অষ্টম শ্রেণি বাংলা – জেলখানার চিঠি – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘জেলখানার চিঠি’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

জেলখানার চিঠি - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

নেতাজি ভবিষ্যতের কোন্ কর্তব্যের কথা এই চিঠিতে বলেছেন? কেন এই কর্তব্য স্থির করেছেন? কারা-শাসন প্রণালী বিষয়ে কাদের পরিবর্তে কাদের প্রণালীকে তিনি অনুসরণযোগ্য বলে মনে করেছেন?

নেতাজি ভবিষ্যতে কারাসংস্কার করাকে নিজের একটা কর্তব্য বলে মনে করেছেন। তাঁর এমন কর্তব্য স্থির করার কারণ—অনেকদিন জেলে বাস করার পর কারাশাসনের একটা আমূল সংস্কারের একান্ত প্রয়োজনের দিকে তাঁর চোখ খুলে গিয়েছিল। কারাশাসনের প্রণালী নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তিনি ব্রিটিশ-প্রণালীর অনুসরণের পরিবর্তে আমেরিকার ইউনাইটেড স্টেটস-এর মতো উন্নত দেশগুলির ব্যবস্থাই অনুসরণযোগ্য বলে মনে করেন। কারণ, ভারতীয় কারাশাসন প্রণালী অর্থাৎ ব্রিটিশ-প্রণালী একটা খারাপ আদর্শের অনুসরণমাত্র।

‘সেজন্য খুবই খুশি হয়েছি।’ – বক্তা কে? তিনি কীজন্য খুশি হয়েছেন?

প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তিটির বক্তা ‘জেলখানার চিঠি’ রচনাটির লেখক স্বয়ং সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর খুশি হয়ে ওঠার কারণ, তাঁর প্রিয় বন্ধু দিলীপ রায় 24/3/25 তারিখে তাঁকে যে পত্র প্রেরণ করেছিলেন, তা প্রাপ্তির আনন্দ। তাছাড়া পত্রপ্রেরকের আশঙ্কা অনুযায়ী এবারের চিঠিটিকে ‘double distillation’-এর ভিতর দিয়ে আনতে হয়নি

‘আমার পক্ষে এর উত্তর দেওয়া সুকঠিন।’ – কে, কাকে এ কথা বলেছেন? কীসের উত্তর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?

সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর প্রিয় বন্ধু দিলীপ রায়কে পত্রের মধ্যে প্রশ্নে প্রদত্ত কথাটি বলেছেন। বন্ধুর চিঠি পেয়ে সুভাষচন্দ্র যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলেন। সেই চিঠি তাঁর হৃদয়তন্ত্রীকে এমনই কোমলভাবে স্পর্শ করেছিল এবং তাঁর চিন্তা ও অনুভূতিকে অনুপ্রাণিত করেছিল যে—তার উত্তর দেওয়া অত্যন্ত সুকঠিন ছিল তাঁর পক্ষে।

‘পরের বেদনা সেই বুঝে শুধু যে জন ভুক্তভোগী।’ – উদ্ধৃতির সমার্থক বাক্য পত্রটি থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো। সেই বাক্যটি থেকে লেখকের কোন্ মানসিকতার পরিচয় পাও?

উপর্যুক্ত উদ্ধৃতিটির সমার্থক যে বাক্য পত্রের মধ্যে রয়েছে, তা হলো—”আমার মনে হয় না, আমি যদি স্বয়ং কারাবাস না করতাম তাহলে একজন কারাবাসী বা অপরাধীকে ঠিক সহানুভূতির চোখে দেখতে পারতাম।” পত্রমধ্যে খুঁজে পাওয়া বাক্য থেকে লেখক অর্থাৎ সুভাষচন্দ্র বসুর অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতির মানসিকতার পরিচয় লক্ষ করা যায়। কারাবাসের সমস্ত আবহাওয়া মানুষকে অনেকাংশে বিকৃত, অমানুষ করে তোলে। অপরাধীদের প্রবৃত্তিগুলি অধিকাংশেই মানসিক ব্যাধি—এমন ধারণার প্রয়োজন। বাক্যটি থেকে লেখকের উক্ত মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

‘আমার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে অনেকখানি লাভবান হতে পারব।’ – কোন্ প্রসঙ্গে বক্তার এই উক্তি? জেলজীবনে তিনি আধ্যাত্মিক দিক থেকে কীভাবে লাভবান হওয়ার কথা বলেছেন?

জেলের মধ্যে বন্দি অবস্থায় মানুষকে অনেক সুখ বিসর্জন দিতে হয়। কিন্তু এখানে চরম নির্জনতার মধ্যে মানুষকে বাধ্য হয়ে দিন কাটাতে হয় বলে, সেই নির্জনতাই আবার তাকে জীবনের চরম সমস্যাগুলি তলিয়ে বোঝার সুযোগ দেয়। এ প্রসঙ্গেই লেখকের প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তি। জেলজীবনে লেখক আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে লাভবান হওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য—তিনি ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে বছরখানেক ধরে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু তার সঠিক সমাধান হচ্ছিল না। জেলজীবনের নির্জনতায় বছরখানেকে তা যেন সমাধানের দিকে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে অনেক মতামতই তিনি এখন স্পষ্ট করে অনুভব করতে পারছেন। তাই ভবিষ্যতে আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে তিনি অনেকখানি লাভবান হতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেছেন।

‘Martyrdom’ শব্দটির অর্থ কী? এই শব্দটি উল্লেখ করে বক্তা কী বক্তব্য রেখেছেন?

‘Martyrdom’ শব্দটির অর্থ হলো—শহিদত্ব। বন্ধু দিলীপ রায় তাঁর চিঠিতে সুভাষচন্দ্রের অকারণ বন্দিত্বকে ‘Martyrdom’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সুভাষচন্দ্র স্বীকার করে নেন তাঁর প্রতি বন্ধুর গভীর অনুভূতি ও প্রাণের মহত্ত্বকে। কিন্তু এ প্রসঙ্গে বলেন—তাঁর যেটুকু humour এবং proportion জ্ঞান আছে, তাতে নিজেকে Martyr বলে মনে করার মতো স্পর্ধা নেই। যদিও স্পর্ধা বা আত্মম্ভরিতা জিনিসটা তিনি এড়িয়ে চলতেই চান। তাই তাঁর মনে হয়েছে ‘Martyrdom’ জিনিসটা তাঁর কাছে এক মহৎ আদর্শ ছাড়া আর কিছু নয়।

‘যখন আমাদিগকে জোর করে বন্দি করে রাখা হয় তখনই তাদের মূল্য বুঝতে পারা যায়।’ – কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে? ‘তাদের মূল্য’ বিষয়ে লেখকের বক্তব্য আলোচনা করো.

কোনো ব্যক্তি যদি দীর্ঘদিন কারাবাসের মধ্যে অতিবাহিত করেন, তবে তাঁর অকালবার্ধক্য আসতে বাধ্য। অবশ্য সে-বিষয়ে ওই ব্যক্তি যদি সদাসতর্ক থাকে, তবে অন্যকথা। দীর্ঘ কারাবাসের ফলে কীভাবে মানুষ ধীরে ধীরে দেহে-মনে অকালবৃদ্ধ হয়ে যেতে পারে এবং কিছু কিছু বিষয়ে তীব্র অভাববোধে তা কেমন করে ত্বরান্বিত হয়, সে-প্রসঙ্গেই প্রশ্নে প্রদত্ত উক্তিটি করা হয়েছে। এখানে ‘তাদের মূল্য’ বলতে লেখক সেইসব বিষয়কে বুঝিয়েছেন, যা বন্দিজীবনে একেবারেই থাকে না। জেলে বন্দিত্ব অর্থে নিছক বন্দিত্ব, যা ক্রমে মানুষকে মৃতকল্প করে তোলে। পিকনিক, বিশ্রাভালাপ, সংগীতচর্চা, সাধারণ বক্তৃতা, খোলা জায়গায় খেলাধুলা করা, মনমতো কাব্যসাহিত্যের চর্চা করা—জেলজীবনে মানসিক মুক্তির বার্তা নিয়ে আসতে সক্ষম বলে লেখক মনে করেছেন। তিনি মনে করেছেন ব্যক্তিজীবনে এগুলির মূল্য সচরাচর আমরা বুঝি না। কিন্তু যখন আমাদের জোর করে বন্দি করে রাখা হয়, তখনই ‘তাদের মূল্য’ বোঝা যায়।

