এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের তৃতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘পথচলতি’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
‘পথচলতি’ গল্পটি রচনা করেছেন বাঙালি শিক্ষাবিদ – (অমিয় চক্রবর্তী / শিবনাথ শাস্ত্রী / সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়)।
উত্তর – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
‘পথচলতি’ গল্পের কথক শ্বশুরালয় গয়া থেকে ফিরছিলেন – (ভুবনেশ্বরে / দিল্লিতে / কলকাতায়)।
উত্তর – কলকাতায়।
কাবুলিওয়ালা পাঠানদের মাতৃভাষা ছিল – (ফারসি / পশতু / উর্দু)।
উত্তর – পশতু।
আফগানিস্তানের শিক্ষিতজনের ভাষা হল – (হিন্দি / ফারসি / পশতু)।
উত্তর – ফারসি।
পাঠানরা জবরদস্ত এবং মারমুখী হলেও কিন্তু – (ভদ্রসভ্য / শিশুসুলভ / রাসভারী)।
উত্তর – শিশুসুলভ।
বৃদ্ধ আগা সাহেবের ডেরা ছিল বাংলাদেশের – (নোয়াখালি / পটুয়াখালি / চট্টগ্রাম)।
উত্তর – পটুয়াখালি।
খুশ-হাল খাঁ খট্টকের বিখ্যাত গান হল – (গজল / ঠুংরি / খেয়াল)।
উত্তর – গজল।
শূন্যস্থান পূরণ করো
ব্যাপারটা খুব সম্ভবত 1928 সালে ___ ঘটেছিল।
উত্তর – ব্যাপারটা খুব সম্ভবত 1928 সালে শীতকালে ঘটেছিল।
শ্বশুরালয় ___ থেকে ফিরছি।
উত্তর – শ্বশুরালয় গয়া থেকে ফিরছি।
আমি দু-চারটি ___ কথা বলতে পারি।
উত্তর – আমি দু-চারটি ফারসি কথা বলতে পারি।
ওরা একটু যেন ___ হয়ে গেল।
উত্তর – ওরা একটু যেন হতভম্ব হয়ে গেল।
যেন এক মস্ত ___ এসেছে।
উত্তর – যেন এক মস্ত আলেম এসেছে।
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীর নাম কী?
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীর নাম ‘জীবনকথা’।
ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে কোন্ গ্রন্থ রচনার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন?
ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে ‘The Origin and Development of the Bengali Language’ গ্রন্থটির জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
লেখকের কোন্ ট্রেন ধরার কথা ছিল?
লেখকের দেহরা-দুন এক্সপ্রেস ধরার কথা ছিল।
একটা তৃতীয় শ্রেণির বগির কাছে একেবারেই লোকের ভিড় নেই কেন?
তৃতীয় শ্রেণির বিরাট বগিটি গুটিকতক কাবুলিওয়ালার দখলে থাকার জন্য সেখানে একেবারেই লোকের ভিড় নেই।
পাঠানদের মাতৃভাষা কী?
পাঠানদের মাতৃভাষা হল ‘পশতু’।
বৃদ্ধ পাঠানের ডেরা বাংলাদেশের কোথায় ছিল?
বৃদ্ধ পাঠানের ডেরাটি ছিল বাংলাদেশের পটুয়াখালিতে।
খুশ-হাল খাঁ খট্টক কে ছিলেন?
আওরঙ্গজেবের সময়ের মানুষ খুশ-হাল খাঁ খট্টক ছিলেন ‘পশতু’ ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি।
আদম খাঁ ও দুরখানির কিসসার কাহিনি কেমন?
আদম খাঁ ও দুরখানির কিসসার কাহিনি হল ‘দিল-ভাঙা’।
‘পথচলতি’ পাঠ্যে কোন্ বাংলা মাসিকপত্রের উল্লেখ আছে?
এই পাঠ্যে ‘প্রবর্তক’ মাসিকপত্রটির উল্লেখ আছে।
রোজার উপোসের আগে কাবুলিওয়ালারা ভরপেট কী খেয়েছিল?
রোজার উপোসের আগে কাবুলিওয়ালারা ভরপেট খেয়েছিল বড়ো বড়ো পাঠান ‘রোটা’ আর ‘কাবাব’।
‘তসবিহ’ শব্দের অর্থ কী?
‘তসবিহ’ শব্দটির অর্থ হল মালা জপ করা।
আরবি ভাষায় ঈশ্বরের নিরানব্বইটি পবিত্র ও সুন্দর নামকে কী বলা হয়?
আরবি ভাষায় ঈশ্বরের নিরানব্বইটি পবিত্র ও সুন্দর নামকে ‘নব্বদ্-ও-নও অসমা-ই-হাসানা’ বলা হয়।
‘পথচলতি’ গল্পের কথক শ্বশুরালয় গয়া থেকে কলকাতা ফিরছিলেন কবে?
‘পথচলতি’ গল্পের কথক শ্বশুরালয় গয়া থেকে কলকাতা ফিরছিলেন 1928 খ্রিস্টাব্দে।
ফারসি কাদের ভাষা?
ফারসি হল আফগানিস্তানের শিক্ষিতজনের ভাষা।
আগা সাহেব কোন্ ভাষা মাতৃভাষার মতোই বলতে পারেন?
আগা সাহেব বরিশাইল্যা ভাষা মাতৃভাষার মতোই বলতে পারেন।
খুশ-হাল খাঁ খট্টক কার সময়ের মানুষ?
খুশ-হাল খাঁ খট্টক সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ের মানুষ।
পশতু ভাষায় কোন্ কোন্ শব্দ আছে?
