাস বিচলন – সিলিয়াগুলো একটির পর একটি পর্যায়ক্রমে আন্দোলিত হয়।
2. সিনক্রোনাস বিচলন – সব সিলিয়া একই সময়ে এক ছন্দে আন্দোলিত হয়।

প্যারামিসিয়াম কীভাবে সাঁতার কাটে?

প্যারামিসিয়াম তার দেহে সারিবদ্ধ অসংখ্য সিলিয়ার সঞ্চালনের মাধ্যমে জলে সাঁতার কাটে। সিলিয়াগুলো মেটাক্রোনাস ও সিনক্রোনাস ছন্দে পর্যায়ক্রমে জলে আঘাত করে প্রাণীটিকে সামনে ঠেলে নিয়ে যায়।

সিলিয়া আন্দোলনের শক্তির উৎস কী?

সিলিয়ার অভ্যন্তরে অণুনালিকা (মাইক্রোটুবিউল)-এ ডাইনিন নামক একটি প্রোটিন রয়েছে, যা ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট) থেকে শক্তি মুক্ত করে। এই শক্তি ব্যবহার করে সিলিয়া সঞ্চালিত হয়।

সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার মধ্যে পার্থক্য কী?

সিলিয়া সাধারণত ছোট, সংখ্যায় অনেক বেশি এবং সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। ফ্ল্যাজেলা তুলনায় অনেক লম্বা, সংখ্যায় কম (এক বা কয়েকটি) এবং সাধারণত স্নায়ুকোষ শুক্রাণু ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। উভয়ের গঠন মূলত একই (9+2 অণুনালিকা বিন্যাস)।

সিলিয়ার অনুদৈর্ঘ্য সারি বলতে কী বোঝায়?

প্যারামিসিয়ামের সিলিয়াগুলো তার দেহের তলে সমান্তরাল সারিতে বিন্যস্ত থাকে। এগুলো দেহের অক্ষ বরাবর সাজানো থাকে, যা গমনের সময় কার্যকর দিকনির্দেশনা দেয়।

প্যারামিসিয়াম কেন সিলিয়া ব্যবহার করে?

প্যারামিসিয়াম একটি এককোষী প্রাণী; এটির কোনো অঙ্গ বা পা নেই। তাই চলাচল, খাদ্য গ্রহণ (জলের মধ্য থেকে খাদ্যকণা মুখছিদ্রে নিয়ে আসা) এবং পরিবেশে সাড়া দেওয়ার জন্য সিলিয়াই এর প্রধান মাধ্যম।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সিলিয়ার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখো। সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন সংক্ষেপে উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

পাখির উড্ডয়নে সহায়ক অঙ্গগুলির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

মাছের গমনে পাখনা ও মায়োটোম পেশির ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন করে এমন কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখো। Euglena (ইউগ্নিনা) -এর গমন পদ্ধতি

সিলিয়ার বৈশিষ্ট্য ও সিলিয়ার সাহায্যে Paramoecium (প্যারামেসিয়াম) -এর গমন পদ্ধতি