‘মানুষের পারিপার্শ্বিক অবস্থা কী কঠোর ও নিরানন্দময়।’ – যে ঘটনায় লেখকের মনে এই উপলব্ধি ঘটে তার পরিচয় দাও।

জেলে জীবনযাপন করতে করতে অগ্নিযুগের প্রখ্যাত সংগ্রামী সুভাষচন্দ্র বসুর তীব্রভাবে উপলব্ধি হয়—’জেলের কষ্ট দৈহিক অপেক্ষা মানসিক’। তিনি মনে করেন—জেলে যেখানে অত্যাচার ও অপমানের আঘাত অপেক্ষাকৃত কম আসে, সেখানে বন্দিজীবনের যন্ত্রণাও কম হয়। এই ধরনের কাজ কয়েদিদের উপর জেলের কর্তারা নয়, উপরতলার মানুষেরাই বেশি করে। তাই এতে করে আঘাতকারীদের উপর মানুষের মন চরম বিরূপ হয়ে ওঠে। কিন্তু এর একটা উলটো দিকও লেখক দেখতে পেয়েছেন, সেটি হলো পাছে বন্দিরা তাদের পার্থিব অস্তিত্ব ভুলে যায় এবং নিজ মনে একটা আনন্দজগৎ গড়ে তোলে। তাই এসব আঘাত তাদের উপর বর্ষিত হয়ে যেন বলে দেয়—মানুষের চারপাশের অবস্থা কত কঠোর ও আনন্দহীন।

এই চিঠিতে কারাবন্দি অবস্থাতেও দুঃখকাতর, হতাশাগ্রস্ত নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী ও আশাবাদী নেতাজির পরিচয়ই ফুটে উঠেছে। পত্রটি অবলম্বনে নিজের ভাষায় মন্তব্যটির যাথার্থ্য পরিস্ফুট করো।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন একজন রাজনৈতিক বন্দি। ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় বিপ্লবীদের উপর তাদের দমননীতি প্রয়োগ করে বীর বিপ্লবীদের অকারণে কারাবন্দি করে রাখত। নেতাজি ছিলেন একাধারে গভীর চিন্তাবিদ এবং মহান বিপ্লবী। আইসিএস হওয়ার সুবাদে তাঁর প্রশাসনিক বিষয়ে ভাবনাচিন্তাও ছিল প্রাঞ্জল। তাই অকারণে এবং সম্পূর্ণ অজ্ঞাতকারণে তাঁকে যখন কারাবাস করতে হয়েছে এবং তার মেয়াদ যখন নিতান্ত ছোটো থাকেনি, তখনও তাঁর মধ্যে দুঃখকাতরতা এবং হতাশাগ্রস্ততার পরিচয় প্রকাশিত হতে দেখা যায়নি। বরং বন্ধু দিলীপ রায়কে লিখিত এই পত্রে তাঁর চরম আত্মবিশ্বাস ও আশাবাদী পরিচয়ই প্রকাশিত হতে দেখা যায়। অকারণে কারাবাসকে তিনি আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে দেখতে চেয়েছেন। তিনি মানসিক দিক দিয়ে ভেঙে পড়েননি। কারাবাসের যন্ত্রণার দিককে দেখে তিনি ভেবেছেন—’ভবিষ্যতে কারা-সংস্কার আমার একটা কর্তব্য হবে।’ কারাবাসের দুঃখকে অতিক্রম করে তিনি একসময় এও ভেবেছেন—’আমাদের সমস্ত দুঃখকষ্টের অন্তরে একটা মহত্তর উদ্দেশ্য কাজ করছে।’ এ আশাবাদেরই নমুনা। বন্দিদশায় তাঁর মধ্যে একটা দার্শনিক ভাব অন্তরশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। দুঃখের অশ্রুকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি তার মধ্যে করুণা ও প্রেমবিন্দু দেখেছেন। বলেছেন—’দুঃখ-যন্ত্রণা উন্নততর কর্ম ও উচ্চতর সফলতার অনুপ্রেরণা এনে দেবে।’

কারাগারে বসে নেতাজির যে ভাবনা, যে অনুভব, তার অনেকখানি কেন অকথিত রাখতে হবে?

কারাজীবনে অসহ্য অবকাশ পাওয়া সম্ভব। চিন্তাশক্তিহীন ব্যক্তির কাছে তা কাজে লাগানোর কোনো তাগিদ না থাকলেও, চিন্তাবিদ ব্যক্তি তা পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারে। যেমন ঘটেছিল অগ্নিযুগের মহান বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ক্ষেত্রে। কারাগারে বসে নেতাজি অজস্র সম্ভাবনা বা গভীর অনুভবের দ্বারা তাড়িত হয়েছিলেন। কিন্তু তার লিখিত রূপ রেখে দেওয়া হয়তো তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিলিনায়ক। এমনকি তাঁর প্রেরিত চিঠিপত্রও যে censor-এর বাঁধনে আটকে যেতে পারত, সে আশঙ্কাও তিনি প্রকাশ করেছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে তাঁর মনে হয়েছে—’এটা কেউ চায় না যে, তার অন্তরের গভীরতম প্রবাহগুলি দিনের উন্মুক্ত আলোতে প্রকাশ হয়ে পড়ুক।’ এজন্যই তাঁর মনে হয়েছে, পাথরের প্রাচীর ও লৌহদ্বারের আড়ালে বসে তিনি আজ যা ভাবছেন বা অনুভব করছেন, তার অনেকখানিই কোনো এক ভবিষ্যৎকাল পর্যন্ত অকথিতই রাখতে হবে।

জেলখানার আবহাওয়া বন্দি মানুষের উপর কীরকম প্রভাব ফেলে?

জেলখানার অভ্যন্তরের ব্যাপার-স্যাপার অনেকটা অস্বাভাবিক। মুক্ত জীবনের মতো ঘটনাপ্রবাহ সেখানে থাকা সম্ভব নয়। কারাশাসন প্রণালীর ত্রুটিবিচ্যুতি তার উপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই জেলখানার সমস্ত আবহাওয়া বা পরিস্থিতি যেন বন্দি মানুষকে বিকৃত অমানুষ করে তোলার উপযোগী। সব জেল প্রসঙ্গেই এমন ধারণা করা যেতে পারে।

‘অপরাধীদের অধিকাংশেরই কারাবাসকালে নৈতিক উন্নতি হয় না’ – এ প্রসঙ্গে লেখকের আরও বক্তব্য কী?

কারাবাসকালে অপরাধীদের নৈতিক উন্নতি তো হয়ই না, বরং তারা যেন আরও হীন হয়ে পড়ে। নিজে কারাবাস করে লেখকের মনে হয়েছে কারাশাসনের একটা আমূল সংস্কারসাধন প্রয়োজন। ভবিষ্যতে সুযোগ এলে এ কর্তব্য তিনি সাধন করবেন। সেক্ষেত্রে ব্রিটিশ-প্রণালীর খারাপ আদর্শের অনুসরণ না করে, তিনি আমেরিকার মতো উন্নত ব্যবস্থা অনুসরণকে গুরুত্ব দিতে চান।

‘সাধারণত একটা দার্শনিক ভাব বন্দিদশায় মানুষের অন্তরে শক্তির সঞ্চার করে।’ – লেখকের এমন অভিমতের পিছনে নিজস্ব উপলব্ধি কী?