পশতু ভাষায় প্রচুর ফারসি ও আরবি শব্দ আছে।
বৃদ্ধ আগা সাহেব খুব ভোরে উঠে কী করছিলেন?
বৃদ্ধ আগা সাহেব খুব ভোরে উঠে বসে ‘তসবিহ’ বা মালা জপ করছিলেন।
তৃতীয় শ্রেণির কামরার দিকে কেউ এগোলে পাঠানরা কী বলেছে?
‘পথচলতি’ গল্পে তৃতীয় শ্রেণির কামরার দিকে কেউ এগোলে পাঠানরা হুংকার ছেড়ে বলছে – ‘ইয়ে গাড়ে তোমারা ওয়াস্তে নেহি-জো তুম উদর’। জবরদস্ত চেহারার কাবুলিওয়ালা পাঠানরা এই হুংকার দিয়ে লোক ঠেকিয়ে রাখছে।
কথক তৃতীয় শ্রেণির বগির ভিতর ঢুকতেই পাঠানরা কী করল?
কথক তৃতীয় শ্রেণির বগির ভিতরে ঢুকতেই পাঠানরা একটা পুরো বেঞ্চ তাঁকে খালি করে দিল। শুধু তাই নয় – ‘যেন এক মস্ত আলেম এসেছেন’ – এইভাবে তাঁকে একটু সমীহও করতে লাগল তারা।
সমস্ত গাড়িটা কীসের গন্ধে ভরপুর ছিল?
সমস্ত বগিটা কাবুলিওয়ালাদের বাসি কাপড়চোপড়, দেহ নিঃসৃত ঘামের দুর্গন্ধ আর তার সঙ্গে হিং-এর উগ্র গন্ধে ভরপুর ছিল।
কথককে পাঠানরা ভালোবেসে কীসের মর্যাদা দিলেন?
পাঠানদের সঙ্গে কথক এমনভাবে মিশে গেলেন যে, তারা ভালোবেসে এবং আবেগে উৎফুল্ল হয়ে তাঁকে কলকাতার ‘কাবুলি ব্যাংক’-এর হিসাবনবিশ কেরানি বা ম্যানেজারের মর্যাদা দিলেন।
একজন পাঠান খুশ-হাল খাঁ খট্টকের গজল কীভাবে গাইলেন?
একজন পাঠান তাঁর ভাবের আতিশয্যে, একবার কানে হাত দিয়ে, আবার বুকে হাত দিয়ে ওই খুশ-হাল খাঁ খট্টকের পশতু গজল গাইতে লাগলেন।
কথককে এক পাঠান আদম খাঁ দুরখানির কিসসা কেমন করে শোনালেন?
কথককে এক পাঠান অতি কর্কশ অথচ গুরুগম্ভীর কণ্ঠে কিছুটা গান করে এবং কিছুটা পাঠ করে শোনাতে লাগলেন আদম খাঁ দুরখানির কিসসা।
ব্যাকরণ
নিম্নলিখিত শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করো –
হুংকার, স্বস্তি, বিষয়ান্তর।
| প্রদত্ত শব্দ | সন্ধি বিচ্ছেদ |
| হুংকার | হুম্ + কার |
| স্বস্তি | সু + অস্তি |
| বিষয়ান্তর | বিষয় + অন্তর |
নিম্নলিখিত শব্দগুলির প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয় করো –
ফিরতি, আভিজাত্য, জবরদস্ত, নিবিষ্ট, উৎসাহিত।
| প্রদত্ত শব্দ | প্রকৃতি-প্রত্যয় |
| ফিরতি | ফির + তি |
| আভিজাত্য | অভিজাত + য |
| জবরদস্ত | জবরদস্ত + অ |
| নিবিষ্ট | নি + বিশ্ + ত |
| উৎসাহিত | উৎসাহ + হিন্ + ত (বা উৎসাহ + ইত) |
ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো –
শীতবস্ত্র, মাতৃভাষা, শিশুসুলভ, ত্রিসীমানা।
| সমাসবদ্ধ পদ | ব্যাসবাক্য | সমাসের শ্রেণি |
| শীতবস্ত্র | শীত নিবারণকারী বস্ত্র | মধ্যপদলোপী কর্মধারয় |
| মাতৃভাষা | মায়ের ভাষা | সম্বন্ধ তৎপুরুষ |
| শিশুসুলভ | শিশুর ন্যায় সুলভ | সাধারণ কর্মধারয় |
| ত্রিসীমানা | তিন সীমানার সমাহার | দ্বিগু |
নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো –
গাড়িতে সেদিন অসম্ভব ভিড় দেখা গেল। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর – গাড়িতে সেদিন কম ভিড় ছিল না।
কাবুলিওয়ালা পাঠানদের মাতৃভাষা পশতুর সম্মান তখন ছিল না। (প্রশ্নবোধক বাক্যে)
উত্তর – কাবুলিওয়ালা পাঠানদের মাতৃভাষা পশতুর কি তখন কোনো সম্মান ছিল?
কলকাতার ভাষা তাঁর আয়ত্ত হয়নি। (জটিল বাক্যে)
উত্তর – কলকাতার যে ভাষা, তা তাঁর আয়ত্ত হয়নি।
দুই-একজন মাঝে-মাঝে এক-আধ লবজ ফারসি বললে বটে, কিন্তু এদের বিদ্যেও বেশিদূর এগোল না। (সরল বাক্যে)
উত্তর – দুই-একজন মাঝে-মাঝে এক-আধ লবজ ফারসি বললেও এদের বিদ্যেও বেশিদূর এগোল না।
বাংলাদেশে তোমার ডেরা কোথায়? (নির্দেশক বাক্যে)
উত্তর – বাংলাদেশে তুমি কোথায় থাকো বলো।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের তৃতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘পথচলতি’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন