এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘লোকটা জানলই না’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

‘লোকটা জানলই না।’ – কোন্ লোকটার কথা বলা হয়েছে? তার কী জানা হয়নি আলোচনা করে বুঝিয়ে দাও।
প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘লোকটি জানলই না’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্ত কবিতায় বর্ণিত অর্থসর্বস্ব ‘লোকটা’র কথা এখানে বলা হয়েছে।
লোকটা অর্থের পিছনে ছুটেছে আজীবন। তার বাঁ-দিকের বুক পকেটটা সামলেছে ভালোভাবে। অথচ আরও একটু নীচে হাত দিলেই তিনি বুঝতে পারতেন অস্থিমজ্জার ভিতরে সুরক্ষিত আছে যে হৃদয়, সেই হৃদয় পার্থিব সকল সম্পদের থেকেও মূল্যবান। কোনো অর্থসম্পদ দিয়েই হৃদয়ের ঐশ্বর্যকে পরিমাপ করা যায় না-এই হৃদয়ের অস্তিত্বের কথা অর্থসর্বস্ব লোকটার জানা হয়নি।
লোকটার গৃহে ধনলক্ষ্মী অধিষ্ঠান করেছেন, অর্থাৎ বহু সম্পদ তিনি সঞ্চয় করেছেন এবং সেগুলিকে আগলে রাখার জন্য পাহারার ব্যবস্থাও করেছেন দেয়ালের মাধ্যমে। প্রকৃতির সংস্পর্শ থেকে দূরে রেখেছেন নিজেকে। গোগ্রাসে গিলেছেন অর্থ কিন্তু এমনভাবেই চলতে চলতে কখন যে জীবনটাও খসে পড়ল, মৃত্যুর অতলে হারিয়ে গেল জীবন-সেটাও লোকটা জানতে পারল না।
অর্থাৎ লোকটা যেমন জানতে পারেনি হৃদয়ের উপস্থিতির কথা, তেমনই জানতে পারেনি হৃদয়ের অন্তর্ধানের কথাও।
‘লোকটা জানলই না’ কবিতার নামকরণ কতটুকু সার্থক আলোচনা করে বুঝিয়ে দাও।
সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল নামকরণ। প্রধানত নামকরণের মাধ্যমেই রচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগাম ধারণা করা যায়। নামকরণ নানা প্রকারের হতে পারে – বিষয়মুখী, চরিত্র প্রধান, ব্যঞ্জনাধর্মী ইত্যাদি। এবার আলোচনা করে দেখা যাক যে, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘লোকটা জানলই না’ কবিতার নামকরণ কতটা সার্থক।
আলোচ্য কবিতায় যন্ত্রসভ্যতার পেষণে পিষ্ট এক হৃদয়হীন মানুষের কথা তুলে ধরেছেন কবি। মানুষটি সারাজীবন ধরে তার বুকপকেটটি সামলে চলেছে, যেখানে সে গচ্ছিত রেখেছে অর্থ। সভ্যতার ইঁদুরদৌড়ে টিকে থাকার জন্য ছুটেছে অর্থের পিছনে। অর্থ এসেছে লক্ষ্মী হয়ে, তাকে আগলে রাখার জন্য চার দেয়ালের গণ্ডিটাকে শক্তিশালী করতে হয়েছে-এতেই চলে গেছে তার সারাটা জীবন। অথচ ওই পকেটের নীচেই চামড়ার আবরণে আবৃত সে হৃদয় ছিল, যে হৃদয় লোকটাকে দিতে পারত আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতোই অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা – সেই খবরই কোনোদিন পাওয়ার চেষ্টা করেনি ‘লোকটা’। অর্থ এসেছে পকেটে, বাড়ি হয়েছে মস্ত; কিন্তু হারিয়ে গেছে হৃদয়। চার দেয়ালের গণ্ডিতে আবদ্ধ থেকে নিজেই সেখানে প্রাকৃতিক বাতাসের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তার বুকের মধ্যে লুকিয়ে ছিল যে হৃদয়, সেই হৃদয়ের উপস্থিতি সে যেমন অনুভব করেনি কখনও; একইভাবে অর্থের পিছনে ছুটতে ছুটতে কখন যে সেই হৃদয় তাকে ছেড়ে চলে গেছে, তাও জানা হয়নি লোকটার। অর্থাৎ অর্থের চেয়েও ঐশ্বর্যবান মানুষের অন্তর বা হৃদয় – সেই চিরসত্যকে কোনোদিনই জানা হল না মানুষটির। কবি সে-কথাই প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন কবিতাটিতে।
তাই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, কবিতাটির নামকরণ ‘লোকটা জানলই না’ ব্যঞ্জনাময় ও সার্থক হয়েছে।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের নবম পাঠের অন্তর্গত ‘লোকটা জানলই না’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment