অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – পথচলতি – ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পথচলতি অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলি পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইভাবে পথচলতি অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলি যদি তোমরা প্রস্তুত করে না যাও তাহলে পরীক্ষায় পথচলতি অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলোর উত্তর দিতে পারবে না। তাই পথচলতি অধ্যায়ের ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর গুলি ভালো করে মুখস্ত করে গেলে তোমরা পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল পাবে।

“পথচলতি” গল্পটিতে, লেখক এক রাতের ট্রেন যাত্রার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। ট্রেনে, তিনি আফগান কাবুলিওয়ালাদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

লেখক আফগান আগা সাহেবের সাথে আলোচনা করেন, সাহিত্য সভার আয়োজন করেন এবং রাতের আসরে অংশগ্রহণ করেন। ভোরে, তিনি পাঠানদের রোটা-কাবাব খাওয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হন।

ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির পার্থক্য সত্ত্বেও, লেখক কাবুলিওয়ালাদের সাথে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। তিনি তাদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেন এবং তাদের জীবন সম্পর্কে জানতে পারেন।

এই রাতের অভিজ্ঞতা লেখকের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বুঝতে পারেন যে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করা সম্ভব, এমনকি যদি তাদের ভাষা, রীতিনীতি এবং বিশ্বাস ভিন্ন হয়।

“পথচলতি” শিরোনামটি গল্পের জন্য উপযুক্ত কারণ এটি লেখকের শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক যাত্রা উভয়কেই প্রতিফলিত করে। ট্রেনে যাত্রা করার সময়, লেখক শুধুমাত্র একটি নতুন স্থানে যান না, তিনি নতুন বন্ধু তৈরি করেন এবং নতুন জীবনধারা সম্পর্কে জানেন।

এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে খোলা মন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমরা সকলেই একই বিশ্বের অংশ, এবং আমাদের একে অপরের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে হবে।

পথচলতি  – অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

স্টেশনে পৌঁছে লেখক কী দেখেছিলেন?

স্টেশনে পৌঁছে লেখক দেখেছিলেন যে, ট্রেনটি সময়মতো এলেও মধ্যম শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে অসম্ভব ভিড়। তাই লেখক এ-কামরা, সে-কামরা করে শেষে হন্যে হয়ে একটি তৃতীয় শ্রেণির ফাঁকা বগির কাছে এসেও থমকে দাঁড়ালেন। কেন-না বগির দরজা আগলে থাকা কয়েকজন দোহারা চেহারা কাবুলিওয়ালার হুংকারে আশপাশের সকলেই তখন টটস্থ, এমনকি পুলিশও বেপাত্তা।

দু-চারটি ফারসি কথা বলতে পারার ক্ষমতা লেখককে কীরকম সাহস দিয়েছিল?

দু-চারটি ফারসি কথা বলতে পারার ক্ষমতা লেখককে এতটাই সাহস জুগিয়েছিল যে, ওইরকম জবরদস্ত চেহারার কাবুলিওয়ালাদের সঙ্গে লড়তে অসীম সাহস এবং দস্তুরমতো হিম্মত দেখিয়েছিলেন তিনি। কয়েকটি মাত্র বাক্য ফারসিতে বলেই তিনি ওদের হতভম্ব করে দিয়েছিলেন। অসীম সাহসে ভর করে ট্রেনের আধখোলা দরজার হাতল ধরে টেনে খুলে ভিতরে ঢুকতে গিয়ে বাধা পেলেও ওই সাহসের জোরেই অবশেষে ঢুকেছেন এবং দস্তুরমতো ওদের সঙ্গেই জায়গা করে নিয়েছেন সম্মানের সঙ্গে।

আলেম শব্দের মানে কী? লেখককে কারা, কেন ‘এক মস্ত আলেম’ ভেবেছিলেন?

আলেম শব্দের অর্থ হল সর্বজ্ঞ।

পশতুভাষী আফগানিস্তানের পাঠানরা লেখককে এক মস্ত আলেম ভেবেছিলেন। কেন-না তখন আফগানিস্তানের শিক্ষিত, উচ্চ ও ভদ্রসমাজের সরকারি ভাষা ছিল ফারসি। পাঠানদের মাতৃভাষা অতি সাধারণ পশতুর সম্মান তখন ছিল না। তাই লেখককে অনবরত ফারসি ভাষায় কথা বলতে দেখে এবং তার ব্যক্তিত্ব লক্ষ করে পশতুভাষী পাঠানরা লেখককে ভেবেছিলেন এক মস্ত আলেম।

আগা সাহেব সম্বন্ধে যা জানা গেল, সংক্ষেপে লেখো।

বৃদ্ধ পাঠান আগা সাহেব বাংলাদেশের লোক, আর বরিশালের পটুয়াখালি বন্দরে তার ব্যাবসা গড়ে উঠেছে। তার ব্যাবসা হল শীতের বস্তু আর হিং বিক্রি করা এবং চাষিদের টাকা ধার দেওয়া। কলকাতার ভাষা তার আয়ত্ত না হলেও বরিশালের ‘বরিশাইল্যা’ ভাষাটি তিনি তার মাতৃভাষা পশতুর মতোই স্বচ্ছন্দে বলতে পারেন। ভোরে উঠে তিনি মালা জপ করেন। সৌজন্যবোধ তার প্রবল বলেই সকালে লেখককে ‘সুখসৌপ্তিক’ প্রশ্ন করেছিলেন।

লেখকের সামনের বেঞ্চির দুই পাঠান সহযাত্রী নিজেদের মধ্যে যে আলোচনা করছিলেন তা নিজের ভাষায় লেখো। লেখক কীভাবে সেই কথার অর্থ বুঝতে পারলেন?

লেখকের সামনের বেঞ্চে দুই পাঠান সহযাত্রী নিজেদের ভাষায় লেখকের সম্পর্কেই বলছিলেন যে, তিনি ভীষণ বিদ্বান এবং বুদ্ধিমান। ইংরেজদের লেখা সমস্ত বই পড়েন, ফারসি পড়েন, এমনকি তাদের খাস দেহাতি কথাগুলোও বুঝতে পারেন এবং তাদের সম্বন্ধে কত খবর জানেন।

লেখক পশতু ভাষা না জানলেও সে ভাষার ভিতরে যেসব ফারসি এবং আরবি শব্দ আছে, তার কিছুটা লেখক জানতেন এবং উর্দুটাও একটু জানতেন। তাই তিনি কিছু শব্দ এবং একটু বুদ্ধি কাজে লাগিয়েই ওদের ভাষা বুঝতে পেরেছিলেন।

পথচলতি গল্পের কথক সমস্ত ট্রেনটাই একবার ঘুরে দেখার মতলব করলেন কেন?

কথক গয়া থেকে দেহরা-দুন এক্সপ্রেস ধরতে গিয়ে দেখলেন গাড়িতে সাংঘাতিক ভিড়। অত্যধিক ভিড় হওয়ার কারণে গাড়ির মধ্যম শ্রেণির কামরায় ঢুকতেই পারা গেল না। এরপর তিনি দেখলেন দ্বিতীয় শ্রেণির গাড়িগুলোতেও সমস্ত লোক মেঝেতে বিছানা করে নিয়েছে, কেউ বসে আছে, কেউ বা দাঁড়িয়ে। চারদিকে এত ভিড় দেখে কথক অন্য কোনো শ্রেণিতে একটু জায়গা পাওয়ার আশায় সমস্ত ট্রেনটাই একবার ঘুরে দেখার মতলব করলেন।

কথক কখন ঠিক করলেন যে এক্কেবারে ফাঁকা তৃতীয় শ্রেণির বগিতেই ঢুকবেন?

তৃতীয় শ্রেণির বগিটি ফাঁকা হলেও লেখক দেখলেন – সেটি কয়েকজন কাবুলিওয়ালার দখলে। কেউ সেখানে গেলে, এমনকি জানলা দিয়ে উকিঝুঁকি দিলেও ওরা অর্থাৎ ওই জবরদস্ত চেহারার কাবুলিওয়ালারা একেবারে হুংকার দিয়ে লোক ঠেকিয়ে রাখছে। ঠিক তখনই কথক ঠিক করলেন যে, ওই তৃতীয় শ্রেণির বগিটিতেই উঠবেন।

ওরা একটু যেন হতভম্ব হয়ে গেল। – ওরা হতভম্ব হয়ে গেল কেন?

পাঠানদের হুংকারকে অগ্রাহ্য করে কথক যখন ওদের জবরদখল বগিটিতে ঢুকতে গেলেন – ওরা সাধারণ পশতু ভাষায় লেখককে চিৎকার করে বললেন যে, বগিতে পাঠানরা ছাড়া অন্য কেউ ঢুকতে পারবে না। এর উত্তরে লেখক যখন আফগানিস্তানের শিক্ষিত ও ভদ্রসমাজের ভাষা ফারসিতে উত্তর দিলেন যে, শুধুমাত্র একজন মানুষের জন্য একটু জায়গা দিতে তখন ওরা একজন বাঙালির মুখে ফারসি ভাষা শুনে হতভম্ব হয়ে গেল।

“পথচলতি” গল্পটি কেবল একটি ট্রেন ভ্রমণের বর্ণনা নয়, বরং জীবনের যাত্রা এবং বিভিন্ন মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের রূপক। লেখক দেখান যে কীভাবে আমরা সকলেই জীবনের পথে একসাথে ভ্রমণ করছি, একে অপরের সাথে দেখা করছি এবং শিখছি।

গল্পের নাম “পথচলতি” খুবই উপযুক্ত কারণ এটি লেখকের ট্রেন যাত্রার অভিজ্ঞতাকে ছাড়িয়ে যায় এবং জীবনের বৃহত্তর যাত্রার প্রতি ইঙ্গিত করে। লেখক আফগান ব্যবসায়ীদের সাথে তার মিথস্ক্রিয়া থেকে বন্ধুত্ব, বোঝাপড়া এবং সহানুভূতির গুরুত্ব শেখেন।

এই গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের পার্থক্য সত্ত্বেও, আমরা সকলেই মানুষ এবং আমাদের একে অপরের সাথে সংযোগ স্থাপনের এবং বন্ধুত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত। “পথচলতি” আমাদের জীবনের যাত্রা উপভোগ করতে এবং আমাদের পথে যে সমস্ত মানুষের সাথে দেখা করি তাদের কাছ থেকে শিখতে উৎসাহিত করে।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন