এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের তৃতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘পরবাসী’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
কবি বিষ্ণু দে রচিত পাঠ্য কবিতাটির নাম – (পদধ্বনি / ঘোড়সওয়ার / পরবাসী)।
উত্তর – পরবাসী।
বিষ্ণু দের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ – (সম্রাট / ফেরারী ফৌজ / উর্বশী ও আর্টেমিস)।
উত্তর – উর্বশী ও আর্টেমিস।
দু-দিকে ঘন বনের মাঝে রয়েছে – (আলোছায়া পথ / ঝিকিমিকি পথ / কাদামাখা পথ)।
উত্তর – ঝিকিমিকি পথ।
কবি দেখেছেন বনময়ূরের – (কথাকলি / কথক / ভরতনাট্যম) নৃত্য।
উত্তর – কথক নৃত্য।
নদীর কিনারে চুপিচুপি জল খায় – (শেয়াল / হরিণ / বাঘ)।
উত্তর – হরিণ।
সিন্ধুমুনি ছিলেন – (বিশ্বামিত্র মুনির / অন্ধমুনির / কমুনির) ছেলে।
উত্তর – অন্ধমুনির।
লুব্ধ হিংস্র ছন্দে চলে গেল – (সিংহ / চিতা / ভালুক)।
উত্তর – চিতা।
ময়ূর মরেছে – (পালকে / পণ্যে / পেখমে)।
উত্তর – পণ্যে।
শূন্যস্থান পূরণ করো
রাতের আলোয় থেকে-থেকে জ্বলে ___।
উত্তর – রাতের আলোয় থেকে-থেকে জ্বলে চোখ।
নেচে লাফ দেয় ___ খরগোশ।
উত্তর – নেচে লাফ দেয় কচি-কচি খরগোশ।
হঠাৎ ___ বনময়ূরের কথক।
উত্তর – হঠাৎ পুলকে বনময়ূরের কথক।
___ নেই, ময়ূর মরেছে পণ্যে।
উত্তর – পত্তন নেই, ময়ূর মরেছে পণ্যে।
কেন এই দেশে মানুষ ___ অসহায়?
উত্তর – কেন এই দেশে মানুষ মৌন অসহায়?
কেন নদী গাছ পাহাড় এমন ___?
উত্তর – কেন নদী গাছ পাহাড় এমন গৌণ?
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
কবি বিষ্ণু দের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
কবি বিষ্ণু দের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’।
কবি বিষ্ণু দের লেখা দুটি প্রবন্ধ-বইয়ের নাম লেখো।
কবি বিষ্ণু দের লেখা দুটি প্রবন্ধ-বইয়ের নাম হলো – ‘যামিনী রায়’ এবং ‘সেকাল থেকে একাল’।
পথ কীসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে?
বিষ্ণু দে রচিত ‘পরবাসী’ কবিতায় পথ প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে।
চিতার চলে যাওয়ার ছন্দটি কেমন?
‘পরবাসী’ কবিতায় চিতার চলে যাওয়ার ছন্দটি লোলুপ এবং হিংস্র।
ময়ূর কীভাবে মারা গেছে?
ময়ূর মারা গেছে পণ্য হওয়ার জন্য।
প্রান্তরে কার হাহাকার শোনা যাচ্ছে?
প্রান্তরে শুকনো হাওয়ার হাহাকার শোনা যাচ্ছে।
পলাশের ঝোপে কবি কী দেখেছেন?
পলাশের ঝোপে কবি দেখেছেন হঠাৎ আনন্দ-শিহরণে বনময়ূরের কথক নৃত্যবিভঙ্গ।
কবিতাটিতে কোন্ কোন্ দ্বৈত শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে?
কবিতাটিতে ‘ঝিকিমিকি’, ‘তালে-তালে’, ‘থেকে-থেকে’, ‘কচি-কচি’, ‘চুপি-চুপি’ ইত্যাদি দ্বৈত শব্দের প্রয়োগ দেখা যায়।
‘পরবাসী’ কবিতায় কোন্ কোন্ বিশেষ্য-বিশেষণের প্রয়োগ কবি করেছেন?
‘পরবাসী’ কবিতায় ‘ঝিকিমিকি পথ’, ‘কচি-কচি খরগোশ’, ‘নিটোল টিলা’, ‘সোনালি সেতার’, ‘কথাকলি বেগ’ প্রভৃতি বিশেষ্য-বিশেষণের প্রয়োগ কবি করেছেন।
সিন্ধুমুনি কে? ‘সিন্ধুমুনির হরিণ আহ্বান’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
পুরাণে বর্ণিত সিন্ধুমুনি অন্ধমুনির পুত্র। সিন্ধুমুনির কলশিতে জল ভরার শব্দ আর হরিণের জলপানের শব্দের মিল আছে। তাই কবি ‘সিন্ধুমুনির হরিণ আহ্বান’-এর কথা বলেছেন।
ব্যাকরণ
নিম্নরেখ শব্দগুলির বদলে অন্য শব্দ বসিয়ে অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি করো
দুই দিকে বন, মাঝে ঝিকিমিকি পথ।
উত্তর – দুই দিকে বন, মাঝে আলোছায়া পথ।
এঁকেবেঁকে চলে প্রকৃতির তালে তালে।
উত্তর – এঁকেবেঁকে চলে প্রকৃতির সুরে-লয়ে।
তাঁবুর ছায়ায় নদীর সোনালি সেতারে।
উত্তর – তাঁবুর ছায়ায় নদীর রঙিন বীণায়।
হঠাৎ পুলকে বনময়ূরের কথক।
উত্তর – হঠাৎ পুলকে বনময়ূরের কথাকলি।
বন্য প্রাণের কথাকলি বেগ জাগিয়ে।
উত্তর – বন্য প্রাণের চিরসুখী বেগ জাগিয়ে।
নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করো
জ্বলে – জ্বলিয়া > জইল্যা > জ্বলে (অভিশ্রুতি)
পরবাসী – প্রবাসী > পরবাসী (স্বরভক্তি)
চলে – চলিয়া > চইল্যা > চলে (অভিশ্রুতি)
তাঁবু – তাম্বু > তাঁবু (নাসিক্যীভবন)
ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো –
নিটোল, বনময়ূর, সিন্ধুমুনি, নিজবাসভূমি, সেতার।
| সমাসবদ্ধ পদ | ব্যাসবাক্য | সমাসের শ্রেণি |
| নিটোল | নেই টোল যার | নঞ বহুব্রীহি |
| বনময়ূর | বনে বসবাসকারী ময়ূর | মধ্যপদলোপী কর্মধারয় |
| সিন্ধুমুনি | সিন্ধু নামক মুনি | মধ্যপদলোপী কর্মধারয় |
| নিজবাসভূমি | নিজের বাসভূমি | সম্বন্ধ তৎপুরুষ |
| সেতার | সে (তিন) তারের সমাহার | দ্বিগু |
নীচের শব্দগুলি কীভাবে গঠিত হয়েছে দেখাও –
সোনালি, আহ্বান, বন্য, বসতি, পরবাসী।
সোনালি = সোনা + আলি
আহ্বান = আ – √হ্বে + অন্
বন্য = বন + য
বসতি = √বস্ + অতি
পরবাসী = পরবাস + ঈ
নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করো
চুপি চুপি আসে নদীর কিনারে, জল খায়। (সরল বাক্যে)
উত্তর – চুপি চুপি নদীর কিনারে এসে জল খায়।
নিটোল টিলার পলাশের ঝোপে দেখেছি। (জটিল বাক্যে)
উত্তর – নিটোল টিলার পাশে পলাশের যে ঝোপ, সেখানে দেখেছি।
চিতা চলে গেল লুব্ধ হিংস্র ছন্দে বন্য প্রাণের কথাকলি বেগ জাগিয়ে। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর – লুব্ধ হিংস্র ছন্দে চিতা চলে গেল এবং বন্য প্রাণের কথাকলি বেগ জেগে উঠল সেই ছন্দে।
কেন এই দেশে মানুষ মৌন অসহায়? (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর – কেন এই দেশে মানুষ সহায়-সরব নয়?
যে-কোনো দুটি স্তবকের মধ্যে বিশেষ্য ও বিশেষণের ব্যবহার কবি কীভাবে করেছেন, দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করো।
ঝিকিমিকি পথ, কচিকচি খরগোশ, নিটোল টিলা, সোনালি সেতার।
ঝিকিমিকি পথ – এখানে ‘পথ’ বিশেষ্য, ‘ঝিকিমিকি’ বিশেষণ। পথ আসলে ঝিকিমিকি হয় না। দু-দিকে বনের মাঝে যে আঁকাবাঁকা পথ, তা সারি সারি গাছের ফাঁকফোকর থেকে আসা সূর্যের আলোয় ঝকমক করছে। তাই সে ঝিকিমিকি।
কচিকচি খরগোশ – এখানে ‘খরগোশ’ বিশেষ্য এবং ‘কচিকচি’ বিশেষণ। ‘কচিকচি’ এই দ্বৈত শব্দ দিয়ে এখানে একাধিক খরগোশের কথা বলা হয়েছে।
নিটোল টিলা – ‘টিলা’ বিশেষ্য, ‘নিটোল’ বিশেষণ। টিলা কাঁকুড়ে মাটির হওয়া সত্ত্বেও তা একেবারে নিটোল অর্থাৎ সুডৌল বা যাতে একটুও টোল পড়েনি।
সোনালি সেতারে – ‘সেতার’ বিশেষ্য, ‘সোনালি’ বিশেষণ। এখানে সোনালি সেতারের অনুপ্রাসে ধ্বনিত হয়েছে নদীর শব্দতরঙ্গের সুরমূর্ছনা।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের তৃতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘পরবাসী’ -এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment