অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – পথচলতি – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের পথচলতি অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তর গুলি পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইভাবে পথচলতি অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তর গুলি যদি তোমরা প্রস্তুত করে না যাও তাহলে পরীক্ষায় পথচলতি অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তর গুলোর উত্তর দিতে পারবে না। তাই পথচলতি অধ্যায়ের প্রশ্ন ও উত্তর গুলি ভালো করে মুখস্ত করে গেলে তোমরা পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল পাবে।

১৯২৮ সালের শীতকালে, লেখক গয়া থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে দেহরা-দুন এক্সপ্রেস ধরার জন্য ফিরছিলেন। অসম্ভব ভিড়ের কারণে, তিনি হতাশ হয়ে একটি তৃতীয় শ্রেণির বগিতে ঢুকতে বাধ্য হন। বগিতে, তিনি কয়েকজন কাবুলিওয়ালার মুখোমুখি হন যারা দরজা আটকে রেখেছিলেন।

লেখক ফারসি ভাষায় তাদের সাথে কথা বলেন, যা তাদের অপ্রত্যাশিত করে এবং তাকে বগিতে জায়গা দেয়। পশতু ভাষায়, লেখক আগা সাহেবের সাথে গল্প শুরু করেন, যিনি পটুয়াখালিতে শীতবস্ত্র বিক্রি করেন। একজন পাঠান লেখকের অনুরোধে খুশ-হালখাঁ খট্টকের পশতু গজল গায়েন। আরেকজন, আদম খান, দুরখানির মহব্বতের গান গায়েন।

ভাষাগত বাধা সত্ত্বেও, লেখক এবং আফগানরা সাহিত্য এবং সংস্কৃতি ভাগ করে নেন। পরের দিন সকালে, লেখক দেখেন কাবুলিওয়ালারা নমাজ পড়ছেন এবং রোজার জন্য রুটি ও কাবাব খাচ্ছেন। আসানসোলে, লেখক ট্রেন থেকে নেমে যান, কিন্তু ভিন্ন সংস্কৃতির সাথে এই অসাধারণ রাত্রিযাত্রা তার স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে।

১৯২৮ সালের শীতকালে, লেখক শ্বশুরবাড়ি গয়া থেকে ফিরছিলেন। দেহরা-দুন এক্সপ্রেস ধরার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করার সময়, তিনি একটি ফাঁকা তৃতীয় শ্রেণীর কামরা দেখতে পান। কৌতূহলী হয়ে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন এবং দেখতে পান কয়েকজন কাবুলিওয়ালা (আফগান ব্যবসায়ী) বসে আছে। লেখক জানতেন যে কাবুলিওয়ালাদের সাধারণত ভয় পাওয়া হয়, কিন্তু তিনি কিছু ফার্সি ভাষা জানতেন, যা তখনকার শিক্ষিত আফগানদের ভাষা ছিল।

অষ্টম শ্রেণি – বাংলা – পথচলতি

পথচলতি অধ্যায়ের লেখক পরিচিতি

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ নভেম্বর হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম হয় এবং তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে। তিনি একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, বহুভাষাবিদ এবং সাহিত্যিক।

তাঁর পিতা হরিদাস চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ইংরেজদের সদাগরি অফিসের কেরানি। তিনি ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে এনট্রান্স পরীক্ষায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে ২০ টাকা বৃত্তি লাভ করেন। এরপর তিনি বিএ-তে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজিতে এমএ-তেও তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সংস্কৃতের শেষ পরীক্ষায় পাস করেন এবং ‘প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ বৃত্তি’ এবং জুবিলি গবেষণা পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য পুরস্কারগুলি হল – ‘সাহিত্য বাচস্পতি’ ও ‘পদ্মবিভূষণ’।

তিনি প্রথমে বিদ্যাসাগর কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক, পরে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চারজন ভ্রমণসঙ্গীর একজন হয়ে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে যান। তিনি – ‘The Origin and Development of the Bengali Language’ গ্রন্থরচনার জন্য আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাংলায় রচিত তাঁর গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে – ‘ভারত সংস্কৃতি’, ‘বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা’, ‘পশ্চিমের যাত্রী’, ‘ইউরোপ ভ্রমণ’, ‘দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ’, ‘রবীন্দ্র সঙ্গমে’, ‘কিরাত জনকৃতি’, ‘বেঙ্গলী ফোনেটিক রিডার’ ইত্যাদি। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের নাম ভাষাচর্চার জগতে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।

পথচলতি অধ্যায়ের বিষয়সংক্ষেপ

পথচলতি গল্পটির কথক সম্ভবত ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে গয়া থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে দেহরা-দুন এক্সপ্রেস ধরার জন্য ফিরছিলেন। গাড়িতে অসম্ভব ভিড়ের জন্য এ-কামরা, সে-কামরা করে, শেষে হন্যে হয়ে একটি তৃতীয় শ্রেণির ফাঁকা বগির কাছে এসে থমকে দাঁড়ালেন। বগিটির দরজার কাছে তখন দরজা আটকে বেশ কয়েকজন দোহারা চেহারার কাবুলিওয়ালার হুংকারে আশপাশের সকলেই টটস্থ, এমনকি পুলিশও বেপাত্তা।

এই মারমুখী আফগানদের কী করে পথে আনতে হবে সেটা কথক প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে নিলেন। ওরা খুব সাধারণ ‘পশতু’ ভাষায় কথা বলছিল। তাই ওরা যে ভাষাকে সমীহ করে সেই শিক্ষিতজনের ভাষা ফারসির দু-চার কলি জানার সুবাদে ওদের ঘায়েল করতে কথক সাহস করে ওই কামরায় ঢুকতে উদ্যত হলেন। ওদের হুংকারে একটুও বিচলিত না হয়ে, তিনি তখন ফারসি ভাষায় অনুরোধ করলেন একজনের জন্য একটু জায়গা করে দিতে। ওরা বাঙালিবাবুর মুখে এমন অভিজাত ভাষায় কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলেও আমতা আমতা করতে লাগলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত ওই ফারসি ভাষার আনুকূল্যেই বেশ সম্মানের সঙ্গেই লেখক জায়গা পেলেন ওই পাঠানদের কামরায়।

ওদের পশতু ভাষায় লেখকের খুব বেশি অসুবিধা হল না। পশতু-বাংলার সঙ্গে মনের ভাষার মিশেল করে সকলে আনন্দের সঙ্গে চলতে লাগলেন।

উপরের বাংকে শায়িত বাংলাদেশের বৃদ্ধ পাঠান আগা সাহেব, যিনি পটুয়াখালিতে শীতবস্ত্র আর হিং বিক্রি করেন, কথকের সঙ্গে জমিয়ে গল্প শুরু করলেন। এরপর এক পাঠান, কথকের অনুরোধে খুশ-হালখাঁ খট্টকের পশতু গজল শোনালেন। আসর উঠল জমে। এরপর পাঠানদের অন্য একজন আদম খান আর দুরখানির মহব্বতের কিসসা কিছুটা গান করে, কিছুটা পাঠ করে কথককে শোনালেন। সব ভেদাভেদ ভুলে বাঙালিবাবু আর আফগান সকলেই যেন এক সাহিত্য সভায় মশগুল হয়ে গেলেন।

কথকের সম্পর্কে ওরা যে খুব উচ্চমার্গের প্রশংসাসূচক কথা বলছিল নিজেদের মধ্যে, পশতু ভালো না জানলেও কিছুটা আরবি-ফারসি জানার জন্য লেখকের তা বুঝতে অসুবিধা হল না।

রাত্রে সুখনিদ্রা দিয়ে সকালে উঠেই কথক দেখেন আর-এক চিত্র। ওদের মধ্যে তখন কেউ নমাজ পড়ছে, আবার কেউ বা অত ভোরেই ‘রোটা’ আর ‘কাবাব’ পেটভরতি করে খেয়ে নিচ্ছে। সারাদিন যে রোজার উপোস। অন্যদিকে, আগা সাহেব মালা জপতে জপতে লেখকের রাতের ঘুমের খবর নিতে ভুললেন না।

ইতিমধ্যে গাড়ি আসানসোল এসে গেল। কথকও সেখান থেকে কলকাতা চলে গেলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ ভিনজাতির সঙ্গে এমন একটি সুন্দর অভাবনীয় রেলভ্রমণে রাত্রিযাপন – তাঁর চিরকাল স্মরণে রইল।

পথচলতি অধ্যায়ের নামকরণ

সকলেরই নাম থাকে – সে বস্তুজগৎ, উদ্ভিদজগৎ, প্রাণী জগৎ কিংবা গল্পকাব্যের জগৎ যাই হোক না কেন। গল্পজগতের একটি গল্প ‘পথচলতি’ নামটিকে কতটা সমর্থন করা যায়, সেটাই আমাদের আলোচ্য।

পুরো গল্পটাই মূলত পথ চলারই কাহিনি। এ পথচলা অবশ্য পথে নেমে হাঁটা নয়; একটি রাতে ট্রেনে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার কাহিনি। লেখক দেহরা-দুন এক্সপ্রেসে আফগানদের সঙ্গে এক কামরায় উঠলেন এবং কাবুলিওয়ালাদের সঙ্গে একেবারে মিশে গেলেন। প্রায় ষোলোজন পাঠান মর্দের সাথে ঘাম এবং হিং-এর উগ্র গন্ধকে উপেক্ষা করে রাতের আসর জমিয়ে দিলেন।

আফগান আগা সাহেবের সঙ্গে ভাববিনিময়, সাহিত্য সভার একটা জব্বর পরিবেশ সৃষ্টি করা, রাতে সুখনিদ্রায় যাওয়া, ভোরে পাঠানদের রোটা-কাবাব খাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা, আগা সাহেবের সৌজন্য ও শিষ্টাচারে অভিভূত হয়ে লেখক শেষপর্যন্ত চলে এলেন গন্তব্যে।

সারাটা পথ ওই কাবুলিওয়ালাদের সঙ্গে ভাষার ব্যবধান ঘুচিয়ে, ওদের শরীর থেকে আসা উৎকট গন্ধকে অতিক্রম করে, ওদের অ-হিন্দুস্থানি খাবারের প্রতি একটু শুচিবায়ুগ্রস্ততা না দেখিয়ে লেখক যেন কতকগুলো দুরন্ত এবং দামাল ভিনদেশিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সারাটা পথ এক অপূর্ব আবেশে চলতে চলতে এলেন। সে চলায় আবেগের আতিশয্য ছিল কিন্তু বিরোধ ছিল না, আলোচনা ছিল কিন্তু সমালোচনা ছিল না, বর্তমান ছিল কিন্তু ভবিষ্যৎ ছিল না।

ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির যথেষ্ট পার্থক্য সত্ত্বেও একটি রেল কামরার ছোট্ট গণ্ডির ভিতর কয়েকজন ভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে লেখকের যে ভাববিনিময়-তার মধ্যে এক উন্নত এবং উদার মানসিকতা-তাদের সকলকে ভুলিয়ে দিয়েছে তাদের পরিচয়, গঠন করেছে বন্ধুত্বের অঙ্গীকার। এ পথ চলায় শুধুই এক অনাবিল আনন্দের রেশ নিয়ে লেখক ফিরলেন। তাই পথ চলতে চলতেই যেহেতু লেখকের একটি রাতের কাহিনি এখানে বর্ণিত হয়েছে, তাই গল্পটির ‘পথচলতি’ নামটি সংগত কারণেই সার্থক।

পথচলতি অধ্যায়ের শব্দার্থ ও টীকা

শ্বশুরালয় – শ্বশুরবাড়ি। গয়া – বিহারের অন্তর্গত প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান। রিটার্ন টিকিট – ফিরে আসার জন্য রেলের টিকিট। মতলব – উদ্দেশ্য; অভিপ্রায়; অভিসন্ধি। কাবুলিওয়ালা – কাবুল দেশের অধিবাসী। উঁকি – অল্পক্ষণের জন্য বা অগভীরভাবে দৃষ্টিনিক্ষেপ। হুংকার – গর্জন; সিংহনাদ। জবরদস্ত – দুর্দান্ত; অত্যন্ত বলবান; জুলুমকারী। ফারসি – পারস্য দেশের ভাষা। আফগানিস্তান – দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি রাষ্ট্র হল আফগানিস্তান। শব্দটির অর্থ আফগান জাতির দেশ। দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী হল কাবুল। পাঠান – ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলের, প্রধানত আফগানিস্তানের মুসলমান জাতিবিশেষ। এরা মূলত তুর্কিস্তানের লোক। পশতু – আফগানদের ভাষা। সংস্কৃতি – সংস্কার। আভিজাত্য – বংশমর্যাদা; কৌলীন্য। লক্ষণ – চিহ্ন। হকচকিয়ে যাবে – অবাক হয়ে যাবে। শিশুসুলভ – শিশুর মতো। হাতল – হাত দিয়ে ধরার জন্য দরজা, দেরাজ, বাক্স, কড়াই প্রভৃতিতে সংলগ্ন আংটা বা ডান্ডা। গুরুগম্ভীর – গভীর অর্থযুক্ত এবং গম্ভীর শব্দবিশিষ্ট। হতভম্ব – হতবুদ্ধি; কিংকর্তব্যবিমূঢ়। উপহাস – পরিহাস; ঠাট্টা; বিদ্রূপ; অবজ্ঞা; তুচ্ছতাচ্ছিল্য। তাচ্ছিল্য – তুচ্ছ জ্ঞান; অবহেলা। ছোকরা – নবযুবক। সমীহ – সম্মানপূর্ণ ব্যবহার; সশ্রদ্ধ; সংকোচ প্রদর্শন। আলেম – আলিম-এর রূপভেদ। সর্বজ্ঞ; বিদ্বান লোক। গুরুবলে – ঈশ্বরের কৃপায়। অধীনস্থ – অন্তর্ভুক্ত; শাসনের অন্তর্গত। উপজাতি – প্রধান জাতির অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্রতর জাতি বা সম্প্রদায়। খাস – বিশেষ; নিজস্ব। স্বস্তি – নির্ঝঞ্ঝাট অবস্থা। আলাপ – কথাবার্তা; সম্ভাষণ। লবজ – শব্দ। মর্দ – মরদ; পুরুষ। ঘর্ম – ঘাম; স্বেদ। উগ্র – প্রচণ্ড; নিষ্ঠুর; রূঢ়; কর্কশ; কোপন। ভরপুর – পরিপূর্ণ। সৌরভ – সুগন্ধ। সংমিশ্রণ – সম্পূর্ণরূপে মিশ্রণ; সংসর্গ। নাসারন্ধ্র – নাসিকার মধ্যস্থ শ্বাসপ্রশ্বাসের গর্তদ্বয়। টঙ – উচ্চমঞ্চ। নিবিষ্টচিত্তে – গভীর মনোযোগের সঙ্গে রত। ডেরা – অস্থায়ী বাসা; আস্তানা। বন্দর – সমুদ্রের বা বড়ো নদীর তীরে জাহাজাদি ভিড়ানোর স্থান। আয়ত্ত – অধিকৃত; কবলিত। দরদ -সমবেদনা; মমতা। সগৌরবে – গৌরবের সঙ্গে; সগর্বে; সমর্যাদায়; সসম্মানে। হিসাবনবিশ – জমাখরচ নির্ধারক। মর্যাদা – গৌরব; সম্মান; খ্যাতির মর্যাদা। সম্রাট আওরঙ্গজেব – সম্রাট আওরঙ্গজেব ছিলেন মোগল সম্রাট শাহ জাহানের পুত্র। তাঁর আমলে মোগল সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটেছিল। তিনি দক্ষিণ ভারতের বিজাপুর ও গোলকুন্ডা জয় করেন। তবে তিনি শিবাজির অধিকৃত মারাঠা দখল করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। আতিশয্য – আধিক্য। বাদ্যি – বাজনার যন্ত্র। বিষয়ান্তর – আলোচনাদির অন্য বিষয়। অবতারণা – প্রস্তাবনা; ভূমিকা। কিসসা – কাহিনি। গোষ্ঠী (পরিবার) – বৈঠক; সভা। সম্মেলন – সম্যক মিলন; সংযোগ; একত্র মিলিত। সহযাত্রী – একত্রে গমনকারী। আরবি – আদর্শ আরবি ভাষা ইসলামি বিশ্বের সর্বত্র পড়া ও লেখা হয়। মধ্যযুগে আরবি গণিত, বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রধান বাহকভাষা ছিল। বিশ্বের বহু ভাষা আরবি থেকে শব্দ ধার করেছে। বিদ্বান – পণ্ডিত; সুশিক্ষিত; জ্ঞানী। দেহাতি – গ্রামে ব্যবহৃত; গ্রাম্য; গেঁয়ো। রোজা – রমজান মাসে মুসলমানগণ কর্তৃক প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্জলা উপবাস। কাবাব – শলাকাবিদ্ধ করে সেঁকা মাংস। সুখসৌপ্তিক – আরামের ঘুম বা সুপ্তি সম্বন্ধীয়। শুধালেন – জিজ্ঞাসা করলেন। ভদ্রতাপ্রণোদিত – ভদ্রভাব বা আচরণ হতে দেওয়া হয়েছে এমন। আসানসোল – পশ্চিমবঙ্গের একটি কয়লাখনিসমৃদ্ধ স্থান। ক্ষণিক – ক্ষণস্থায়ী; ক্ষণকাল। সঙ্গ-সুখ – মিলন সুখ; সংসর্গ সুখ। এখানে কারোর সান্নিধ্যে প্রাপ্ত আনন্দ। অন্তত – নিদেন; কম করে; যতটুকু না হলে চলে না।

“পথচলতি” গল্পটি শুধুমাত্র একটি ট্রেন ভ্রমণের বর্ণনা নয়, বরং জীবনের যাত্রা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে সংযোগ স্থাপনের রূপক। লেখক আফগান ব্যবসায়ীদের সাথে দেখা করে তাদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে ভাষা, ধর্ম এবং জাতিগত পটভূমির পার্থক্য সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে শেখায়।

গল্পের শিরোনাম “পথচলতি” খুবই উপযুক্ত কারণ এটি কেবল ট্রেন যাত্রার চেয়ে অনেক বেশি কিছু বোঝায়। এটি জীবনের যাত্রা, নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচয়ের প্রতীক। লেখক দেখান যে আমাদের যদি মনের দরজা খোলা থাকে এবং পৃথিবীকে উন্মুক্ত মনে গ্রহণ করি, তাহলে আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে বন্ধুত্ব ও আনন্দ খুঁজে পেতে পারি।

“পথচলতি” গল্পটি আমাদের সকলকেই অনুপ্রাণিত করে যে আমরা যদি আমাদের পক্ষপাত ও পূর্ব ধারণাগুলো বাদ দিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার জন্য মন খুলে রাখি, তাহলে জীবন অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও আনন্দময় হতে পারে।

Rate this post


Join WhatsApp Channel For Free Study Meterial Join Now
Join Telegram Channel Free Study Meterial Join Now

মন্তব্য করুন