লেখক সুভাষচন্দ্র বসু উচ্চশিক্ষিত, বিদেশ থেকে প্রত্যাগত এবং পরাধীন ভারতের এক উচ্চস্তরীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী। দর্শনশাস্ত্র সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব পাঠাভ্যাস ছিল। দেশের কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে অকারণ ও অযৌক্তিকভাবে তিনি বন্দি বলে তাঁর মধ্যে একটা দার্শনিক ভাব কাজ করত। এ ক্ষেত্রে যেন জেলখানাই তাঁর ভাবনালোকের আশ্রয় ছিল। তাছাড়া তিনি ফিলোজফি বা দর্শন বিষয়ে পড়াশোনাও করেছিলেন অনেক। তিনি বুঝেছিলেন—’মানুষ যদি তার নিজের অন্তরে ভেবে দেখার যথেষ্ট বিষয় খুঁজে পায়, বন্দি হলেও তার কষ্ট নেই।’

মহারাষ্ট্রের স্বনামধন্য নেতা লোকমান্য তিলক সম্বন্ধে লেখকের ধারণা কী?

লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক ছিলেন একজন সর্বভারতীয় নেতা ও বিপ্লববাদী। স্বয়ং সুভাষচন্দ্র তাঁকে অন্তর থেকে গভীর মান্যতা দিতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল—লোকমান্য তিলক অন্তরে যত শক্তিমান ছিলেন, দেহে তত দৃঢ়তা ছিল না তাঁর। দীর্ঘ কারাবাসকালে গীতার আলোচনা লেখার সময় মনের সুখ তাঁর মানসিক শক্তির পরিচায়ক; এবং মান্দালয় জেলে ছ-বছরের বন্দিত্বের ধকল তাঁর দেহ সহ্য করতে পারেনি বলেই সম্ভবত তাঁর অকালমৃত্যু হয়।

লেখক কীভাবে জেলখানার রাজনৈতিক ও সাধারণ বন্দিদের মধ্যে তুলনা করেছেন?

লেখক মনে করেন—নিজের লোক, প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব বা সর্বসাধারণের সহানুভূতি ও শুভেচ্ছা জেলের মধ্যেও মানুষকে অনেকটা সুখী করতে পারে। এভাবেই সাধারণ ও রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে ভাগ্যের একটা তফাত ঘটে যায়। রাজনৈতিক অপরাধী মুক্তি পেলে সমাজ তাকে সাদরে বরণ করে নেবে, কিন্তু সাধারণ অপরাধী তার বাড়ি ছাড়া কোথাও কোনো সহানুভূতি আশাই করতে পারে না। এজন্যই সে মুক্তি পেলে সাধারণের কাছে আত্মপ্রকাশে লজ্জিত হয়।

‘সুতরাং এ-দিকে তার বিশেষ সতর্ক থাকাই উচিত।’ – কেন সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে?

কোনো মানুষ যদি বেশ কিছু সময় ধরে কারাজীবন যাপন করে থাকেন, তাহলে সেই ব্যক্তি দৈহিকভাবে ও মানসিকভাবে অকালবৃদ্ধ হয়ে পড়েন। বন্দিজীবন ধীরে ধীরে মানুষের মনের উপর চরম প্রভাব ফেলে থাকে। একদিকে জেলখানার খারাপ খাদ্য, ব্যায়াম বা আনন্দের অভাব যেমন দায়ী, তেমনি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা, বন্ধুদের অভাব সর্বোপরি জীবনে বেঁচে থাকার স্পৃহা না থাকার বোধ ধীরে ধীরে মানুষের মনে বদ্ধমূল হয়ে যায়। যার দরুন ব্যক্তিমানুষটির স্বাভাবিক উচ্ছলতা কমে আসে এবং নিজস্ব এক জগতের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকে। আর এই সমস্ত কারণেই তাঁর দেহে ও মনে অকালবার্ধক্য দেখা যায়।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘জেলখানার চিঠি’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

স্বাধীনতা - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – স্বাধীনতা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

স্বাধীনতা - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – স্বাধীনতা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

স্বাধীনতা - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – স্বাধীনতা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – স্বাধীনতা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – স্বাধীনতা – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – স্বাধীনতা – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – স্বাধীনতা – বিষয়সংক্ষেপ

অষ্টম শ্রেণি বাংলা – জেলখানার চিঠি – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর