এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা কী? সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সিলিয়া কী?
সিলিয়া হল ইউক্যারিয়োটিক কোশের বহির্ভাগে থাকা আণুবীক্ষণিক, সূক্ষ্ম সুতোর ন্যায়, পর্দাবৃত প্রোটোপ্লাজমীয় প্রবর্ধক যার সংঘবদ্ধ সঞ্চালন জীবকে গমনে সাহায্য করে।
ফ্ল্যাজেলা কী?
ফ্ল্যাজেলা হল কোশের বাইরে উপস্থিত আণুবীক্ষণিক, চাবুকের ন্যায়, সিলিয়া অপেক্ষা দীর্ঘ ও মোটা সঞ্চালনে সক্ষম, পর্দাবৃত প্রোটোপ্লাজমীয় প্রবর্ধক।
সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | সিলিয়া | ফ্ল্যাজেলা |
| সংখ্যা | সিলিয়া সংখ্যায় বেশি হয়। | ফ্ল্যাজেলার সংখ্যা খুবই কম, 1টি থেকে 4টি। |
| দৈর্ঘ্য | দৈর্ঘ্য ছোটো হয়, 5-10 cm | দৈর্ঘ্য বড়ো হয়, 100-150 cm |
| দেহকোষে অবস্থান | সিলিয়া দেহকোষের সমগ্র অংশ জুড়ে থাকে। | ফ্ল্যাজেলা দেহের সামনে বা পিছনে এককভাবে বা গুচ্ছাকারে থাকে। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার গাঠনিক এককের নাম কী?
সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার গাঠনিক এককের নাম অ্যাক্সোনিম। এটি “9+2” ব্যবস্থায় সজ্জিত মাইক্রোটিউবিউল দ্বারা গঠিত, যেখানে 9টি দ্বৈত মাইক্রোটিউবিউলের বাহ্যিক বলয়ের কেন্দ্রে 2টি একক মাইক্রোটিউবিউল থাকে।
সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার প্রধান কাজ কি শুধুই গমন?
না, শুধু গমন নয়। সিলিয়ার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কোষের বহিঃপরিবেশ থেকে দ্রব্য পরিবহন ও সংবেদন গ্রহণ (যেমন – মানব শ্বাসনালীর সিলিয়া শ্লেষ্মা ও ধূলিকণা বের করে দেয়)। ফ্ল্যাজেলার মূল কাজ সাধারণত এককোষী জীবের সঞ্চরণে সাহায্য করা।
সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা কোথায় পাওয়া যায়?
সিলিয়া – কিছু প্রোটোজোয়া (যেমন – প্যারামিসিয়াম), মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্বাসনালীর এপিথেলিয়াম, ডিম্ববাহী নালী, মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল ইত্যাদি।
ফ্ল্যাজেলা – শুক্রাণু, ব্যাকটেরিয়া (গঠন ভিন্ন), ইউগলিনা, ভলভক্স প্রভৃতি এককোষী প্রাণী।
ব্যাকটেরিয়ার ফ্ল্যাজেলার সাথে ইউক্যারিওটিক ফ্ল্যাজেলার পার্থক্য কী?
ব্যাকটেরিয়ার (প্রোক্যারিওটিক) ফ্ল্যাজেলা প্রোটিন ফ্লাজেলিন দ্বারা তৈরি, এতে মাইক্রোটিউবিউল থাকে না এবং এর ঘূর্ণন গতির জন্য প্রোটন চালিত মোটর থাকে। অন্যদিকে, ইউক্যারিওটিক ফ্ল্যাজেলা (ও সিলিয়া) মাইক্রোটিউবিউল দ্বারা গঠিত এবং দোদুল্যমান গতি সম্পন্ন।
প্রাইমারি সিলিয়া (Primary Cilia) কী?
প্রাইমারি সিলিয়া হলো একপ্রকার অ-সঞ্চালনশীল সিলিয়া, যা অধিকাংশ প্রাণীকোষের পৃষ্ঠে একটি করে থাকে। এর প্রধান কাজ সংবেদী; আলো, রাসায়নিক, তরলের প্রবাহ ইত্যাদি সংকেত গ্রহণ করে। এরা গতিতে অংশ নেয় না।
সিলিয়া/ফ্ল্যাজেলা কীসের তৈরি?
এরা মূলত মাইক্রোটিউবিউল নামক সাইটোস্কেলটন প্রোটিন নলের একটি নির্দিষ্ট বিন্যাস (“9+2” বা “9+0”) থেকে তৈরি, যা কোষীয় ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে। এদের গতির জন্য ডাইনিন নামক মোটর প্রোটিন শক্তি সরবরাহ করে।
সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার চলনের প্রকৃতি কেমন?
সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার চলনের প্রকৃতি –
1. সিলিয়া – সাধারণত দোলক বা মেটাক্রোনাল তরঙ্গ সৃষ্টি করে, যেখানে অনেকগুলো সিলিয়া সমন্বিতভাবে একের পর এক দোলে।
2. ফ্ল্যাজেলা – সাধারণত চাবুকের মতো সর্পিল বা তরঙ্গীয় গতি তৈরি করে, যা কোষটিকে সামনে ঠেলে নেয়।
সিলিয়া/ফ্ল্যাজেলা না থাকলে কী সমস্যা হয়?
এর অকার্যকারিতা বা অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। যেমন – কার্টেজেনার সিনড্রোম (শ্বাসনালীর সিলিয়ার গতি বিঘ্নিত হওয়া), পুরুষের বন্ধ্যাত্ব (শুক্রাণুর ফ্ল্যাজেলার গতি না থাকা), কিডনি ও চোখের সমস্যা (প্রাইমারি সিলিয়ার কার্যকারিতা হারানো) ইত্যাদি।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলা কী? সিলিয়া ও ফ্ল্যাজেলার মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন